একটি শিশুর জন্য পরিকল্পনা করছেন? – গর্ভবতী হওয়ার সর্বোত্তম বয়স কত, তা জানুন

একটি শিশুর জন্য পরিকল্পনা করছেন? - গর্ভবতী হওয়ার সর্বোত্তম বয়স কত, তা জানুন

মানুষজন তাদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে শিশুদের পায়, এবং এর মানে বিভিন্ন বয়সে । তাহলে, এমন কিছু আছে যাকে ‘শিশুর জন্ম দেওয়ার জন্য নিখুঁত বয়স’ বলা হয়ে থাকে? বাস্তব কথা হল এই যে, প্রত্যেক বয়সেই শিশু জন্ম দেওয়ার সুবিধা এবং অসুবিধা আছে । এছাড়াও, আর্থিক পরিস্থিতি, আপনি যে সমাজে বাস করেন এবং বাবামা-এর ক্যারিয়ারের সম্ভাবনাগুলিও একটি পরিবার শুরু করার জন্য সঠিক সময় বাছাইয়ের ভূমিকা পালন করে । এই সমস্ত কারণগুলি সম্পর্কে গভীরভাবে তথ্য পাওয়া আপনাকে গর্ভবতী হওয়ার সর্বোত্তম বয়সটি নির্ধারণ করতে সহায়তা করবে ।

aniview

গর্ভাবস্থার জন্য সর্বোত্তম বয়স কোনটি?

এই প্রশ্নটির উত্তরটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা ব্যক্তির উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হবে । “সেরা”-র সংজ্ঞা পৃথক পরিস্থিতি অনুযায়ী পৃথক হবে । কিন্তু সামগ্রিকভাবে পরিসংখ্যান এবং গবেষণার বেশিরভাগই দেখিয়েছে যে গর্ভবতী হওয়ার আদর্শ বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে নির্দেশ করে । তবে, সন্তান ধারণ করার সর্বোত্তম সময়টি একটি শিশুকে বড় করার সর্বোত্তম বলে বিবেচিত হওয়া বয়সের থেকে আলাদা, যা হল ৩০-এর কোটার মাঝামাঝি ।

বয়স কি কোন প্রভাব ফেলে?

২০-৩৫ বছর বয়সকে শিশু জন্ম দেওয়ার জন্য পছন্দের সঠিক বয়স বলে মনে করা হয়, কারণ এই বয়সের মহিলারা গর্ভধারণের জন্য শারীরিকভাবে প্রস্তুত হয় । তারা গর্ভধারণের জটিলতাগুলি যেমন প্রাক-এক্ল্যাম্প্সিয়া, এক্টোপিক গর্ভাবস্থা, এবং কয়েকজনের জন্য মৃত শিশুর জন্ম দেওয়ার মতো সমস্যাগুলির ক্ষেত্রে কম ঝুঁকিপূর্ণ হয় । এটি সেই সময় যখন ডিম্বানুগুলি স্বাস্থ্যবান হয় । এটি একটি উর্বর সময়, তাই যারা একাধিক শিশু চায় তাদের জন্য নিখুঁত উইন্ডো, কারণ তাদের পর্যাপ্ত গর্ভাবস্থার মাঝে স্থান দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় থাকে ।

বিভিন্ন বয়সে গর্ভাবস্থা

কয়েকজনের জন্য, ২০-২৫ বছর বয়স শিশু জন্ম দেওয়ার নিখুঁত সময় বলে মনে হতে পারে, অন্যরা ৩০ বছর বয়সের আগে সন্তান ধারণ করার কথা ভাবতে পারে না । এখানে বিভিন্ন বয়সে গর্ভধারণের সম্ভাবনা এবং বিপর্যয়ের সম্পর্কে তথ্য রয়েছে ।

১) ২০-২৫ বছর বয়সে গর্ভাবস্থা

২০-২৫ বছর বয়সে গর্ভাবস্থা

এটি সেই বয়স যখন মহিলারা তাদের উর্বরতার শিখরে থাকে এবং গর্ভাবস্থার শ্রেষ্ঠ সুযোগ থাকে । জীবনের এই পর্যায়ে, আপনার উচ্চ মানের ডিম্বানু পাওয়া যাবে এবং এই সময়ের মধ্যে কম ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণ ও স্বাস্থ্যকর শিশুর সম্ভাবনা বেশি হয় ।

  • আপনার এই পর্যায়ে দীর্ঘস্থায়ী চিকিতসাগত অবস্থার সম্ভাবনা কম এবং আপনার গর্ভাবস্থার মাধ্যমে যাওয়ার জন্য আপনার স্থায়ী যথেষ্ট শক্তি থাকবে । গর্ভপাতের সম্ভাবনা এই সময়ে সর্বনিম্ন, এবং শিশুরা প্রায়ই ক্রোমোসোমাল সমস্যাগুলির মুখোমুখি হয় না ।
  • এই বয়সে আপনার গর্ভাবস্থার পর শরীরকে দ্রুত ফিরে পেতে আরও সহজ হয় কারণ আপনার কোমরের আকৃতিকে ধরে রাখে এমন টিস্যু বয়স বা ওজন বৃদ্ধি দ্বারা প্রসারিত হয় না ।
  • যাইহোক, এটি বিবেচনাযোগ্য যে এটি এমন একটি সময়, যখন আপনি গর্ভাবস্থায় জড়িত হওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হবেন না ।

২) ২৬-৩৪ বছর বয়সের গর্ভাবস্থা

২৬-৩৪ বছর বয়সের গর্ভাবস্থা

২৬ থেকে ২৯ বছর বয়স গর্ভধারণের জন্য বিশেষত সেই মহিলাদের জন্য একটি ভাল সময় হিসাবে বিবেচিত, যাদের পর্যাপ্ত পুষ্টি এবং ফিটনেসযুক্ত সুস্থ জীবনধারা রয়েছে । এই সময়, আপনি গর্ভাবস্থার কঠোরতার জন্য শারীরিক এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকবেন ।

  • ৩০-এর কোটার প্রথম দিকে ক্যারিয়ারযুক্ত মহিলাদের মধ্যে গর্ভধারণের জন্য একটি পছন্দসই সময় হিসাবে দেখা যায় । প্রকৃতপক্ষে, এটি দেখা গেছে যে, যারা কিশোর-অবস্থায় শিশুর জন্ম দেয় তাদের পরবর্তীতে জীবনে ৩০-এর কোতায় মা হওয়া মহিলাদের চেয়ে জীবনের স্বাস্থ্য সমস্যা আরও বেশি হয় ।
  • মনে রাখা দরকার যে, ৩০ পেরনোর পর আপনার প্রজনন প্রবণতা হ্রাস পায় এবং প্রতি মাসে গর্ভধারণের সম্ভাবনা ২০% অতিক্রম করএ এবং ৩০ থেকে ৩৪ বছর বয়সের মহিলাদের মধ্যে সি-সেকশনের রেট তাদের ২০-এর কোটার থেকে দ্বিগুণ হয় ।
  • ৩৫ বছর হওয়া পর্যন্ত গর্ভপাতের হার ১৫% এবং এই বয়স পর্যন্ত ডাউন সিনড্রোমের ঝুঁকিতে কোন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই ।
  • অনেক দম্পতির জন্য, এটি এমন একটি সময়, যখন তাদের সম্পর্ক সর্বাধিক স্থিতিশীল হয় যাতে তারা বাবা-মা হওয়ার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হতে পারে ।

৩) ৩৫-৪০ বছর বয়সে গর্ভাবস্থা

৩৫-৪০ বছর বয়সে গর্ভাবস্থা

গর্ভবতী হওয়ার বয়স ৪০ বছরের দিকে যাওয়ার সাথে সাথে প্রজনন উর্বরতার মাত্রা নামতে থাকে এবং গর্ভবতী হওয়া আরো কঠিন হয়ে উঠতে পারে ।

  • উচ্চ রক্তচাপ এবং গর্ভাবস্থার ডায়াবেটিসের মতো গর্ভাবস্থার অসুস্থতা তৈরি হওয়ার একটি উচ্চ সম্ভাবনা থাকে ।
  • গর্ভপাতের ঝুঁকি ৪টি গর্ভধারণের মধ্যে ১টি থাকে, মাতৃত্বের বয়সের সাথে ক্রোমোসোমাল অস্বাভাবিকতার ঝুঁকি বাড়ে ।
  • মায়ের বয়স বৃদ্ধির সাথে হরমোনাল বৈচিত্র্যের কারণে যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়, কারণ ডিম্বস্ফোটনের সময় একাধিক ডিম মুক্তি পায় ।

৪) ৪০-এর উপরে গর্ভাবস্থা

৪০-এর উপরে গর্ভাবস্থা

৪০ বছর এবং তার বেশি বয়সের নারীর সন্তান জন্ম দেওয়ার সংখ্যা গর কয়েক দশকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে । যাইহোক, গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা ৪০-এর পর প্রতি মাসে ৫ শতাংশ করে নামতে থাকে ।

  • পরিসংখ্যান ইঙ্গিত করে যে ৪০-এর উপর প্রায় এক তৃতীয়াংশ নারী বন্ধ্যাত্বের সাথে সংগ্রাম করে ।
  • তাদের গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস বিকাশের ক্ষেত্রে ছয় গুণ বেশি সম্ভাবনা থাকে বা ডায়াবেটিস আছে এমন প্রাক-বিদ্যমান অবস্থা থাকে ।
  • আপনি গর্ভবতী এবং ৪০ বছর বয়সের বেশি বয়স হলে গর্ভাবস্থার অতিরিক্ত পরীক্ষা এবং ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হতে পারে ।
  • ইতিবাচক দিক থেকে, এই বয়সে, আপনি আর্থিকভাবে নিরাপদ এবং ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ হতে পারেন । আপনি যদি উচ্চ প্রফাইল ক্যারিয়ারযুক্ত মহিলা হন তবে আপনি এমন পর্যায়ে থাকতে পারেন যেখানে আপনি কিছু সময় নিতে পারেন বা আপনার সন্তানের সাথে সময় কাটাতে একটি নমনীয় কাজের সময়সূচী বেছে নিতে পারেন ।

গর্ভবতী হওয়ার আগে ভালো স্বাস্থ্যযুক্ত হওয়া আপনার গর্ভাবস্থায় বয়সের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ । একটি সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, এবং যথাযথ প্রসবকালীন যত্ন, আপনি যত বয়সীই হোন না কেন আপনাকে সহজ গর্ভাবস্থা এবং স্বাস্থ্যকর শিশুর জন্ম দিতে সাহায্য করতে পারে ।

পুরুষের বয়স

একটি দম্পতি গর্ভবতী হওয়ার চেষ্টা করার সময় পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান । ৪১ থেকে ৪৫ বছর বয়সের মধ্যে একজন পুরুষের প্রজনন প্রতি বছর সাত শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় । পরে কমার গতি বেড়ে যায় । বাবার বয়স ৪৫ বছরের বেশি হলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়, মায়ের বয়স নির্বিশেষে । বয়স্ক পুরুষদের জন্মগ্রহণ করস শিশুর অটিজম, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, এবং শেখার ক্ষমতা আরো দুর্বল হয় ।

  • গবেষণায় দেখা গেছে যে ২৫ বছরের কম বয়সী একজন পুরুষের শিশুর বাবা হতে প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগে, কিন্তু নারী ২৫ বছরের কম বয়সী হলেও পুরুষের বয়স ৪০ বছরের বেশি হলে এর জন্য দুই বছরের মতো সময় লাগতে পারে ।
  • শুক্রাণুর সংখ্যা এবং শুক্রাণু গতিশীলতা একটি মানুষের বয়স সঙ্গে হ্রাস পায় ।
  • টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ৪০ বছর বয়সের পরে নামতে থাকে, এবং এর মানে হল একটি নিচু লিবিডো যা সেক্স করা কঠিন করে তুলতে পারে ।
  • পুরুষ প্রজনন অসুস্থতা দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে, এবং এই বয়সে এর সম্ভাবনা বেশি । স্টেরয়েড, অ্যান্টি-ডিপ্রেশন, অ্যান্টিফাংগাল ওষুধ এবং মূত্রাশয়ের কিছু ওষুধও নেতিবাচকভাবে পুরুষের প্রজননকে প্রভাবিত করতে পারে ।

এটা অসম্ভব নয় যে একজন বয়স্ক মানুষ একটি শিশুর বাবা হতে পারবেন । কিন্তু বাস্তবিকই, পুরুষদের বয়সের সঙ্গে প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায় ঠিক যেমন নারীদের প্রাকৃতিক গর্ভধারণকে আরো কঠিন করে তোলে ।

গর্ভবতী হওয়ার বা আপনার জীবনে কোন নির্দিষ্ট সময়কালে আপনার সন্তান নেওয়ার কারণগুলি ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে । কিন্তু আপনি যা পছন্দ করেছেন তার সাথে সুখী হতে এবং সন্তানদের বড় করার চ্যালেঞ্জগুলিতে আপনার সুখকে কাজে লাগানো আরও গুরুত্বপূর্ণ ।

দাবী অস্বীকার: এই তথ্য একটি যোগ্যতাসম্পন্ন পেশাদার এবং একটি যোগ্যতাসম্পন্ন পেশাদার থেকে চিকিৎসার পরামর্শের কোন বিকল্প নয় ।