গর্ভাবস্থায় বাদামী স্রাব

গর্ভাবস্থায় বাদামী স্রাব

গর্ভাবস্থা একজন মহিলার দেহে অনেক পরিবর্তন নিয়ে আসে। এই সময়ে বাদামী স্রাব গর্ভবতী মহিলাদের পক্ষে খুব ভীতিজনক হতে পারে কারণ এটি মাসিকের মতো দেখতে লাগে। যদিও এটি স্বাভাবিক এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি গর্ভাবস্থার অন্য একটি অংশ, আপনি যদি এর কারণগুলি না বুঝতে পারেন তবে এটি আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে।

aniview

গর্ভাবস্থায় বাদামী স্রাব কী?

গর্ভাবস্থায় বাদামী স্রাব একটি সাধারণ ঘটনা যা 20% এরও বেশি গর্ভবতী মহিলাদের হয় বলে রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এটি যোনি থেকে বেরোনো লালচে বাদামী স্রাব যা পুরো গর্ভাবস্থা জুড়ে ঘটে। এটি হ’ল পুরোনো রক্ত যা আপনার জরায়ু থেকে স্পটিং-এর আকারে বের হচ্ছে। এটি গর্ভাবস্থার প্রথম থেকেই শুরু হতে পারে এবং 37তম সপ্তাহ অবধি চলতে পারে, অর্থাৎ প্রসব শ্রম হওয়া পর্যন্ত। স্রাবের কারণের উপর নির্ভর করে পরিমাণ এবং রঙও পৃথক হতে পারে। রঙ দেখে এটিকে ঋতুস্রাবের রক্তপাত ও গর্ভপাতের রক্তপাত থেকে আলাদা করে চেনা যেতে পারে এবং এর পরিমাণও কম হয়।

গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন ধরনের বাদামী স্রাব

যোনি স্রাবের রঙের ভিত্তিতে সমস্যাটি শনাক্ত করার জন্য এখানে একটি গাইড দেওয়া হল:

  • হালকা-বাদামী – গর্ভরোপণের রক্তপাত বা এসটিডি
  • গোলাপী-বাদামী – সার্ভিক্সে জ্বালা, একটোপিক গর্ভাবস্থা বা গর্ভপাত
  • গাঢ়-বাদামী – গর্ভপাত বা এক্টোপিক গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়
  • ঘন, বাদামী – ঈস্ট সংক্রমণ
  • কালো-বাদামী – গর্ভপাত, যোনি, জরায়ু বা সার্ভিক্সের সংক্রমণ
  • জলযুক্ত, বাদামী – মোলার গর্ভাবস্থা
  • হলুদ-বাদামী – ঈস্ট বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ

১. প্রাথমিক গর্ভাবস্থায় বাদামী স্রাব

ডিম্বস্ফোটনের 6 দিন পর থেকে গর্ভধারণের প্রথম কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত গর্ভরোপণের সময়কালে স্পটিং বা বাদামী বর্ণের স্রাব ঘটে। কখনও কখনও গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে, জরায়ু রক্ত বের করে দেয় যা স্পটিং বা বাদামী বর্ণের স্রাব ঘটায়। সার্ভিক্সের এবং যোনির সংবেদনশীলতা থেকেও গর্ভাবস্থার বিভিন্ন সময়ে অল্প পরিমাণে রক্তপাত বা বাদামী বর্ণের স্রাব হতে পারে। গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে যোনি থেকে রক্তপাত খুব সাধারণ এবং 25% গর্ভাবস্থায় ঘটে।

২. গর্ভাবস্থার শেষের দিকে বাদামী স্রাব

গর্ভাবস্থার শেষের দিকে, বাদামি স্রাব প্রসব শ্রমের লক্ষণও হতে পারে। এর কারণ আপনার প্রসবের কয়েক সপ্তাহ বা দিন আগে, জরায়ুর মুখের শ্লেষ্মা প্লাগটি ভেঙে যায়। এর পরে বাদামি রঙের স্রাব বা গোলাপী রঙের ছিটে যুক্ত রক্তের স্রাব হয়।

স্রাবের, সাধারণভাবে, অনেক কারণ থাকে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে, যেহেতু গর্ভাবস্থায় রক্তপাত হওয়া মহিলাদের অর্ধেকেরও বেশিদের গর্ভপাত হয়, তাই বাদামী বর্ণের স্রাব ও রক্তপাতের মধ্যে পার্থক্য করা এবং সমস্যার প্রাথমিকতম লক্ষণগুলি দেখার সাথে সাথে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

গর্ভাবস্থায় বাদামী স্রাব কি স্বাভাবিক?

গর্ভাবস্থায় বাদামী স্পটিং মোটামুটি স্বাভাবিক এবং 20% এর বেশি গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার বিভিন্ন সময়ে এটি ঘটে। গর্ভাবস্থায় বাদামী স্রাব এর কারণ হতে পারে:

১. গর্ভরোপণ

প্রথম সপ্তাহগুলিতে, একটি উর্বর ডিমের রোপণের সময়, জরায়ু পুরাতন টিস্যু পদার্থকে বের করে দিয়ে একটি নতুন ভ্রূণকে ধরে রাখার জন্য নিজেকে সক্রিয় করে।

২. সেক্স এবং মেডিকেল পরীক্ষা

গর্ভাবস্থায়, রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে সার্ভিক্স এবং যোনি খুব সংবেদনশীল থাকে। মেডিকেল পরীক্ষা এবং টেস্ট বা সেক্সও স্পটিং সৃষ্টি করতে পারে।

৩. প্রসব শ্রমের জন্য প্রস্তুতি

মিউকাস প্লাগ বের হয়ে গিয়ে প্রসব শ্রম শুরু হলেও বাদামি স্রাব হতে পারে।

বাদামী স্রাব কখন উদ্বেগের কারণ হয়?

যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই, তবে প্রতিটি গর্ভবতী মহিলার নিজের নজরদারি করা উচিত যাতে কোনও গুরুতর সমস্যার লক্ষণগুলি যেন নজর না এড়িয়ে যায়।  বাদামী স্রাবের চেহারা, পরিমাণ এবং গন্ধের উপর নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনও অস্বাভাবিকতা বুঝতে পারলেই একবারে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত।

বাদামী স্রাব কখন উদ্বেগের কারণ হয়

কিছু লক্ষণ রয়েছে যা গুরুতর অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলিকে প্রতিফলিত করে:

১. প্রচুর পরিমাণে স্রাব – সাধারণভাবে, গর্ভাবস্থাকালীন কোনও স্রাব যা পরিচালনার জন্য স্যানিটারি প্যাডের প্রয়োজন হয় তা হল একটি লক্ষণ যে কোনও ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।

২. স্রাবের সাথে অস্বস্তি – ব্যথা এবং খিঁচুনির সাথে স্রাব, খারাপ গন্ধ এবং এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে তা যোনি সংক্রমণকে নির্দেশ করতে পারে।

৩. জলযুক্ত স্রাব – জলযুক্ত তরল বা ডেলার সাথে স্রাব হলে তা গর্ভপাতের সংকেত দিতে পারে এবং ডি ও সি এর প্রয়োজনের ইঙ্গিত করতে পারে।

৪. স্রাবের সময়কাল – যৌন মিলন বা মেডিকেল পরীক্ষার পরে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা স্রাব কোনও সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে।

৫. স্রাবের সাথে জ্বর – জ্বর এবং কাঁপুনি সহ স্রাব হলে তা জরায়ু বা কিডনির গুরুতর সংক্রমনের কারণে হতে পারে এবং সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা করা উচিত।

৬. স্রাবের সাথে তীব্র ব্যথা – এক্টোপিক গর্ভাবস্থার কারণে মাথা ঘোরা, তীব্র ব্যথা এবং পেটের ব্যথার সাথে স্রাব হতে পারে। এটি মায়ের জীবনহানির ভয় সৃষ্টি করে এবং গর্ভাবস্থা দ্রুত শেষ করতে হয়।

গর্ভবতী মহিলাদের বাদামী স্রাবের কারণ কী?

গর্ভবতী মহিলাদের বাদামী স্রাবের কারণ কী

 

বাদামী স্রাব, গর্ভাবস্থায় একটি খুব সাধারণ ঘটনা, এটি অনেকগুলি বিষয়কে নির্দেশ করতে পারে। এর কয়েকটি কারণ হ’ল:

১. গর্ভরোপণের রক্তপাত

নিষিক্ত ডিমগুলি জরায়ুর দেওয়ালে চলে যায় এবং সেখানে নিজেকে রোপণ করে, যার ফলে রক্তপাত হতে পারে। ডিম্বস্ফোটনের 6 দিন পর থেকে গর্ভাবস্থার প্রথম কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত গর্ভরোপণের রক্তপাত হতে পারে। এটিকে কখনও কখনও পিরিয়ডের প্রত্যাশিত তারিখের কয়েক দিন আগে হালকা-গোলাপী দাগ হিসাবেও দেখা যায়। যেহেতু ডিম্বস্ফোটনের 14 দিন পরে ঋতুস্রাব হয়, তাই প্রাথমিক গর্ভরোপণের রক্তপাতকে কখনও কখনও হালকা এবং দেরীতে হওয়া পিরিয়ড ভেবে ভুল হয়।

২. প্রাক-প্রসব শ্রমের স্রাব

গর্ভাবস্থার শেষ সপ্তাহগুলিতে হওয়া বাদামী স্রাব প্রসব শ্রমের ইঙ্গিত হতে পারে। যখন এটি 36 থেকে 40 সপ্তাহের মধ্যে ঘটে, সাথে শ্লৈষ্মিক প্লাগ নষ্ট হয়ে যায়, তখন স্রাবের সাথে ধূসর, মিউকাস এবং জেলির মতো ফোঁটা থাকতে পারে যা রক্তযুক্ত হয় বা পুরানো, বাদামী রক্তের সাথে মিশে থাকে। এটা হয় যখন সার্ভিক্স নরম হয়ে যায়, আপনার দেহ প্রসবের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায় এবং গর্ভাশয়ে সংক্রমণের প্রবেশ বন্ধ করে যে শ্লেষ্মা প্লাগ সেটির আর প্রয়োজন হয় না। প্লাগ এবং স্রাব একবারে পুরোটা অথবা কিছু দিন বা সপ্তাহ ধরে অল্প অল্প করে বের হয়ে যেতে পারে।

৩. যৌন মিলন

গর্ভাবস্থায় সার্ভিক্স রক্তে ভরে যায় এবং এর সাথে হরমোনের পরিবর্তনের ফলে এটি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। যৌন মিলন বা একটি আক্রমণাত্মক মেডিকেল পরীক্ষা কিছুটা ব্যথার সাথে বাদামী স্রাবের কারণ হতে পারে।

৪. মোলার গর্ভাবস্থা

বাদামী স্রাব কখনও কখনও মোলার গর্ভাবস্থার স্বতঃস্ফূর্ত বিতাড়নের কারণে ঘটে, যেটি হল প্লাসেন্টার একটি অস্বাভাবিকতা। এটি নিষেকের সময় সমস্যার কারণে ঘটে। নিষেকের প্রক্রিয়া চলাকালীন একটি জিনগত ত্রুটি জরায়ুর অভ্যন্তরে অস্বাভাবিক টিস্যুর বৃদ্ধির দিকে পরিচালিত করে। মোলার গর্ভাবস্থা বিরল, প্রতি 1000টি গর্ভধারণের মধ্যে 1টিতে ঘটে এবং সাধারণত একটি স্থায়ী ভ্রূণের সৃষ্টি করে না। পরিবর্তে এতে টিস্যুর অস্বাভাবিক দ্রুত বৃদ্ধি হয়ে থাকে। মোলার গর্ভাবস্থার শেষে বাদামী স্রাব এবং আঙুরের মতো টিস্যু স্বতঃস্ফূর্তভাবে বের হয়।

৫. সার্ভিকাল পলিপস

সার্ভিকাল পলিপ হল সার্ভিক্সের উপর ক্ষতিহীন হালকা বৃদ্ধি। গর্ভাবস্থায় বাদামী স্রাব কখনও কখনও সার্ভিকাল পলিপ থেকে উচ্চতর ইস্ট্রোজেনের মাত্রার কারণে হওয়া রক্তপাতের কারণে এবং সার্ভিক্সের টিস্যুতে বেড়ে যাওয়া রক্তপ্রবাহের কারণে ঘটে।

৬. এক্টোপিক গর্ভাবস্থা

বাদামী রঙের স্রাব কখনও কখনও এক্টোপিক গর্ভাবস্থার লক্ষণ, যেখানে নিষিক্ত ডিমগুলি জরায়ুর বাইরে নিজেকে রোপণ করে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফ্যালোপিয়ান টিউবগুলিতে।  এতে সাধারণত প্রচুর মাথা ঘোরে, হালকা মাথাব্যথা হয় এবং মাঝে মাঝে অজ্ঞান হয়ে যায়, পেটে এবং শ্রোণীর একপাশে ব্যথা হয় যা আসে ও যায়।

এক্টোপিক গর্ভাবস্থা একটি গুরুতর সমস্যা এবং এতে ফ্যালোপিয়ান টিউব ফেটে যেতে পারে এবং গুরুতর অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে পারে। যদি আপনার বাদামী স্রাব এই লক্ষণগুলির সাথে হয় তবে এটির জন্য তাৎক্ষণিক চিকিৎসা হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

৭. মিস করা গর্ভপাত

বাদামী রঙের স্রাব কখনও কখনও মিস করা গর্ভপাতের লক্ষণ হতে পারে। এই ক্ষেত্রে, গর্ভাবস্থার বিকাশ বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু বিকশিত ভ্রূণের টিস্যু জরায়ুর বাইরে বেরিয়ে যায় না। যখন এটি 4 সপ্তাহের মধ্যে ঘটে না, তখন গ্রাউন্ড কফির টেক্সচার যুক্ত রক্তপাত বা গাঢ় বাদামী স্পটিং হয়। এতে কখনও কখনও খারাপ গন্ধ এবং বহিষ্কৃত টিস্যু পদার্থ থাকে। এই ক্ষেত্রে, জরায়ু থেকে সমস্ত ভ্রূণ পরিষ্কার হয়ে বেরিয়ে যাতে যায় তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা আপনাকে চিকিৎসকের সাথে দেখা করার পরামর্শ দিচ্ছি।

৮. গর্ভস্রাব

পেটে ব্যথা, পিঠের তলদেশে ব্যথা ও পিরিয়ডের মতো তীব্র ব্যথা সহ যদি বাদামী এবং মাঝে মধ্যে লাল স্রাব প্রথম ত্রৈমাসিকে যোনি থেকে বেরোয় তবে তা গর্ভপাতের লক্ষণ হতে পারে। রক্তপাত হালকা থেকে ভারী পর্যন্ত হতে পারে, রক্ত জমাট বেঁধে থাকতে পারে এবং কয়েক দিন ধরে চলতে পারে, কখনো হবে এবং কখনো হবে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, মহিলার দেহ 1 সপ্তাহ থেকে 10 দিনের মধ্যে গর্ভপাত থেকে আরোগ্য লাভ করে। তারপরে, আরও চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না।

৯. অস্বাভাবিক প্ল্যাসেন্টা

কিছু প্ল্যাসেন্টার অবস্থা বা অস্বাভাবিকতা যেমন প্ল্যাসেন্টা প্রেভিয়া এবং প্লাসেন্টার বিদারণ বাদামী স্পটিং-এর কারণ হতে পারে। প্লাসেন্টা প্রেভিয়াতে, সার্ভিক্সের মুখ প্লাসেন্টা দিয়ে আচ্ছাদিত থাকে, যার ফলে বাদামী স্রাব হয় তবে কোনও ব্যথা হয় না। প্লাসেন্টা বিদারণের ক্ষেত্রে, জরায়ু প্ল্যাসেন্টা থেকে পৃথক হয়ে যায়, বাদামী স্রাব এবং ব্যথা উভয়ই ঘটায়।

১০. যৌনাঙ্গে এইচপিভি

এটি আরেকটি অবস্থা যা ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বৃদ্ধি এবং বর্ধিত রক্ত প্রবাহের কারণে হয়। বাদামী স্রাব এর অন্যতম লক্ষণ।

১১. যোনি সংক্রমণ

যোনিতে সংক্রমণ এবং যৌন সংক্রামিত রোগগুলিও বাদামী স্পটিং সৃষ্টি করতে পারে।

আপনি গর্ভবতী থাকার সময় কীভাবে বাদামী স্রাব হ্রাস করবেন?

যদি গর্ভাবস্থায় কোনো গুরুতর অন্তর্নিহিত সমস্যা থাকার কারণে বাদামী স্রাব হয়, তবে বেশিরভাগ ঘরোয়া প্রতিকারে কোনও উপকার হবে না। তবে এমন কিছু প্রতিকার রয়েছে যা আপনাকে আরও ভাল বোধ করানোর পাশাপাশি গর্ভাবস্থা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

১. ঘরোয়া প্রতিকার

ঘরোয়া প্রতিকার

  • নিজেকে পর্যবেক্ষণ করুন: আপনার হাসপাতালের ভিজিট অব্যাহত রাখুন এবং প্রস্তাবিত সমস্ত চেকআপগুলি যথাসময়ে সম্পূর্ণ করুন যাতে কোনও সমস্যা বাড়ার আগেই সেটি খুঁজে পাওয়া ও পরিচালনা করা যায়।
  • এটা হাল্কা ভাবে নিন: শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যে গর্ভাবস্থা যে চাপ সৃষ্টি করে এটি তাকে বোঝাচ্ছে। আপনার কাজের চাপ কমাতে সাহায্য করার জন্য কোনও ভাড়া করা সহায়তাহারী বা বিশ্বস্ত পরিবারের সদস্য পেতে পারেন কিনা তা দেখুন।
  • ব্যায়াম অত্যধিক করবেন না: গর্ভাবস্থায় ব্যায়াম করা এবং সক্রিয় থাকা গুরুত্বপূর্ণ, তবে মনে রাখবেন যে খুব বেশি করে কিছু করাও আবার খারাপ।
  • ঘুম নিরাময় করে: বিছানায় চলে যাওয়া আপনার পক্ষে সেরা কাজ। বৃদ্ধি এবং নিরাময়ের জন্য আপনার শরীরের যত ঘন্টা প্রয়োজন তত ঘন্টা ঘুমান। আপনি যদি চাকরি করেন তবে দিনের বেলা অল্প করে ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
  • আপনার পা উঁচু করুন: আপনার পা উপরে উঠিয়ে রাখলে আপনার ওজনটি মেঝে থেকে সরে যায়। এটি আপনার শরীরে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে এবং গর্ভাবস্থায় বাদামী স্রাবের পরিমাণ হ্রাস করতে সহায়তা করে।
  • ভারী ওজন তুলবেন না: ভারী ওজন তুলে নিজের উপর চাপ দেওয়া এই সময়ে ভাল আইডিয়া নয়।
  • গর্ভাবস্থায় স্রাব এবং রক্তপাত সমস্যার জন্য পরীক্ষা: আপনার গর্ভাবস্থার অবস্থা, আপনার জরায়ুর আকার, আপনার রক্তে গর্ভাবস্থার হরমোনের মাত্রা, রক্তপাতের পরিমাণ এবং বাদামী স্রাব ও রক্তপাত সৃষ্টিকারী কোনও দৃশ্যমান কারণের উপস্থিতি যাচাই করার জন্য যোনি এবং সার্ভিক্সের পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা এবং আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।

২. ওষুধ

গর্ভাবস্থায় বাদামী স্রাবের চিকিৎসার জন্য দেওয়া ওষুধটি সমস্যার প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। কিছু মহিলার ওষুধের প্রয়োজন হয় না, অন্যদের হয়।

আপনাকে কখন কোনো ডাক্তারের কাছে যেতে হবে?

ডাক্তারের মতামত নেওয়ার ব্যাপারে আপনার সিদ্ধান্ত স্রাবের প্রকৃতি এবং তার রঙ, পরিমাণ, জমিন এবং গন্ধের উপর নির্ভর করে।

একজন ডাক্তার দেখানোর কথা বিবেচনা করুন যদি:

  • প্রচুর স্রাব হয় যা স্পটিং-এর চেয়ে বেশি। স্রাবের জন্য স্যানিটারি প্যাডের প্রয়োজন হলে তা পরীক্ষা করা উচিত।
  • সহবাসের পরে স্রাব 7 দিনের বেশি স্থায়ী হয়, এটি খারাপ গন্ধযুক্ত বা জ্বালা সৃষ্টিকারী।
  • স্রাবের সাথে ব্যথা থাকে অথবা টিস্যু বা ডেলা বের হয়।
  • স্রাবের সাথে জ্বর বা কাঁপুনি হয়।
  • স্রাবের সাথে পেটে খিঁচুনি, তীব্র ব্যথা হয় বা মাথা ঘোরে।

মনে রাখবেন, যদিও বাদামী রঙের স্রাব সাধারণত কোনও সমস্যার পরিচায়ক নয়, আপনি যদি গর্ভাবস্থায় রক্তপাতের বিষয়টি লক্ষ্য করেন তবে সর্বদা আপনার ডাক্তারকে কল করুন। আপনার লক্ষণগুলি সর্বদা নোট করুন এবং আপনার গুরুতর কিছু সন্দেহ হলে কখনও আপনার চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে যেতে দ্বিধা করবেন না। সর্বোপরি – দুঃখিত হওয়ার চেয়ে নিরাপদ থাকা ভাল।