৩০-এর কোঠায় গর্ভবতী হওয়ার বিষয়ে যে জিনিসগুলি আপনার অবশ্যই জানা উচিত

৩০-এর কোঠায় গর্ভবতী হওয়ার বিষয়ে যে জিনিসগুলি আপনার অবশ্যই জানা উচিত

অনেক নারী মনে করেন যে, ৩০এর কোঠায় বয়স গর্ভবতী হওয়ার সঠিক সময়, কারণ আপনি আপনার পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, আর্থিকভাবে স্থিতিশীল, আরো অভিজ্ঞ এবং মাতৃত্বের চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা করার মতো যথেষ্ট জ্ঞান রয়েছে আর্থিক স্বাধীনতা বৃদ্ধি, চাকরির নিরাপত্তা এবং দেরীতে বিয়ের সৌজন্যে, নারীরা আজ আগেকার দিনের তুলনায় দেরিতে সন্তান নিচ্ছেন

aniview

গর্ভধারণে বিলম্ব করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, আপনি অনুগ্রহ করে মনে রাখবেন যে, ৩০ বছর বয়সের পর গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা জৈবিক পরিবর্তনের কারণে কমতে শুরু করে

আপনার৩০এর কোঠায় গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা

৩০ বছর বয়সের পর (৩০৩৪) সফল গর্ভাবস্থার সম্ভাবনা তাও বেশি থাকে, প্রায় ৮৬% এর মতো নেতিবাচক দিক থেকে, গর্ভপাতের ঝুঁকিও বেড়ে যায় ২০% বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, ৩০এর কোঠার প্রথম দিকে দম্পতিদের প্রজনন চিকিত্সার প্রয়োজন হয় না কিন্তু ডাক্তাররা পরামর্শ দেন যে, আপনি যখন আপনি শিশুর জন্ম দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তখন আপনাকে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞকে অবশ্যই পরীক্ষার জন্য দেখাতে হবে এবং কোনো সমস্যা থাকলে তা চিহ্নিত করতে হবে আপনার ৩০এর কোঠার শেষ দিকে (৩৫৩৯) গর্ভধারণের সম্ভাবনা তবুও যথেষ্ট বেশি থাকে, ৭৮% (বিশেষ করে যদি আপনার বয়স ৩৭ বছরের কম হয়), তবে আপনার ৩০এর কোঠার প্রথম দিকের তুলনায় কম তবে, গর্ভপাত, ডাউনস সিন্ড্রোম বা অস্বাভাবিক গর্ভাবস্থার ঝুঁকি বেড়ে যায় ।

যদিও বাচ্চার জন্ম দিতে চেষ্টা করা বেশিরভাগ মহিলাদের এক মাসের মধ্যে গর্ভধারণ করার সম্ভাবনা থাকে ১৫২০%, কিছু (প্রায়৩০%) মহিলারা গর্ভধারণ করতে এক বছর বা তার বেশি সময় নিতে পারেন যদি আপনি মাস ধরে গর্ভধারণের চেষ্টা করছেন, তাহলে ডাক্তাররা একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে বলেন, কারণ আপনার ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের (আইভিএফ) প্রয়োজন হতে পারে

যদি আপনি ৬ মাস ধরে গর্ভধারণের চেষ্টা করছেন, তাহলে ডাক্তাররা একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে বলেন

আপনার ৩০এর কোঠার শেষ দিকেও যদি আপনি গর্ভবতী হওয়ার জন্য প্রস্তুত না হন, চিন্তা করবেন না চিকিৎসার অগ্রগতির সৌজন্যে, ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত আপনি আপনার ডিম্বাণুগুলিকে বরফায়িত করে রাখতে পারেন এবং আপনার ৪০এর কোঠার মাঝামাঝি পর্যন্তও গর্ভধারণ করার ভালো সুযোগ পেতে পারেন

আপনার ৩০এর কোঠায় গর্ভধারণ করার সুবিধা অসুবিধা

আপনি যদি পরিবার শুরু করার কথা ভাবছেন, তাহলে এখানে কিছু তথ্য রয়েছে যা আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে:

সুবিধা

৩০ বছর বয়সের পর শিশুর জন্ম দেওয়ার সুবিধাগুলির মধ্যে নিম্নলিখিতগুলি রয়েছে:

  • আর্থিক স্থিতিশীলত এটি সম্ভবত সবচেয়ে বড় কারণ, যে জন্য মহিলারা তাদের ৩০এর কোঠায়  শিশুর জন্ম দেওয়াকে বেছে নেন আপনার ৩০এর কোঠায়, আপনার কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে আপনি কমপক্ষে বছর ধরে কাজ করেছেন এবং ২০ বছর বয়সীদের মতো আর্থিক ভুলগুলো করে ফেলেছেন এখন আপনি বেশি বয়সী, বেশি জ্ঞানী, অর্থ সঞ্চয় করতে এবং আরও ভাল আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়েছেন ব্যয়বহুল শিশুর জিনিসপত্র, ডায়পার, আয়া এসবের কথা ভেবে আপনার ঘেমে যাওয়ার কথা নয়

  • সম্পর্কে স্থিতিশীলতা  আপনি আপনার ৩০এর কোঠায় পৌঁছালে, আপনার একটি স্থিতিশীল সুস্থ সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনা থাকে বেশিরভাগ মহিলারা তাদের স্বামীকে জানতে এবং নিজেদের বোঝার জন্য বিয়ের পর প্রায় দুই বছর অপেক্ষা করতে পছন্দ করে বিয়ের পরের প্রথম কয়েক বছরের সমস্যা মানিয়ে নেওয়া এবং তার মধ্যে একটি শিশুর জন্ম দেওয়ার কথা একবা  ভাবুন!

  • আরো অভিজ্ঞ  যখন আপনার বয়স ২৩ বছর ছিল, তা মনে করুন একটি শিশুর চেয়ে সামান্যই একটু পরিপক্ক! যখন আপনি ৩০ বছর বয়সে পৌঁছেছেন, ততদিনে আপনি ভ্রমণ করেছেন, কাজ করেছেন, বসবাস করেছেন এবং আরো বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন আপনি বেশি জ্ঞানী, বেশি শান্ত এবং আপনার সন্তানকে বেশি সাহায্য করতে পারেন ।

  • একটি সমর্থন গোষ্ঠী থাকা – যদি আপনার ২৫ বছর বয়সে একটি বাচ্চা হয়, তবে হতে পারে যে, আপনার বন্ধুদের মধ্যে আপনিই একমাত্র মা, কারণ বেশিরভাগ মহিলারা ৩০ বছর বয়সের জন্য অপেক্ষা করছেন আপনি দেখবেন যে, পরামর্শের জন্য আপনাকে আপনার বাবামায়ের কাছে বা অন্য অনেক বৃদ্ধ মহিলাদের কাছে ছুটতে হচ্ছে আপনি ৩০এর কোঠায় একটি শিশুর জন্ম দিলে, সমবয়স্ক এবং সমমনস্ক মায়েদের নিয়ে একটি সমর্থনদল তৈরি করতে পারবেন ।

  • আপনি অল্পবয়সী দেখতে লাগবেন এবং অনুভব করবেন বেশিরভাগ মায়েরা স্বীকার করেন যে, সন্তানদের জন্ম দেওয়া তাঁদের তাড়াতাড়ি বয়স্ক করে দিয়েছে । যদি আপনার চব্বিশ বছর বয়সে বাচ্চা হয়, তাহলে বত্রিশ বছর বয়সে, আপনার কাছে একটি বছর বয়সী বাচ্চা থাকবে আপনার বেশিরভাগ বন্ধুরাই তখন সবে সন্তানের জন্ম দিতে শুরু করবেন এবং তাঁদের অনেক কম বয়সী দেখতে লাগবে

অসুবিধা

আপনি দেরীতে গর্ভাবস্থার পরিকল্পনা করলে, আপনাকে কিছু কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হতে পারে  ৩০ বছর বয়সের পরে সাধারণ গর্ভাবস্থা জটিলতার সৃষ্টি হয় । এর মধ্যে রয়েছে:

  • গর্ভধারণ করতে বেশি সময় লাগে – ৩০ বছর বয়সের পরে, কিছু মহিলার ক্ষেত্রে গর্ভধারণ করা কঠিন হতে পারে নারী শরীরের পরিপক্কতার সঙ্গে, ডিম্বস্ফোটন আরো অনিশ্চিত হয়ে ওঠে, যার ফলে বন্ধ্যাত্ব হতে পারে
  • জীবনশৈলী (লাইফস্টাইল) রোগ – আপনার বয়স যত বাড়ে; থাইরয়েড, ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো অনেক সমস্যা উঁকি মারতে শুরু করে, যা আপনার এবং আপনার শিশুর স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে এবং অকাল প্রসবের ঝুঁকি বাড়ায়  
  • গর্ভাবস্থা জটিলতার – গর্ভাবস্থাজটিলতার সৃষ্টিগর্ভাবস্থারসময়ডায়াবেটিসবাউচ্চরক্তচাপেভোগারঝুঁকিবেশি হয় আপনাকেকঠোরখাদ্যপরিকল্পনা মেনে চলতেহবেএবংব্যায়ামকরতেহবেএবংনিয়মিতআপনারডাক্তারেরকাছেযেতেহবে
  • সিসেকশনের প্রয়োজন হওয়া – ৩০এর কোঠায় গর্ভাবস্থার জটিলতার মধ্যে স্থায়ী প্রসব বেদনার মতো সমস্যাও থাকে যেটির কারণ:
      • সার্ভিক্স সঠিকভাবে খোলে না
      • শিশুর নড়াচড়া সঠিক নয়
      • শিশুকে বের করার জন্য সংকোচন যথেষ্ট শক্তিশালী নয়

এই পরিস্থিতিতে সিসেকশন করতে হতে পারে

  • গর্ভপাতের উচ্চ ঝুঁকি – ৩০এর কোঠার শেষদিকের গর্ভাবস্থায় গর্ভপাত এবং মৃত শিশুর জন্ম দেওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়, সম্ভবত ডিম্বাণুগুলির গুণমানের কমে যাওয়ার কারণে

  • আপনার শিশুর স্বাস্থ্য – ৩০এর কোঠার প্রথম দিকে গর্ভাবস্থা আপনার সন্তানের স্বাস্থ্যকে আরও বেশি ঝুঁকিতে ফেলে বয়স্ক মহিলাদের জন্ম দেওয়া বাচ্চাদের প্রায়ই ডাউনস সিন্ড্রোম বা সুষুম্না  কান্ডের ত্রুটির মতো জিনগত সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি থাকে আপনার শিশু স্বাস্থ্যবান কিনা তা নিশ্চিত করতে ডাক্তাররা অ্যামনিয়োসেন্টেসিস টেস্ট এবং নিয়মিত আল্ট্রাসাউন্ড করে থাকেন

৩০এর কোঠায় গর্ভবতী হওয়ার পরিকল্পনা করলে যা যা করতে হবে

৩০ বছর বয়সের পরে গর্ভাবস্থার প্রস্তুতির বিষয়ে কয়েকটি পরামর্শ নীচে দেওয়া হল:

  • গর্ভনিরোধক ওষুধ বন্ধ করুন এটি সবচেয়ে সুস্পষ্ট আপনি যদি গর্ভনিরোধক ওষুধ ব্যবহার করেন, তবে গর্ভবতী হওয়ার চেষ্টা করার কয়েক মাস আগে থেকে এর ব্যবহার বন্ধ করুন

  • ধূমপান / মদ্যপান বন্ধ করুন গর্ভধারণের চেষ্টা করার সময় এবং গর্ভাবস্থা একটি স্বাস্থ্যবান সন্তানের জন্য ধূমপান মদ্যপান এড়িয়ে চলুন আপনার সঙ্গীকে ধূমপান মদ্যপান বন্ধ করতে বলুন, কারণ এটি পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা কমিয়ে দিতে পারে

  • ওজন কমানো যদি আপনার ওজন বেশি হয়, তাবে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন গর্ভবতী হওয়া সহজ হবে এবং আপনার ঝুঁকি এবং জটিলতা কম থাকবে

  • আপনার ডাক্তারের সাথে দেখা করুন অনেক বিশেষজ্ঞরা গর্ভধারণের চেষ্টা করার আগে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন, যাতে হাঁপানি (অ্যাস্থমা) বা ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতাগুলি আগে থেকে সারিয়ে নেওয়া যায় গর্ভাবস্থ শুরু হলে, নিয়মিত পরীক্ষা আপনা এবং আপনার শিশুর স্বাস্থ্যের উপর নজর রাখবে এবং কোনও সমস্যা থাকলে তার সমাধান করবে

  • ওষুধগুলি সম্পর্কে সতর্ক থাকুন –  যদি আপনি ওষুধ খান, তবে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে ভুলবেন নাকারণ অনেক ওষুধ গর্ভবতী মহিলাদের জন্য উপযুক্ত নয়

  • স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া বজায় রাখুন স্বাস্থ্যকরভাবে খেতে ভুলবেন নাঃ তাজা ফল, সবজি এবং প্রচুর জল খান

  • ব্যায়াম গর্ভবতী মহিলাদের ব্যায়াম ক্লাসে ভর্তি হওয়া উচিত, যাতে আপনার স্বাস্থ্যকর থাকা নিশ্চিত হয় ।

৩০এর কোঠায় গর্ভাবস্থা সম্পর্কিত অন্যন্য তথ্য

যৌন অবস্থান আপনার গর্ভধারণের সম্ভাবনার উপর প্রভাব ফেলে না :

যৌন অবস্থান আপনার গর্ভধারণের সম্ভাবনার উপর প্রভাব ফেলে না

কোনও গবেষণায় নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি যে, গর্ভাবস্থা অর্জনে কোনও অবস্থানের তুলনায় অন্য কোনও অবস্থান বেশি ভালো

পুরুষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে :

একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা কোন দম্পতিকে দ্রুত গর্ভধারণে সাহায্য কর

পিতার বয়সও গর্ভধারণের সময়টিকে প্রভাবিত করে ৩৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের প্রায় ১৫% এক বছর চেষ্টা করেও তাদের স্ত্রীকে গর্ভবতী বানাতে ব্যর্থ একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা কোন দম্পতিকে দ্রুত গর্ভধারণে সাহায্য কর

আপনি যতটা মনে করেন গর্ভপাত তার থেকে বেশি সাধারণ :

মোট গর্ভাবস্থার প্রায় ৩০% গর্ভপাতে শেষ হয়ে যায়

মোট গর্ভাবস্থার প্রায় ৩০% গর্ভপাতে শেষ য়ে যায় দুর্ভাগ্যবশত, এর সাথে সম্পর্কিত নিষিদ্ধতার কারণে, খুব অল্প লোকএটি সম্পর্কে খোলাখুলিভাবে আলোচনা করে

আপনি যদি আপনার ২০ কোঠায় শিশুর জন্ম দিতে প্রস্তুত না থাকেন, তবে অস্থির হবেন না মনে রাখবেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে এবং বেশিরভাগ মহিলারা তাদের ৩০এর কোঠায় এমনকি চল্লিশের কোঠার মাঝে সুখী সুস্থশিশুর জন্ম দিচ্ছেন ডাক্তারদের মতে, আপনি যদি আপনার স্বাস্থ্যের যত্ন নেন, সঠিকভাবে খান এবং নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তবে আপনি যে কোন বয়সে একটি সুখী গর্ভাবস্থা এবং সুস্থ সন্তান পেতে পারেন