ইতিবাচক গর্ভাবস্থা পরীক্ষা কিন্তু কোন লক্ষণের প্রকাশ নেই —এটা কি সম্ভব?

ইতিবাচক গর্ভাবস্থা পরীক্ষা কিন্তু কোন লক্ষণের প্রকাশ নেই —এটা কি সম্ভব?

আপনি আপনার গর্ভাবস্থার পরীক্ষার ইতিবাচক ফল পাওয়ায় আশা করতে থাকেন যে এখন থেকে যেকোনো সময় আপনাকে খোঁচা দিতে থাকবে গর্ভাবস্থার সকল লক্ষণ-গুলি।মর্নিং সিকনেস, স্তনের সংকোচন, অবসাদ এবং বমি বমি ভাব এই সময় থেকে অনুভব করতে পারেন।কিছু সপ্তাহ কেটে যায় এবং আপনি কোনওরকম লক্ষণের প্রকাশ পান না।এ বিষয়ে আপনি সজাগ হয়ে যেতে পারেন এবং আপনার প্রথম চিন্তা হতে পারে যে হয়ত কিছু ভুল হয়ে যাচ্ছে।যাইহোক, এটি নাও হতে পারে।

aniview

প্রত্যেকটা মহিলার গর্ভাবস্থা ভিন্ন প্রকৃতির হয়।এটা একটা সম্ভাবনা থাকে যে,কিছু জন চরম পরিণতি পেতে পারেন এবং বইতে লেখা প্রতিটা লক্ষণকে তারা উপভোগ করতে পারেন যখন আবার অন্য কিছুজন কোনওরকম লক্ষণের প্রকাশই দেখতে পান না।

কোনরকম লক্ষ্মণ ছাড়াই গর্ভাবস্থা—কেন এরকম ঘটে?

অনেক মহিলা যারা তাদের গর্ভাবস্থার পরীক্ষার ইতিবাচক ফল পান কিন্তু তার কোনওরকম লক্ষণই দেখতে পান না তারা প্রায়শই একটা প্রশ্নের ধাঁধায় পড়েন যে, কোনওরকম লক্ষণ ছাড়াই কি আমি গর্ভবতী হতে পারি।ছোট্ট উত্তর হল-হ্যাঁ। কোনরকম লক্ষণ ছাড়া গর্ভাবস্থা হল ভীষণ সাধারণ একটা ঘটনা এবং তা নয়, এটার অর্থ কখনও এই হতে পারে না যে আপনার বাচ্চা সমস্যায় আছে।

প্রত্যেক মহিলাই গর্ভাবস্থার সময় বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেন এমনকি তাদের দুটো গর্ভাবস্থার মধ্যেও অনুরূপ লক্ষণ প্রকাশ পায় না।কিছু গর্ভবতী মহিলা তো আবার তাদের গর্ভাবস্থার 7 সপ্তাহে পৌঁছিয়েও কোনরকম লক্ষণ বুঝতে পারেন না।এরপর থেকে তারা কিছু লক্ষণ বুঝতে শুরু করেন যেমন খিদে বেড়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব,বেদনা এবং অন্যান্য আরো। কিছুজনের মধ্যে লক্ষণ-গুলির সূত্রপাত ধীরে ধীরে হতে থাকে, কিন্তু অন্যদের মধ্যে কোনওরকম পূর্বাভাষ ছাড়াই লক্ষণগুলির প্রকাশ ঘটে।

এটারও সম্ভাবনা থাকে যে,যদি আপনি গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে অবস্থান করেন,আপনি কোনরকম লক্ষণ বুঝতে নাও পারেন যেহেতু নিষিক্ত ভ্রূণ জরায়ুর মধ্যে শুধুমাত্র প্রতিস্থাপিত হতেই সময় নেয় ওভুলেশনের পর 6-12 দিন। এই সময়ে শরীর সচেতন থাকে না গর্ভাবস্থার ফলে দেহের পরিবর্তনের কোনও লক্ষণ-গুলিকে বুঝতে পারার জন্য।আবার সেই রকমই কখনও যদি আপনার গর্ভাবস্থার প্রাথনিক পর্যায়ে আপনি কোনওরকম লক্ষণই দেখতে না পান, তার অর্থ কখনই এটা নয় যে,আপনি এর পরেও সেটা দেখতে পাবেন না।আপনার গর্ভাবস্থার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আপনার হঠাৎ করেই বমি বমি ভাব, মর্নিং সিকনেস এর মত লক্ষণগুলির অভিজ্ঞতা হবে।

কখন আপনি আপনার গর্ভাবস্থা সম্পর্কে অনিশ্চিত হতে পারেন?

যদি আপনি বাড়িতে প্রাথমিক গর্ভাবস্থা সনাক্তকরণ পরীক্ষা করতে চান, আপনি পরীক্ষার ইতিবাচক ফলাফল পেতে পারেন কিন্তু এর কোনওরকম লক্ষণের অভিজ্ঞতা নাও হতে পারে।

প্রাথমিক গর্ভাবস্থা সনাক্তকরণের স্ট্রিপ-গুলি মূত্রের HCG এর মাত্রা পরিমাপ করে গর্ভাবস্থা নির্ধারণের জন্য।প্রাথমিক পর্যায়ে HCG হরমোনের মাত্রা খুব কম থাকে।সুতরাং আপনি যদি এই সময় কোনও পরীক্ষা করান এবং গর্ভাবস্থার অনিশ্চয়তা প্রকাশ পায়, তবে আপনার গর্ভধারণ নির্ধারণের জন্য সবচেয়ে ভাল উপায় হল একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরপর কতগুলি রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করানো।

যখন আপনার ডাক্তারবাবু আপনাকে নিশ্চিত করেন যে কোন রকম লক্ষণ ছড়াই আপনি গর্ভবতী?

যখন আপনার ডাক্তার বাবু আপনাকে নিশ্চিত করেন যে আপনি গর্ভবতী তখনও হয়ত আপনি গর্ভাবস্থার লক্ষণ-গুলো অনুভব করেননি।তাহলে বুঝতে হবে আপনি সেই ভাগ্যবতীদের মধ্যে একজন যারা খুব সামান্য অথবা একদমই কোনো লক্ষণ ছাড়াই গর্ভাবস্থা উপভোগ করছেন।এটাও হতে পারে যে আপনি হয়ত খেয়ল-ই করেন নি আপনার খুব সামান্য পরিবর্তন গুলোকে যেমন সামান্য খিদে বেড়ে যাওয়া,অবসাদ কিমবা শক্তির আচমকা বৃদ্ধির।

যখন আপনার ডাক্তারবাবু আপনাকে নিশ্চিত করেন যে কোন রকম লক্ষণ ছড়াই আপনি গর্ভবতী?

এই পরিবর্তন গুলোকে সাধারণ পরিবর্তন বলে ভুল করেছেন।এতদসত্ত্বেও লক্ষণ গুলি প্রকাশ না পেলেও আপনার উচিত রুটিন চেক-আপ বজায় রাখা যাতে আপনার গর্ভস্থ শিশুর সঠিক বিকাশ নিশ্চিত হয়।যদি আপনি অস্বাভাবিক কোনোরকম যন্ত্রণা বা খিঁচুনি অনুভব করেন তাহলে দ্রুত ডাক্তারবাবুর পরামর্শ নিন।

গর্ভাবস্থায় কয়েকটি চেক-আপের পর বাস্তবিক আপনি দেখবেন যে আপনার পেট ফুলে উঠেছে এবং আপনার গর্ভস্থ শিশুটির পদাঘাত অনুভব করবেন।

পলিয়েস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম কি ?

পলিয়েস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (পি সি ও এস )হল হরমোন ক্ষরণের বিশৃঙ্খলা যার জন্যে ডিম্বাশয়ের গাত্রে সিস্ট তৈরী হয়।যে সকল মহিলার পি সি ও এস আছে তাদের গর্ভধারণ করার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়।

পলিয়েস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম কিযাইহোক যে সকল মহিলার পি সি ও এস আছে এবং যারা গর্ভবতী তারা খুব সামান্য বা কোনোরকম লক্ষণই বুঝতা পারেন না।কোনোরকম লক্ষণ ছাড়াই গর্ভধারণ পি সি ও এস এর বৈশিষ্ট্য।একজন গর্ভবতী মহিলার সামান্য বেশী খিদে পায় বা সামান্য ফোলা ভাব থাকে যার সাথে স্বভাবিক গর্ভাবস্থার লক্ষণ গুলোর সামান্য মিল থাকে না।

তাই যদি আপনার পি সি ও এস থাকে এবং গর্ভধারণের কোনো লক্ষন প্রকাশ না পায় তাহলেও আপনার বাচ্চার কোনো ক্ষতি হবে না। আপনি আপনার ডাক্তারবাবুর সাথেও আলোচনা করে নিলে আরো ভাল করবেন পি সি ও এস থাকা সত্ত্বেও গর্ভধারণের ব্যাপারে।

গর্ভপাতের লক্ষণ গুলি দেখুন

বেশির ভাগ মহিলা গর্ভপাত ঘটে গর্ভধারণের প্রথম 12 সপ্তাহের মধ্য যেহেতু শরীর গর্ভপাত ঘটায় যদি কোনোরকম সমস্যা দেখা যায় কোশ বিভাজনের সময়।কয়েকটি গর্ভপাতের ঘটনা ঘটে থাকে এই সময়।

যাইহোক আপনি যদি গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে এই ধরণের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন এবং তা হঠাৎ সেটা থেমে যায়, তাহলে বুদ্ধিমানের কাজ হল স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া এটা গর্ভপাতের ঘটনা হলেও হতে পারে।

যে লক্ষণগুলো দেখলে জানবেন গর্ভপাতে হয়ে থাকতে পারে।

  • প্রচন্ড তলপেটে যন্ত্রণা
  • নিয়মিত যন্ত্রণাদায়ক সংকোচন
  • রক্তক্ষরণ

যদি ওপরের কোনো একটি লক্ষনের অভিজ্ঞতা আপনার হয় তাহলে অবিলম্বে ডাক্তারের সাথে দেখা করুন।অনেক সময় আবার এরকম হয়ে থাকে যে কোনোরকম গর্ভপাতের লক্ষণ প্রকাশ পায় না; সেইজন্য আপনি আপনার গর্ভাবস্থার বিকাশ সবসময় নিরীক্ষ করুন।

সফল গর্ভধারণের মূল বিষয়টি হল আপনি সর্বদা তথ্য সমৃদ্ধ থাকুন,এবং যাবতীয় সাবধানতা অবলম্বন করুন।সমস্ত মহিলাদের গর্ভধারণ এর জন্য কোনো একরকম বিন্যাস নেই প্রত্যেক মহিলারই গর্ভাবস্থার অভিজ্ঞতা ভিন্ন ভিন্ন হয়।যদি আপনি উপরে উল্লেখিত লক্ষণগুলোর কোন অভিজ্ঞতা নাঘটে থাকে তাহলে আপনি একজন ভাগ্যবতী এবং আরও কিছুদিন গর্ভ-দশার আনন্দ উপভোগ করুন।