টিউবেক্টমির একটি গাইড (টিউবাল লাইগেশন)

টিউবেক্টমির একটি গাইড (টিউবাল লাইগেশন)

পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই গর্ভনিরোধের জন্য অনেকগুলি পদ্ধতি আছে সেগুলির মধ্যে কয়েকটি ছোট ধরণের অস্ত্রোপচার পদ্ধতি এবং এগুলি গর্ভনিরোধের ক্ষেত্রে সাধারণত স্থায়ী ব্যবহৃত পদ্ধতি টিউবাল লাইগেশন আবার মহিলাদের টিউবাল স্টেরিলাইজেশন (নির্বীজকরণ) নামেও পরিচিত, যা খুব সাধারণ একটি পদ্ধিতি এবং এখানে এটি করার বিভিন্ন পদ্ধতি আলোচনা করা হল

aniview

টিউবাল লাইগেশন কী?

সাধারণ লোকের ভাষায়, টিউবাল লাইগেশন আবার আপনার টিউব টাইড বা নল বাঁধা’ নামেও পরিচিত মহিলাদের নির্বীজকরণের এই পদ্ধতিতে আপনার ডিম্বাশয় মধ্যস্থ ফ্যালোপাইন টিউব, যেটি ডিম্বাণুগুলিকে বহন করে, সেগুলিকে আটকে বা বাধা দেওয়া হয় সেগুলিকে ক্ল্যাম্পিং করে, সিলিং করে বা সেগুলিকে বিচ্ছিন্ন করে এটি শুক্রাণুগুলিকে ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছোতে এবং সেগুলিকে নিষিক্ত করতে বাধা দেয়, এই ভাবে গর্ভনিরোধে কার্যকরি হয় এই ধরণের টিউবার স্টেরিলাইজেশন বা নালী নির্বীজকরণ করা হয় ল্যাপ্রোস্কপিক পদ্ধতিতে, মিনি ল্যাপারোটমি অথবা টিউবাল ইমপ্ল্যান্ট বা নালী প্রতিস্থাপনের দ্বারা

টিউবাল লাইগেশন কতটা কার্যকরি?

টিউবাল লাইগেশন প্রায় একশ শতাংশ কার্যকরি তবে সেক্ষেত্রে যেসব মহিলাদের টিউবাল লাইগেশন করানো হয়েছে তাদের মধ্যে 0.5% (প্রতি 1000 জনের মধ্যে 5 জনের) এই পদ্ধতি প্রয়োগের একবছর পরেও গর্ভবতী হতে পারেন এবং এই পদ্ধতি প্রয়োগের পাঁচ বছর পরে গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে 1.3%সঠিক অস্ত্রোপচার না হওয়া অথবা এই পদ্ধতি প্রয়োগের সময় গর্ভবতী হয়ে পড়াএইগুলি টিউবাল লাইগেশন ঘটানোর পরেও গর্ভবতী হওয়ার পিছনে কারণ হয়ে দাঁড়ায়

নির্বীজকরণ কি আপনার জন্য সঠিক?

নির্বীজকরণ কি আপনার জন্য সঠিক?
নির্বীজকরণ পদ্ধতি প্রয়োগ সেই সব মহিলাদের জন্যই সুপারিশ করা হয় যারা নিশ্চিত যে ভবিষ্যতে তারা আর কোন সন্তান ধারণ করতে চান নাএটি একটি ভালো বিকল্প তাদের জন্য, যাদের এমন কিছু শারীরিক সমস্যা আছে যা গর্ভধারণে খারাপ প্রভাব ফেলে, এবং তাদের জন্য যাদের কিছু গভীর বংশানুগত কারণ আছে যেগুলি আপনি অতিক্রম করতে চান নাকোনরকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এগুলি আপনি আলোচনা করুন আপনার সঙ্গীর সাথে, পরিবারের সাথে এবং ডাক্তারের সাথে, যেটি আপনার জন্য ভালো একটি বিকল্প হয়ে উঠবে

টিউবাল লাইগেশন কি যন্ত্রণাদায়ক ?

কিছু ধরণের টিউবাল লাইগেশন আপনার শরীরে অস্ত্রোপচারের ফলে ক্ষত তৈরী হবে আপনি কোন ধরণের নির্বীজকরণ করাতে নির্বাচন করবেন তার উপর নির্ভর করে আপনার ডাক্তারও স্থির করবেন সেটি সাধারণভাবে নাকি লোকাল অ্যানাস্থিসিয়ার মাধ্যমে প্রয়োগ করা হবে যখন সাধারণ বা জেনারেল অ্যানাস্থিসিয়া করা হয় তখন আপনি ঘুমিয়ে পড়বেন এবং জেগে উঠবেন কেবল এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার পরেই,যেখানে লোকাল অ্যানাস্থিসিয়া আপনাকে পুরো সময় ধরেই জাগিয়ে রাখবে কিন্তু ওই স্থানটি অসাড় হয়ে থাকবে, তাই সে সময়ে আপনি কোনো কিছু অনুভব করতে পারবেন না

টিউবাল লাইগেশন পদ্ধতির ধরণ

সাধারণ ধরণের টিউবাল লাইগেশন পদ্ধতিকে ভাগ করা যেতে পারে এইভাবেযেগুলিতে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয় এবং যেগুলিতে প্রয়োজন হয় না এক্ষেত্রে ল্যাপ্রোস্কপি এবং মিনি ল্যাপারোটমি সাধারণ বিভাগে পড়ে যখন টিউবাল ইমপ্ল্যান্ট এর পরবর্তী বিভাগ হিসেবে পরিচিত

1.ইনশিসন স্টেরিলাইজেশন

ইনশিসন স্টেরিলাইজেশনের দুটি পদ্ধতি হল ল্যাপ্রোস্কপি এবং মিনি ল্যাপারোটমিএই দুই ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হয় লোকাল অথবা জেনারেল অ্যানাস্থিসিয়া

ল্যাপ্রোস্কপি পছন্দ করা হয় এর নিরাময়ের দ্রুততা, তুলনামূলক কম যন্ত্রণাদায়ক এবং কম ক্ষত সৃষ্টির জন্য সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে 30 মিনিট মত সময় লাগে যা নূন্যতম ক্ষত চিহ্নের কারণএক্ষেত্রে বেশীরভাগ মহিলা ওই একই দিনে বাড়ি ফিরে আসেন

মিনি ল্যাপারোটমি হল বড় ধরণের অস্ত্রোপচার যা সাধারণত করা হয় জেনারেল অ্যানাস্থিসিয়ার মাধ্যমে বাচ্চার জন্মদানের এক বা দুদিনের মধ্যে এটি C সেকশন এর সময় কালেও করা হয়

2. টিউবাল ইমপ্ল্যান্ট

টিউবাল ইমপ্ল্যান্ট পদ্ধতিটিতে নিশ্চিত হওয়া যায় এ বিষয়ে যে, এক্ষেত্রে কোন বড় ধরণের ক্ষত সৃষ্টির প্রয়োজন হয় না যেহেতু এটি সার্ভিক্স এবং যোনি অঞ্চলে করানো হয়একটি ধাতব স্প্রিংকে ফ্যালোপিয়ান টিউবে প্রতিস্থাপন করানো হয় এবং স্বাভাবিকভাবে এর চারপাশের কোষগুলিতে ক্ষতের সৃষ্টি করে, যা টিউবের স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ

নির্বীজকরণ পদ্ধতির জন্য কীভাবে প্রস্তুত হবেন ?

টিউবাল লাইগেশন সাধারণত হাসপাতালে করা হয়, আবার বহির্বিভাগের রোগীর ক্লিনিকেও এটি করানো হয়ে থাকে আপনার ডাক্তারবাবু আপনার সাথে আলোচনা করবেন এ বিষয়ে যে আপনি কেন এটি করাতে চাইছেন তার কারণ জানতে চাইবেন এবং এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালোভাবে পুনরায় চিন্তাভাবনা করেছেন কিনা সেটিও জানতে চাইবেন আপনি তাঁর কাছে জানতে পারবেন নির্বীজকরণের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে সেগুলির মধ্যে যেটি আপনার পরিস্থিতির জন্য আদর্শ হবে সেটি নির্বাচন করবেনকিছু মহিলা এই ছোটধরণের অস্ত্রোপচারটি করাতে পছন্দ করেন সন্তান জন্মদানের পরে কিম্বা অন্য কোন অস্ত্রোপচারের সাথে একই সঙ্গেআপনি যদি সন্তান প্রসবের পরমুহূর্তেই এই প্রক্রিয়াটি করাতে না চান তবে সেক্ষেত্রে আপনি জিঞ্জাসা করতে পারেন যে আপনি জন্মনিরোধক ব্যবহার করতে পারবেন কিনা এই প্রক্রিয়াটি করানোর একমাস আগে থেকে এবং একমাস পরে অবধি

ইনশিসন স্টেরিলাইজেশনের পদ্ধতি

টিউবাল লাইগেশনের জন্য ল্যাপ্রোস্কপি এবং মিনি ল্যাপারোটমি পদ্ধতিটি নির্বাচনের মাধ্যমে ইনশিসন স্টেরিলাইজেশন (ক্ষত সৃষ্টির দ্বারা নির্বীজকরণ)করানো হয়

ল্যাপ্রোস্কপিক স্টেরিলাইজেশনে লোকাল কিম্বা জেনারেল অ্যানাস্থিসিয়া করা হয়, যার পরে ডাক্তারবাবু আপনার পেটগহ্বরে পাম্প করে গ্যাস প্রবেশ করান যা তাঁকে অভ্যন্তরস্থ অঙ্গগুলি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণে সাহায্য করেকিছু মহিলার তলপেটের নীচের দিকে ছোট একটি ক্ষতের সৃষ্টি করা হয় যার মধ্য দিয়ে ডাক্তার বাবু ল্যাপ্রোস্কপটিকে আপনার ফ্যালোপিয়ান টিউবের ঠিক উপরে প্রতিস্থাপন করেন একবার টিউবটির অবস্থান নির্দিষ্ট করতে পারলেই সেটিকে একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এইভাবেই এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়এই সমগ্র প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে প্রায় 30 মিনিট মত সময় লাগে

মিনি ল্যাপারোটমি পদ্ধতি টি সাধারণত করানো হয় সন্তান প্রসবের পরে এবং জেনারেল অ্যানাস্থিসিয়া করার পর ডাক্তার বাবু তল পেটের নীচের অংশে একটি ছোট ক্ষতের সৃষ্টি করেন এরপর ফ্যালোপিয়ান টিউবটি কে এই কাটা অংশটি দিয়ে বের করে আনা হয় এবং সেগুলি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ক্লিপ আটকে দেওয়া হয়, যখন আবার এই টিউবের কিছু অংশ কেটে নেওয়ার মতও দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়।

টিউবাল ইমপ্ল্যান্টএর পদ্ধতি

নির্বীজকরণের আরেকটি পদ্ধিতি হল টিউবাল ইমপ্ল্যান্টএক্ষেত্রে কোনও ধরণের অ্যানাস্থিসিয়ার প্রয়োজন হয় না আপনার ডাক্তারবাবু এই প্রক্রিয়াটি শুরু করার ঠিক আগের মুহূর্তে সার্ভিক্সকে কিছুটা বিস্তারিত করবেন এবং তারপর একটি পাতলা ক্যাথিটারকে যোনি এবং সার্ভিক্সের মধ্য দিয়ে ফ্যালোপিয়ান টিউব পর্যন্ত প্রবেশ করাবেন এই ক্যাথিটারটি টিউবের মধ্যে প্রবেশ করাবেন এবং অন্যান্য টিউবের ক্ষেত্রেও এই পদ্ধতিটির পুনরাবৃত্তি করবেন এরপর প্রতিস্থাপনটি সঠিক ভাবে হয়েছে কিনা এবং টিউবটি অবরুদ্ধ হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত ভাবে জানতে এক্সরে করাতে হবে

টিউবাল লাইগেশনএর পরে আপনি কি রকম অনুভব করবেন?

আপনি কিছুটা খিঁচুনি অনুভব করতে পারেন ঋতুস্রাবের সময় যেরকম হয় সেইরূপ অথবা এই প্রক্রিয়া চলাকালীন জরায়ুর চলনের ফলে যোনি অঞ্চলে কিছু রক্তক্ষরণ হতে পারেযদি আপনার ক্ষেত্রে ল্যাপ্রোস্কপি পিদ্ধতিটি করা হয়ে থাকে,সেক্ষেত্রে ব্যবহৃত গ্যাসটি দুএকদিনের জন্য আপনার পেটটি ফুলে থাকার কারণ হয়ে উঠতে পারে এই গ্যাসটির কারণে আপনি কিছু সময়ের জন্য পিঠ এবং কাঁধে যন্ত্রণা অনুভব করতে পারেনযদি আপনার প্রতিস্থাপনের অঞ্চলটি থেকে রক্তক্ষরণ হতে থাকে, জ্বর হয়,র‍্যাশ দেখা দেয়,শ্বাসপ্রশ্বাসে কষ্ট হয়, পেটে অনবরত যন্ত্রণা অনুভব হয় অথবা যদি আপনার যোনি অঞ্চল থেকে অস্বাভাবিক স্রাব নির্গত হয় তবে দেরী না করে তৎক্ষনাৎ ডাক্তারবাবুকে দেখানো সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ

এমনকি টিউবাল লাইগেশনের পরেও আপনার ঋতুস্রাব আগের মতই নিয়মিত ধারাবাহিক ভাবে হবে রজোবন্ধ অবস্থায় না পৌঁছানো অবধি অন্যান্য জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির উপর হরমোনের উপাদান গুলি নির্ভর করার মত নির্বীজকরণে কোন রকম হরমোনের অসামঞ্জস্যতা হয় না

টিউবাল লাইগেশন করার পর থেকে সুস্থ হতে সাধারণত কতদিন সময় লাগে ?

এটা নির্ভর করে আপনার জীবনধারা,এটা করার আগে আপনার শরীরের আবস্থা,কি ধরনের লাইগেশন করা হয়েছে তার উপর। ল্যাপ্রোস্কপিক টিউবাল লাইগেশন করা হলে আপনি সেইদিনেই বাড়ি ফিরতে পারেন। ক্ষুদ্র ল্যাপরোটমি হলে কয়েক দিন পরে বাড়ি ফিরতে পারেন। যদি আপনার টিউবাল ইমপ্ল্যান্ট করা হয় তাহলে আপনার স্বাভাবিক কাজকর্ম সেদিন থেকেই শুরু করতে পারেন। সপ্তাহ দুই পরে একবার পরবর্তী পরীক্ষা নিরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়।

টিউবাল লাইগেশন কি বিপরীতমুখি হতে পারে ?

কিছু কিছু ক্ষেত্রে টিউবাল লাইগেশান বিপরীতমুখি হতে পারে সেক্ষেত্রে আপনাকে একটা বড় অস্ত্রোপচারের জন্য বেশ কয়েকদিনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।বিপরীত প্রক্রিয়াটির সফলতা নির্ভর করবে বিভিন্ন বিষয় যেমনকী ধরনের লাইগেশন হয়েছে, আপনার বয়স, কত দিন আগে লাইগেশন করা হয়েছে এবং আপনার টিউবগুলো কতটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রভৃতির ওপর।বিপরীত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর গর্ভধারণের হার খুব বেশী 30% থেকে 85% এর মধ্যে হয়।

টিউবাল লাইগেশনের বিপরীত প্রক্রিয়ার ফলে আপনাকে এক্টোপিক প্রেগনেন্সির অতিরিক্ত ঝুঁকির সম্মূখীন হতে হয় যাতে জীবন সংশয় হতে পারে।

ঝুঁকি এবং জটিলতা

টিউবাল লাইগেশন হল পেটের ভিতরে করা একপ্রকারের অস্ত্রোপচার যার জন্য চেতনানাশক প্রয়োগ করতে হয়।এর কিছু ঝুঁকি এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে যেগুলো নিম্নরূপ.

  • এটি বিভিন্ন অঙ্গ যেমন মূত্রাশয়, রক্তবাহ, অন্ত্র প্রভৃতির ক্ষতি করতে পারে।
  • অ্যানাস্থিসিয়ার জন্য বিক্রিয়া
  • ক্ষত নিরাময় হয় না এবং সংক্রমণের সম্ভবনা থাকে
  • শ্রোণি এবং পেটে ব্যাথা হয় যা দীর্ঘদিন চলে
  • অস্ত্রোপচারের জায়গায় স্থায়ী দাগ থেকে যায়
  • যদি আপনার আগে শ্রোণিদেশে বা পেটে অস্ত্রোপচার হয়ে থাকে তাহলে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।যদি ডাইবেটিস বা স্থূলতার ইতিহাস থাকে তাহলে জটিলতা বেড়ে যাবার সম্ভবনা বৃদ্ধি পায় টিউবাল লিগেশন করার পর।

নির্বীজকরণের কত দিন পর আপনি যৌন ক্রিয়া করতে পারবেন?

আপনার ডাক্তারবাবু নির্বীজকরণের কত দিন পরে যৌনসঙ্গম করতে পারবেন সে বিষয়ে আপনাকে জানাবেন, তবে সাধারণত নির্বীজকরণের এক সপ্তাহ বা দুই সপ্তাহের পর থেকে সঙ্গম করা যায়।যদি সন্তান জন্মদানের পর টিউবেক্টমি করেন তাহলে কমপক্ষে চার মাস অপেক্ষা করতে হবে। কোনো কোনো মহিলা ইমপ্ল্যান্ট করার পর থেকে এক বছর পর্যন্ত যন্ত্রণা এবং অস্বস্তিবোধ করেন সঙ্গমের সময়

এটা কি STD প্রতিরোধ করতে পারে ?

না, টিউবাল লাইগেশন শুধুমাত্র স্থায়ী নির্বীজকরণের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং মহিলা এবং পুরুষদের যেকোন ধরনের যৌন সংক্রামক রোগ (STDs) গুলো প্রতিরোধে এর কোনো ভূমিকা নেই।নির্বীজকরণ হল জন্ম নিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতি মাত্র। কন্ডোম ব্যবহার হল সব থেকে ভাল উপায় মহিলা এবং পুরুষদের যৌন সংক্রামক ব্যাধি (STDs) ছড়াতে বা সংক্রামিত হতে বাধা দেয়।সেক্ষেত্রে নির্বীজকরণ পদ্ধতি কোনো কাজে আসে না।

ইনসিশন পদ্ধতিতে লাইগেশন করার পর আর কোনো জন্মনিয়ন্ত্রক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু যখন টিউবাল ইমপ্ল্যান্ট পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় তখন তিন মাসের জন্য অন্য কোনো গর্ভনিরোধক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর একটা এক্সরে করে দেখা হয় প্রক্রিয়াটি সফল হয়েছে কিনা,তারপর আপনি অন্য গর্ভনিরোধক ব্যবহার বন্ধ করতে পারেন।এটা মনে করা হয় যে নির্বীজকরণের ফলে আপনার মধ্যে কিছু পরিবর্তন আসবে।হয়ত আপনার ওজন বাড়বে না,মুখমন্ডলে লোম দেখা যাবে অথবা রজোবন্ধ হয়ে যেতে পারে। সবার আগে নিশ্চিত হন যে আপনার জন্য নির্বীজকরণ সবথেকে ভাল পছন্দ কিনা তার পরে এটার করার জন্য এগোন।

বি.দ্র.: উপরিল্লেখিত তথ্যগুলি শুধুমাত্র সাহায্য করার জন্য, এগুলো কখনোই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ডাক্তারি পরামর্শের বিকল্প নয়।