ভারতবর্ষের শিক্ষা পর্ষদগুলি-CBSE,ICSE,IB,রাজ্য পর্ষদ

ভারতবর্ষের শিক্ষা পর্ষদগুলি

আপনার সন্তানকে কি এবার বিদ্যালয়ে পাঠানোর সময় এসে গেছে?তবে কোথায় আপনি আপনার বাচ্চাকে পাঠাতে পারেন,কোন সিলেবাস আপনি তার জন্য অনুসরণ করতে পারেনএ ব্যাপারে একাধিক প্রশ্ন নিশ্চিতভাবেই আপনার মনে ভিড় করে।অথবা নাকি আপনি আবার এমনকি আপনার শিশুটির জন্য গৃহশিক্ষা কিম্বা সম্পূর্ণরূপে স্কুলে না পাঠানোর বিকল্পকেই মনস্থ করবেন?

aniview

বিগত কয়েক বছরে ভারতবর্ষের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন ঘটার সাক্ষ্য পাওয়া যায়।বিদ্যালয়গুলিতে আধুনিক কৌশলগুলি গ্রহণ করা হচ্ছে,অনেক মাবাবারাই তাদের সন্তানদের গৃহশিক্ষা থেকে রূপান্তর করেছেন।সমস্ত দিক থেকে একটা ভাল মানের শিক্ষা এবং আরও অনেক কিছুই পাওয়ার জন্য সমগ্র ব্যবস্থাটি ছাত্রছাত্রীদের সাহায্যার্থে কাজ করে চলেছে।এমনকি সমগ্র বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থাটি হল এমন একটি বিষয় যা সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে নতুন নতুন নিয়ম এবং ধারণাগুলির সাথে পরিবর্তিত হয়ে চলে।

সুতরাং আপনার সন্তানের শিক্ষার ব্যাপারে বাগবিতণ্ডা হওয়াটা সম্পূর্ণরূপে স্বাভাবিক। আবার ভারতে বর্তমান প্রচলিত প্রতিটি পর্ষদ খুঁজে বের করাটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সন্তানের জন্য সাধারণত কোন বোর্ডটি বা পর্ষদটি ভাল হবে তা বিবেচনা করে খুঁজে বের করার পরিবর্তে আপনার বাচ্চার জন্য কোনটি সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক তা খুঁজে বের করাটাই সর্বোত্তম।

ভারতে বিভিন্ন বোর্ডের বা পর্ষদএর স্কুল

বিভিন্ন বোর্ডের বিভিন্ন সিলেবাসগুলির মধ্যে কোনটি ভাল এবং কোনটি মন্দ সে ব্যাপারে আপনি যদি বোঝার চেষ্টা করে চলেন,তবে ভারতে অনুসরণকারী বিদ্যালয়ের বোর্ড বা পর্ষদগুলি সম্পর্কে একটি বিস্তৃত ব্যাখ্যা এখানে আপনার জন্য দেওয়া হলঃ

1. CBSE

CBSE (সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন)কে বর্তমান ভারতে সবচেয়ে প্রচলিত এবং সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য বোর্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।দেশের বেশিরভাগ স্কুলের জন্য যখন একটি সাধারণ শিক্ষা পরিষদের মানদণ্ডের বিষয়টি আসে,CBSE তার যথার্ততা অর্জন করেছে।এটি আবার একটি জাতীয় মানের পর্ষদ যেটি সারা দেশের বহু বেসরকারী বিদ্যালয়গুলির পাশাপাশি সর্বসাধারণের (পাবলিক) বিদ্যালয়গুলিতেও গ্রহণ করা হয়েছে।

সুবিধাগুলি

  1. ভারতবর্ষে সাধারণত এই সিলেবাসটিকেই সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করা হয়ে থাকে আর সেই কারণেই এটি সর্বত্র গ্রহণযোগ্য।
  2. CBSE সিলেবাসের প্রাসঙ্গিকতা এবং জনপ্রিয়তার কারণহেতু ভারতে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বহু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলির সাথে এই সিলেবাসটি যুক্ত।
  3. যে সকল পরিবারগুলিকে কর্মসূত্রে সারা দেশ জুড়ে ঘুরে বেড়াতে হয়,তাদের জন্য CBSE বেশ ভাল কারণ এটিতে অন্য বিদ্যালয়ে বাচ্চাকে পরিবর্তন করা সহজ এবং এক্ষেত্রে বাচ্চার মধ্যেও শিখনে কোনও জটিলতা দেখা যাবে না।

অসুবিধাগুলি

  1. যখন কলা বিভাগের বিষয়গুলি আসে তখন সেক্ষেত্রে বাচ্চাদের বিষয় পছন্দ করার খুব বেশি বিকল্প থাকে না।
  2. যখন রাজ্যের অধীনে কলেজগুলিতে ভর্তি হওয়ার জন্য খোঁজ চালানো হয় সেক্ষেত্রে রাজ্য সিলেবাসের ছাত্রছাত্রীদের তুলনায় আপনি খুব কম সংখ্যক আসনই দেখতে পাবেন।

2. ICSE বোর্ড বা পর্ষদ

ICSE অথবা ইন্ডিয়ান সার্টিফিকেট ফর সেকেন্ডারি এডুকেশন হল বেশ শক্ত ধরণের একটি সিলেবাস যেটি বিষয়ের মূল ধারণার ভিত্তি স্থাপনের উপর জোর দেয়।

সুবিধাগুলি

  1. এক্ষেত্রে শিশুদের প্রতিটি বিষয় বেছে নেওয়ার জন্য একাধিক বিকল্প রয়েছে।
  2. যে সব ছাত্রছাত্রীরা দেশের বাইরে অর্থাৎ বিদেশে গিয়ে পড়াশুনা করতে চায় তাদের জন্য এই সিলেবাসগুলি খুবই সহায়ক হয়।

অসুবিধাগুলি

  1. এই সিলেবাস শেখার কৌশলের সাথে একবার নিজেকে অভ্যস্থ করে তোলার পর অন্য কোনও বোর্ডে বা পর্ষদে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে অসুবিধাজনক হয়ে ওঠে।
  2. এক্ষেত্রে যদি ছাত্রছাত্রীরা ভাল কোনও শিক্ষক বা শিক্ষিকা না পেয়ে থাকে কিম্বা সেরকম ভাল কোনও শেখানোর কৌশল অনুসরণ করা না হয়ে থাকে,তখন বিভিন্ন কোচিং ক্লাস এবং টিউশনের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন পড়ে।

3. IB

ইন্টারন্যাশনাল ব্যাচেলরিয়েট হল আন্তর্জাতিক মানের প্রশংসিত একটি সিলেবাস এবং সারা বিশ্ব জুড়ে এর পরিচিতি আছে।ভারতে 100 টিরও বেশি বিদ্যালয়ে এই সিলেবাসটিকে অনুসরণ করা হয়।

সুবিধাগুলি

  1. এই সিলেবাসের মধ্যে শেখানোর যে কৌশল বা প্রক্রিয়াগুলিকে অনুসরণ করা হয় সেগুলির মধ্যে বিভিন্নতা রয়েছে।
  2. এর সিলেবাসে আধুনিক শিক্ষণ কৌশলগুলি এবং শিক্ষার গুণমানের উপর লক্ষ্য রাখা হয়।
  3. প্রতিটি শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা খুব কম সংখ্যায় সীমিত রাখা হয়।আর তার ফলে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে এক বিশাল পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।
  4. এ্রই সিলেবাসটি সেই সব পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য করে যাদের কর্ম সূত্রে প্রায়শই সারা পৃথিবী জুড়ে ঘুরে বেড়াতে হয়,আর সেই কারণে এই ধরণের শিক্ষার পরিকল্পনাটাই এমনভাবে করা হয় যা সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একই রকমভাবে অনুসরণ করা হয়ে থাকে।
  5. এই সিলেবাসের গঠণ প্রক্রিয়াটি পস্পরের সাথে মিথস্ক্রিয়া এবং হাতেকলমে ক্রিয়া কলাপের মাধ্যমে শেখানোর দ্বারা গঠিত হওয়ায় শিশুদের জন্য এটি একটি দুর্দান্ত শিখন কৌশল।

অসুবিধাগুলি

  1. এই সিলেবাস আছে এমন অধিকাংশ বিদ্যালয়গুলিই বেশ ব্যায়বহুল হয়ে থাকে।
  2. কেবল মাত্র বড় শহরগুলিতেই এই ধরণের বিদ্যালয়গুলি দেখতে পাওয়া যায়।
  3. কোনও ছাত্র বা ছাত্রীর দেশীয় অথবা রাজ্য সিলেবাসের থেকে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বেশ জটিলতা দেখা যায় কারণ তাদের শিখন কৌশলের পার্থক্যজনিত বাধা এক্ষেত্রে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে।

4. রাজ্য পর্ষদ

প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব বোর্ড বা পর্ষদ আছে তাদের নিজের নিজের সিলেবাস অনুযায়ী, এবং তারা একটি সুনির্দিষ্ট মান অনুযায়ী পরীক্ষা পরিচালনা করে থাকে।সরকারী বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারী বিদ্যালয়গুলিতেও রাজ্য পর্ষদ পরিচালিত সিলেবাস অনুসরণ করা হয়ে থাকে।রাজ্য পর্ষদ গুলির সিলেবাস বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন হয় এবং সিলেবাসগুলি সেই রাজ্যের নানা বিষয়গুলিকে মাথায় রেখে একমাত্র সেই রাজ্যের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়।

সুবিধাগুলি

  1. কারিকুলামগুলি প্রচন্ড পরিমাণে ছাত্র উপযোগী হয়।
  2. তুলনামূলকভাবে শিক্ষার ব্যয় খুবই কম

অসুবিধাগুলি

  1. বেশিরভাগ রাজ্য পর্ষদগুলির কারিকুলাম বেশ শক্ত কিন্তু শিখণ পদ্ধতি পুরানো ধাঁচের হয়ে থাকে।
  2. রাজ্য পর্ষদের অধীনে থাকা স্কুলগুলির শিক্ষকদের গুণমান বেশ কম।
  3. কিছু কিছু বিদ্যালয়ে অনেক ছাত্র ছাত্রী থাকে ফলে সেক্ষেত্রে ছাত্র ছাত্রীদের শিখতে এবং বিকাশলাভ করতে সমস্যা হ্যে ওঠে।

ভারতে বিভিন্ন বোর্ডের বা পর্ষদ-এর স্কুল

5. IGCSE

IGCSE এর সিলেবাস মূলত যেসব ছাত্র ছাত্রী আন্তর্জাতিক মান্যতা সম্পন্ন সিলেবাস অনুযায়ী পড়াশুনা করতে চায় তাদের কথা মাথায় রেখে তৈরী করা হয়েছে।এই IGCSE সিলেবাসটি মূলত ব্রিটেনের বাইরে বসবাস করেন কিন্তু ইংরাজী শিক্ষাব্যবস্থায় পড়াশুনা করতে চান তাদের জন্যই ভাল।

সুবিধাগুলি

  1. কেমব্রিজ IGCSE কে সারা পৃথিবী জুড়েই বিভিন্ন কলেজ এবং কোম্পানিগুলি স্বীকৃতি দিয়ে থাকে।তাই যে সমস্ত ছাত্র ছাত্রীরা ভারতের বাইরে কোনো না কোনো সময়ে পড়াশুনা করতে আগ্রহী তারা এই বোর্ডটি পছন্দ করতে পারেন।
  2. যৌথ শিখন পদ্ধতির উপর খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং এই বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়।এই শিখন পদ্ধতি ছাত্র ছাত্রীদের একসাথে যৌথভাবে শিখতে সাহায্য করে এবং বেশ কিছুটা মাত্রায় পারস্পরিক প্রতিযোগীতা থেকে মুক্ত রাখে।
  3. মনে করা হয় এটিই পৃথিবীর সবথেকে বেশি চাহিদা সম্পন্ন সিলেবাস কারণ এই সিলাবাসটি আর্দশ সিলেবাস।

অসুবিধাগুলি

  1. কঠোর পরীক্ষা পদ্ধতি হওয়ায় এটি ছাত্র ছাত্রীদের কাছে অসুবিধা সৃষ্টি করে।
  2. নম্বর দেওয়ার পদ্ধতিটিও বেশ শক্ত তার ফলে ছাত্র ছাত্রীদের বেশি নম্বর তোলা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে।
  3. যেসব ছাত্র ছাত্রীরা ভারতে থেকে পড়াশুনা করতে চান তাদের বিভিন্ন কলেজ ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হয় যেহেতু অন্যান্য সিলেবাসের ছাত্র ছাত্রীদের মত এই সিলেবাসে ছাত্র ছাত্রীদের নম্বর অত বেশি ওঠে না।

6. CIE

কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশানাল এক্সামিনেশন দেয় আন্তর্জাতিক স্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা,যা প্রায় 150 টির বেশি দেশে প্রচলিত।

সুবিধাগুলি

  1. এই বোর্ডের শিখন কৌশলটি ছাত্র ছাত্রীদের শেখবার ও বিকাশের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
  2. এর অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হল যে CIE ছাত্র ছাত্রীদের নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে প্রচুর পরিমাণে উৎসাহিত করে, ফলে তারা টেক্সট বইয়ের বাইরে বেরিয়েও অনুসন্ধান করতে পারে।
  3. শিক্ষকরা তাদের নানা ধরণের শিখন সামগ্রী দিয়ে থাকেন যা ছাত্র ছাত্রীদের শেখার বিষয়টিকে আকর্ষক করে তোলে।
  4. সিলেবাসটিকে এমন ভাবে তৈরী করা হয় যাতে এর মধ্যে কোনওরকম পক্ষপাতিত্ব এবং অপ্রাসঙ্গিকতা না থাকে।

অসুবিধাগুলি

  1. CIE সিলেবাসে যে ধরণের কৌশল ব্যবহার করা হয় তার জন্য এই CIE সিলেবাস থেকে অন্য বোর্ডের সিলেবাসে পরিবর্তন করার সময় ছাত্র ছাত্রীরা সমস্যায় পড়ে।
  2. কেমব্রিজ বোর্ডের অধীনে বিদ্যালয় গুলিতে পড়ার খরচ অনেক বেশি।

7. NIOS

দ্য ন্যশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওপেন স্কুলিং(NIOS)-এর উদ্দেশ্য হল সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাটিকে সহজ এবং সর্বজনীন করে তোলা।এটি ভারতের অন্যতম একটি ছাত্রবান্ধব বোর্ড।এটি শিশুকেন্দ্রিক একটি পর্ষদ এবং বাচ্চারা কি নিয়ে পড়তে চায়,শিখতে চায়,কীভাবে তারা শিখতে চায় এবং কখন তারা পড়তে ও শিখতে চায় তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের স্বাধীনতা দেয়।

সুবিধাগুলি

  1. এই শিক্ষা ব্যবস্থাটিতে ছাত্রছাত্রীদের তাদের নিজের গতিতে পড়াশুনা করার মত সুযোগ আছে।এই ব্যবস্থাটির নমনীয়তাটি আর অন্য কোনও কিছুর সাথে তুলনীয় নয়।
  2. এটি উচ্চ মাত্রায় শিক্ষার্থী বান্ধব এবং কি কি বিষয় নিয়ে পড়বে সে ব্যাপারে বিকল্পগুলিকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের সুবিনস্ত্য মতামত প্রকাশের জায়গা থাকে।
  3. পুরানো শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে আধুনিক শিক্ষা কৌশলে রূপান্তরিত করা এক্ষেত্রে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক এবং বেশ প্রতীয়মান।
  4. এ ধরণের শিক্ষা ব্যবস্থায় শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত থাকার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই কারণ যেকোনও জায়গাতেই শিখন প্রক্রিয়াটি সম্পাদন করা যায়।
  5. পরীক্ষা ব্যবস্থাগুলি এমন ভাবে গড়ে তোলা হয় যা ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহকে প্ররোচিত করে।

অসুবিধাগুলি

  1. কোনও কঠোর নিয়মানুবর্তিতা না থাকার কারণে পরীক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একাধিক সমস্যার অভিযোগ পাওয়া যায়।
  2. NIOS এর ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে,বিশেষ করে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে একটি সাধারণ বিরূপতা বা পক্ষপাতিত্ব থেকে যায়।(তবে এর সার্টিফিকেট সরকার কর্তৃক স্বীকৃত এবং প্রতিষ্ঠানগুলি অনুমোদিত)

যখন স্কুল এবং শিক্ষার প্রসঙ্গ আসে,সেক্ষেত্রে প্রচুর চাপ এবং বোঝার মধ্য দিয়ে শিশুদের পাশাপাশি তাদের মাবাবাদেরও অতিবাহিত করতে হয়।এমনকি এটি আবার শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক ব্যাপারটি বোধগম্য হওয়ার ব্যাপারেও প্রভূত বিকৃত হয়ে উঠতে পারে।সুতরাং আপনার সন্তান যাতে শিক্ষার বিষয়টিকে আনন্দের সাথে উপভোগ করেএকটি বোঝা হিসেবে নয় এই ব্যাপারটিকে সুনিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।যদিও শিক্ষার ক্ষেত্রে পড়াশুনার জন্য বাচ্চাদের কোনও রকম চাপ দেয় না এমন ধরণের একটি বিদ্যালয়ও খুঁজে বের করা প্রায় একপ্রকার মুশকিলের ব্যাপার,তবুও আপনি বাড়িতে এ ব্যাপারে কিছুটা পরিবর্তন করতে পারেন।

প্রতিটি শিশুর ধারণ ক্ষমতাটি যে বিভিন্ন হয়ে থাকে এই বিষয়টিকে বোঝাটা খুবই জরুরি। আপনার সন্তানের জন্য উপযুক্ত কোনটি এবং কোথায় সে নিজেকে মানিয়ে উপযুক্তভাবে শিখন প্রক্রিয়াটিকে সম্পন্ন করতে পারবে সেটি বুঝতে পারাটাই আসল ব্যাপার।এটি শিক্ষার সাথে আসা বাচ্চাদের উপর চাপ এবং বোঝা কমাতে সহায়তা করবে।

একাধিক বিকল্পের সুবিন্যস্তকরণের সাথে,সন্তানের জন্য সঠিক বোর্ডটিকে বেছে নেওয়া মাবাবাদের ক্ষেত্রে বেশ মুশকিলের হয়ে উঠতে পারে।একই সাথে,কয়েকটি নির্দিষ্ট বোর্ডের ক্ষেত্রে আবার সামাজিক পক্ষপাতিত্ব দেখতে পাওয়া যায়।তবে প্রতিটি বোর্ডই কীরকম এবং আপনার সন্তানের ক্ষেত্রে সেটি কতটা প্রাসঙ্গিক সেটি খুঁজে বের করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।যদি আপনার শিশুটি এখনও নিচু শ্রেণীতে পড়ে থাকে তবে এ ব্যাপারে এখনই এত ভাবার কিছু নেই।সবসময়েই আপনি এক বছর বা তার কয়েক বছর ছাড়া ছাড়াই আপনার সন্তানের বিদ্যালয় পরিবর্তন করে দিতেই পারেন।যে একটি জিনিসের ব্যাপারে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে তা হল যে বোর্ডে বা পর্ষদের অধীনস্থ বিদ্যালয়েই আপনার সন্তানকে পড়ান না কেন শিক্ষার ব্যাপারে আপনার সন্তানের উৎসাহে যেন কনও খামতি না আসে এবং সে যেন তার শিখন কৌশলটিকে আনন্দের সাথে উপভোগ করে।