মোলার গর্ভাবস্থাঃ কারণ সমূহ,লক্ষণগুলি এবং চিকিৎসা পদ্ধতি

মোলার গর্ভাবস্থাঃ কারণ সমূহ,লক্ষণগুলি এবং চিকিৎসা পদ্ধতি

মোলার প্রেগনেন্সি হল একটি বিরল অসুখ যেটি গর্ভবতী মহিলাদের অমরার রোগ জনিত সমস্যার জন্য হয়ে থাকে।নিষিক্ত ডিম্বাণু বা ভ্রূণটি বিকাশ লাভ করতে অসমর্থ হয় এবং সেটি আঙুর গুচ্ছের থোকার ন্যায় কোষসমষ্টির(মোল)দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।

aniview

মোলার প্রেগেনেন্সি বা মোলার গর্ভাবস্থা কি?

মোলার প্রেগনেন্সি হল সেই অবস্থা যখন নিষেকের পর একটি স্বাভাবিক ভ্রূণ অস্বাভাবিক ভাবে বিকাশ লাভ করে এবং একগুচ্ছ আঙুরের থোকার মত দেখতে লাগে যাকে হাইডাটিডিফর্ম মোল বলা হয়ে থাকে।এটি খুবই কম ঘটে থাকা অমরার অসুখ যা সাধারণত প্রথম দিকের ত্রৈমাসিকে ধরা পরে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর সমাপ্তি ঘটে গর্ভপাতের মধ্য দিয়ে।

প্রকারভেদ

প্রকারভেদ

জেনেটিক এবং ক্রোমোজোমের গঠণের উপর নির্ভর করে মোলার প্রেগনেন্সিকে সম্পূর্ণ মোলার প্রেগনেন্সি এবং আংশিক মোলার প্রেগনেন্সি নামক দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

  1. সম্পূর্ণ মোলার প্রগনেন্সিঃ নিষেকের সময় পিতা এবং মাতা উভয়ের কাছ থেকেই 23 জোড়া করে ক্রোমোজম মিলিত হয়ে মোট 46 টি ক্রোমোজম বিশিষ্ট নিষিক্ত ডিম্বাণু গঠণ করে।সম্পূর্ণ মোলার প্রেগনেন্সিতে মায়ের দিক থেকে আগত 23 টি ক্রোমোজম হারিয়ে যায় বা অনুপস্থিত থাকে তাই ভ্রূণটি বাবার 23 টি ক্রোমোজম নিয়েই গঠিত হয়।এর ফলেই ভ্রূণের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং অস্বাভাবিক সিস্ট গঠণ করে যা অনেকটা আঙুরের থোকার মত দেখতে লাগে।
  2. আংশিক মোলার প্রেগনেন্সিঃ আংশিক মোলার প্রেগনেন্সিতে মায়ের দিকের 23 টি ক্রোমোজম থাকে কিন্তু সেগুলি বাবার দিকের দ্বিগুণ ক্রোমোজম দ্বারা অর্থাৎ 46 টি ক্রোমোজম দ্বারা নিষিক্ত হয়।ফলে উৎপন্ন ভ্রূণটিতে মোট 69 টি ক্রোমোজমের সমাবেশ ঘটে।এর পরিণতিস্বরূপ ভ্রূণটি একটি অপরিণত ভ্রূণ হিসাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় যেটি প্রথম দিকের কয়েকমাসের বেশি বাঁচতে পারে না তার অস্বাভাবিক জেনেটিক গঠণের জন্য।

কারণসমূহ

এই জেনেটিক অস্বাভাবিকতার কারণটির বেশিরভাগটাই অজানা।তবুও নিচের বিষয়গুলি মোলার প্রেগনেন্সির ঝুঁকির শর্ত হিসাবে বিবেচিত হয়ে থাকেঃ

  • বয়সের চরম সীমা

কিশোরীয় গর্ভাবস্থার বা 40 উর্দ্ধ মহিলাদের গর্ভধারণের ক্ষেত্রে এটি সাধারণত বেশি দেখতে পাওয়া যায়।

  • জাতিগত উৎস

এশিয়ান মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি প্রায় দ্বিগুণ বেশি দেখতে পাওয়া যায়।

  • অতীত ইতিহাস

যে সকল মহিলাদের পূর্বে মোলার প্রেগনেন্সির ইতিহার আছে তাদের ভবিষ্যতেও এটি ঘটার ঝুঁকি সমানুপাতিক ভাবে বেশি রয়েছে।একবার ঘটে যাওয়া মহিলাদের ক্ষেত্রে পুনরায় মোলার প্রগনেন্সির ঝুঁকির মাত্রা 1-1.5%, অন্যদিকে যাদের দুবার বা তার বেশি এই ঘটনা ঘটেছে তাদের ক্ষেত্রে সেটি বেড়ে 15-20% হওয়ার সম্ভবনা আছে।

ঝুঁকিপূর্ণ কারণগুলি যা মোলার গর্ভাবস্থার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে

 

মোলার গর্ভাবস্থার সাথে যুক্ত নির্দিষ্ট কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কারণগুলি হল

  • ডায়েটঃ ক্যারোটিন অথবা ভিটামিন A এর ঘাটতি।
  • জিনগত রোগঃ মহিলাদের মধ্যে পূর্ব বিদ্যমান জিনগত বা ক্রমোজোমীয় ব্যাধি।
  • অন্যান্য মহিলাগত রোগঃ যেমন উদাহরণ হিসেবে বলা যায় পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিজিজের(PCOD) ইতিহাস।
  • বিকিরণের প্রকাশঃ প্রতিবিম্ব বা ইমেজ গঠণ বা চিকিৎসার জন্য জন্য বিকিরণগুলির অত্যধিক প্রকাশের সাথে জিনগত রোগগুলি বেশি দেখা যায়।

মোলার গর্ভাবস্থা কতটা সাধারণ?

সারা বিশ্বেব্যাপী অবস্থার বিচারে,এশীয় উপমহাদেশের মহিলাদের মধ্যে এই অবস্থাটি বেশি দেখা যায়,যেখানে এটি পুনরাবৃত্তির হার প্রতি 1500 গর্ভাবস্থার মধ্যে 1 জনের ক্ষেত্রে এটি ঘটে থাকে।যে সকল মহিলাদের অতীতে মোলার গর্ভাবস্থা থেকে থাকে,তাদের মধ্যেও এটি দেখা দেওয়া অনেক বেশি সাধারণ।

লক্ষণ এবং উপসর্গগুলি

একটি মোলার গর্ভাবস্থা প্রথমদিকে কিছুদিন লক্ষণাত্মক অথবা স্বাভাবিক গর্ভাবস্থার কিছু সাধারণ লক্ষণের সাথে উপস্থিত হতে পারে।গর্ভকালীন বয়সের অগ্রগতির সাথে এটি নিম্নলিখিত লক্ষণগুলির সাথে উপস্থিত হতে পারেঃ

  • যোনি থেকে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণঃ প্রথম অথবা দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের প্রথম দিকে।
  • অস্বাভাবিকভাবে বৃহৎ জরায়ুঃ বৃহৎ সিস্ট উপস্থিত হতে পারে।
  • বিপাকীয় এবং গ্যাস্ট্রিক লক্ষণ সমূহঃ বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া
  • স্বয়ংক্রিয় অস্থিরতাঃ উচ্চ রক্তচাপ,ঘেমে যাওয়া,বুক ধড়ফড়ানি,ডায়রিয়া ইত্যাদি
  • নিম্ন শ্রোণীচক্রে অস্বস্তি অথবা চাপা ব্যথা
  • যোনি থেকে ছোট ছোট সিস্ট বা আঙুরের ন্যায় বস্তু গুচ্ছ,সাধারণত মোলার গর্ভাবস্থাকেই নির্দেশ করে।

যাইহোক,তবে এই সকল লক্ষণগুলি ভীষণ মাত্রায় অনির্দেশ্যসূচক,যেহেতু এগুলি আবার স্বাভাবিক গর্ভাবস্থায় অথবা গর্ভপাতের মত ক্ষেত্রগুলিতেও দেখতে পাওয়া যায়।

কীভাবে এই রোগটি নির্ণয় করা হয়?

মোলার গর্ভাবস্থাটি নির্ণয় করা যেতে পারে পরীক্ষাগারে গবেষণা এবং ইমেজিং অধ্যায়নের উপর ভিত্তি করে।

  • বিটা HCG(হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন)মাত্রাঃ এটি হল গর্ভদশায় ডিম্বাণু নিষিক্তকরণের পরপরই অমরার দ্বারা ক্ষরিত হওয়া একটি হরমোন।এটি প্রস্রাবের পাশাপাশি রক্তেও পরিমাপ করা যেতে পারে।একটি স্বাভাবিক গর্ভাবস্থায়,এর মাত্রা পরিসরটি কয়েকশোর মধ্যে থাকে(IU/ml) এবং গর্ভকালীন বয়স বৃদ্ধি পাওয়ার সমানুপাতে তা বাড়তে থাকেমোলার গর্ভদশায়,B-HCG এর মাত্রা অতিশয় মাত্রায় বেড়ে যায়,যা কিছু ক্ষেত্রে মাত্রাধিক হয়ে ওঠে 100000 IU/ml.
  • মোলার গর্ভবস্থার আল্ট্রাসাউন্ডঃ একটি মোলার গর্ভদশা নির্ণয় এবং নিশ্চিতকরণের জন্য এটি হল পছন্দসই একটি অনুসন্ধান প্রক্রিয়া।জরায়ু গহ্বরের মধ্যে একাধিক সিস্টের মত বৃদ্ধি পায় যা আলট্রাসাউন্ডে স্ক্যানে একটিতুষার ঝড়ের ন্যায়দেখতে লাগে এবং ভ্রূণের কার্যকারিতা সেক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকে।মোলার গর্ভাবস্থা নির্ধারণের জন্য এটি হল একটি নিরাপদ,দ্রুততম এবং সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য একটি রোগ নির্ণয়কারী টুল বা সরঞ্জাম।এটি আবার অস্বাভাবিক উচ্চ বিটা HCG এর মাত্রা নির্ণয়ের দ্বারা এই রোগ নির্ধারণকে নিশ্চিত করে।

ঝুঁকি এবং জটিলতাগুলি

মোলার গর্ভাবস্থার সহিত নিম্নলিখিত ঝুঁকি এবং জটিলতাগুলি সংযুক্ত থাকতে পারেঃ

  • আক্রমণাত্মক মোল বা কোরিওকার্সিনোমাঃ একটি সম্পূর্ণ মোলার গর্ভাবস্থায় আক্রমণাত্মক মোল বা কোরিওকার্সিনোমা বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • GTN বা জেস্টেশনাল ট্রফোব্লাস্টিক নিওপ্লাসিয়াঃ মোলার গর্ভাবস্থা ভবিষ্যতে ট্রফোব্লাস্টিক ম্যালিগনেন্সিতে রূপান্তরিত হওয়ার মত ঝুঁকির সাথে সম্পর্কিত।এগুলি হল আঞ্চলিক ম্যালিগন্যান্ট অবস্থায় থাকা কোষ সমূহ যা স্বাভাবিক সুন্দর গর্ভাবস্থাতেও বিদ্যমান থাকে।
  • পুনরাবৃত্তিঃ মোলার গর্ভাবস্থার পূর্ব ইতিহাস এই অবস্থাটির পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
  • ভ্রূণের ক্ষতিঃ সম্পূর্ণ মোলগুলি পরিণতিস্বরূপ সাধারণত ভ্রূণের ক্ষতি করে।মোলার গর্ভাবস্থা আছে এমন মহিলাদের ক্ষেত্রে ভ্রূণের জিনগত গঠণের কারণে সেটির অকাল মৃত্যু হওয়ায় তাদের মধ্যে গর্ভপাতের এবং গর্ভাবস্থা সম্পর্কিত অন্যান্য সমস্যার ঝুঁকিগুলি উচ্চ মাত্রায় থাকে

চিকিৎসা পদ্ধতি

  • হিস্টারেক্টমিঃ বেশি বয়সের মহিলাদের ক্ষেত্রে অথবা পরিবার সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পরে কিম্বা সর্বোত্তম চিকিৎসা থেরাপি করা সত্ত্বেও গুরুতর ব্যাধির পুনরাবৃত্তি হয়ে থাকলে হিস্টারেক্টমিই হল প্রস্তাবিত চিকিৎসার সর্ব শ্রেষ্ঠ বিকল্প।
  • HCG নিরীক্ষণঃ চিকিৎসার পর কয়েকটি ক্ষেত্রে,কিছু বাড়তি বা অবশিষ্ট কলা ডাইলেশন এবং কার্টেজ এর পরে জরায়ু গহ্বরের পিছনে অবশিষ্ট রয়ে যায়।এটি বিটা HCG মাত্রার ধারাবাহিক নিরীক্ষণের সাথে সম্পর্কিত,যা চিকিৎসা করার পর আদর্শগতভাবে কমতে শুরু করা উচিত।অধিকাংশ ক্ষেত্রে,এই বাড়তি কলাগুলির চিকিৎসা সফলভাবেই করা যায় তবে কিছু ক্ষেত্রে আবার এটি গর্ভকালীন ট্রফোব্লাস্টিক নিওপ্লাসিয়ার দিকে অগ্রসর হয়।
  • সাকশন রিমুভাল অথবা ডায়ালেশন এবং কার্টেজ(D এবং C): যখন কোনও মোলার গর্ভাবস্থার লক্ষণগুলি HCG এর মাত্রা অথবা আল্ট্রাসাউন্ড দ্বারা সন্দেহ করা হয়,তখন একটি ডায়ালেশন এবং কার্টেজ পদ্ধতি সাধারণত গ্রহণ করা হয়।এটি সাধারণত জরায়ু নালীটির প্রসারণ এবং জরায়ু মধ্যস্থ বস্তুগুলির কেটে বা চেঁছে নিয়ে হিস্টোপ্যাথোলজিক ভাবে রোগ নির্ণয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করতে এবং সমস্ত ট্রোফোব্লাস্টিক কলাগুলির চিকিৎসাগত ভাবে অপসারণের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
  • ওষুধ প্রয়োগের দ্বারা চিকিৎসাঃ মোলার গর্ভাবস্থার ক্ষেত্রে ওষুধ প্রয়োগের দ্বারা চিকিৎসার মধ্যে অন্তর্ভূক্ত রয়েছেঃ

1.উপসর্গমূলক চিকিৎসাঃ অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা নিরাময়,অ্যান্টি থাইরয়েডের ওষুধ

2.অ্যান্টিনিওপ্লাস্টিক ড্রাগ বা ওষুধঃ গর্ভকালীন ট্রফোব্লাস্টিক নিউওপ্লাসিয়ায় মেথোট্রেক্সেটের মতো ওষুধগুলি কার্যকর।

3.ফোলিক অ্যাসিডঃ উচ্চ পরিমাণের ফোলিক অ্যাসিড সমন্বিত ওষুধগুলি।

চিকিৎসার পরে পর্যবেক্ষণ

বাড়তি কোনও রোগব্যাধি এড়াতে,চিকিৎসার পরে পর্যবেক্ষণ চালানোটা জরুরিধারাবাহিক শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং পূর্ব ইতিহাসের জন্য চিকিৎসা করার পরেও নিয়মিত আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে তাঁর নির্দেশগুলি অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

ধারাবাহিক মাসিক রক্ত এবং প্রস্রাব পরীক্ষার সাহায্যে চিকিৎসার পরে বিটা HCG এর মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হল এর সবচেয়ে ভাল উপায়।সাধারণত,চিকিৎসার পরে খুব উচ্চ মোলার গর্ভাবস্থার HCG এর মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়া উচিত।যদি এটি একইভাবে উচ্চ মাত্রায় অব্যাহত রয়ে যায়,সেক্ষেত্রে বাড়তি রোগব্যাধি কিম্বা ব্যাধির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকে যায়।চিকিৎসার পর ট্রোফোব্লাস্টিক ব্যাধির কোনওরকম সম্ভাবনা এড়ানোর ক্ষেত্রে,স্ক্রীনিং আল্ট্রাসাউন্ড পরিচালনা করা যেতে পারে।

মোলার গর্ভাবস্থার পর আরও অতিরিক্ত চিকিৎসা

মোলার গর্ভাবস্থার ক্ষেত্রে নিরাময়কারী চিকিৎসা করা সত্ত্বেও,কিছু ক্ষেত্রে(1% আংশিক এবং প্রায় 15% সম্পূর্ণ)একটি অবশিষ্ট বাড়তি কলা রয়ে যেতে পারে,আর এটিই পারসিস্টেন্ট ট্রোফোব্লাস্টিক ডিজিজ(PTD) বা স্থায়ী ট্রোফোব্লাস্টিক ব্যাধি হিসেবে পরিচিত।শরীরের অন্যান্য কলাগুলিতে ছড়িয়ে যাওয়ার সাথে এটিতে মারাত্মক আচরণগুলি দেখা দিতে পারে,যা সাধারণত ফুসফুসের সাথে জড়িত।এর চিকিৎসার মধ্যে ফোলিক অ্যাসিডের পরিপূরকগুলির পাশাপাশি মিথোট্রেক্সেট চক্রের সাথে কেমোথেরাপি জড়িত।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

প্যাথোফিজিওলজি মূলত জিনগত হওয়ার কারণে,এর কোনও নির্দিষ্ট প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা উপলব্ধ নেইতবে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি এ ব্যাপারে বিবেচনা করা যেতে পারেঃ

  • সুষম আহারঃ আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যারোটিন এবং অন্যান্য সবুজ শাকসবজি অন্তর্ভূক্ত করুন।
  • সিগারেট ধূমপান করা এড়িয়ে চলুন এবং অ্যালকোহল সেবন পরিহার করুন।
  • পূর্ববর্তী মোলার গর্ভাবস্থার পরবর্তীতে কমপক্ষে এক বছর পুনরায় গর্ভধারণ করা থেকে বিরত থাকুন।
  • এব্যাপারে একজন জিনগত পরামর্শদাতার পরামর্শ গ্রহণ করুন এবং জিন পরীক্ষা করানোর ও ক্রোমোজোমের ম্যাপিং বা বিশদ বর্ণনের কথা বিবেচনা করতে পারেন।
  • ভবিষ্যতে মোলার গর্ভাবস্থ হওয়ার সম্ভাবনা

মোলার গর্ভাবস্থা পুনরাবৃত্তি হওয়ার ঝুঁকি থাকে 1.5-2%,তবে এ ব্যাপারে কোনও গুরুতর দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য বিপত্তির সংবাদ নেই।মোলার গর্ভাবস্থা ঘটে যাওয়ার পরে যেকেনোও মহিলার মধ্যে একটি স্বাভাবিক গর্ভাবস্থাও বজায় থাকতে পারে।তবে এটির পুনরাবৃত্তি এড়ানোর জন্য অস্ত্রপচার করা হলে সেক্ষেত্রে গর্ভধারণের পূর্বে নূন্যতম 6 মাস অপেক্ষা করতে এবং কেমোথেরাপির পর প্রায় এক বছরের ব্যবধান রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কখন আপনি গর্ভধারণের চেষ্টা করতে পারেন?

সৌভাগ্যবশত,মোলার গর্ভাবস্থা অথবা এর চিকিৎসা প্রজননের ক্ষেত্রে কোনও প্রভাব ফেলে না।এছাড়াও আবার এর পুনরাবৃত্তির ঝুঁকিটিও কম(1.5-2%)বিশ্বব্যাপী চিকিৎসকরা মোলার গর্ভাবস্থার পর পুনরায় গর্ভধারণের পূর্বে 1 বছর অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।এই সময়টি দেওয়া হয় বিটা HCG কে শারীরিবৃত্তীয় মাত্রায় ফিরে আসার জন্য।একবার প্রাকপ্যাথোলজিকাল মাত্রাগুলি প্রমাণিত হয়ে গেলে আপনি তখন নিরাপদে গর্ভধারণের পরিকল্পনা করতে পারেন

কীভাবে এর ভয় এবং ক্ষতির মুখোমুখি হবেন?

মোলার গর্ভাবস্থা একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক অনুভূতি হয়ে উঠতে পারে এবং গর্ভপাতের মধ্য দিয়ে আপনার সন্তান হারানোর মত এক ব্যাপক ক্ষতিসাধন করতে পারে।এ ক্ষেত্রে চরম আশাবাদী,শক্তিশালী ইচ্ছাশক্তি এবং আপনার সঙ্গীর পূর্ণ সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুনরাবৃত্তি এড়ানোর ক্ষেত্রে অযথা উদ্বেগ এবং প্রয়জনাতিরিক্ত চিকিৎসা কিছু ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।একজন পরামর্শদাতার সাথে আলোচনার দ্বারা পরামর্শ নেওয়া এবং দত্তক গ্রহণের বিষয়ে বিবেচনা করা যুক্তিযুক্ত।

মোলার গর্ভাবস্থা হল একটি দুর্লভ রোগজনিত অবস্থা যা গর্ভাবস্থা হ্রাসের মত বিষয়ের সাথে জড়িত।মোলার গর্ভাবস্থার অর্থ,সময়মত মূল্যায়ণ এবং সম্পূর্ণ চিকিৎসা সম্পর্কে একটা ভাল বোঝাপড়ার সাথে এই অবস্থাটি মোকাবিলা করার সাথে সাথে এটির পুনরাবৃত্তিও প্রতিরোধ করা যেতে পারে।