5 মাস গর্ভবতী-লক্ষণ,শারীরিকপরিবর্তনগুলি এবং শিশুর বিকাশ

5 মাস গর্ভবতী-লক্ষণ,শারীরিকপরিবর্তনগুলি এবং শিশুর বিকাশ5 মাস গর্ভবতী-লক্ষণ,শারীরিকপরিবর্তনগুলি এবং শিশুর বিকাশ

যেহেতু আপনি আপনার গর্ভাবস্থার পঞ্চম মাসে অগ্রসর হন, আপনি আপনার সম্পূর্ণ গর্ভদশার প্রায় মধ্য পথে অবস্থান করেনএই পর্যায়টি গর্ভাবস্থাকালীন সময়ের সমস্যজনিত উপসর্গ গুলির হ্রাস পেতে থাকাকে চিহ্ণিত করে এবং উজ্জ্বল ত্বকের পাশাপাশি শিশু বাম্পটির আবির্ভাব ঘটেএই সময়ে ভ্রূণটি সম্ভবত দ্রুত বৃদ্ধি পায়যেহেতু শিশুটি বেড়ে উঠতে থাকে,বেশীরভাগ গর্ভবতী মহিলারাই তাদের ওজন লাভ করতে শুরু করেন

অত্যন্ত প্রত্যাশী মায়েরা আবার ইতিমধ্যেই তাদের সন্তানের আলোড়ন অনুভব করতে শুরু করেনকিছুক্ষেত্রে আবার শিশুর এই আলোড়নটি বেশ স্পষ্টভাবেই অনুভূত হয় যখন আবার শুধুমাত্র অনিশ্চয়তার সাথে আলোড়নের অভিজ্ঞতারও কিছু দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়

কিছু অবস্থানে বেড়ে যাওয়া পেটের পারিশ্রমিক দিতে হতে পারে,যেমন চিত হয়ে শোওয়া কিছুটা কঠিণ হয়ে উঠতে পারেএকটা মসৃণ গর্ভাবস্থাকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য উপযুক্ত বিশ্রাম,সক্রিয় থাকা এবং একটা পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

গর্ভাবস্থার পঞ্চম মাসের লক্ষণ

গর্ভাবস্থার পঞ্চম মাসের লক্ষণগুলি প্রত্যেকের থেকে প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির হতে পারেএমনকি,একই মহিলার ভিন্ন গর্ভাবস্থার ক্ষেত্রেও উপসর্গগুলি বিভিন্ন ধরণের হতে পারেবেশীরভাগ মহিলারই সাধারণত এই সময় থেকে তাদের গর্ভাবস্থাকালীন উপসর্গগুলি কমতে থাকেগর্ভধারণের পঞ্চম মাসের কিছু উপসর্গ গুলি নিচে তালিকাবদ্ধ করা হল

  • গর্ভাবস্থার পঞ্চম মাসে যে উত্তেজনাপূর্ণ লক্ষণটি হয়ে থাকে তা হল শিশুর আন্দোলনটিকে অনুভব করতে পারাপ্রথমবার হয়ত মায়ের এই অনুভবটিকে সনাক্ত করতে কিছু সমস্যা হতে পারে যা সাধারণত হাল্কা স্ট্রোকের মত ধাক্কা বা গ্যাসের মত বুদবুদ অনুভূত হতে পারেঅভিজ্ঞ মায়েরা অনেক বেশী সচেতন হতে পারেন তাদের সন্তানের এই আলোড়নের ব্যাপারে এবং প্রথমবার হওয়া মায়েদের তুলনায় আগেই তাদের এই আলোড়ন অনুভব করতে পারেনজরায়ুর মধ্যে শিশুর অবস্থানটিও আবার স্থির করতে পারে যে কত তাড়াতাড়ি এই প্রাথমিক অনুভূতিটি অনুভূত হবে
  • হার্ট বার্ন বা গলাবুক জ্বালা হল এই পর্যায়ে গর্ভাবস্থাকালীন আরেকটি উপসর্গ যেটি বাকি গর্ভাবস্থাকালীন সময় জুড়ে রয়ে যেতে পারেযেহেতু শিশুটি বাড়তে থাকে, তার নিজের জন্য আরও বেশী জায়গার প্রয়োজন হয় এবং আভ্যন্তরীণ অঙ্গাণুগুলির উপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে তাদের মধ্যেকার পদার্থগুলোকে খাদ্যনালীর মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যএছাড়াও যে পেশীগুলো খাদ্যনালী এবং পাকস্থলীর মধ্যে থাকে সেগুলো প্রসারিত হয়ে পাকস্থলীর অ্যাসিডকে খাদ্যনালীতে প্রবেশ করতে দেয় এর ফলে হৃদয় প্রদাহ বা গলাবুক জ্বালা করে

গর্ভাবস্থার পঞ্চম মাসের লক্ষণ

  • স্তনগুলি আকারে আরো বেড়ে যেতে পারে এবং কোলোস্ট্রামযেটি হল মায়ের স্তন থেকে নিসৃত হলদেটে প্রথম দুধ যেটি আবার মায়ের প্রথম দুধ নামেও পরিচিত,সেটি তৈরী হওয়া শুরু হয়স্তন দুধের মত, এটি অবাধে প্রবাহিত হতে পারে না।সাধারণত, স্তন থেকে কয়েক ফোঁটাই নিসৃত হতে পারে

  • গর্ভাবস্থাকালীন হরমোনের ওঠা নামার কারণে শরীরে মেলানিনের উৎপাদন বেড়ে যেতে পারে যা অনেক গর্ভবতী মহিলার ত্বকের বিভিন্ন স্থানকে কালো করে তোলেত্বকের সাধারণত কপালে,গালে এবং নাকের চারপাশের অঞ্চল মাস্কের আকারে কালো হয়ে যায়এই অবস্থাটিকে আঞ্চলিক ভাষায় বলা হয়ে থাকে গর্ভধারণের মুখোশ

  • এই সময়ে বেশীরভাগ মহিলার বলার মত যে অভিজ্ঞতাটি হয় তা হল তাদের খিদে বেড়ে যাওয়াতাদের আবার বিশেষ কিছু খাবারের প্রতি তীব্র ইচ্ছে প্রকাশ পেতে পারে এবং কিছু নির্দিষ্ট খাবারের উপর অনীহাও দেখা দিতে পারে

গর্ভধারণের পঞ্চম মাসে কি আশা করা যায়?

গর্ভাবস্থার হরমোনগুলি সাধারণত এমনকিছু পরিবর্তন আনতে পারে যা সাধারণত অস্থায়ী এবং শিশুর জন্মদানের পর সেগুলো উধাও হয়ে যায়এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলি আপনি গর্ভধারণের পঞ্চম মাসে আশা করতে পারেন সেগুলি নিম্নরূপঃ

  • গর্ভদশায় কিছু মহিলার জেস্টেশনাল হাইপারটেনশন বিকাশ পায় যার ফলস্বরূপ উচ্চ রক্ত চাপ দেখা দেয়
  • কিছুক্ষেত্রে মহিলারা তাদের বুক ধড়ফড়ানির অভিজ্ঞতা লাভ করেন তাদের উচ্চ হৃদস্পন্দনের জন্য এবং হৃদস্পন্দনের মাত্রা বৃদ্ধির জন্য,কারণ এখন থেকে হৃদপিণ্ড দুটি প্রাণের জন্য রক্ত পাম্পিং করতে থাকে

  • গর্ভধারণের পঞ্চম মাসে লিউকোসাইট বা শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে কম হিমোগ্লোবিনের ফলে

  • এক্ষেত্রে কিডনির উপরে প্রচুর পরিমাণে চাপ পড়ে তাই ডাক্তারবাবু কিডনির কোনও রকম সম্ভাব্য অসুবিধার বেড়ে যাওয়াকে এড়িয়ে চলার জন্য আপনার কিডনিটি পরীক্ষা করার জন্য আল্ট্রাসাউন্ড করানোর পরামর্শ দিতে পারেন

  • কিছু গর্ভবতী মহিলার আবার গর্ভাবস্থাকালীন মাড়ির সমস্যা (যেমন মাড়ি ফুলে যাওয়া,শিথিল মাড়ি)বিকাশ পেতে থাকে উচ্চ মাত্রায় ইস্ট্রোজেনের কারণে,যার ফলে মাড়ি থেকে রক্তপাত ঘটে থাকে

  • অন্ত্রের আন্দোলন কঠিন অথবা যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠতে পারে প্রোজেস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণখাদ্যের মধ্যে উচ্চ মাত্রায় আয়রণ সম্পূরকগুলি থাকার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যটি আরও খারাপ অবস্থায় পরিণত হতে পারে

  • প্রতি সপ্তাহের সাথে শিশুর আরও বেশি সক্রিয় আন্দোলনের সাথে সাথে আপনার পেটটিও বেড়ে যাওয়ার ফলে আরামদায়ক ভাবে ঘুমানোর ভঙ্গীমাটি খুঁজে পাওয়া কিছুটা কঠিন হয়ে ওঠে

কোন পরিবর্তনগুলি আপনার শরীরে ঘটে যখন আপনি পাঁচ মাসের গর্ভবতী?

দেহে কিছু শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন হতে থাকে যখন আপনি পাঁচ মাসের গর্ভবতী হয়ে থাকেন

কোন পরিবর্তনগুলি আপনার শরীরে ঘটে যখন আপনি পাঁচ মাসের গর্ভবতী?

নিম্নলখিতগুলি তার মধ্যে অন্তর্ভূক্ত হতে পারে

  • কিছু গর্ভবতী মহিলার আবার পিগমেন্টেশন (চামড়ার স্বাভাবিক রঙ) বা মেলাসমা বেড়ে যায় সেই কারণে তাদের ত্বকের উপর বাদামী প্যাচগুলি দেখতে পাওয়া যায়
  • হরমোনের পরিবর্তনের ফলে দৃষ্টির প্রখরতার উপর খারাপ প্রভাব পরতে পারে
  • স্তনগুলি অনবরত আকারে বেড়ে যেতে পারে
  • শুধুমাত্র আপনার ত্বকের আস্তরণের নিচেই আপনি শিরাগুলিকে সুস্পষ্ট ভাবে লক্ষ্য করতে পারেন
  • প্রসারণ চিহ্ণ গুলি দেখা যেতে পারে যেহেতু উদরের লিগামেন্টগুলি প্রসারিত হয়
  • যখন মন্টগোমারির গ্রন্থি গুলিও আকারে বেড়ে উঠতে থাকে, স্তনবৃন্ত গুলি গাঢ় হয়ে উঠতে পারে
  • পিউবিক বোন থেকে নাভি পর্যন্ত প্রসারিত গাঢ় রেখাটি এই সময় আবার বেড়েও যেতে পারে
  • চুল এবং নখগুলি স্বাস্থ্যকর এবং শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে

গর্ভাবস্থার পঞ্চম মাসের উদ্বেগগুলি

গর্ভাবস্থার পঞ্চম মাসে কিছু মহিলার আবার শারীরিক অস্বস্তির অভিজ্ঞতা কিছুটা বাড়তে পারে তাদের শারীরিক পরিবর্তনগুলি হওয়ার কারণে,সেগুলির মধ্যে কিছু উদ্বেগ হতে পারে

  • পেটে ব্যথা
  • পায়ে ক্র‍্যাম্প লেগে যাওয়া বা শিরায় টান ধরা
  • পায়ের পাতা এবং গোড়ালি ফুলে যাওয়া
  • পিঠে ব্যথা বিশেষ করে কোমরে
  • হৃদস্পন্দনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া
  • হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়া,যার ফল অ্যানিমিয়া
  • সম্ভবত স্তন গ্রন্থি থেকে কোলোস্ট্রাম নিসৃত হয়
  • পায়ের ত্বকের আস্তরণের নিচেই ভেরিকোস ভেইন (ফুলে ওঠা শিরা)বা শিরাগুলিকে দেখতে পাওয়া যেতে পারে
  • হেমারয়েডস দেখা দিতে পারে যেটি হল মলাশয় অঞ্চলের সাধারণ ভেরিকোস ভেইন
  • যোনি স্রাব বেড়ে যাওয়া
  • তীব্র সিস্ট (মূত্রাশয় প্রদাহ)

শিশুর বিকাশ

গর্ভাবস্থার পঞ্চম মাসে শিশু দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং শিশুর একটি অবিশ্বাস্য গতিতে বিকাশ হতে থাকেপ্রতিদিন নিয়ে আসে তার জন্য উত্তেজনাপূর্ণময় বিকাশ এবং আপনার সন্তানটি প্রায় 8-12 ইঞ্চি মত লম্বা হয়ে ওঠেবাচ্চার ওজন বেড়ে প্রায় এক পাউন্ড মত হতে পারেতবে এখানে এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে প্রতিটি শিশুই বেড়ে ওঠে তার নিজের গতিতেযখন আপনি পাঁচ মাসের গর্ভবতী সেই সময়ে যে উন্নয়নমূলক মাইলস্টোনগুলি আপনার শিশু অর্জন করে উঠতে পারে সেগুলি হল

  • আপনার শিশুর ত্বক পুরু এবং তৈলাক্ত সুরক্ষিত আস্তরণের দ্বারা আবৃত থাকতে পারে, এটি ভার্নিক্স নামে পরিচিতএটি শিশুর ভঙ্গুর ত্বককে রক্ষা করে তাকে ঘিরে থাকা অ্যামনিওটিক তরলের থেকে
  • শিশুর পেশী এবং হাড়গুলি ক্রমশ ঘন হতে থাকে এবং বাহু,পায়ের আঙ্গুল,পা,হাত,হাতের আঙ্গুলগুলি ভালো ভাবে গঠিত হয়

  • শিশুর ভ্রূ, চোখের পাতা,চোখের পাতার লোম,সূক্ষ্ম লোম,কান এবং নখ গুলি গঠিত হয়

  • শিশুর মুখটি স্পষ্টভাবে গঠিত হতে থাকে

  • আপনার সন্তানটি প্রসারিত হতে পারে,এবং অল্পের জন্য চোখ খুলতে পারে,হাই তুলতে পারে,বুড়ো আঙ্গুল চুষতে পারে,পা ছুড়তে পারে এবং ঘুরে যেতে পারে

  • এছাড়াও আপনার বাচ্চা ভিতরে নড়াচড়া করে বাঁক নিতেও সক্ষম হয়

  • শিশুর ছোট্ট বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সে মুখের অঙ্গঅভঙ্গীও করতে পারে

  • শিশু ঘুমিয়ে এবং জেগে থাকার একটি মোটামুটি অবিচলিত সময়সূচী অনুসরণ করতেপারতে পারেশিশুর ঘুমের ভঙ্গীটি তার মায়ের ঘুমানো এবং জেগে থাকার চক্রটি থেকে পৃথক হতে পারে

  • এই সময়েই আপনার শিশুর, তার নিজের হাতের আঙ্গুলের এক অনন্য ছাপের বিকাশ হতে পারে

  • এই পর্যায়ে আবার আপনার শিশুর যোনির বিকাশ ঘটে

  • আপনার বাচ্চা কিছু শ্রবণ ক্ষমতা অর্জন করতে পারেসুতরাং, বাইরের শব্দ শিশুকে বিরক্ত করতে পারেএছাড়াও,আপনি আপনার সন্তানের সাথে যোগাযোগ করা শুরু করতে পারেন এবং হতে পারে তার থেকেও সাড়া পেতে পারেন

শিশুর বিকাশ

  • শিশুর মস্তিষ্কের দ্রুত বিকাশ হতে থাকে এবং ক্রমশ তা আরও জটিল হয়ে উঠতে থাকে

  • 18 সপ্তাহের আশেপাশে শিশুর রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাও আরও পরিণত হয়তার শরীর শারীরবৃত্তীয় পদার্থগুলিকে সংশ্লেষ করতে পারে যা তাকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে

  • 19-20 তম সপ্তাহে,স্নায়ুতন্ত্র কাজ করতে শুরু করেএন্ডোক্রাইন গ্রন্থিগুলি, প্লীহা এবং তার সাথে মোনোসাইট ও লিম্ফোসাইটগুলি কাজ করতে শুরু করে

  • শিশুর অবস্থানের পরিবর্তন হতে শুরু হতে পারে তার এই অবস্থান থেকে মাথা নিচু করা অবস্থানে

  • আপনার সন্তানের আলোর প্রতি সংবেদনশীলতার বিকাশ ঘটে

  • এছাড়াও তার স্বাদকোরকগুলিও গঠিত হতে শুরু করেএকটি 5 মাসের অজাত শিশুও নোনতা এবং মিষ্টি স্বাদের মধ্যে পার্থক্য করতেও সক্ষম হতে পারে।

গর্ভধারণের পঞ্চম মাসে স্ক্যান / আল্ট্রাসাউন্ড

আপনার ডাক্তারবাবু একটি মধ্য গর্ভাবস্থা স্ক্যান করানোর পরামর্শ দিতে পারেন আপনার গর্ভাবস্থার সুস্থতা পরীক্ষা করার জন্য এবং গর্ভাবস্থার 5 মাসের শিশুকে চেক করার জন্য।এই বিস্তৃত স্ক্যানটিকে আবার অনোমালি স্ক্যান বলা হয় কারণ এই স্ক্যানের একটা উদ্দেশ্য হল ভ্রূণের কাঠামোগত অস্বাভাবিকতার সন্ধান করা।ডাক্তারবাবু এই স্ক্যানের দ্বারা আপনাকে আপনার সন্তানের মুখ,চেহারা,বড় অঙ্গাণু গুলির পাশাপাশি হৃদপিণ্ডটিরও ছবি দেখাতে সাহায্য করতে পারেন।

যদি কোনো ক্ষেত্রে আল্ট্রাসাউন্ড কোনওরকম অস্বাভাবিকতা প্রকাশ করে তবে সেক্ষেত্রে আপনার ডাক্তারবাবু একটি অতিরিক্ত স্ক্যান করাবার সুপারিশ করতে পারেন সমস্যাগুলিকে আরও ভালোভাবে চিহ্ণিত করার জন্য এবং সম্ভবত তার যথোপযুক্ত চিকিৎসা করার জন্য।

গর্ভাবস্থার পঞ্চম মাসে যেগুলি করণীয় এবং করণীয় নয়

আপনার আস্বস্তি এবং গর্ভধারণ জনিত সমস্যাগুলো এড়াবার জন্য এখানে কিছু আপনার করণীয় এবং কিছু বিষয় যা করবেন না সেই বিষয়গুলি বিস্তৃতভাবে আলোচনা করা হল

করণীয়

  1. আপনার ভিটামিন C গ্রহণের পরিমান বাড়ানঃ ব্রকোলি,কমলালেবু,টমাটো, এই জাতীয় খাদ্যগুলো আপনার গর্ভাবস্থার 5মাস বয়সের ভিটামিন C এর চাহিদা মেটানোর জন্য খান।
  2. প্রাকৃতিক সম্পূরকগুলিঃ বিভিন্ন ফল যেমন খেজুর,আমন্ড,পেস্তা বাদাম, আখরোট আগুলি অত্যন্ত লাভদায়ক হয় গর্ভাবস্থায় খেলে।
  3. উচ্চ ফাইবার বা তন্তু জাতীয় খাবারঃ চেষ্টা করুন বেশী তন্তু যুক্ত খাবার আপনার ডায়েটে রাখতে যার দ্বারা আপনি কোষ্ঠকাঠিন্যের মোকাবিলা করতে পারেন। হেমারয়েডস প্রতিরোধ করতেও তন্তুযুক্ত ডাইয়েট সাহায্য করে।
  4. সঠিক ভঙ্গিঃ বাড়ন্ত পেটের জন্য বসার এবং দাঁড়াবার সঠিক ভঙ্গিমাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।একটি ভাল ভঙ্গিমা ব্যাথা বেদনা এবং যন্ত্রণা কমাতে সাহায্য করে।
  5. ঠান্ডা জলে স্নানঃ আপনার স্তনে, নিম্ন বাহুতে,যৌনাঙ্গে এই সময় র‍্যাশ দেখা যেতে পারে যা কমাবার জন্য মাঝে, মাঝে ঠান্ডা জলে স্নান করুন।আরামদায়ক ঢিলেঢালা সূতীর কাপড় পরুন আপনার গর্ভাবস্থার সময় যেটা আপনাকে এই র‍্যাশ কমাতেও সাহায্য করবে।
  6. একটানা দীর্ঘক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা এড়িয়ে চলুনঃ রক্ত সংবহন বৃদ্ধি করতে এবং খিঁচুনি ও যন্ত্রণা কমাবার জন্য একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন।নিয়মিত ব্যবধানে সামান্য হাঁটাচলা করতে ভুলবেন না।
  7. যথেষ্ট পরিমান বিশ্রামঃ গর্ভাবস্থায় যথেষ্ট পরিমাণে বিশ্রাম এবং ঘুম আপনার গর্ভধারণ সংক্রান্ত চাপ এবং অবসাদ কমায়। গর্ভাবস্থায় একটা শক্তিশালী দিবানিদ্রা দারুন ব্যাপার।যা আপনার চাপ কমায়
  8. পুষ্টিকর ডায়েটঃ সবুজ শাক সবজি,ফল,মাছ ইত্যাদি দিয়ে তৈরী একটি সুষম এবং পুষ্টিকর ডায়েট গর্ভদশায় আপনার কর্মশক্তি অক্ষুন্ন রাখতে সাহায্য করবে।
  9. ঘুমাবার ভঙ্গিঃ আপনার বর্ধণশীল পেটের জন্যে আপনি বেশ কিছু ভঙ্গীমাতে শুতে পারবেন না।আপনি বাম পাশ ফিরে শুতে চেষ্টা করুনগর্ভাবস্থায় ব্যবহৃত একটা বালিশ দুটো পায়ের মঝে রেখে ঘুমালে আরাম পাবেন।
  10. আরামদায়ক জুতোঃ আপনাকে হিল যুক্ত জুতোর পরিবর্তে ফ্ল্যাট জুতো পরতে হবে।আপনি লক্ষ্য করবেন যে আপনার জুতোর মাপ কিছুটা এই সময় বেড়ে গেছে।তবে আপনার উদ্বিগ্ন হবার কোনো কারণ নেই কারন সন্তানের জন্মের পর তা আবার পুরানো মাপেই ফিরে যাবে।

গর্ভাবস্থার পঞ্চম মাসে যেগুলি করণীয় এবং করণীয় নয়

করণীয় নয়

  1. জাঙ্ক ফুড এড়ানঃ গর্ভাবস্থায় জাঙ্ক ফুড থেকে দূরে থাকুন কারণ এর ফলে গ্যাস্ট্রাইটিস বা বমি বমি ভাব হতে পারে।মিষ্টি এবং ভাজাভুজি কম খান।
  2. পা দুটোকে ক্রশ করা থেকে বিরত থাকুনঃ বসে থাকাকালীন পা দুটোকে ক্রশ করে রাখা মোটেও ভাল ভাবনা নয় যখন আপনি গর্ভবতী হন।
  3. মুত্রত্যাগ করতে দেরী করবেন নাঃ গর্ভাবস্থায় মুত্রজনিত সংক্রমণের এক বিরাট ঝুঁকি থাকে।তাই মুত্রত্যাগ দেরী করে করার অভ্যাস এড়ানো উচিত।
  4. হঠাৎ করে উঠবেন নাঃ গর্ভবস্থায় আপনি বসা বা শোওয়া থেকে হঠাৎ করে উঠে পড়বেন না, এর ফলে আপনার ঝিমুনি আসতে পারে বা অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন।
  5. ওজন বৃদ্ধি চেক করুনঃ গর্ভধারণের 5 মাসে আপনার খিদে খুব বেড়ে যাবে।তাই আপনার অপ্রয়োজনীয় ওজন বৃদ্ধিকে আটকানো প্রয়োজন।তাই অতিরিক্ত অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের প্রবণতাকে আটকান

গর্ভকালীন সময়ে সক্রিয় জীবন যাপন করুন।গান শুনুন,সামান্য হাঁটাচলা করুন,ধ্যান শিখুন,যোগ ব্যায়াম করুন, আরমে থাকার কৌশল গুলো রপ্ত করুন ইতিবাচক এবং চাপমুক্ত থাকতে।আপনি সময় কাটাতে পরিকল্পনা করুন আপনার একগুচ্ছ আনন্দের আবির্ভাবের জন্য।গর্ভাবস্থার এই পর্যায়ে গর্ভপাত হবার ঝুঁকি থাকে।তাই আপনার স্বাস্থ্য সম্বন্ধে কোনোরকম সন্দেহ দেখা দিলে দেরী না করে অতি দ্রুত ডাক্তারবাবুর পরামর্শ নিন।