প্রসবোত্তর হেমারয়েড(প্রসবের পরে হয়ে থাকা পাইলস বা অর্শ)

প্রসবোত্তর হেমারয়েড(প্রসবের পরে হয়ে থাকা পাইলস বা অর্শ)

গর্ভাবস্থা আপনার চিন্তা করার থেকেও একাধিক উপায়ে আপনার দেহে পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।আপনি যদি ভেবে থাকেন যে শিশুর জন্মদানের পরই আপনার অগ্নিপরীক্ষাটির সম্নাপ্তি ঘটবে,তবে জেনে রাখুন সেখানে আরও অন্য গল্প শুরু হবে।অবশ্যই আপনার সন্তানটি আপনার কাছে তার অগ্রাধিকারের দাবী রাখে কিন্তু সেই সাথে আপনার নিজের শরীরের যত্ন নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।শিশুর জন্ম স্বাভাবিকভাবে যোনি প্রসবের দ্বারা হয়ে থাকলে তা হেমারয়েডের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

aniview

হেমারয়েডগুলি আসলে কি?

প্রসবোত্তর হেমরয়েডগুলি হল এমন এক ধরণের জটিলতা যা সন্তানের জন্মদানের পর বেড়ে যেতে পারে।পায়ু অঞ্চলের ফুলে ওঠা শিরাগুলিই হল হেমারয়েড।সেগুলি অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে এবং একসাথে একত্রিত হয়ে একটি একক পিণ্ড হিসেবে প্রকাশ পায়।আপনি সেগুলিকে মলদ্বার থেকে কিছুটা বেরিয়ে থাকতে দেখতে পারেন। হেমারয়েডগুলি মারাত্মক চুলকানিযুক্ত অথবা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে।আপনার অন্ত্রের গতিবিধির সময় আবার সেগুলি থেকে রক্তপাতও হয়ে থাকতে পারে।

হেমারয়েডের আকারটি একটা চীনাবাদামের থেকেও ছোট হতে পারে অথবা আবার সেটি বেড়ে একটা আঙুরের আকারও ধারণ করতে পারে।যদিও গর্ভাবভস্থায় হেমারয়েডগুলি বেড়ে যেতে পারে,আবার প্রসবের পর তা কমেও যাবে,কিছু ক্ষেত্রে প্রসবের পরেও সেগুলি দীর্ঘ সময় জুড়ে অব্যাহত থাকতে পারে।প্রায় 25% মহিলা যারা পোস্ট-ডেলিভারি হেমরয়েডে ভুগে থাকেন তাদের মধ্যে প্রসবের পরেও বহু দিন ধরে প্রসবোত্তর হেমারয়েডগুলি রয়ে যায়।

সন্তান প্রসবের পর পাইলস হওয়ার কারণগুলি কি

সন্তানের জন্মদানের পরবর্তীতে কোনও মহিলার মধ্যে বিভিন্ন কারণের জন্য হেমারয়েড হয়ে থাকতে পারেঃ

সন্তান প্রসবের পর পাইলস হওয়ার কারণগুলি কি

  • গর্ভাবস্থায়,শরীরের মধ্যে প্রোজেস্টেরণ হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় যা শিরার প্রাচীরগুলিকে শিথিল করে দেয় এবং এর ফলে শিরাগুলি সহজেই ফুলে যায়।
  • প্রোজেস্টেরণ হরমোন ক্ষুদ্রান্ত্রের ক্রিয়াকে ধীর করে দেওয়ার কারণে এটি আবার কোষ্ঠকাঠিণ্যের জন্যও দায়ী হয়ে ওঠে।
  • কোষ্টকাঠিণ্য হলে,কঠিন মল অপসারণের সময় প্রচণ্ড বেগ দেওয়ার ফলে টান অনুভূত হয়।আর এই টানের কারণেই প্রসবের পরবর্তীতে পাইলস বা অর্শ হয়ে থাকে অথবা সেটির অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।
  • জরায়ুর আকার ক্রমশ বেড়ে যাওয়ার কারণে, পেলভিক শিরা এবং ইনফিরিয়র ভেনাকোভা উপর চাপ পড়ে।ইনফিরিয়র ভেনাকোভা একটি বৃহৎ শিরা যেটি আমাদের শরীরের নিম্নাংশ থেকে রক্ত পায়।জরায়ুর নিচের শিরাটি একটা চাপের মধ্যে থাকে এবং আকারে বড় হয়ে যায়।
  • হেমারয়েডগুলি আরও বেড়ে যেতে পারে প্রসবের সময় অত্যধিক চাপ পড়ার কারণে।

প্রসবোত্তর হেমারয়েডের লক্ষণ এবং চিহ্নগুলি

  • গর্ভাবস্থার পরে হেমারয়েডগুলি তাদের আগমনের জানান দেয় মলদ্বারের মধ্যে চুলকানি এবং তার সাথে একটা গরম ভাব ও জ্বলন অনুভূতির দ্বারা।অন্ত্রের গতিবিধির সময় এই যন্ত্রণাটি আরও বেড়ে যায়।
  • যত দিন যেতে থাকে আপনার যন্ত্রণার অনুভূতিটিও হয়ত আরও বেড়ে যেতে পারে,বিশেষ করে বসে থাকার সময়।এই সময়ে মলদ্বারে হওয়া যন্ত্রণাটি মাঝে মাঝে হওয়া থেকে একনাগাড়ে অনবরত হতে থাকবে।
  • জ্বলন এবং চুলকানিযুক্ত,অপ্রতুল পরিমাণে মল মলদ্বার দ্বারা নিষ্কাশনের অনুভূতি দুরারোগ্য হেমারয়েডের একটা বড় লক্ষণ।
  • মলদ্বারের চারপাশের কলায় প্রদাহ,চিঁড়ে যাওয়া এবং রক্তপাত হওয়া হল হেমারয়েডের আরও জটিলতার চিহ্ন।

রোগ নির্ণয়

এই রোগটি নির্ণয় করার জন্য মলদ্বারের একটা সহজ এবং দ্রুত পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন হয়।বাইরের দিকে হওয়া হেমারয়েডগুলি হল গোল মটরশুঁটির দানার আকারে গঠিত রূপ,যা সহজেই সনাক্ত করা যেতে পারে।আর আভ্যন্তরীণ হেমারয়েডগুলির ক্ষেত্রে,সেগুলির আকার এবং মাত্রা নির্ধারণের জন্য একটি হস্তচালিত পরীক্ষা বা ম্যানুয়াল চেক-আপ করানোর প্রয়োজন।কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে আবার একটা এণ্ডোস্কোপিক পরীক্ষা(সিগমইডোস্কোপি) এবং একটা রেডিওলজিক্যল পরীক্ষাও(ইরিগোস্কোপি)সম্পন্ন করার প্রয়োজন হতে পারে।

রোগ নির্ণয়

জটিলতাগুলি

কিছু বিরল ক্ষেত্রে,কেউ কেউ আবার হেমারয়েডগুলির কারণে কিছু জটিলতা ভোগ করতে পারে।সেগুলির মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ কয়েকটি হলঃ

  • এক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যা আছে যেগুলি হেমারয়েডের কারণে হয়ে থাকতে পারে।মলত্যাগের পর,মলদ্বার অঞ্চলটি পরিষ্কার করা কঠিণ হয়ে উঠতে পারে।
  • দীর্ঘ সময় ধরে পায়ুর চারপাশ অঞ্চলের স্বাস্থ্য দুর্বল থাকার কারণে তা আরও অন্যান্য বিভিন্ন সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
  • রক্তপাত হওয়াটা চিন্তার বিষয় হয়ে উঠতে পারে,তবে এটি খুব কম ক্ষেত্রেই কোনও বড় জটিলতা গড়ে তোলে।
  • হেমারয়েড হয়ে থাকা এমন কোনও ব্যক্তির মধ্যে যন্ত্রণা হওয়াটা হল একটা সাধারণ অভিযোগ,বিশেষ করে মলত্যাগের পরে।

গর্ভাবস্থার পরবর্তীতে হয়ে থাকা পাইলস বা অর্শের জন্য চিকিৎসা এবং ওষুধপত্র

পাইলস বা অর্শ এবং মলদ্বারের আঘাত ও ব্যথা থেকে স্বস্তির জন্য বেশ কিছু ওভার দ্য কাউন্টার ওষুধগুলিও আবার উপলভ্য।

গর্ভাবস্থার পরবর্তীতে হয়ে থাকা পাইলস বা অর্শের জন্য চিকিৎসা এবং ওষুধপত্র

1. ব্যথা উপশমকারী মুখে খাওয়ার ওষুধ

প্রসবের পর পাইলসের প্রতিকার হিসেবে সাধারণত ব্যথা উপশমকারী মুখে খাওয়ার ওষুধগুলি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।এগুলির মধ্যে রয়েছে আইবুপ্রুফেন,অ্যাসপিরিন অথবা অ্যাসিটামিনোফেন।এগুলির দ্বারা প্রসবোত্তর পাইলসের অস্বস্তিটির উপশম চমৎকার ভাবে হয়।

2. হেমারয়েড ক্রীম

ক্রীমগুলি যন্ত্রণা,চুলকানি এবং রক্তপাত থেকে ব্যাপক স্বস্তি নিয়ে আসে।আপনার উপসর্গগুলির উপর ভিত্তি করে,দ্রুত স্বস্তির জন্য সঠিক ক্রীমটিকে বেছে নিন।
হাইড্রোকোর্টিসনযুক্ত ক্রীম চুলকানি দূর করতে সাহায্য করে,আবার প্র্যামোক্সিন এবং বেনজোকাইন ফুলে যাওয়া ও যন্ত্রণার উপশমে বেশ কার্যকর।

3. অসমোটিক এজেন্ট অথবা মল নরমকারী

মল নরম রাখার একটা দুর্দান্ত উপায় হল মল নরমকারীগুলি ব্যবহার করা।এটি কোষ্টকাঠিণ্যের সম্ভাবনা কমায় এবং অত্যন্ত চাপ দিয়ে বেগ দেওয়াকেও রোধ করে।এক সপ্তাহের জন্য প্রতিদিন ডোকসেট(100-300mg)সেবন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

4. লুব্রিক্যান্ট ল্যাক্সেটিভ বা পিচ্ছিলকারী জোলাপ বিশেষ

খনিজ তেলের মত লুব্রিক্যান্ট ল্যাক্সেটিভগুলির ব্যবহার হল গর্ভধারণের পরবর্তীতে হয়ে থাকা পাইলসের চিকিৎসা করার একটি পদ্ধতি।এগুলি অন্ত্র এবং মলের মধ্যে জলীয় উপাদানগুলি ধরে রাখতে এবং সেগুলি বজায় রাখতে সহায়তা করে।এর ফলে মল নরম থাকে এবং সহজেই অন্ত্রের মধ্য দিয়ে যেতে পারে।

5. বর্জ্যের স্তুপ গঠণকারী এজেন্টগুলি

বর্জ্যের স্তুপ গঠণকারী এজেন্টগুলি মলকে নরম করার জন্য একপ্রকার জোলাপের কাজ করে এবং অন্ত্রের গতিবিধিকে সহজ করে তোলে।প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম উৎস থেকে এই এজেন্টগুলি উদ্ভূত হয় এবং সেগুলিকে গ্রহণ করার 12-36 ঘন্টার মধ্যে সেগুলি কাজ করে।

6. প্রোবায়োটিকগুলি

প্রোবায়োটিকগুলি

প্রোবায়োটিকগুলি হল বন্ধুসুলভ এবং উপকারি ব্যাকটেরিয়া যেগুলি হজম স্বাস্থ্যকে উন্নত করে।কারুর মধ্য যদি হেমারয়েড হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে তার জন্য দই একটা শক্তিশালী খাদ্য হয়ে ওঠে কারণ এর মধ্যে এটি উপশমের একটি সক্রিয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে।কেফির যেটি হল একটি লস্যি জাতীয় পানীয়,অন্ত্রের গতিবিধিকে উদ্দীপ্ত করে এবং একটা দুর্দান্ত পরিসরে ডিহাইড্রেশন বা জল বিয়োজন হ্রাস করে।

বাড়িতে হেমারয়েড চিকিৎসার পরামর্শগুলি

আপনি যদি ঘরোয়া প্রতিকার পছন্দ করে থাকেন এবং গর্ভাবস্থার পরে হয়ে থাকা হেমারয়েডের চিকিৎসার জন্য প্রাকৃতিক প্রতিকারগুলির খোঁজ করেন সেক্ষত্রে কয়েকটি জোরালো প্রতিকারের জন্য আপনার সামনে আরও কিছু পড়ার জন্য রইলঃ

  • বরফ প্যাকঃ দ্রুত উপশমের জন্য সংক্রামিত এলাকার উপর একটি বরফ প্যাক লাগান।বরফ প্যাকটিকে একটা নরম আবরণের মধ্যে রাখা নিশ্চিত করুন।জাদুকরী হ্যাজেলের মধ্যে ভিজিয়ে নিয়ে একটি ঠাণ্ডা কম্প্রেসের ব্যবহারও প্রদাহ এবং যন্ত্রণা হ্রাসের ক্ষেত্রে একটি কার্যকর কৌশল হয়।
  • ছাগলের দুধঃ 10 গ্রাম সরষে গুঁড়োর সাথে বড় 10 চামচ ছাগলের দুধ ভালভাবে মিশিয়ে নিয়ে সেটিকে প্রাতঃরাশের আগে পান করুন।হেমারয়েডের কারণে হয়ে থাকা প্রদাহ এবং যন্ত্রণায় আপনি একটি লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন দেখতে পারেন।
  • হলুদঃ এই প্রাকৃতিক উপকরণটি তার অ্যান্টিবায়োটিক বৈশিষ্ট্যগুলির জন্য পরিচিত এবং হেমারয়েড বা অর্শের নিরাময়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • পিঁয়াজঃ একটা লাল রঙের পিঁয়াজ নিয়ে সেটিকে সূক্ষ্ম ভাবে ঝিরিঝিরি করে কাটুন।এবার এর সাথে চিনি যোগ করুন এবং স্নায়ুর জ্বলন হ্রাস করতে মিশ্রণটিকে দিনে দুবার করে সেবন করুন।রক্তপাত হ্রাস পাবে এবং তার ফলে জ্বলনও কমবে।
  • ডালিমের খোসাঃ ডালিমের খোসাকে চূর্ণ করে একটা ছোট কাপে ভরে তার মধ্যে গরম জল মিশিয়ে নিন।এবার মিশ্রণটিকে ঠাণ্ডা হতে দিন,অর্শ থেকে মুক্তি পেতে দিনে দুবার করে এই মিশ্রণটিকে পান করুন।
  • কালো সরষে এবং দইঃ এক চামচ কালো সরষেকে গুঁড়ো করে নিয়ে সেটিকে এক কাপ তাজা দইয়ের সাথে যোগ করুন।প্রাতঃরাশ সারার পূর্বে এটি গ্রহণ করুন এবং এরপর কিছুটা মাখন তোলা দুধ পান করুন।স্তন পান করানো মায়েদের জন্য এই চিকিৎসাটি আদর্শ।
  • আদাঃ আদা,পুদিনা এবং তাজা লেবুর রসের একটি সংমিশ্রণ প্রত্যহ সেবন করলে তা প্রসবের পরবর্তীতে হয়ে থাকা হেমারয়েড বা অর্শ থেকে মুক্তি পাওয়ার একটা দুর্দান্ত পন্থা।এটিকে আরও কার্যকর করে তুলতে এর সাথে সামাণ্য মধু যোগ করুন।
  • পশ্চাৎদেশের স্নানঃ পশ্চাৎদেশের বা নিতম্বের স্নানের জন্য একটি প্লাস্টিকের গামলা ব্যবহার করা হয় যেটি টয়লেট সিটের উপরে স্থাপন করা যেতে পারে। এবার এর মধ্যে উষ্ণ জল ঢেলে তার মধ্যে প্রতিদিন 3-4 বার করে 10 মিনিট ধরে আপনার মলদ্বার এলাকাটিকে ভিজিয়ে রাখুন।হেমারয়েডের দরুণ হয়ে থাকা প্রচুর যন্ত্রণা এবং অস্বস্তি লাঘব করতে এটি প্রভূত সহায়তা করবে।

কীভাবে নিরাময় পক্রিয়াটিকে দ্রুত সম্পাদন করা যায়?

নিরাময় প্রক্রিয়াটিকে ত্বরাণ্বিত করতে এবং ভবিষ্যতে হেমারয়েডের বৃদ্ধি রোধ করতে,কোষ্ঠকাঠিণ্যকে দূরে ঠেলে রাখা রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।নিম্নলিখিত অভ্যাসগুলি সেটি করতে আপনাকে সহায়তা করতে পারেঃ

  • কোষ্ঠকাঠিণ্যকে এড়িয়ে চলতে প্রতিদিন নিয়ম করে কমপক্ষে 8-10 গ্লাস জল পান করুন।
  • প্রচুর তন্তু সমৃদ্ধ ফল,সবজি,শিম্বজাতীয় ডাল এবং সম্পূর্ণ শস্যগুলি প্রচুর পরিমাণে খান,যা আপনার মলকে কঠিণ হয়ে যাওয়া থেকে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে।
  • পায়ু অঞ্চলে রক্ত সঞ্চালনায় উন্নতি ঘটাতে কেগেল অনুশীলনগুলি খুবই সহায়ক।সেগুলি পায়ুর পেশীগুলিকে শক্তিশালী করে তোলে এবং হেমারয়েড হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধিকে হ্রাস করে।মূত্রনালী এবং যোনিপথের নিকটবর্তী অঞ্চলটিকে শক্তিশালী করার জন্যও কেগেল অনুশীলনগুলি কার্যকর যা প্রসবের পরে পুনরুদ্ধারকেও সহজ করে তলে।
  • প্রতিদিন প্রাণবন্ততার সাথে হাঁটাচলা করার দ্বারা আপনার প্রাত্যহিক সময়সীমার মধ্যে একটি অনুশীলন ব্যবস্থাকে যুক্ত করুন।
  • যখনই আপনার অন্ত্রের গতিবিধির প্রয়োজন মনে হবে শৌচাগারটি ব্যবহার করুন।তা না হলে মল শুষ্ক হয়ে যাওয়ার কারণে সেটি অপসারণ করা কঠিন হয়ে উঠবে।
  • প্রয়জনের অতিরিক্ত সময় ধরে অযথা শৌচালয়ের আসনে বসে থাকবেন না।এটি মলদ্বারের চারপাশের অঞ্চলে প্রচুর চাপ সৃষ্টি করবে।

প্রতিরোধ

হেমারয়েডের প্রতিরোধ করা হল একটি সহজ পদ্ধতি যাকে সহজেই প্রাত্যহিক জীবনের মধ্যে সংহত করা যেতে পারে।গর্ভাবস্থায় এবং গর্ভাবস্থার পরবর্তী ক্ষেত্রে এটি হওয়া প্রতিরোধ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

  • গর্ভাবস্থার আগে,মধ্যে এবং পরে একটা সক্রিয় জীবনযাত্রা বজায় রাখুন।
  • আহত অঞ্চলটিকে শক্তিশালী করে তুলতে এবং সেখানে রক্ত সঞ্চালনার উন্নতি ঘটাতে পেলভিক পেশীর অনুশীলনগুলি করুন।
  • হেমারয়েডকে দূরে ঠেলে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল অন্ত্রের গতিবিধির সময়,কোষ্ঠকাঠিণ্য এবং পরবর্তী টান লাগাকে প্রতিরোধ করা।

কখন একজন ডাক্তারকে ডাকতে হবে

আপনি যদি মলদ্বারে কোনওরকম রক্তপাত হতে লক্ষ্য করেন,অবিলম্বে আপনার ডাক্তারবাবুর সাথে কথা বলুন।আপনার ঘরে নেওয়া যত্ন যদি প্রকাশ করার মত সেরকম কোনও ফলাফল না দিয়ে থাকে,তবে এটিই হল একজন পেশাদারের সাথে কথা বলার সময়।অর্শটির বা হেমারয়েডের কঠিণ হয়ে ওঠা এবং যন্ত্রণা ক্রমশ বেড়ে যাওয়াও চিকিৎসাগত হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত।এক্ষেত্রে ভিতরের দিকে আবার রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে যা অপসারণের জন্য একটা ছোট্ট প্রক্রিয়া পরিচালনা করার প্রয়োজন হয়ে থাকতে পারে।

প্রসবোত্তর হেমারয়েডগুলি জীবনঘাতী নয় ঠিকই তবে যন্ত্রণা এবং অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।যাইহোক,এটি প্রতিরোধ্য এবং একটি সক্রিয় জীবনযাত্রা বজায় রাখার দ্বারা এটি নিয়ন্ত্রণও করা যেতে পারে এবং ওষুধের সাথে সাথে বেশ কিছু প্রাকৃতিক প্রতিকারগুলিও এই অবস্থাটি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করতে পারে।