ছয় মাস বয়সী শিশুর মাইলস্টোনগুলি

ছয় মাস বয়সী শিশুর মাইলস্টোনগুলি

শিশুরা সত্যি খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে, এবং সময়ের সাথে সাথে আপনার বাচ্চা ছয় মাসের হয়ে যায়, আপনি তার মধ্যে দেখতে পাবেন নানান শারীরিক এবং বৌদ্ধিক পরিবর্তন ঘটতে প্রতিদিনই নতুন কিছু হতে থাকে, আর আপনি আপনার সন্তানের মধ্যে এই সকল পরিবর্তনগুলি দেখতে ভালবাসেন এখানে নিচের প্রচ্ছদে আমরা আপনাকে পরিচয় করাব এমন কিছু সাধারণ মাইলস্টোনগুলির সাথে যেগুলি আপনার বাচ্চা ছুঁতে পারে তার ছয় মাস বয়স হওয়ার সাথে সাথে

aniview

6 মাস বয়সী শিশুর মাইলস্টোন চার্ট

নিচের চার্ট টি আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে আপনার শিশু বিকাশের মাইলস্টোনগুলি কতটা অর্জন করেছে আর কতটা অর্জন করতে চলেছে।

আপনার শিশুর অর্জিত বিকাশের মাইলস্টোন গুলি আপনার শিশু অর্জন করতে চলেছে এমন বিকাশের মাইলস্টোন গুলি
ভালকরে সুদৃঢ় ভাবে কোন জিনিস কে হাতের সব কটি আঙুল দিয়ে ধরতে পারে হাতের তর্জনী এবং বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে কোন জিনিস কে চেপে ধরতে পারে
কোন অবলম্বন ছারাই বসতে পারে বসার জায়গার মধ্যে নিজেকে বসাতে চেষ্টা করে
কিছু নির্বাচিত ফল নিজে নিজে খেতে পারে অনেক ধরণের ফল এবং শাকসবজি খেতে চেষ্টা করে
রঙ বোঝার দক্ষতা এবং রঙের গভীরতা বুঝতে পারে। বিভিন্ন রঙের পার্থক্য নিরুপণের এবং পারিপার্শ্বের গভীরতা বোঝার চেষ্টা করে
বেশ কয়েক ঘন্টা রাত্রে ভালভাবে ঘুমায়। রাত্রে ভালভাবে ঘুমাতে পারবে এবং ঘুমের মাঝে খাওয়ার পরিমাণটি কমবে।
কোন কিছু ধরার জন্য হাত বাড়ায়। কোন জিনিসকে ধরার জন্য হামাগুড়ি দিয়ে যাবে।
দু পাশে ঘুরে যেতে পারে। যেকোন দিকে ঘুরতে পারবে এমনকি যখন বসে থাকবে বা হামাগুড়ি দেবে।
সাধারণ স্বরবর্ণ ও ব্যাঞ্জণ বর্ণ গুলি উচ্চারণ করতে পারে। আরো জটিল শব্দ উচ্চারণ করতে পারবে।
পরিবারের মুখগুলি কে চিনতে পারে। পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য নানা ধরণের অঙ্গভঙ্গী করার চেষ্টা করবে।

আপনার সন্তানের ছয় মাস বয়সের মূখ্য কিছু উন্নয়নমূলক মাইলস্টোন

আমরা কিছু বড় ধরণের উন্নয়ন মূলক মাইলস্টোনের শ্রেণীকরণ করলাম নিম্নলিখিত বিভাগে

ঞ্জানীয় উন্নয়নমূলক মাইলস্টোন

আপনার শিশুর ঞ্জানীয় বিকাশ তার মস্তিষ্কের সার্বিক বিকাশের সহিত জড়িত,যার মধ্যে রয়েছে আপনার বাচ্চার বুদ্ধি এবং চিন্তা ক্ষমতাও

  • কৌতুহল বাড়ে—আপনার বাচ্চাটি হয়ে উঠবে একজন ছোট্ট অনুসন্ধানকারী এবং তার চারিপাশের সবকিছু সম্পর্কে সে জানতে চাইবে সে স্পর্শ করবে এবং অনুভব করবে সেই সকল বস্তুগুলিকে যেগুলি তাকে মুগ্ধ করে
  • শব্দ অনুকরণ—এই সময় থেকে আপনার বাচ্চার আরো ভালভাবে শব্দের ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা বাড়বে এবং সে যে শব্দই শুনবে তাই অনুকরণ করবেতার
  • নামে সাড়া দেবে—এই সময়ে আপনার বাচ্চা তার নামের শব্দটিকে মনে রাখবে, এবং সে এটির ব্যাখ্যা করতেও সক্ষম হবে, সেই কারণেই সে সাড়া দেবে আপনি যখন তাকে ডাকবেন
  • সাধারণ শব্দগুলির উচ্চারণ—আপনার বাচ্চা সাধারণ স্ব্ররবর্ণ ও ব্যাঞ্জনবর্ণ গুলি বলতে পারবে, এবং আপনি যখন তার সাথে কথা বলবেন সে এই সকল শব্দগুলির দ্বারা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবে

শারীরিক উন্নয়নের মাইলস্টোন

আপনার বাচ্চার ছয় মাস বয়সে সে নিম্নলিখিত শারীরিক উন্নয়নমূলক মাইলস্টোনগুলি অর্জন করবে ফলে তার সার্বিক কর্মদক্ষতাগুলিও বাড়বে

  • হাতচোখের ভাল যোগাযোগ—আপনার বাচ্চা যথাযথ ভাবে তার অঙ্গ সঞ্চালনার কার্যগুলি করবে এবং ভালভাবে তার হাতগুলি নাড়াতে পারবে, এখন তার ভাল দৃষ্টির কারণেসে কোন জিনিসকে হাতে ধরে রাখতে পারবে এবং সেটিকে যত্ন সহকারে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে
  • রঙের প্রতি দৃষ্টি এবং ধারণার গভীরতার উন্নয়ন—জন্মের সময় থেকে আপনার বাচ্চার দৃষ্টি ক্ষমতা মারাত্মকভাবে বাড়তে থাকে এবং এই সময় থেকেই সে শধুমাত্র বিস্তর রঙের বিভিন্নতার মধ্যে পার্থক্য করতেই সক্ষম হয় না দূরত্বের ধারণা করতে এবং কোন জিনিসকে তার দৃষ্টির মধ্যে আনতেও সক্ষম হয়
  • উপলব্ধি করার জন্য সমস্ত আঙ্গুলের ব্যবহার—আপনার বাচ্চা কোন ছোট জিনিসকে তার হাতের মধ্যে ধরার জন্য নিজের হাতের সকল আঙ্গুলগুলিকে ব্যবহার করতে শিখবে, একে বলা হয় উপলব্ধি করা
  • কোন অবলম্বন ছাড়াই বসা—আপনার বাচ্চার পিঠের মাংস পেশীগুলি অনেক বেশী শক্ত হয়ে ওঠে তাই সে বসতে সক্ষম হয় এবং তার পুরো শরীরের ওজনটি কে ধরে রাখতে পারেযদিও এই সময়ে তার নিজে নিজে উঠে বসার ক্ষমতা হয়না

শারীরিক উন্নয়নের মাইলস্টোন

যোগাযোগের দক্ষতা

এখানে কিছু যোগাযোগ দক্ষতার নমুনা উল্লেখ করা হল যেগুলি আপনার বাচ্চা তার ছয় মাস বয়সে করতে পারবে

  • আপনার বাচ্চা তার নামের ডাক শুনে সাড়া দিতে পারবে
  • আপনার বাচ্চা তার আনন্দ ও দুঃখ প্রকাশের জন্য নানা রকম আওয়াজ করতে শুরু করবে
  • আপনার শিশু টি শব্দ তৈরীর সময়ে বিভিন্ন ধরণের শব্দের প্রতিক্রিয়া করবে
  • আপনার বাচ্চা মুখে নানা রকম বিড়বিড় বা আওয়াজ করা শুরু করবে এবং সেগুলিকে কোন নির্দিষ্ট রূপ দিতে চেষ্টা করবে, যখন সে তার মাবাবা বা ভাই বোনেদের সাথে মুখে নানা রকম আওয়াজ করে

ঘুমের ধরণ

আপনার বাচ্চা তার ছয় মাস বয়সের মধ্যে তার ঘুমের ধরণে অনেক উন্নতি করে, এবং নিম্ন লিখিত মাইলস্টোনগুলি সে অর্জন করতে পারে

  • আপনার বাচ্চা রাত্রে একটানা অনেকক্ষন ঘুমাতে পারবে
  • সে একবারে 6-8 ঘন্টা টানা ঘুমাবে
  • আপনার ছোট্ট সোনা স্বাধীন ভাবে পাশ ফিরতে পারবে
  • আপনার বাচ্চা খাওয়ার জন্য রাত্রে উঠবে না

সংবেদনশীলতা

এখানে কিছু ইন্দ্রিয়গত বিকাশের মাইলস্টোন দেওয়া হল যেগুলি আপনার বাচ্চা তার ছয় মাস বয়সে গিয়ে অর্জন করতে পারবে

  • বিভিন্ন ধরণের জিনিসকে আপনার বাচ্চা ধরতে ও অনুভব করতে শিখবেসে ধরতে চাইবে তার খাবার, খেলনা, জল এবং সেই সমস্ত জিনিস যেগুলিকে সে অনুভব করতে পারে
  • আপনার বাচ্চার দৃষ্টি ক্ষমতার উন্নতি হয়, তাই সে বড়, উজ্জ্বল এবং স্থূলকার জিনিসগুলির প্রতি আকৃষ্ট হবে
  • আপনার বাচ্চা কোন জিনিসকে ছুঁয়ে, ঘষে এবং মৃদু শব্দ করে তা কানে শুনে পরিতৃপ্ত হবে
  • প্রতিদিনের শব্দগুলি শুনেও এখন আর আপনার বাচ্চা মর্মাহত হবে না
  • আপনার বাচ্চা এখন তার দু হাত দিয়ে কোন জিনিসকে ধরতে পারবে এবং চেষ্টা করবে সেগুলিকে তার মুখে ঢোকাতে

সামাজিক এবং মানসিক বিকাশের মাইলস্টোন

এখানে কিছু সামাজিক ও মানসিক বিকাশের মাইলস্টোনের উল্লেখ করা হল যেগুলি আপনার শিশু তার ছয় মাস বয়সে অর্জন করবে

  • পরিবারের সদস্যদের চিনতে পারে—আপনার বাচ্চা তার পরিবারের চেনা সদস্য, যাদের সাথে তার রোজই পরিচয় ঘটে, তাদের সান্নিধ্য পেয়ে তাদের চিনতে পারবে ও স্বস্তিবোধ করবেআবার অন্যদিকে পরিবারের বাইরের লোক যাদের সে চেনে না তাদের দেখে বিরক্ত হবে বা কেঁদে উঠবে
  • খেলতেভালবাসে—আপনার বাচ্চা তার বাবা মা, ভাই বোন বা তার তত্ত্বাবধায়কদের প্রতি উৎসাহ দেখাবে ও তাদের সাথে খেলতে চাইবে
  • বিভিন্ন অভিব্যাক্তি—এই সময় থেকে আপনার বাচ্চার বিভিন্ন জিনিসের উপর তার বিভিন্ন ধরণের অভিব্যাক্তি প্রকাশের ক্ষমতা বাড়বেআপনি লক্ষ্য করতে পারেন ক্ষিধে, ঘুম, কোনরকম অসুবিধে হলে কিম্বা শরীরে যন্ত্রণা অনুভব করলে তাদের মুখের বিভিন্ন ধরণের অভিব্যাক্তিগুলি

সামাজিক এবং মানসিক বিকাশের মাইলস্টোন

  • আবেগের প্রকাশ—আপনি দেখতে পাবেন পরিবারের লোকেদের প্রতি আপনার বাচ্চার ভাব প্রকাশের অনুভূতিগুলিবিভিন্ন পরিস্থিতি অনুযায়ী সে খুশী বা দুঃখজনক মুখ করতে পারে

কখন ভয় পাবেন?

প্রতিটি বাচ্চাই উপরিল্লিখিত সকল মাইলস্টোন গুলি ছুঁতে পারে কিছু আগে বা পরে, কিন্তু এখানে কিছু নির্দেশ দেওয়া হল যেগুলি বাবা মা কে আগে থেকে সতর্ক করে দেয়সেগুলি হল

  • আপনার বাচ্চা কোন কিছু অবলম্বনের সাহায্যেও বসতে অসমর্থ্য হয়:এই সময়ে শিশুর পিঠের মাংসপেশী গুলি শক্ত হয় যা তাকে উঠে বসতে সাহায্য করেযাইহোক যদি আপনার বাচ্চা নিজে বসতে না পারে এমন কি কারুর সাহায্য নিয়েও না পারে, তার অর্থ হল আপনার বাচ্চার শারীরিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে
  • আপনার বাচ্চা কোন শব্দ করতে পারে না বা কোন শব্দের প্রতিক্রিয়াও করতে পারে না: যদিও এই বয়সে বাচ্চারা কথা বলতে পারে না কিন্তু তারা নানারকম আওয়াজ করতে পারে ও বিভিন্ন শব্দের প্রতিক্রিয়া করতে পারেযদি আপনার বাচ্চা এর কোনটিই না করতে পারে তবে সেটি ইহাই নির্দেশ করে যে,আপনার বাচ্চার ভোকাল কর্ডে কিছু সমস্যা আছে অথবা তার কানে শোনার কিছু সমস্যা আছে
  • আপনার বাচ্চা পরিবারের সদস্যদের মুখ চিনিতে পারে না: যদি আপনার শিশু আপনার পরিবারের সদস্যদেরকেও চিনতে না পারে, তার অর্থ হল বাচ্চার দৃষ্টিগত অথবা ঞ্জানের বিকাশের সমস্যা আছে
  • আপনার বাচ্চা ক্ষীণ কর্মক্ষমতা সম্পন্ন বা অক্ষম হতে পারে: বেশীর ভাগ বাচ্চাই এই বয়সে খেলনা দিয়ে খেলতে ভালবাসেযদি আপনার বাচ্চা নিষ্ক্রিয় হয় অথবা খেলার ব্যাপারে উৎসাহ না দেখায় তার অর্থ হল সে তার বিকাশের ক্ষেত্রে বিলম্বের শিকার হয়েছে

আপনার  6 মাস বয়সী শিশুর মাইলস্টোন গুলিতে পৌঁছানোর জন্য তাকে সাহায্য করার কয়েকটি রাস্তা

অভিভাবক হিসেবে আপনার শিশুর বৃদ্ধি এবং বিকাশ এর জন্য কয়েকটি সাধারণ পরামর্শদেওয়া হলো

  • টামি টাইম: এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আপনাকে আপনার শিশুকে সময় দিতে হবে তার উপুড়  হয়ে কিছুক্ষণ থাকার জন্য। এই বিষয়টি তার শরীরের মাংস পেশী গুলোকে শক্তিশালী করে এবং নিখুঁত করে।
  • আপনার শিশুর সাথে ব্যাস্ত থাকুন কথোপকথন এবং খেলার মাধ্যমে: – আপনার শিশুর সাথে খেলা এবং কথা বলার মাধ্যমে তার শ্রবণ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবেন।
  • বাইরের জগতের কার্যকলাপ এবং বই পড়া: আপনার শিশুর দর্শন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য তাকে বাইরে বাগানে বা পার্কে নিয়ে যান।আপনি এক্ষেত্রে রঙিন বই ও ব্যবহার করতে পারেন।
  • সামাজিক মেলামেশা এটা খুবই প্রয়োজনীয় যে আপনার শিশুটিকে অন্যান্য মানুষ এবং নতুন নতুন মুখের সাথে পরিচয় করানো। এই ব্যাপারটা আপনার শিশুর সামাজিক দক্ষতা এবং যোগাযোগের ক্ষমতাকে বাড়াতে সাহায্য করবে।

একজন ভালো বিকাশশীল শিশু   উপরে উল্লেখিত সমস্ত মাইলস্টোন গুলি তার 6 মাস বয়সের মধ্যে অতিক্রম করে। যাইহোক একজন অভিভাবক হিসেবে আপনাকে সব সময় তার বিকাশের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং যদি কোনরকম সমস্যা হয় তা সঙ্গে সঙ্গে  খেয়াল করতে হবে।আপনাকে দ্রুত আপনার শিশুর চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে যদি ওই ধরনের কোনো রকম বিকাশের সমস্যা দেখতে পান।