গর্ভাবস্থায় সফট ড্রিংক পান করা – এটি কি ক্ষতিকারক?

গর্ভাবস্থায় সফট ড্রিংক পান করা – এটি কি ক্ষতিকারক?

বেশিরভাগ মহিলারা এই বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন যে অ্যালকোহল গর্ভস্থ শিশুর বিকাশের জন্য ক্ষতিকারক এবং তাই গর্ভাবস্থায় স্বাদযুক্ত পানীয়, সোডা, ডায়েট সোডা, প্লেইন সোডা এমনকি কোল্ড ড্রিংক দিয়ে তার প্রতিস্থাপন করে তাদের আকাঙ্ক্ষাকে প্রশমিত করে।

aniview

গর্ভাবস্থায় সফট বা কার্বনেটেড ড্রিংক পান করা কি নিরাপদ?

আদর্শভাবে, গর্ভবতী মহিলাদের দুধ, ফলের রস, মিল্কশেক ইত্যাদি খাওয়া উচিত এবং এই পর্যায়ে সমস্ত ধরণের সোডা, কোল্ড ড্রিংক, ক্যাফিনেটেড ড্রিংক এবং এনার্জি ড্রিংক এড়ানো উচিত। সংযম রেখে খাওয়া হলে এটি নিরাপদ, যদিও এটি সর্বোত্তম বিকল্প নাও হতে পারে। “গর্ভাবস্থায় আমি কি সফট বা কোল্ড ড্রিংক পান করতে পারি” ভেবে অবাক হওয়া মহিলাদের জন্য এখানে আমরা জানাবো যে কেন আপনার এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।

গর্ভাবস্থায় সফট এবং ফিজি ড্রিংক পান করার ক্ষতিকারক প্রভাব

গর্ভাবস্থায় নিয়মিত সফট ড্রিংক পান করার কিছু ক্ষতিকারক প্রভাব রয়েছে যা এখানে বলা হল।

১. ক্যাফিন-এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

বেশিরভাগ কোলায় ক্যাফিন থাকে যা আসক্তিকারক এবং এর একাধিক ক্ষতিকারক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। রক্তে ক্যাফিন খুব দ্রুত মিশে যায় এবং প্ল্যাসেন্টার মাধ্যমে দ্রুত শিশুর কাছে পৌঁছায়। ক্যাফিন আপনার রক্ত ​​সঞ্চালন তন্ত্রে প্রায় ১১ ঘন্টা অবধি থাকাকালীন আপনার কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ও অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিকে প্রভাবিত করে এবং অনাগত শিশু এই বিষাক্ত পদার্থটিকে শরীরে ভেঙে ফেলার জন্য লড়াই করে। ক্যাফিন হল মূত্রবর্ধক এবং ডিহাইড্রেশনও ঘটায়।

গর্ভবতী মহিলাদের জন্য সেরা প্রস্তাবিত সীমাটি হল ২০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফিন গ্রহণ হওয়া উচিত নয়। আপনার বিশ্রামকে প্রভাবিত করার পাশাপাশি ৩০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফিন খাওয়ার ফলে গর্ভপাত হতে পারে।ভ ৫০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফিন গ্রহণে, দীর্ঘস্থায়ীভাবে হার্টবিট ও শ্বাস প্রশ্বাসের মাত্রা বেড়ে যায় এবং শিশুর হিটবার্ন বাড়ে। সুতরাং, কোক, কফি, চকোলেট, ব্রাউন এবং ক্যাফিনযুক্ত যে কোন কিছু এড়াতে পরামর্শ দেওয়া হয়।

২. কৃত্রিম সুইটনার এবং প্রিজারভেটিভগুলির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

রঙিন এজেন্ট, প্রিজারভেটিভ, সুইটনার ও স্বাদযুক্তকারীগুলি এবং আরও অনেক কিছু গর্ভাবস্থায় অস্বাস্থ্যকর। তারা আপনার শরীরে কি করতে পারে তা এখানে দেওয়া হল। চিনি খাওয়া আপনার ওজন বাড়িয়ে তুলতে পারে ও গর্ভাবস্থায় জটিলতা দেখা দিতে পারে এবং আপনার শিশুর বৃদ্ধিতেও প্রভাবিত করতে পারে। রঙিন এজেন্টগুলির একটি অংশ থাকে যা শিশুর মধ্যে অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। সফট ড্রিংকে নিষিদ্ধ স্যাকারিনের উপস্থিতি শিশুর মধ্যেও যেতে পারে এবং মূত্রাশয়ে জমা হতে পারে।

৩. বরফ-ঠান্ডা পানীয়ের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

গর্ভবতী মহিলার পেট তাপমাত্রার প্রতি সংবেদনশীল। বরফযুক্ত ও ঠান্ডা পানীয় পান করার ফলে পেট এবং রক্তনালীগুলি হঠাৎ সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়া বাচ্চার পক্ষে ভাল হয় না, তাই না? এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ক্ষুধা হ্রাস করা, বদহজম, পেটে খিঁচুনি ও প্রারম্ভিক গর্ভপাত ছাড়াও অনাগত শিশুর খাদ্য এবং বিকাশ হ্রাস হওয়ার কারণে জন্মের পর অক্ষমতা সৃষ্টি করতে পারে।

৪. সুইটনার এবং যুক্ত করা ক্যালোরির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

আপনি যখন গর্ভবতী হন আপনি তখন দুই জনের জন্য খাবার খান এবং তাই অতিরিক্ত খাবার, পুষ্টি ও যত্ন নেওয়া উচিত। এমন নরম পানীয় খাওয়া কমান, যা ক্যালোরি যুক্ত করে এবং শিশুর বৃদ্ধিতে কোনও পুষ্টির মান যোগ করে না। যুক্ত করা ক্যালোরিগুলির কারণে অতিরিক্ত ওজনযুক্ত শিশুর জন্ম হতে পারে।

৫. কার্বনেটেড ড্রিংকের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

কোলা এবং সফট ড্রিংকে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের বুদবুদ রয়েছে। গর্ভাবস্থার শেষের দিকে, আপনি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কার্বনেটেড অ্যাসিড আপনার মধ্যে গুরুতর বুকজ্বালা এবং বদহজম হতে পারে, এক ঘন্টার জন্য অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ক্যাফিন যুক্ত করা, এটি আপনার এবং শিশুর মধ্যে বুকজ্বালা সৃষ্টি করে।

৬. ফ্লেভারিং-এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

ফ্লেভারিং-এ ফসফরিক অ্যাসিড থাকে যা হাড় থেকে ক্যালসিয়াম বেরিয়ে যাওয়া বাড়ায়। ক্যালসিয়ামের অভাব হাড়কে ভঙ্গুর করে তোলে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত, বিশেষত গর্ভাবস্থায়।

৭. শিশুর মস্তিষ্কে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

অধ্যয়ন থেকে দেখা যায় যে যখন কোনও মায়ের শরীরের মধ্যে চিনি বেশি থাকে, বিশেষত চিনি-মিষ্টিযুক্ত পানীয় থেকে, তাদের শিশুদের মধ্যে সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং ক্রিয়াবাচক স্মৃতি খুব দুর্বল থাকে। গর্ভাবস্থায় এটি পান করা শৈশবকালে সূক্ষ্ম মোটর, দৃষ্টিশক্তি, স্থানিক এবং ভিজ্যুয়াল-মোটর দক্ষতা দুর্বল করার সাথে যুক্ত।

গর্ভাবস্থায় সফট বা ফিজি ড্রিংকগুলির বিকল্প

হ্যা অবশ্যই! গর্ভাবস্থায় আপনার শীতল পানীয়ের অভ্যাসগুলির স্বাস্থ্যকর বিকল্পগুলি খাওয়া যেতে পারে যা অতিরিক্ত ক্যালোরি এবং ক্যাফিন মুক্ত, চিনি কম থাকে এবং প্রচুর পুষ্টি থাকে।

কেবল মনে রাখবেন যে জল সর্বদা সর্বোত্তম বেস এবং কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে খিঁচুনি, ক্লান্তি অনুভব করা, মাথাব্যথা ইত্যাদির মতো কিছু লক্ষণগুলির সাথে সহায়তা করে। আপনার দিনে কমপক্ষে আট গ্লাস জল পান করা দরকার, যা একটি কঠিন কাজ মনে হতে পারে। নিম্নলিখিত স্বাস্থ্যকর রেসিপিগুলিতে এক জলের সাথে মিশ্রিত করে কোল্ড ড্রিংকসের তৃষ্ণাকে প্রশমিত করা যাবে। সবচেয়ে নিরাপদ এবং সর্বোত্তম বিকল্প না হলেও একটি মজাদার ঠান্ডা পানীয়ের একক পরিবেশনা হবে। এই অভ্যাসগত আবদার এবং অভিলাষকে সহায়তা করার কয়েকটি উপায় এখানে রইল। পরিবর্তে এক গ্লাস দুধ, তাজা ফলের রস, লস্যি বা ডাবের জল পান করুন। কৃত্রিম পানীয়ের পরিবর্তে এই পানীয়গুলির অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং পান করুন।

১. বাটারমিল্ক

আদা, পেঁয়াজ, ধনেপাতা এবং এক চিমটি লবণ সহ বাটারমিল্ক একটি দুর্দান্ত স্বাস্থ্যকর পানীয়কে রূপ দেয়। আপনি এটি মসৃণ বা একক হিসাবে পান করে পরীক্ষা করতে পারেন। বেশি পরিমাণে পান না করার বিষয়ে খেয়াল রাখুন।

২. বাড়িতে তৈরি স্ম্যুথি

আপেল, কলা, ছোলা, খরমুজ, তরমুজ, আঙুর এবং আপনার পছন্দ মতো ফল ব্যবহার করুন। একটি সুস্বাদু স্মুদি তৈরি করতে আধ কাপ জল বা দুধ ফলের সাথে ব্লেন্ড করে নিন।

৩. ফল-সবজির কম্বো

সুইটনার এড়ানোর জন্য ফল ও সবজি একটি জুসার ব্যবহার করে মিশ্রিত করুন। আপেল, কমলালেবু, আনারস ইত্যাদির সাথে গাজর একত্রিত করার চেষ্টা করুন।

৪. লেবু-ভিত্তিক ঠান্ডা পানীয়

সাধারণ জলে লেবুর টুকরো যোগ করুন বা লেবুর রস তৈরি করুন। এমনকি আপনি স্বাদের জন্য অন্য যে কোন তাজা ফলের রস যোগ করতে পারেন। পাতিলেবু ও কাগজীলেবুগুলি সকালের অসুস্থতা এবং বমি বমি ভাব সীমিত করার জন্য পরিচিত। এছাড়াও, তারা উপকারী খনিজ এবং ভিটামিন সরবরাহ করে।

৫. মিনারেল ওয়াটারে ফলের কাপ

তরমুজ, লেবু, কমলালেবু, নাশপাতি, কিউই, লিচু, প্যাসান ফ্রুট, আম, চেরি বা কলা জাতীয় পছন্দ মতো ফলের টুকরা দিয়ে নিজেকে একটি ফলের কাপ তৈরি করুন। এটির উপর মিনারেল ওয়াটার ঢালুন এবং খেয়ে নিন।

বেশ কয়েকটি সুস্বাদু পানীয় রয়েছে যা আপনি সফট ড্রিঙ্কের বদলে চেষ্টা করতে পারেন, যা গর্ভাবস্থায় আপনাকে কেবল সতেজই রাখে না, পাশাপাশি আপনাকে প্রচুর পুষ্টি এবং উপকারও দেয়।