নবজাতকদের স্ক্রিনিং টেস্ট

নবজাতকদের স্ক্রিনিং টেস্ট

নবজাতক শিশুরা সংবেদনশীল হয় এবং 9 মাস ধরে গর্ভের নিরাপত্তায় থাকার পরে তাকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে হয়। বিজ্ঞান ও ওষুধের সাম্প্রতিক অগ্রগতির কারণে চিকিৎসকরা শিশুর প্রথম অঙ্গগুলি আকৃতি নিতে শুরু করার মুহূর্ত থেকেই শিশুর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। তবে, ভালো স্বাস্থ্য এবং কোনও মেডিকেল অবস্থার প্রাথমিক সনাক্তকরণ নিশ্চিত করার জন্য শিশুর জন্মের পরে অবিলম্বে একটি স্ক্রিনিংকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

aniview

নবজাতকদের স্ক্রিনিং কি?

একটি নবজাতক স্ক্রিনিং পরীক্ষা হল সম্ভাব্য প্রাণঘাতী বা ক্ষতিকারক রোগগুলির পরীক্ষা করার জন্য নবজাত শিশুদের উপর সঞ্চালিত একটি সহজ পরীক্ষা যা জন্মের সময়ে অন্যভাবে সনাক্ত করা যায় না। স্ক্রিনিং জন্মের পরেই এবং কখনও কখনও হাসপাতাল ছাড়ার আগে করা হয়। প্রক্রিয়াটি সহজ এবং এর মধ্যে একটি রক্তের স্ক্রীনিং এর পাশাপাশি একটি শ্রবণ সংক্রান্ত স্ক্রিনিং পরীক্ষা করা হয়।

শিশুর স্ক্রিনিং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

নবজাতকদের স্ক্রিনিংএর গুরুত্ব এই যে এটি যে কোনও প্রতিকূল অবস্থার প্রাথমিক সনাক্তকরণে সহায়তা করে, যার থেকে শিশুটি ভুগতে পারে সেটি চিহ্নিত করে যা অন্যভাবে জানা যায় না। নবজাতকের স্ক্রিনিং-এর ফলাফল দেখে শিশুর স্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্য ডাক্তাররা অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

শিশুর স্ক্রিনিং করার কারণসমূহ

নবজাতকদের স্ক্রিনিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল কোনো মেডিক্যাল অবস্থা থাকলে তা শীঘ্র নির্ণয় করা যাতে শিশুকে সময়মতো যত্ন ও চিকিৎসা প্রদান করা যায়। সন্তানের বিকাশ সুস্থ এবং স্বাভাবিক কিনা তা নিশ্চিত করতে এটি সহায়তা করবে।

কোন কোন ব্যাধি নবজাতক স্ক্রিনিং-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়?

কোন কোন ব্যাধি নবজাতক স্ক্রিনিং-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়?

শিশুর স্ক্রিনিং পরীক্ষাটি সাধারণত বিভিন্ন ধরণের রোগের সন্ধান করে যার মধ্যে নিম্নোক্তগুলি রয়েছে:

ফেনাইলকেটোনিউরিয়া (পিকেইউ): পিকেইউ একটি বিপাকীয় ব্যাধি যেটিতে বাচ্চাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফেনাইল্যালানিন প্রক্রিয়া করার জন্য প্রয়োজনীয় একটি এনজাইম অনুপস্থিত থাকে। পিকেইউ নবজাতক স্ক্রিনিং ফেনাইল্যালানিনের বেশী বা কম উৎপাদন সনাক্ত করতে এবং সমস্যাটির চিকিৎসা করতে সহায়তা করতে পারে।

সিকলে সেল রোগ: এই রোগ লাল রক্ত কোষগুলিকে আঠালো, ভঙ্গুর এবং শক্ত করে তোলে। এই অবস্থা রক্তের প্রবাহে লাল রক্তের কোষগুলির চলাচলের উপর বাধা সৃষ্টি করে যার ফলে অত্যাবশ্যক অঙ্গগুলির ক্ষতি করতে পারে এবং শিশুর জীবননাশী সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এই অবস্থাটি সাধারণত জিনগত ভাবে আসে। নবজাতক স্ক্রিনিং পরীক্ষা এই রোগ সনাক্ত করতে পারে এবং ডাক্তার শিশুর উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদান করতে পারেন।

এমসিএডি অভাব: এমসিএডি একটি এনজাইম যা শরীরের ফ্যাটি অ্যাসিড ভাঙতে সাহায্য করে এবং এমসিএডি এনজাইমের অভাবে শিশুর রক্তের শর্করার মাত্রা কম হতে পারে। এই অভাবযুক্ত বাচ্চাদের নিয়মিত অন্তর্বর্তী সময়ে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং কোনো আহার বাদ না দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

টাইরোসাইনেমিয়া: টাইরোসাইনেমিয়া এমন একটি অবস্থা যা মেধার অক্ষমতা, লিভারের সমস্যা বা এমনকি লিভারের ব্যর্থতাও ঘটাতে পারে এবং এর চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষ খাদ্য বা কখনও কখনও লিভার প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে

বায়োটিনিডেসের ঘাটতি: বায়োটিনিডেস একটি এনজাইম যা বায়োটিন, একটি বি কমপ্লেক্স ভিটামিনকে পুনর্ব্যবহার করে যা শরীরকে খাদ্য থেকে শক্তিতে রূপান্তর করতে সাহায্য করে এবং এর অভাব থেকে শ্রবণশক্তি হারানো, হৃদরোগের আক্রমণ, প্রতিরক্ষা ক্ষমতা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। এই অভাব আছে এমন সনাক্ত হওয়া শিশুদের সুরক্ষার ব্যবস্থা হিসাবে অতিরিক্ত বায়োটিন দেওয়া যেতে পারে।

কনজেনিটাল অ্যাড্রেনাল হাইপারপ্লাসিয়া (সিএএইচ): এই ব্যাধিটি যৌনাঙ্গের বিকাশের উপর প্রতিকূল প্রভাব ফেলে এবং কিডনি থেকে লবণ হ্রাসের ফলে মৃত্যুর কারণও হতে পারে। এই অবস্থার জন্য চিকিৎসা হল অনুপস্থিত হরমোনের সম্পূরক প্রদান করা।

ম্যাপেল সিরাপ প্রস্রাব রোগ (এমএসইউডি): এই রোগে শরীরে অ্যামিনো অ্যাসিড জমা হওয়ার কারণে প্রস্রাবের গন্ধ পোড়া শর্করার মতো বা ম্যাপেল সিরাপের মতো হয়ে যায়। তাড়াতাড়ি চিকিৎসা না হলে, এটি শিশুর মেধাগত এবং শারীরিক অক্ষমতা তৈরি করতে পারে এবং মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

সিস্টিক ফাইব্রোসিস (সিএফ): সিস্টিক ফাইব্রোসিস থেকে বাচ্চাদের ফুসফুসের রোগ হয় কারণ এটি একটি জিনগত ব্যাধি যা ফুসফুস এবং পাচন সিস্টেমে প্রভাব ফেলে। এই অবস্থাটির কোনো নিরাময় নেই এবং চিকিৎসাটি এন্টিবায়োটিক এবং পুষ্টিকর খাদ্যের মাধ্যমে কোনও গুরুতর ফুসফুসের রোগ হওয়া থেকে প্রতিরোধের চেষ্টা করে।

মারাত্মক সম্মিলিত ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি (এসসিআইডি): বি- এবং টি-লিম্ফোসাইটের অভাব, যেটি হল বিশেষ ধরনের সাদা রক্তের কোষ যা শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করে, তা শরীরের এই গুরুতর ইমিউন সিস্টেমের ব্যাধিকে সৃষ্টি করে। একটি দুর্বল ইমিউন সিস্টেম শরীরের কোনও সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করাকে কঠিন করে তোলে যার ফলে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের কারণে শিশু রোগ ও সংক্রমণে আক্রান্ত হয়। এসসিআইডি এর প্রাথমিক সনাক্তকরণ প্রতিরক্ষা সিস্টেমকে শক্তিশালী করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সাহায্য করতে পারে।

টক্সোপ্লাজমোসিসটক্সোপ্লাজমোসিস একটি সংক্রমণ যা টক্সোপ্লাজমা গন্ডি দ্বারা সৃষ্ট, যেটি হল একটি ক্ষুদ্র পরজীবি যা মানুষের এবং প্রাণীর কোষে বসবাস করতে পারে এবং এটি প্রধানত বিড়াল এবং খামার প্রাণীদের মধ্যে পাওয়া যায়। এই সংক্রমণ একটি শিশুর জন্য গুরুতর সমস্যা হতে পারে যার মধ্যে রয়েছে হৃদরোগের আক্রমণ, চোখের সমস্যা, বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা বা মস্তিষ্কের ক্ষতি।

গ্যালাক্টোসেমিয়াএটি এমন একটি অবস্থা যেখানে শিশুটির শরীরে গ্যালাক্টোজকে গ্লুকোজে রূপান্তরিত করানোর এনজাইমটি অনুপস্থিত থাকে। এই অবস্থায়, শিশুর ডায়েট থেকে সব দুগ্ধজাত দ্রব্য অপসারণ করা উচিত।

কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়েডিজমএই অবস্থার ফলে শিশুদের যথেষ্ট থাইরয়েড হরমোন থাকে না, যার ফলে মস্তিষ্কের উন্নতি ও বৃদ্ধি ধীর হয়। অবস্থাটি যদি প্রাথমিকভাবে সনাক্ত হয়, তবে শিশুকে থাইরয়েড হরমোনের মৌখিক ডোজ দিয়ে চিকিৎসা করা যেতে পারে।

শ্রবণের স্ক্রিনিং আপনার শিশুর জন্মের 3 সপ্তাহের মধ্যে নবজাতকের শ্রবণ স্ক্রিনিং করা গুরুত্বপূর্ণ। শিশুরা তাদের জীবনের শুরুতে কথা বলা এবং ভাষার দক্ষতা বিকাশ করে এবং শোনার ক্ষমতা এই দক্ষতাগুলির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শ্রবণ হ্রাসের প্রাথমিক সনাক্তকরণ ও তার চিকিৎসা শিশুর স্বাভাবিক মেধা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।

নবজাতক স্ক্রিনিং পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুর মধ্যে সনাক্ত হওয়া বেশিরভাগ রোগই যথাযথভাবে প্রত্যয়িত পেশাদারদের দ্বারা ব্যবস্থা নেওয়া হলে সংশোধন করা যেতে পারে।

নবজাতকের স্ক্রিনিং কখন করতে হবে?

সন্তানের জন্মের পরেই সাধারণত শিশুটির বিপাক সংক্রান্ত স্ক্রিনিং করতে হয়। রক্ত পরীক্ষার সঠিক সময় হল জন্মের 24 থেকে 48 ঘণ্টার মধ্যে, যদি 24 ঘণ্টার আগে রক্তের নমুনা নেওয়া হয় তবে অনেকগুলি পরিস্থিতি সনাক্ত নাও হতে পারে এবং জন্মের 48 ঘণ্টার পরে যদি টেস্ট করা হয় তবে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিতে দেরী হয়ে যেতে পারে। সঠিক ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য শিশুটি দুই সপ্তাহ বয়সী হলে দ্বিতীয় স্ক্রিনিং পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

সব নবজাতক স্ক্রীনিং পরীক্ষার তালিকা

50টিরও বেশি মেডিকেল অবস্থার জন্য একটি নবজাতক শিশুর স্ক্রিন করা হয় নিম্নোক্ত পরীক্ষা গুলির অধীনে:

হিমোগ্লোবিনোপ্যাথিস: হিমোগ্লোবিন সম্পর্কিত সমস্যা চিহ্নিত করার জন্য পরীক্ষা যার মধ্যে রয়েছে সিকলে সেল রোগ, থ্যালাসেমিয়া প্রভৃতির মতো ব্যাধি।

এন্ডোক্রিন রোগ: হাইপোথাইরয়েডিজম-এর মতো হরমোন ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টিকারী অবস্থার জন্য স্ক্রিনিং।

কার্বোহাইড্রেট সম্পর্কিত রোগ: ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতার মতো অবস্থার জন্য পরীক্ষা যেগুলি কার্বোহাইড্রেট বিপাককে প্রভাবিত করে।

সংক্রামক রোগ: সংক্রমণ সৃষ্টিকারী ভাইরাস এবং অন্যান্য অ্যান্টিবডির উপস্থিতির জন্য পরীক্ষা।

বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে:

রক্ত পরীক্ষা: এই পরীক্ষাটি হিল স্টিক পরীক্ষা নামেও পরিচিত, কারণ শিশুর গোড়ালিতে সূচ ফুটিয়ে রক্তের নমুনাটি সংগ্রহ করা হয়। রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং একটি ফিল্টারযুক্ত কার্ডে রাখা হয় যা রক্তের দাগ তৈরি করে যা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

শ্রবণের স্ক্রিনিং পরীক্ষা: শিশুর উপর সঞ্চালিত শ্রবণ পরীক্ষার সাধারণত দুটি পৃথক সেট আছে। এই পরীক্ষাগুলি প্রায় পাঁচ থেকে দশ মিনিট সময় নেয় এবং সন্তানের জন্য নিরাপদ।

অক্টোঅ্যাকাউস্টিক এমিশন টেস্ট (ওইটি): এই পরীক্ষার মাধ্যমে, ডাক্তাররা নির্ধারণ করতে চেষ্টা করেন যে শিশুর কান শব্দের প্রতি স্বাভাবিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় কিনা

অডিটরি ব্রেন স্টেম প্রতিক্রিয়া (এবিআর): এই পরীক্ষাটি মস্তিষ্কে শব্দ বহনকারী স্নায়ুগুলির মূল্যায়ন করার জন্য এবং মস্তিষ্ক এই শব্দটিতে কেমন প্রতিক্রিয়া জানায় তা মূল্যায়ন করার জন্য করা হয়। এই পরীক্ষাতে কানের মধ্যে একটি ক্ষুদ্র ইয়ারফোন প্রবেশ করিয়ে শব্দ বাজানো হয়।

পালস অক্সিমেট্রি টেস্টিং: এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য হল শিশুর রক্তের অক্সিজেন মাত্রা পরিমাপ করা যা জটিল কনজেনিটাল বা জন্মগত হৃদরোগ (সিসিএইচডি) যুক্ত শিশুদের চিহ্নিত করতে সহায়তা করতে পারে। শিশুটির জন্মের 24 ঘন্টা পার করার পর পালস অক্সিমিটার নামে পরিচিত মেশিন ব্যবহার করে পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়।

কিভাবে শিশু স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়?

কিভাবে শিশু স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়?

নবজাতকদের বিপাক সংক্রান্ত স্ক্রিনিং পরীক্ষার পদ্ধতিটি সহজ এবং সময় নেয় না। শিশুর জন্মের 2 দিনের মধ্যেই অধিকাংশ পরীক্ষা করা হয়। রক্ত পরীক্ষাই একমাত্র বেদনাদায়ক পরীক্ষা কারণ রক্তের নমুনা শিশুর গোড়ালিতে সূচ ফুটিয়ে নেওয়া হয়। সন্তানের উপর পরীক্ষার পদ্ধতিগুলি সম্পন্ন করার সময় পিতামাতা চাইলে উপস্থিত থাকতে পারেন।

যেসব ক্ষেত্রে স্ক্রিনিং শিশুর জন্মের 24 ঘণ্টার মধ্যে করা হয়, সে ক্ষেত্রে 1 বা 2 সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষাগুলি আবার করার সুপারিশ করা হয়।

কিভাবে আপনি স্ক্রিনিং-এর জন্য শিশুকে প্রস্তুত করবেন?

নবজাতকের স্ক্রিনিং পদ্ধতিগুলি সহজ এবং পিতামাতার বা শিশুর তরফ থেকে বিশেষ প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না। বেশিরভাগ স্ক্রিনিং পরীক্ষাগুলি মা এবং সন্তানকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার আগে এবং পেশাদার ডাক্তারদের সম্পূর্ণ তত্ত্বাবধানে করা হবে।

প্রক্রিয়াটির আগে বা পরে শিশুকে খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয় এবং পদ্ধতিটি সম্পন্ন করার সময় শিশুটি যেন আরামদায়ক এবং উষ্ণ থাকে সেটি নিশ্চিত করা হয়।

রক্ত পরীক্ষার সময়, পিতামাতা চাইলে সন্তানের গোড়ালী থেকে নমুনা নেওয়ার সময় তাকে ধরে রাখতে এবং সান্ত্বনা দিতে পারেন কারণ এটি বেদনাদায়ক। অন্যান্য পরীক্ষার জন্য, শিশুর ঘুমিয়ে থাকা ভাল, যাতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সহজে শিশুর সাথে সংযুক্ত করা যায়।

নবজাতকের স্ক্রিনিং টেস্ট কি আপনার শিশুকে আঘাত দিতে পারে?

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, একমাত্র পরীক্ষা যা আপনার শিশুকে আঘাত দেবে তা হল রক্ত পরীক্ষা। বাচ্চাদের গোড়ালীর মধ্যে একটি ছোট ছিদ্র তৈরি করে রক্তের নমুনা টেনে নেওয়া হয় যা শিশুকে অল্প অস্বস্তি দিতে পারে। ছিদ্রটি দ্রুত নিরাময় হয়ে যায় এবং সন্তানের শরীরে কোনো দাগ রাখে না।

হাসপাতালে শিশুদের পরিচালনা করার জন্য এবং সর্বাধিক আরামদায়ক ভাবে কাজটি করার জন্য প্রশিক্ষিত পেশাদার থাকে। পরীক্ষা চলাকালীন বাবা-মাও চাইলে তাদের বাচ্চাকে ধরে রাখতে পারেন।

জিনগত ব্যাধির জন্য কি স্ক্রিনিং সম্পন্ন করা হয়?

স্ক্রিনিং প্রক্রিয়াতে জিনগত ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া রোগ যেমন সিস্টিক ফাইব্রোসিস, ফেনাইলকেটোনিউরিয়া, সিকলে সেল ডিজিজ ইত্যাদি সনাক্তকরণের জন্য পরীক্ষাগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই জিনগত ব্যাধিগুলির প্রাথমিক সনাক্তকরণ করলে শিশুর উপর তাদের প্রভাব সীমিত করার জন্য ডাক্তাররা সতর্কতা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।

পরীক্ষার রিপোর্ট

বাচ্চাদের স্ক্রিনিংয়ের পরীক্ষার রিপোর্ট সাধারণত পরীক্ষার 2 থেকে 3 সপ্তাহের মধ্যে ডাক্তারকে পাঠানো হয়। স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া থেকে স্বাভাবিক পরীক্ষার ফলাফলগুলি নিম্নে দেওয়া হল:

স্ক্রিনিং টেস্ট – নেতিবাচক

একটি নেতিবাচক বা ‘পরিসরের-মধ্যে’ ফলাফল মানে হল পরীক্ষিত সমস্ত প্যারামিটার স্বাভাবিক পরিসরে রয়েছে এবং সন্তানের কোনও বাড়তি ঝুঁকি নেই। সাধারণত, ফলো-আপ পরীক্ষা এইরকম পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হয় না।

স্ক্রীনিং টেস্ট – ইতিবাচক

একটি ইতিবাচক বা ‘পরিসরের-বাইরে’ রিপোর্ট বোঝায় যে পরীক্ষার প্যারামিটারগুলির মধ্যে কমপক্ষে একটি স্বাভাবিক পরিসরের মধ্যে নেই বা ব্যর্থ হচ্ছে। ইতিবাচক রিপোর্টের ক্ষেত্রে পিতামাতাকে জানানো হয়। ইতিবাচক রিপোর্টের অর্থ এই নয় যে শিশুটি একটি রোগ থেকে ভুগছে, এটি একটি নির্দেশক এবং সমস্যার নির্ণয় করার জন্য আরও পরীক্ষা করার প্রয়োজন। একবার সমস্যাটির মূল কারণ জানা গেলে, ডাক্তার প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপের পরামর্শ দিতে পারেন।

এটি লক্ষ্য করা উচিত যে পরীক্ষা সর্বদা সঠিক হতে পারে না এবং সর্বদা স্বল্প মাত্রায় ত্রুটি থাকে। এরকম বিরল ক্ষেত্রও হতে পারে যেখানে রিপোর্টে ফলাফলগুলি সীমারেখায় থাকে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে আরও পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

শিশুর কিছু সমস্যা থাকলে কী হবে?

পরীক্ষার রিপোর্ট ইতিবাচক হলে, ডাক্তাররা সমস্যাটির নির্ণয়ের জন্য আরও পরীক্ষা পদ্ধতির পরামর্শ দিতে পারেন। একবার রোগ / সংক্রমণ সনাক্ত হওয়ার পরে, ডাক্তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা খাদ্য পরিকল্পনার পরামর্শ দেবেন যা শিশুকে এই অবস্থা থেকে আরোগ্য করতে সহায়তা করবে।

শিশুর স্ক্রিনিংএবং বাড়িতে জন্ম হওয়া

শিশুর জন্ম যেখানেই হোক না কেন, স্ক্রিনিং সম্পন্ন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি বাচ্চাকে বাড়িতে জন্ম দেওয়ার পরিকল্পনা করেন বা বাড়িতে আপনার শিশুর জন্ম হয়ে থাকলে, আপনাকে আপনার ডাক্তার / পছন্দসই হাসপাতালের সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে হবে যেখানে এই পরিষেবাটি পাওয়া যায়। পরীক্ষার সময়টি, বিশেষ করে রক্ত পরীক্ষার সময়টি যেহেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই প্রত্যাশিত প্রসবের তারিখের ভিত্তিতে অগ্রিম অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে রাখাই আদর্শ উপায়।

পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামগুলি অনেক হাসপাতালেই পাওয়া না যেতে পারে। অতএব, হাসপাতাল চিহ্নিত করা এবং একটি স্লট অগ্রিম বুক করা গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার শিশুর স্ক্রিনিং না হলে কী হবে?

যদি শিশুর জন্মের পরে শীঘ্রই স্ক্রিনিং পদ্ধতিগুলি না করা হয়, সে ক্ষেত্রে, শিশুর কোনো গুরুতর রোগ বা অস্বাভাবিক মেডিকেল অবস্থা থাকলে তা অলক্ষিত থেকে যাওয়ার ঝুঁকি বেশী থাকবে। কিছু মেডিকেল অবস্থায় জীবনহানির ভয় থেকে যায় এবং এর থেকে শিশুর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা কিছু ক্ষেত্রে শিশুটির অকাল মৃত্যুও হতে পারে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

1. পিকেইউ পরীক্ষা আর নবজাতক স্ক্রিনিং কি একই?

হ্যাঁ, এই পরীক্ষাদুটি একই এবং কিছু ডাক্তার পরিবর্তন করে করে এই শব্দগুলি ব্যবহার করতে পারেন।

2. বাবা-মাকে কি স্ক্রিনিংয়ের জন্য হাসপাতালকে বলতে হবে?

বেশিরভাগ হাসপাতালই আলাদা করে জিজ্ঞাসা না করেই একটি স্ক্রিনিং পরীক্ষা সম্পাদন করবে। তবে, সময়মত প্রক্রিয়াটি চলছে কিনা তা নিশ্চিত করতে বাবা-মা জিজ্ঞাসা করতেই পারেন।

3. জন্মের সময় একটি শিশুর স্ক্রিনিং করা কি বাধ্যতামূলক?

ভারতে, শিশুর জন্মের সময় স্ক্রিনিং করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে, এটি বাধ্যতামূলক না হলেও প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

শিশু কোনও স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে কিনা তা সনাক্ত করার এবং প্রয়োজন হলে অবিলম্বে সহায়তা প্রদানের নিখুঁত উপায় হল নবজাতকের স্ক্রিনিং। দ্রুত হস্তক্ষেপ করলে, গোড়া থেকে সমস্যা নির্মূল করা যায় এবং সব শিশুদের জন্য এটি করতে পরামর্শ দেওয়া হয়।