বাচ্চাদের জন্য পেঁপে: আশ্চর্যজনক উপকারিতা এবং খাদ্য রেসিপি

বাচ্চাদের জন্য পেঁপে: আশ্চর্যজনক উপকারিতা এবং খাদ্য রেসিপি

পেঁপের স্বাস্থ্য উপকারিতা তর্কাতীত। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহে সমৃদ্ধ, এবং অল্পবয়সী এবং বৃদ্ধরা একইভাবে এর প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্যগুলি এবং এটির অনাক্রম্যতা-গঠনকারী পুষ্টি উপাদান থেকে উপকৃত হতে পারে। এই উজ্জ্বল-রঙের ফল ক্রান্তীয় জলবায়ুতেই জন্মায় এবং সাধারণত সারা বছর ধরে পাওয়া যায়। তাদের নরম, মাংসল গঠনগত বৈশিষ্ট্য সেগুলিকে অনেক খাবার তৈরির উপযুক্ত উপাদান করে তোলে। এখানে কিভাবে আপনি নিশ্চিতভাবে আপনার বাচ্চাকে এই ফলের সব পুষ্টিগুলি দিতে পারবেন তা বলা হবে।

আপনার বাচ্চাকে পেঁপে খাওয়ানো

পেঁপে আপনার বাচ্চার দৈনন্দিন খাবারে যুক্ত করার জন্য একটি দুর্দান্ত ফল কিন্তু আপনি প্রথমে তাকে কলা, এভোকাডো, মিষ্টি আলু এবং লাউজাতীয় তরকারির মতো অন্য খাবার খাওয়ানো শুরু করান। এইগুলি সহজপাচ্য এবং আপনার শিশু এগুলি সহ্য করতে পারলে, আপনি ধীরে ধীরে তাকে পেঁপে খাওয়ানো শুরু করতে পারেন। আপনার বাচ্চার খাবারে পেঁপে সংযুক্ত করার সবথেকে ভালো সময় হলো প্রায় 7 থেকে 8 মাস বয়স।

পেঁপের পুষ্টিগত মূল্য

একটি মাঝারি আকারের পেঁপে পুষ্টির ভান্ডার হতে পারে। ভিটামিন এ, বি এবং সি। ফোলেট, ম্যাগনেসিয়াম, তামা, লোহা, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, লাইকোপিন এবং ফসফরাস পেঁপেতে পাওয়া যায়।

ভর্তা (বা থেঁতো) করা এক কাপ কাঁচা পেঁপেতে পুষ্টির পরিমাণ জানতে তালিকার দিকে নজর রাখুন:

ভিটামিন খনিজ পদার্থ
ভিটামিন এ – 2185 আইইউ পটাসিয়াম – 419 মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি 1 (থিয়ামাইন) -.06 মিলিগ্রাম ফসফরাস – 23 মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি2 – (রিবোফ্লেভিন) -.07 মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম – 48 মিগ্রা
নিয়াসিন -.82 মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম – 46 মিগ্রা
ভিটামিন সি – 140.1 মিলিগ্রাম সোডিয়াম – 18 মিগ্রা
ভিটামিন কে – 6 এমসিজি লোহা -. 57 মিগ্রা
ফোলেট – 1 এমসিজি এতে অল্প পরিমাণ খনিজ পদার্থও রয়েছে যেমন দস্তা, ম্যাঙ্গানিজ এবং তামা
এটিতে অন্যান্য ভিটামিনও অল্প পরিমাণে আছে

সূত্র: http://wholesomebabyfood.momtastic.com/papayababyfoodrecipes.htm

আপনার শিশুর জন্য পেঁপের শ্রেষ্ঠ স্বাস্থ্য উপকারিতা

একগুচ্ছ পুষ্টি এবং ভিটামিন থাকা ছাড়াও, পেঁপের আরো অনেক গুণ আছে যা শিশুর জন্য উপকারী। 5 মাস বয়সী শিশুকে পেঁপের অনেক উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয় না এবং আদর্শগত ভাবে এটি 7 বা 8 মাস বয়সের পরেই খাওয়ানো শুরু করা উচিত। এখানে এমন কিছু ইঙ্গিত দেওয়া হল যা আপনার সন্তানের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যেতে পারে পেঁপের কারণে।

1. হজমশক্তি বাড়ানো

প্যাপিন উৎসেচক যা এই মাংসল ফলে থাকে তা সহজেই জটিল গঠনগত খাবারকে ভাঙ্গতে পারে। পেঁপে নিয়মিত খেলে আপনার সন্তানের পাচন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

2. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

একটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা  প্রাপ্তবয়স্কদের মতো উন্নত হয় না, যা তাদের রোগ সংক্রমণ এবং অসুস্থতা কারণ। পেঁপেতে উপস্থিত ভিটামিন সি আপনার সন্তানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং অসুস্থতা প্রতিরোধে সহায়তা করে।

3. ত্বকের ক্ষত নিরাময়ে উপযোগী

পেঁপেতে ভিটামিন এ প্রচুর পরিমাণে থাকে যা ত্বককে পোড়া, আলসার এবং কালসিটে পড়া থেকে সুরক্ষিত রাখে। পেঁপের খোসা বা মজ্জা মলম হিসাবে ছোটখাট পোড়া বা ফুসকুড়ির উপর প্রয়োগ করা যেতে পারে। এটি জ্বলনের অনুভূতি কমাতে সাহায্য করে।

4. বিপাক উন্নত করে

পেঁপে ফোলেটের সমৃদ্ধ উৎস, যা অ্যামিনো অ্যাসিড উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয়। এটি, কিছুক্ষেত্রে, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি এবং শিশুদের পেটে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

বিপাক উন্নত করে

5. নিয়মিত মলত্যাগ নিশ্চিত করে

পেঁপের ফাইবার জাতীয় পদার্থ  প্রাকৃতিকভাবে পেট পরিষ্কার করতে সাহায্য করে এবং আপনার শিশুর অন্ত্রের নিয়মিত পরিস্রুতকরণ নিশ্চিত করে। শিশুদের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য পেঁপের ব্যবহার একটি পরীক্ষিত সমাধান।

6. অন্ত্রের কৃমি থেকে পরিত্রাণ

শুকনো এবং গুঁড়ো পেঁপে বীজের সাথে মধু মিশিয়ে সেই মিশ্রণের দুই চামচ খাওয়ালে অন্ত্রের কৃমি দূর করতে সাহায্য করতে পারে। এটি এনজাইম সিস্টিন প্রোটিনাজেস উপস্থিত থাকার কারণে হয়।

7. চোখের জন্য ভালো

পেঁপের ভিটামিন এ দৃষ্টি শক্তি বাড়াতে ও রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

8. লোহিত রক্ত কণিকা বাড়াতে সাহায্য করে

লোহার উপস্থিতি হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ভালো রাখতে এবং লাল রক্তের কোষের সংখ্যা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

বাচ্চাদের পেঁপে খাওয়ানোর সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা কর্তব্য

যে কোনও নতুন খাবারের মতোই ধীরে ধীরে এবং সাবধানে আপনার শিশুর সাথে পেঁপের পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। লক্ষ্য করুন যে আপনার বাচ্চা ফলটির স্বাদ পছন্দ করে কিনা এবং খাওয়ার পরে তার হজম প্রক্রিয়াতে কোনো সমস্যা আছে কিনা। খুব অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করুন, এর পর ধীরে ধীরে কিছু দিন ধরে পরিমাণ বাড়াতে থাকুন। আপনার শিশুকে পেঁপে খাওয়ানোর আগে আরো কয়েকটি  বিষয় মনে রাখতে হবে যা নিম্নে বর্ণিত হয়েছে:

  • ফলটি খাওয়ার জন্য যথেষ্ট পরিপক্ব কিনা তা দেখে নিতে হবে। অপরিপক্ব পেঁপে পেটব্যাথা এবং খিঁচুনির কারণ হতে পারে।
  • কয়েক টেবিল চামচের বেশি খাওয়ানো ঠিক নয় কারণ অধিক পরিমাণ পেঁপে খাওয়ালে শিশুদের পেটব্যাথা হতে পারে।
  • আপনার বাচ্চা যদি পেঁপে খেতে পছন্দ না করে বা ফলটি খাওয়ার পর কোনো ধরণের অস্বস্তি বা অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হয় তবে অবশ্যই এটি খাওয়ানো বন্ধ করুন।

আপনার শিশুর জন্য সহজ পেঁপের রেসিপি

এমনকি বাচ্চাদেরও খাবারের মধ্যে বিভিন্ন রকমের বৈচিত্র্য প্রয়োজন, তাই আপনার বাচ্চার জন্য পেঁপে রান্নার সময় আপনাকে ভিন্ন ভিন্ন ধরণ প্রয়োগ করতে হবে। আপনার শিশুর খাবারের জন্য যে পেঁপে ব্যবহার করবেন তা সুপক্ব এবং ঠিক ঠাক হতে হবে। এখানে সঠিক মানের পেঁপে কেনার জন্য কিছু কৌশল দেওয়া হল:

  • পেঁপেগুলি  সবুজ এবং শক্ত যেন না হয়, কেননা এগুলি পরিপক্ব হতে অধিক সময় নেবে বা তার আগেই খারাপ হয়ে যেতে পারে। শুধুমাত্র যেগুলি গাছ থেকে পাড়ার সময়েই হলুদ রঙের আভা যুক্ত হবে সেগুলিই অবশেষে সুপক্ক হবে।
  • খাওয়ার উপযুক্ত পেঁপে কমলা রঙের হবে এবং তার মধ্যে একটু লাল রঙও থাকতে পারে। এটা শক্ত হবে কিন্তু চাপ দিলে নরম বোধ হবে এবং একটি হালকা, মিষ্টি সুবাস থাকবে।
  • খুব বেশি সুগন্ধ থাকার মানে ফলগুলি অতিরিক্ত পাকা হয়ে গেছে এবং তা খুব শীঘ্রই খারাপ হয়ে যাবে। যদি কয়েকদিন রেখে ব্যবহার করার পরিকল্পনা থাকে, তবে কেবল হলদে আভাযুক্ত পেঁপে নিতে হবে।

শিশুদের জন্য সাধারণ পেঁপে পিউরী ছাড়াও এখানে আপনার জন্য পেঁপে দিয়ে শিশুর খাদ্য তৈরি করার কিছু দূর্দান্ত প্রণালী বা রেসিপি দেওয়া হলো, বানিয়ে দেখুন:

1. পেঁপে চটকানো

উপকরণ: এর জন্য আপনার একটি পাকা পেঁপে লাগবে

পেঁপে চটকানো

পদ্ধতি:

  • খোসা ছাড়িয়ে নিন এবং বীজগুলি ফেলে দিন আর বড় বড় করে ছক্কার আকারে কেটে ফেলুন।
  • আপনার বাচ্চার পছন্দ অনুযায়ী শুধু চটকে নিন বা একটি ব্লেন্ডারে প্রয়োজন মতো মিহি করে কাথ বা পিউরী তৈরি করুন।

চাইলে তাড়াতাড়ি হজমের জন্য একটু নরম করে নেওয়ার জন্য প্রথমে পেঁপের টুকরোগুলি ভাপিয়ে নিতে পারেন।

2. বাচ্চাদের জন্য ফুটি বা খরমুজ এবং পেঁপের মিল্কশেক

উপকরণ:

  • 2 টেবিল চামচ সাধারণ দই বা 1/4 কাপ দুধ
  • 1 টেবিল চামচ ছোট ছক্কার মতো কাটা তরমুজ বা ফুটি
  • 1 টেবিল চামচ একইভাবে কাটা পেঁপে
  • ফলগুলোকে বড় টুকরো করে কেটে দই-এর সাথে ব্লেন্ডারে দিয়ে মোলায়েম করে নিতে হবে এবং দুধ মিশিয়ে মিল্কশেক করে নিতে হবে

3. সকালের জল খাবার

উপকরণ:

  • আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা  2 টেবিল চামচ ওট্মিল
  • 1 টেবিল চামচ পেঁপে; থেঁতো করা বা চৌকো করে কেটে রাখা
  • ছোট একটি কলার কাটা ½ অংশ

সব উপাদানগুলিকে ব্লেন্ডারে মিশিয়ে নিন এবং আপনার শিশুর দিন শুরু করুন একটি পুষ্টিকর খাদ্য দিয়ে।

পাকা পেঁপে একটি সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর খাদ্য। এটি শুধুশুধুই খাওয়া যেতে পারে অথবা এটি বিভিন্ন রকমের ফলের সাথে মিশিয়ে সুস্বাদু খাবার তৈরি করা যেতে পারে। অ্যাভোকাডো, আপেল, কলা, পীচ, গাজর, দই এবং মুরগির মাংস হলো এমন কিছু খাদ্য যার সাথে পেঁপে মিশিয়ে শিশুর খাবারের রেসিপি হতে পারে।

দাবি পরিত্যাগ বিবৃতি: প্রতিটি শিশুই বেড়ে ওঠার নিরিখে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন এবং এই তথ্যটি শুধুমাত্র একটি সহায়ক পরামর্শ এবং তা কখনোই প্রশিক্ষিত পেশাদারী চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।