শিশুদের জন্য প্রাকৃতিক সান্সক্রীন- কেন ব্যবহার করতে হবে এবং কীভাবে তৈরী করতে হবে

শিশুদের জন্য প্রাকৃতিক সান্সক্রীন- কেন ব্যবহার করতে হবে এবং কীভাবে তৈরী করতে হবে

সূর্যের তলায় বসে রোদ পোহানোটা আপনার কাছে আনন্দদায়ক হয়ে উঠতে পারে কিন্তু তা আপনার বাচ্চার ক্ষেত্রে নয়।এমনকি এটি আপনার ছোট্ট সোনার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক হয়ে উঠতে পারে।আর ঠিক এই জন্যই সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে আপনার সন্তানের ত্বককে রক্ষা করার জন্য সানস্ক্রীন ব্যবহার করাটা খুবই জরুরী।যদিও এক্ষেত্রে বাজারে বহু ধরণের সানস্ক্রীন উপলভ্য আছে, তবে এক্ষেত্রে প্রাকৃতিক কোনও একটিকে বেছে নেওয়া সবসময়ের জন্যই সেরা পছন্দ হয়ে ওঠে।

aniview

শিশুদের জন্য প্রাকৃতিক সানস্ক্রীন কেন ব্যবহার করবেন?

বাচ্চাদের জন্য ওষুধের দোকানে বলে ক্রয় করা সানস্ক্রীনগুলি ব্যবহারের সময় মাবাবাদের সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন, যেহেতু এই সকল পণ্যগুলি প্রায়শই রেটিনাইল প্যালমিটেট, AKA, রেটিনল এবং অক্সিবেনজোনের মত রাসায়নিক দ্বারা পূর্ণ থাকে যেগুলি ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক।যদিও এগুলিতে এমন পণ্য ব্যবহার করা হয় যেগুলি সূর্যের প্রখর তেজ থেকে ত্বককে রক্ষা করতে পারে, তবে রেটিনল ত্বকে টিউমার এবং ক্ষত গড়ে তোলা বৃদ্ধি করতে পারে যদি সূর্যালোকের সংস্পর্শে ত্বক উন্মুক্ত হয়।অক্সিবেনোজোন ত্বকের মধ্যে শুষে যায় এবং ত্বকজনিত অ্যালার্জির কারণ হয়ে উঠতে পারে ও হরমোনগুলিকে ব্যাহত করতে পারে।সুতরাং 6 মাসের কম বয়সী শিশুদের জন্য প্রাকৃতিক সানস্ক্রীন ব্যবহার করা সবসময়ের জন্য সবচেয়ে ভাল।

বাড়িতে প্রস্তুত সানস্ক্রীনে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক উপাদানগুলির SPF উপকরণগুলি সম্পর্কে জানুন

সূর্যের ক্ষতিকারক আলট্রা ভায়োলেট (UV) বা অতিবেগুনী রশ্মি থেকে ত্বককে কত ভালভাবে সানস্ক্রীনগুলি রক্ষা করতে সক্ষম তা পরিমাপ করে সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর বা SPF. সানবার্ন, স্কিন ক্যান্সার এবং ত্বকের ক্ষতির কারণ হিসেবে সূর্যের অতিবেগুনী বা UV রশ্মি পরিচিত।

যখন প্রাকৃতিক উপাদানগুলির প্রসঙ্গ আসে, আমরা তার SPF উপাদানটি বেশ সহজেই অনুমান করতে পারি।

1.ক্যারোট সীড অয়েল বা গাজরের বীজ তেল

যদিও গাজরের বীজ তেলে উপস্থিত 35-40 SPF উপাদানটি বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কিছুটা উচ্চ মাত্রার হয়ে থাকে, তবে এটি আপনার বাড়ির তৈরী নমুনাটিতে যোগ করার জন্য এটিকে একটি আশ্চর্যজনক উপকরণ করে তোলে।

2.লাল রাসবেরীর বীজ তেল

এটির মধ্যে 25-50 এর মধ্যে SPF উপাদানটি রয়েছে।

3.নারকেল তেল

নারকেল তেলের মধ্যে SPF এর পরিসরটি হল 4-6 এর মধ্যে তবে এটি কিন্তু ভীষণ সাশ্রয়ী মূল্যের একটি SPF তেল।

4.আমণ্ড তেল

আমণ্ড তেল বহু শিশু পণ্যতেই ব্যবহৃত হয়ে থাকা একটি উপাদান এবং এটি বাচ্চাদের মালিশ বা ম্যাসাজের জন্য সবচেয় পছন্দসই একটি তেল।এই তেলে উপস্থিত SPF এর মান মোটামুটি প্রায় 5 এর মত এবং এই তেলটি ত্বকে ভিটামিন D সংশ্লেষের জন্য পর্যাপ্ত সূর্যালোক শোষণে সহায়তা করার কারণে এটি একটি ভাল বিকল্প হয়ে উঠেছে।

5.শিয়া বাটার বা মাখন

4-6 SPF এর সহিত এটি একদম উপযুক্ত পরিমাণ সুরক্ষা সরবরাহ করে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে আপনার অমূল্য সন্তানকে।

ছোট শিশুদের জন্য প্রাকৃতিক সান লোশন প্রস্তুত প্রণালী

সবচেয়ে সেরা প্রাকৃতিক SPF উপকরণগুলির খোঁজ করার পর, আসুন এবার দেখা যাক কীভাবে একটি প্রাকৃতিক অথচ ঘরে প্রস্তুত সানস্ক্রীন প্রস্তুত করা যায়।

1.ঘরে তৈরী সানস্ক্রীন প্রস্তুত করতে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি

প্রথমে নিজেকে একটি কাঁচের বাটি, একটা ছোট সসপ্যান এবং একটি হুইস্ক নিতে হবে এবং সেগুলির সাহায্যে শুরু করতে হবে।তৈরী করা সানস্ক্রীন লোশন ভরে রাখার জন্য ঢাকনা সহ কয়েকটি কাঁচের জার প্রস্তুত রাখতে ভুলবেন না যেন।

  • SPF তেল

আপনার পছন্দসই তেল এক আউন্স।সবচেয়ে ভাল হয় আমণ্ড তেল ব্যবহার করা কিন্তু ব্যাপারটিকে আপনার পকেট বান্ধব রূপ দিতে আপনি সবসময় সম পরিমাণ আমণ্ড তেল এবং নারকেল তেল মিশিয়ে নিতে পারেন।

  • অন্যান্য তেল

তিল, সূর্যমুখী কিম্বা জোজোবা তেল 1 আউন্স।খুব বেশি সংবেদনশীল ত্বকের জন্য জোজোবা তেলটিকে বেছে নিতে পারেন।

  • জিঙ্ক অক্সাইড

ননন্যানো আকারের জিঙ্ক অক্সাইডটিকে বেছে নিন কারণ এটি অবিষাক্ত এবং ত্বকে জ্বালা করে না এবং একই সাথে এটি সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে সৌর সুরক্ষার বিস্তৃত বর্ণালী সরবরাহ করে। 5% জিঙ্ক অক্সাইড 2-5 এর মধ্যে SPF দেয়।

  • শিয়া বাটার

8 আউন্স মত শিয়া বাটার নিন।

  • মৌমোমের দানা

এর বড় দুই চামচ, সান লোশনটির মধ্যে কিছু ওয়াটারপ্রুফ বা জলবিরোধী বৈশিষ্ট্য যোগ করবে।

2.ঘরে তৈরী সানস্ক্রীন বানানোর ধাপগুলি

  • কাঁচের বাটিটির মধ্যে SPF তেল, শিয়া বাটার, জোজোবা তেল (অথবা আপনার পছন্দমত অন্য কোনও তেল) এবং মৌমোম নিয়ে রাখুন।
  • এবার সসপ্যানের মধ্যে এক কিম্বা দুই কাপ ফুটন্ত জল ঢেলে তার ভিতরে কাঁচের বাটিটিকে রাখুন।
  • তারপর মিশ্রণটিকে গরম করুন যতক্ষণ না সবকিছু গলে যায়মৌমোমটি সবার শেষে গলবে এবং যখন সেটি হবে সবকিছুই ভালভাবে মিশে যাবে।
  • একটি মেডিকেল মাস্ক বা অন্য যেকোনওকিছু দিয়ে আপনার মুখটিকে ঢেকে নিন কারণ জিঙ্ক অক্সাইডের কণাগুলির মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়া ক্ষতিকারক হতে পারে।
  • প্রয়োজনীয় পরিমাণে ভালভাবে মিশিয়ে নিন।
  • এভাবে প্রস্তুত হয়ে গেলে সেটিকে একটি পুরু কাঁচের পাত্রের মধ্যে ঢেলে নিন এবং যখন এটি ব্যবহার করবেন না ফ্রীজের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখুন।

শিশু ত্বকের উপর সানস্ক্রীন ব্যবহারের জন্য কয়েকটি টিপস

শিশুদের ত্বকের উপর ঘরে তৈরী সানস্ক্রীন ব্যবহারের সময় কাজে আসে এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিপসের উল্লেখ এখানে করা হলঃ

  • প্রতি কয়েক ঘন্টা অন্তর সানস্ক্রীনটি পুনরায় প্রয়োগ করুন।
  • যদি আপনার বাচ্চা ভীষণ মাত্রায় ঘেমে যায়, তবে এর পুনরাবৃত্তির ব্যবধানটি বাড়িয়ে দিন।
  • এর মেয়াদকালটি ছয় মাস মত বাড়াতে এটিকে রেফ্রিজেরটরের মধ্যে স্টোর করে রাখুন।

ঘরে তৈরী এই সানস্ক্রীন ব্যবহার করা ছাড়াও আপনি আবার বাচ্চার ত্বকে ম্যাসাজ বা মালিশের জন্য ব্যবহার করতে পারেন কলার মত তাজা ফলের খোসা।