শীর্ষ 12টি খাদ্য যা প্রসব বেদনাকে প্রাকৃতিকভাবে ঘটাতে সহায়তা করতে পারে

শীর্ষ 12টি খাদ্য যা প্রসব বেদনাকে প্রাকৃতিকভাবে ঘটাতে সহায়তা করতে পারে

যদিও কোনও খাদ্য যে প্রসব বেদনা ঘটাতে পারে এই তত্ত্বকে সমর্থন করার মতো পর্যাপ্ত গবেষণা হয়ে ওঠে নি,তবে অনেক মহিলা শপথ নিয়ে বলেন যে নির্দিষ্ট কিছু খাবার তাদের প্রসব বেদনা শুরু করতে সহায়তা করেছে। এখানে আমরা কয়েকটি খাবারের দিকে নজর রাখব যা মহিলারা সাধারণত দাবি করেন যে তাদের প্রসব বেদনা ঘটাতে সহায়তা করেছে।

গর্ভবতীমায়েদেরপ্রসববেদনা প্ররোচিত করার উপযোগী খাদ্যগুলি

প্রসব বেদনাকে প্ররোচিত করতে এবং কিছুটা তাড়াতাড়ি আপনার ছোট্টটির সামনে মুখোমুখি হতে আপনি যে খাবারগুলি খেতে পারেন সেগুলির একটি তালিকা এখানে দেওয়া হল।

১. আনারস

আনারস

তাজা আনারসে ব্রোমেলাইন নামে একটি এনজাইম বা উৎসেচক রয়েছে যা খুব কমই অন্য কোথাও পাওয়া যায়। ব্রোমেলাইন সার্ভিক্স বা জরায়ুকে নরম করতে এবং মসৃণ পেশীগুলিকে উত্তেজিত করতে সহায়তা করে, যা প্রসব বেদনার সূচনা করে বলে জানা যায়।

২. সবুজ কাঁচা পেঁপে

সবুজ কাঁচা পেঁপে

কাঁচা সবুজ পেঁপেতে প্যাপিন নামক এনজাইমটি প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। পেঁপে পাতায় ল্যাটেক্স থাকে যা প্রস্টাগ্ল্যান্ডিন এবং অক্সিটোসিন হিসাবে কাজ করে এবং সংকোচন শুরু করতে সহায়তা করে। পেঁপে যত বেশি পাকা হয়, তত বেশি প্যাপিন নষ্ট হয়ে যায় যার কারণে প্রসব বেদনা ওঠার ক্ষেত্রে পাকা পেঁপে খাওয়ার কোনও প্রভাব পড়বে না।

৩. ঝাল খাবার

ঝাল খাবার

যদিও প্রসব বেদনা হওয়ানোর জন্য গর্ভবতী মায়েরা খুব মশলাদার খাবার খান, এটি হবু মায়েদের অবশ্যই এড়ানো উচিত যদি তাঁরা প্রাকৃতিকভাবে এবং ব্যথা-মুক্ত ভাবে শিশুর জন্ম দিতে চান।

যখন কোনও শিশু প্রাকৃতিকভাবে জন্মগ্রহণ করে, শিশুটি জন্ম নালীকা বা বার্থ ক্যানেল বরাবর নিচেনেমে যাওয়ার সাথে সাথে এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয়, ফলে চাপ হ্রাস পায় যা ব্যথা উপশম করতে সহায়তা করে। কিছু মশলাদার খাবার ক্যাপসেইসিন নিঃসরণ করে যা প্রসব বেদনার সময় শরীরের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে কারণ এটি প্রসবের সময় শরীরে প্রাকৃতিক ভাবে উৎপাদিত এন্ডোরফিনকে প্রতিহত করে।

৪. কালো লিকোরিস বা যষ্টিমধু

 কালো লিকোরিস বা যষ্টিমধু

কালো লিকোরিস গ্লাইসাররিজিন রাসায়নিকের কারণে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের উৎপাদনকে উদ্দীপিত করতে পারে। তবে এটি বেশি পরিমাণ সেবন করলে হালকা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে যা অন্ত্রগুলিতে হালকা সংকোচন সৃষ্টি করে থাকে। এর ফলে জরায়ুতে অনুকূল সংকোচন হওয়ায় প্রসব বেদনা শুরু হয়।

৫. রসুন

রসুন

রসুন অন্ত্রকে উদ্দীপিত করে সেটিকে খালি করতে সহায়তা করে যা প্রসব শ্রম শুরু করতে সহায়তা করতে পারে। প্রসব শ্রম ঘটাতে এটি অন্যতম জনপ্রিয় খাবার।

৬. লাল রাস্পবেরি পাতার চা

লাল রাস্পবেরি পাতার চা

লাল রাস্পবেরি চা, যা জরায়ুকে টানটান ও শক্তিশালী করে বলে মনে করা হয়, সেটিকে জরায়ুর পেশীগুলিতে সংকোচনের কারণও বলা হয়। আপনি যদি গর্ভাবস্থার বত্রিশতম সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন লাল রাস্পবেরি পাতার চা পান করেন তবে আপনার প্রসব দেরীতে হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পাবে।

৭. ক্যাস্টর তেল

ক্যাস্টর তেল

উদ্ভিদের শুঁটি থেকে সরাসরি নিষ্কাশিত ক্যাস্টর তেল হল এমন একটি খাবার যা দ্রুত প্রসব বেদনা ওঠায়। মহিলারা বহু শতাব্দী ধরে প্রসব বেদনা তোলার ক্ষেত্রে ক্যাস্টর তেল ব্যবহার করে আসছেন।এমনকি যদিও ক্যাস্টর তেল গ্রহণ করা নিরাপদ, এটি বিরল ক্ষেত্রে বমি ও ডায়রিয়ার কারণ হতে পারে যা প্রসব বেদনার মাঝে খুব অস্বস্তিকর হতে পারে।

৮. জিরা চা

জিরা চা

হজমজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে জিরা একটি সাধারণ সহায়তাকারী। এটি পেট ফাঁপা থেকে মুক্তি দেয় এবং মাসিক চক্র শুরু করতে সহায়তা করে। এটি আবার প্রসব বেদনাকে প্ররোচিত করার জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে। স্বাদ পছন্দ না হলে, স্বাদ বাড়াতে এর সাথে কিছু চিনি বা মধু যুক্ত করুন।

৯. কালো কোহোস

কালো কোহোস

এই নিরাময়কারী ওষধিটি মহিলাদের ঋতুস্রাব, মেনোপজ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার জন্য ব্যবহার করা হত কারণ প্রাকৃতিকভাবে শরীরের দ্বারা উৎপাদিত ইস্ট্রোজেনের প্রভাবের সাথে এটির খুব মিল রয়েছে বলে মনে করা হয়। এটি গর্ভবতী মহিলাদের প্রসব বেদনা ওঠানোর জন্যও ব্যবহৃত হত। কোহোসের অন্য দুটি প্রকার রয়েছে, নীল এবং সাদা। তবে এটি মনে রাখবেন যে সেগুলি কালো কোহসের মতো নয় এবং এটির পরিবর্তে ব্যবহার করা উচিত নয়।

১০.সান্ধ্যকালীন হলুদ ফুলের (প্রাইমরোজ) তেল

সান্ধ্যকালীন হলুদ ফুলের (প্রাইমরোজ) তেল

সন্ধ্যা প্রাইমরোজ তেল এমন একটি জিনিস যা বেশিরভাগ ধাত্রী বা দাই মায়েরা গর্ভবতী মহিলাদের ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষত যাঁরা প্রসব বেদনা তুলতে চান। শরীর তেলে থাকা একটি পদার্থকে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনে রূপান্তরিত করে। এটি সার্ভিক্সকে নরম ও পাতলা করতে সহায়তা করে, যার ফলে সংকোচন শুরু হয়।

১১. সুবাসিত ভিনিগার

সুবাসিত ভিনিগার

সুবাসিত ভিনিগার ইতালিতে উৎপন্ন হয় এবং তাজা সংগৃহীত সাদা আঙ্গুরের রস থেকে বানানো হয়। এটি প্রায়শই স্যালাড ড্রেসিং হিসাবে ব্যবহৃত হয়। কিছু মহিলা প্রসব বেদনা তোলার জন্য সুবাসিত ভিনিগারের ইঞ্জেকশন নিয়ে থাকেন কারণ এটি বমি বমি ভাব, বমি বা ডায়রিয়া ছাড়াই ক্যাস্টর তেলের কাজটি করে দেয়।

১২. তুলসী এবং ওরেগানো

তুলসী এবং ওরেগানো

এই গুল্মগুলি বেগুন পারমেসান খাদ্যপদটির প্রধান ফোড়ন যা প্রসব বেদনা তোলার জন্য গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে খুব জনপ্রিয় ছিল।

দ্রুত বেদনা তোলার অন্যান্য কৌশলগুলি

প্রসব বেদনা ওঠাতে সহায়তাকারী খাবার খাওয়া সব ক্ষেত্রে যথেষ্ট নাও হতে পারে, তাই প্রসব বেদনা বয়ে আনতে সহায়তার জন্য এই কয়েকটি পরামর্শ এবং কৌশল ব্যবহার করে দেখুন।

১. ব্যায়াম

ব্যায়াম প্রসব বেদনার সহিত জড়িত শারীরিক চাপ সহ্য করতে সক্ষম হওয়ার জন্য আপনার শরীরকে সচল এবং যথেষ্ট স্বাস্থ্যকর রাখে। আপনার হার্টকে ভালভাবে সচল রাখার যে কোনও ক্রিয়াকলাপই অনুশীলন করা ভাল।

২. আকুপাংচার

দেহ অক্সিটোসিন নিঃসরণ করতে উদীপিত হবে, যা প্রসবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই পদ্ধতিটি একটি প্রাচীন চীনা পদ্ধতি যেটিতে শরীরের এমন অংশে খুব সূক্ষ্ম সূঁচ বেঁধানো হয় যেটি শরীরের কোনও নির্দিষ্ট অঙ্গকে নিয়ন্ত্রণ করে।

৩. আকুপ্রেশার

যদিও আকুপাংচারে সূক্ষ্ম সূঁচ ব্যবহার করা প্রয়োজন, তবে আকুপ্রেশারে দেহের মেরিডিয়ান সিস্টেমের সাথে চলতে থাকা শরীরের অংশের উপর চাপ প্রয়োগ করা হয়। আকুপ্রেশারের জন্য কোনও অ্যাপয়েন্টমেন্ট করার আগে আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

৪. যৌন সহবাস

যৌন সহবাস অক্সিটোসিন মুক্ত করতে সহায়তা করতে পারে যা প্রসব বেদনা শুরু হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয়। আপনি নয় মাসের গর্ভবতী থাকার সময়ও যৌন মিলন নিরাপদ, কিন্তু আপনার জল ভেঙে যাওয়ার পরে যৌন মিলন নিরাপদ নয় কারণ এটি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

৫. স্তনবৃন্তকে উদ্দীপিত করা

স্তনবৃন্ত উদ্দীপিত হলে তা জরায়ুতে সংকোচনের কারণ হতে পারে, যার ফলে প্রসব বেদনা শুরু হয়।

আপনার বাচ্চাকে সবসময় প্রাকৃতিকভাবে বাইরে আসতে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এটি হাসপাতালে ব্যয় করা সময়কে হ্রাস করতে পারে এবং নিরাময় হওয়াকেও দ্রুত করে তোলে। তবে, আপনি নিজে থেকে প্রসব বেদনা তুলতে আগ্রহী হলে, আপনার চয়ন করা যেকোনও পদ্ধতি সম্পর্কে আপনার ডাক্তারের সাথে য়ালোচনা করে তাঁর পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।