গর্ভাবস্থাকালে শিশু রত্রিবেলায় নড়াচড়া করে ওঠে অথবা পদাঘাত করে বসে-এটি কি নিরাপদ?

গর্ভাবস্থাকালে শিশু রত্রিবেলায় নড়াচড়া করে ওঠে অথবা পদাঘাত করে বসে

একটি ভ্রূণ সাধারণত বেশিরভাগ সময়টাই ঘুমিয়ে কাটায় অনেকটা একটি নবজাত শিশুর মতনবজাত এবং ভ্রূণের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া অসংখ্য মিলের মধ্যে এটি কেবল একটি। 32 সপ্তাহে একটি ভ্রূণ শব্দ শোনার ক্ষেত্রে,চিন্তা করতে,মনে রাখতে এবং ঘুরে যাওয়ার জন্য সমর্থ হওয়ায় যথেষ্ট বিকশিত বলে পরিচিত।তারা আবার মোটামুটি প্রায় 90-95% সময় ঘুমিয়েই কাটায়।ভ্রূণগুলি ঘুমের REM (চোখের দ্রুত অবস্থার পরিবর্তন)পর্যায়টিকে ছুঁইয়ে ফেলতে পারে, যা জৈবিক জীবনরেখার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গভীর ঘুমের পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।এই পর্যায়ে একটি ভ্রূণ একজন প্রাপ্তবয়স্কের REM নিদর্শনগুলি তার চোখগুলি সরিয়ে নিয়ে অনুকরণ করতে পারে এবং একটা দ্রুত গতিতে তা এগিয়ে নিয়ে যেতেও পারে।কিছু বৈজ্ঞানিক বিশ্বাস করেন যে,এই পর্যায়ে একটা ভ্রূণের যথেষ্ট বিকাশ হয়ে থাকে এবং এমনকি সে এই পর্যায়ে স্বপ্ন দেখতেও পারে।

aniview

ভ্রূণের স্বাভবিক গতিবিধিগুলি কি?

এটি অনুমান করা হয় যে,সাত মাসের একটি ভ্রূণ যে কিনা 95% সময়ই ঘুমিয়ে কাটায় সেও প্রতি ঘন্টায় প্রায় 50 বার মত নড়াচড়া করে ওঠে।যেগুলি আপনি অনুভব করেন যেমন পদাঘাত,টান টান হওয়ার মত একটা প্রসারণবোধের পাশাপাশি যেগুলি আবার আপনি অনুভব করতে পারেন না যেমন দপদপ করে ওঠা ইত্যাদি সবগুলিই এই আন্দোলনগুলির মধ্যে অন্তর্ভূক্ত।এটি অনুমান করা হয় যে এই পর্যায়ের মধ্যে প্রতিটি শিশুর মধ্যেই স্বাতন্ত্র আন্দোলন হয়ে থাকে,যার ফলে যেকোনও ধরনের আন্দলনের ক্ষেত্রে এটি বলা মুশকিল হয়ে ওঠে যে সেটি ভালো নাকি খারাপ।

চিকিৎসকরা সাধারণত শিশুর স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে একটি আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে ভ্রূণের হৃদস্পন্দন এবং প্রতিক্রিয়াগুলি পরীক্ষা করে থাকেন।একজন গর্ভবতী মহিলার প্রসবের তারিখ যত এগিয়ে আসতে থাকে আন্দোলনগুলি ততই আরও বিচিত্র ধরনের হতে লক্ষ্য করা যায়।প্রতিটি ভ্রূণের কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য থাকে আর সেই কারণেই ভ্রূণের স্বাভাবিক আন্দোলনগুলিকে ব্যাখ্যা করা কঠিণ,তবে একটা মোটামুটি অনুমান অনুযায়ী বলা যায় যে প্রতিটি ভ্রূণই তাদের সন্ধিগুলিকে টান টান করে প্রসারিত করে,হেঁচকি তোলে,পিটপিট করে,ঢেকুর তোলে এবং পা ছোঁড়ে।আপনি যদি এমন কোনও আন্দোলন অনুভব করেন যা স্বাভাবিক নয়,তবে শিশুদের নড়াচড়াগুলি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে আপনার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সহিত আলোচনা করুন এবং বিশেষ যে আন্দোলনটির জন্য আপনি চিন্তিত সেটি তাঁকে অবগত করে সে বিষয়ে আপনি তাঁর থেকে পরামর্শ গ্রহণ করুন।

গর্ভাবস্থাকালে রাত্রিবেলায় শিশুর নড়াচড়া করে ওঠাটা কি স্বাভাবিক?

আমেরিকান প্রেগনেন্সি অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা পরিচালিত গবেষণাগুলিতে দেখা যায় যে কিছু শিশুর রাত্রে জেগে থাকার প্রবণতা থাকে অর্থাৎ নিশাচর প্রকৃতির হয়ে থাকে,যার ফলে তারা রাত্রিবেলাতেই বেশি সক্রিয় হয়ে থাকে।আপনার শিশুটি যদি কোনওকিছুতে উত্যক্ত হয়ে থাকে,সেক্ষেত্রে আপনি বেশ কড়া একটি পদাঘাত অনুভব করতে পারেন।এটি সে করে থাকতে পারে কোনও দুঃস্বপ্ন দেখার কারণে,অস্বস্তিবোধ থেকে অথবা শিশুটির হাত বা পা প্রসারণের জন্য জায়গার অভাবের কারণে।ডাক্তারবাবুরা বিশ্বাস করেন যে ভ্রূণটি বেড়ে ওঠার সাথে সাথে সে তার চারপাশ সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হয়ে ওঠে এবং তারপরে শারীরিক এবং মানসিক উভয় দিক থেকেই একটি নবজাতকের সাথে তার সাদৃশ্য হতে শুরু করে।গর্ভের অভ্যন্তরে রাত্রিবেলায় শিশুর সক্রিয় থাকার ক্ষেত্রে তা বিপজ্জনক বলে বিবেচনা করা হয় না।

গর্ভাবস্থাকালে রাত্রিবেলায় শিশুর নড়াচড়া করে ওঠাটা কি স্বাভাবিক?

মাতৃ গর্ভে রাত্রিবেলায় শিশুরা কেন পদাঘাত অথবা নড়াচড়া করে

রাত্রিবেলায় আপনার সন্তানের সক্রিয়তা সেই সময় আপনার নিষ্ক্রিয়তার কারণে বেড়ে উঠতে পারে।দিনের বেলায় আপনার অঙ্গসঞ্চালনাগুলি আপনার গর্ভস্থ শিশুর কাছে একটি দোলনায় দোলা দেওয়ার মত কাজ করে,যার ফলে সে সহজেই ঘুমিয়ে পড়তে পারে।আর আপনার নিষ্ক্রিয়তা সেক্ষেত্রে আপনার গর্ভস্থ শিশুটির কাছে তার সজাগ হয়ে ওঠার বোধে স্ফুলিঙ্গের কাজ করতে পারে।

সাইকলজি টুডে অনুমান করে যে রাত্রিবেলায় একটি শিশুর জেগে ওঠার এবং নড়াচড়া করার কয়েকটি সাধারণ কারণগুলির মধ্যে হল আপনি রাত্রিবেলায় আহারে কি খাদ্য গ্রহণ করেছিলেন অথবা শেষ রাতের জলখাবারে কি খেয়েছিলেন কিম্বা শুধুই মায়ের কখপোকথন শুনতে পেতে চাওয়ার কারণে সে রাত্রে সজাগ থেকে সক্রিয় থাকতে পারে।এই একই প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় দেখা গেছে যে,7 মাসের গর্ভাবস্থাকালীন সময়কালে একটি ভ্রূণ তার মায়ের কণ্ঠ্যস্বর শুনে সক্রিয়ভাবে প্রতিক্রিয়া করতে এবং শান্ত হতে শুরু করে

হবু মায়েদের জন্য রাত্রিকালীন ভ্রূণের আন্দোলন সম্পর্কিত পরামর্শগুলি

রাতের বেলায় একটি শিশুর অত্যধিক মাত্রায় পদসঞ্চালনা অথবা নড়াচড়া করা মায়ের ক্ষেত্রে ভীষণ অস্বস্তিকর হতে পারে।সেগুলিকে সামলে ওঠার জন্য এখানে কয়েকটি পরামর্শ দেওয়া হলঃ

  • ভ্রূণের জন্য গান করুন

ভ্রূণের জন গান চালানোর পরিবর্তে আপনি নিজেই তার জন্য গান করুন।আমেরিকান প্রেগনেন্সি অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণার দ্বারা প্রমাণিত যে,মায়ের কণ্ঠ্যস্বর ভ্রূনকে প্রশমিত করতে সহায়তা করে।আর ঠিক এই কারণেই ঘুমের আবহ সৃষ্টিকারী একটি ঘুম পাড়ানি সংগীত আপনার গর্ভস্থ শিশুটিকে শান্ত করে তাকে ঘুম পাড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে।

  • রাতের রুটিনগুলিকে দিনের বেলায় অনুকরণ করুন

দিনের মধ্যভাগে অথবা দুপুরবেলার দিকে আপনার রাতের রুটিনটিকে অনুকরণ করলে তা শিশুটিকে তার চারপাশের জায়গাটি শনাক্ত করে তার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে যার ফলে এটি তার রাতের নড়াচড়া করার বা জেগে ওঠার অভ্যাসটিকে কমিয়ে তাতে অভ্যস্ত হতে সহায়তা করতে পারে। এই সময়ে টিভি দেখুন, শুয়ে পড়ুন কিম্বা কোনও বই পড়ুন।এমনকি কয়েক ঘন্টার জন্য এই ধরণের কোনও বিচিত্র ক্রিয়াকলাপ শিশুকে একটি শান্ত স্থিতিশীল পরিস্থিতিগুলির সাথে মানিয়ে নিতে শিখিয়ে দিতে পারে।

  • পর্যবেক্ষণ

দিনের বেলায় আপনার শিশুকে নিরীক্ষণ করর জন্য কয়েক ঘন্টা কাটান।তাদের রুটিনগুলি প্রত্যক্ষ করলে সেগুলি সম্ভবত তাদের আচারআচরণগুলিকে বোঝোর ক্ষেত্রে আপনাকে সহায়তা করতে পারে।একটি শিশু দিনের বেলায় কতবার নড়াচড়া করে সেটি লক্ষ্য করে আপনি হয়ত অবাক হয়ে যেতে পারেন।তবে চলমান একটি সক্রিয় শিশু হল একটি স্বাস্থ্যকর শিশুর উদাহরণ।

আপনার গর্ভস্থ শিশুটি যদি রাত্রিবেলায় নড়াচড়া করে ওঠে তবে তা কোনও বিপদের সঙ্কেত নয়।বেশিরভাগ শিশুই দিনের বেলাতেও এই একই পরিমাণ নড়াচড়া করে থাকে।যদি শিশুটি দিনের বেলায় সেরকম নড়াচড়া না করে কিন্তু সেটি রাত্রিবেলায় করে থাকে তবে সেক্ষেত্রে সেটিতে আতঙ্কের কিছু নেই।এটি সম্ভবত আপনার শিশুর মধ্যে নৈশকালীন চক্র থাকার কারণে হয়ে থাকতে পারে।আপনার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কথা বলুন এবং এবং আপনার নিজের মনকে সহজ করে তোলার জন্য গর্ভস্থ শিশুটিকে নিয়ে আপনার মধ্যে থেকে থাকা কোনওরকম উদ্বেগের সমাধান করুন।আপনার নিয়মিত চেকআপ এবং ডাক্তারের পরামর্শের সাথে নিজেকে সংযুক্ত রাখুন এবং তার পাশাপাশি ডাক্তারের পরামর্শগুলি শুনে মেনে চলুন।নিজেকে সর্বদা শান্ত রাখার কথা মাথায় রাখুনআপনার গর্ভস্থ শিশুটি উদ্বেগ ব্যাপারটিকে বোধ করতে পারে,যা তাকে অস্বস্তিবোধ করাতে পারে।