শিশুকে খাওয়ানো – কী খাওয়ানো যাবে এবং কতটা পরিমাণে খাওয়ানো যাবে

শিশুকে খাওয়ানো - কী খাওয়ানো যাবে এবং কতটা পরিমাণে খাওয়ানো যাবে

মাতৃত্বের সুখানুভূতির পাশাপাশি এমন অনেক দিক রয়েছে যা আপনাকে বিমূঢ় করে তুলতে পারে। বলা হয় যে বাচ্চাকে অতিরিক্ত দুধ খাওয়ানোর মতো সমস্যা আর একটিও নেই, যদিও আপনার সন্তানকে সঠিক পরিমাণে দুধ খাওয়ানো এবং অতিরিক্ত দুধ খাওয়ানোর মধ্যে তফাৎ খুবই সূক্ষ্ম।

aniview

সুখবর এই যে আমরা এর সবটাই এখানে আলোচনা করব। আপনার সদ্যজাত ছোট্ট রাজকুমার বা রাজকন্যাকে খাওয়ানোর বিষয়ে পরামর্শ পেতে এবং কোথায় কম বা বেশি খাওয়ানোর মাঝে সীমারেখা টানতে হবে তা জানতে পড়তে থাকুন।

প্রথম বছরে শিশুকে খাওয়ানো

প্রথম বছরে শিশুকে খাওয়ানো

মা হিসাবে আপনার অনেক কাজের মধ্যে, আপনার সন্তানকে স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে শক্তিশালী এবং সুখী শিশু হিসাবে গড়ে তোলাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যে খাবার আপনার শিশুর সুস্থ, সুখী ও শক্তিশালী বিকাশের জন্য জরুরি, সেটি সম্পর্কে যত্ন নেওয়া দরকার এবং সে ক্ষেত্রে কারও কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না।

যাইহোক, খাবারের পরিমাণ এবং কখন কখন খাওয়াতে হবে তা খুবই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। এই কারণে আমরা শিশুকে খাওয়ানো বিষয়ক একটি জ্ঞানগর্ভ কার্যপদ্ধতি তৈরি করেছি যা আপনি আপনার শিশুর একবছর বয়স পর্যন্ত অনুসরণ করতে পারেন।

বয়স০ থেকে 4 মাসবয়সী শিশু

4 মাস পর্যন্ত বাচ্চাদের জন্য, দুটি উপায় আছে; বুকের দুধ খাওয়ানো এবং পাশাপাশি ফর্মূলা খাওয়ানো। যখন বিকল্প হিসাবে কোন খাদ্যটি সেরা তা বিচার হয়নি, তখন বৃদ্ধির জন্য কতটা প্রয়োজন ও তার সময়কে বিবেচনা করা যাক।

  • কী খাওয়া উচিত: হয় বুকের দুধ অথবা ফর্মূলা।
  • কতটুকু খাওয়ানো যায়: শিশুদের জন্য স্তন্যপান; 8 থেকে 10 বার অথবা চাহিদা অনুযায়ী খাওয়ানোর পরিমাপ । ফর্মুলা খাওয়ানো বাচ্চাদের জন্য, প্রতিদিন 6 থেকে টি খাদ্যাংশ ।
  • খাওয়ানোর পরামর্শ : বুকের দুধ খাওয়ানো বেছে নেওয়া মায়েদের ভালো জীবনযাত্রা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়,কারণ যা কিছুই আপনি খাবেন বা পান করবেন তা দুধের মাধ্যমে আপনার শিশুর কাছে যাবে। আপনার বাচ্চাদের যেন প্রতি 2-3 ঘন্টায় একবার খাওয়ানো হয় তা নিশ্চিত করুন।

ফর্মুলা খাওয়ানো বাচ্চাদের প্রতি 3-4 ঘন্টায় একবার খেতে পরামর্শ দেওয়া হয়।

বুকের দুধ খাওয়ানো বেছে নেওয়া মাদের বাচ্চার চাহিদা মতন খাওয়ানোর পদ্ধতির জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত, বিশেষত প্রথম কয়েক মাসের মধ্যে। যদিও এটি কোনো কঠোর ও দ্রুত নিয়ম নয় তবে এটি দেখা যায় যে বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুদের অন্তত 8 থেকে 10 বার খাদ্যের প্রয়োজন হয় প্রতিদিন তাদের খিদের সম্পূর্ণ পরিতৃপ্তি করতে। এছাড়াও, পুষ্টির বঞ্চনা থেকে তাদের দূরে রাখার জন্য, আপনার অমূল্য ধনকে কয়েক ঘন্টা বাদে বাদেই খাওয়াতে মনে রাখবেন। দিনে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে না খাইয়ে রাখবেন না।

যে সব মায়েরা ফর্মূলা খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আপনাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হল, আপনি স্তন্যপান করানো মায়েদের থেকে, শিশুদের অতিরিক্ত খাইয়ে ফেলার বিষয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন। যেহেতু বুকের দুধের চেয়ে ফরমুলা খাবার হজম করা সামান্য কঠিন, প্রতিদিন আপনার শিশুকে  6 থেকে 8 বারের বেশি না খাওয়ানো নিশ্চিত করুন এছাড়াও প্রতিদিন 3 থেকে 4 ঘন্টা বাদে বাদে খাওয়ানোর চেষ্টা করুন এবং তাতেই সীমাবদ্ধ রাখুন।

যাইহোক, আপনার বাচ্চা যত বড় হবে, সে আরও বেশি ঘুমাবে। প্রকৃতপক্ষে, তৃতীয় বা চতুর্থ মাস আসলে, এটি দেখা যায় যে আহারের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে আসবে, কারণ বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুর মাত্র 6 থেকে 8 বার স্তনপানের প্রয়োজন হবে। যেখানে ফরমুলা খাওয়ানো শিশুদের দিনে মাত্র 5 থেকে 6 বার খাওয়ানোর প্রয়োজন হবে, সাধারণত 4 থেকে 5 ঘন্টার অন্তরে।

বয়স– 4 থেকে 6 মাস বয়সী শিশু

এই সময়ে আপনার শিশুর অস্তিত্ব কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। আসলে, অনেকের পক্ষে এটি কৌশলপূর্ণ  হতে পারে কারণ মায়েদের বাচ্চার ডায়েটে কঠিন খাবার ঢোকানো উচিত কিনা সে সম্পর্কে নিরাপদ সিদ্ধান্ত নিতে হয় ।

  • কী খাওয়ানো উচিত: বুকের দুধ এবং সহজপাচ্য কঠিন খাবারে ধীরে ধীরে নিয়ে যাওয়া।
  • কতটুকু খাওয়ানো যায়: বুকের দুধ বা ফরমুলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হয়, সম্ভবত 4-5 বার।
  • খাওয়ানোর কৌশল: কঠিন খাবারে পরিচয় করানোটা বেশ কঠিন কাজ, বিশেষ করে যদি আপনার বাচ্চা খাবারের ব্যাপারে খুঁতখুঁতে হয়।দানা শস্য দিয়ে শুরু করুন এবং পেষা ফল ও সবজিতে যান ।

সেইসব মায়েরা যারা বুকের দুধ খাওয়ানোতে সীমাবদ্ধ থাকতে চান , তাদের পরামর্শ দেওয়া হয় যে আপনার বাচ্চাকে দিনে 6 বারের বেশি খাবার খাওয়াবেন না। আগে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, বুকের দুধ অনেকটাই  চাহিদা অনুযায়ী খাওয়ানো হয় তাই খাওয়ানোর সংখ্যা  প্রতিটি শিশুর ক্ষেত্রে পরিবর্তিত হয়। ফরমুলা খাওয়ানো শিশুদের ক্ষেত্রেপ্রতিদিন 5 বারের বেশি খাবার পরিবেশন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

আপনি যদি আপনার শিশুর জন্য কঠিন খাবারের প্রস্তুতি নেন, তাহলে আপনার বাচ্চা আসলে এইরকমের খাদ্যের জন্য প্রস্তুত কনা তার লক্ষণগুলি খেয়াল করুন। শুরুতে, আপনার সোনার খাবারে আগ্রহ দেখানো শুরু করা উচিত এবং কঠিন খাবার শুরু করার জন্য কিছু সুস্থ ওজন বৃদ্ধি প্রদর্শন করা উচিত। অন্যান্য লক্ষণ হল একটি উঁচু চেয়ারে বসা এবং মাথা উঁচু করে থাকা।

কঠিন খাদ্যের পছন্দের ক্ষেত্রে শস্য দিয়ে শুরু করুন। ওটমিল এবং লোহা সম্বৃদ্ধ চাল দনাশস্য শুরু করার জন্য চমৎকার পছন্দ। এটি করার জন্য আপনার স্বাভাবিক ফর্মুলা বা বুকের দুধের সাথে এক চামচ শুকনো শস্য মিশিয়ে আপনার বাচ্চাকে খাওয়ানো একটি ভাল উপায়। ফর্মুলা বা বুকের দুধ 5 থেকে চা চামচের বেশি মেশানোর চেষ্টা করবেন না কারণ তাহলে শুরুতেই খুব পাতলা হয়ে যাবে। সময়ের সাথে, দুধ বা ফর্মুলা কম পরিমাণে মিশ্রিত করুন এবং দানাশস্যের পরিমাণ বাড়িয়ে ঘন করে আপনার সন্তানের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করুন।

সপ্তাহ এগোতে থাকলে, প্রতিদিন আপনার শিশুকে একটি করে নতুন ধরনের খাদ্যের সাথে পরিচয় করান। খাদ্যশস্যের পরে, সবজি এবং ফলের সাথে পরিচয় করাতে সেগুলিকে দেওয়ার চেষ্টা করুন এবং আপনার সন্তানটি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় তা দেখার জন্য বিশেষত এগুলি তাকে পিষে দিন। আপনার শিশুকে খুব বেশি জোর না করার বিষয়ে সতর্ক থাকুন এবং খেয়াল করুন তার কিছুতে এলার্জি আছে কিনা।

বয়স – 6 থেকে 8 মাস বয়সী শিশু

যদি আপনার বাচ্চা কঠিন খাবারের প্রতি ভাল প্রতিক্রিয়া জানায় তবে অবশ্যই আপনার বাচ্চাকে বিভিন্ন ধরনের কঠিন খাবারের স্বাদ পেতে দিন, হয় ক্কাথ বানানো বা নরম রান্না করা এবং মোলায়েম করে নেওয়া খাবার গুলি দিন । বাচ্চার ক্রমবর্ধমান শারীরিক চাহিদাগুলি মেটানোর জন্য ক্কাথ বানানো  সবজি এবং ফল ক্রমাগতভাবে দেওয়া যেতে পারে। এর সাথে প্রতিদিন আরো দানাশস্য খাওয়ান, ভাল ফল পাওয়ার জন্য দিনে 3 বার দিন।

  • কী খাওয়াবেন: সরল দানাশস্য এবং পেষানো ফল  ও সবজি থেকে শুরু করে, ক্কাথ বানানো ও নরমভাবে রান্না করা খাবারে নিয়ে যান
  • কতটুকু খাওয়ানো যায়: বুকের দুধ/ফরমুলা এবং কঠিন খাবার খাওয়ানোর মধ্যে একটি ভারসাম্য আনুন।
  • খাওয়ানোর পরামর্শ : একই সময়ে একটিই কঠিন খাদ্য দেওয়ার চেষ্টা করুন।

তবে, শিশুর খাদ্যে মায়েদের কম পরিমাণে হলেও বুকের দুধ বা ফর্মুলা রাখতে হবে। বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রেদিনে 5 বা 6 বারের বেশি না খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। যেহেতু কঠিন খাবারের পরিমাণ বেড়ে যায়, খাওয়ানোর সংখ্যা হ্রাস পাবে। ফর্মুলা খাওয়ানো শিশুদের ক্ষেত্রে, উপরে উল্লেখিত একই কারণে প্রতিদিন কয়েকবার খাওয়ানোই যথেষ্ট হবে।

বয়স– 8 থেকে 10 মাস বয়সী শিশু

শিশুকে খাওয়ানোর অষ্টম মাসে। আপনার শিশুর খাদ্যে  বিভিন্ন ধরনের এবং বিভিন্ন গঠনের খাবার অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। যার মধ্যে ফলের রস হল একটি যা  এখন থেকে শিশুদের নিরাপদে দেওয়া যেতে পারে, তবে পরিমাণে একটি ছোট কাপের বেশি নয়। নাশপাতি, সাদা আঙুর বা আপেল থেকে তৈরি তাজা রস পুষ্টির মান এবং স্বাদ উভয় কারণের জন্যই চমৎকার পছন্দ।

  • কী খাওয়াবেন: সহজপাচ্য কঠিন খাবার এবং বিভিন্ন রকমের এবং বিভিন্ন গঠনের খাবার যেমন ফলের রস।
  • কতটুকু খাওয়ানো যায়: ফর্মুলা খাওয়ানো বাচ্চাদের জন্য, এক বার। বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুদের জন্য, 2-3 বার।
  • খাওয়ানোর পরামর্শ : যদি আপনার শিশু এখনও স্তনপান/ ফর্মুলার উপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে আপনি হয়ত কঠিন খাবারের দিকে একটু এগোতে চাইবেনকারণ আপনার সন্তানের ইতিমধ্যে দাঁত বেরোতে শুরু করেছে ।

যেহেতু কঠিন খাবার খাওয়ানোর মাত্রা বৃদ্ধি পাবে, যে মায়েরা এতদিন সন্তানদের বুকের দুধ বা ফরমুলা খাওয়াচ্ছিলেন তারা নিরাপদভাবে তাদের বাচ্চাদের তা খাওয়ানোর পরিমাণ হ্রাস করতে পারেন। ফর্মুলা খাওয়া বাচ্চাদের প্রতিদিন মাত্র একবারই খাওয়ানো প্রয়োজন, যেখানে বুকের দুধ প্রতি দিন 2 বা 3 বারে কমানো যেতে পারে।

বয়স– 10 থেকে 12 মাসবয়সের শিশু

এবং অবশেষে, আপনার বাচ্চার 1 বছর বয়স হয়ে যাওয়ার আগে শেষ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মাস! আপনার বাচ্চারা শক্ত খাবারে ক্রমাগত বেশি করে রূপান্তরিত হওয়ার সাথে সাথে, গর্বিত মায়েরা তাঁদের সন্তান বড় হয়ে উঠছে কিনা তা নিশ্চিত করতে আনন্দের সাথে দেখতে পারেন।

প্রথমত, আপনার বাচ্চা তাদের হাতের কাছে যেটাই পাবে সেটিকে তাদের মুখের মধ্যে পুড়ে দেওয়ার জন্য হঠাৎ করেই প্রয়োজন বোধ করবে। যতই বিপজ্জনক এটিকে শোনাক, এটি কিন্তু নিশ্চিত করে যে আপনার শিশু এখন বিভিন্ন খাবারের জন্য ক্ষুধার্ত। আপনার শিশু খুব সুন্দর চিবানোর ভঙ্গিগুলি করবে, এবং তাদের চারপাশে যা খুঁজে পাবে তাই তুলে নেওয়ার চেষ্টা করবে এবং তাদের হাতের চারপাশের বস্তুগুলি ঘুরিয়ে দেবে। এই সমস্ত লক্ষণগুলি এবং আরো অনেকগুলি চিহ্ণ বোঝায় যে আপনার শিশু বড় হচ্ছে।

  • কী খাওয়াতে হবে: উপরে যেগুলি বলা হয়েছে তার পাশাপাশি, গত কয়েক মাস থেকে 12 মাস পর্যন্ত আপনার বাচ্চাদের কী খাওয়ানো যায় তা একবার দেখুন। তাদেরকে দেওয়ার মতো সেরা জিনিস হল আঙুলে তুলে খাওয়ার মতো  খাবার। কলার মতো নরম ফলের টুকরো সাধারণত এই বয়সের বাচ্চাদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়। যেহেতু আপনার বাচ্চার দাঁত উঠবে, নিশ্চিত করুন যে মাংস এবং প্রোটিনজাতীয় খাবার যেন ক্কাথ বানানো হয় বা এমনভাবে মেশানো হয় যে চিবানোর উপযুক্ত হয়। এখনই ডিমের সাদা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। ডিমের কুসুম এবং রান্না করা পাস্তা এবং মজাদার আকৃতির দানাশস্যগুলি যাতে শর্করা কম থাকে সেগুলিই দিতে থাকুন। যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য প্রদান অব্যাহত রাখুন, যা চিবাতে এবং হজম করতে সহজ হয় এমন ছোট ছোট টুকরোতে কাটুন।
  • কতটা পরিমাণ খাওয়াবেন প্রতি দিন: আগে যেমন বলা হয়েছিল, আপনার শিশুর খাওয়ানোর প্রক্রিয়াটি নির্ভর করে আমরা তার বিকাশের কোন পর্যায়টি দেখছি তার উপর। প্রথমত, 9 থেকে 12 মাস বয়সী শিশুদের এখনও বুকের দুধ বা ফর্মূলা খাওয়ানো দরকার, তবে খাবারের পরিবেশনটি বেশ কিছুটা কম হতে হবে। যত শিশুরা আরো বেশি শক্ত খাবারের উপর নির্ভরশীল হবে, তত শীঘ্রই দেখা যাবে যে চটকানো বীন এবং দুধজাত পণ্যগুলি যেমন পনির এবং দই বেশী করে পছন্দ করবে। তার আগের বয়সের দলগুলির জন্য, উপরের বাছাইগুলি সম্পূর্ণরূপে অনুসরণ করা যেতে পারে যাতে আপনার বাচ্চারা ক্ষুধার্ত না থাকে বা তাদেরকে যেন অতিরিক্ত খাওয়ানো না হয়।
  • খাওয়ানোর টিপস: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা মনে রাখতে হবে তা হল, আপনার বাচ্চার বিকাশের সময় সর্বদা খাদ্যের প্রয়োজন হবে। যাইহোক, প্রশ্নটি সবসময় থাকবে যে একটি দিনে কতটা এবং কত বার। অনেক উপায়ে, বুকের দুধ বা ফর্মুলা খাবার খাওয়া কালীন অবস্থায় বাচ্চাদের জন্য খাবারের সময়টি সহজ হয়ে উঠবে।

শিশুকে শক্ত খাবারে পরিবর্তন করাটাই প্ৰকৃত কাজ। কিছু খাদ্য গ্রুপে অ্যালার্জি থাকার পাশাপাশি, আপনার দিক থেকে ছোট্ট ভুল যেমন প্রোটিন বা সবজি বা জটিল খাবারগুলি ঠিকভাবে রান্না না করা বিষম খাওয়া বা হজমের সমস্যার মতো আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়াও মনে রাখবেন যে আপনার শিশু প্রতিটি নতুন খাদ্যের প্রতি ভালোভাবে সাড়া দেবে না। এটি কেমন যায় তা দেখতে কয়েক দিনের একটি বিরতির পরে আবার চেষ্টা করতে ভুলবেন না।

যে জিনিসগুলি লক্ষ্য করতে হবে আপনি আপনার বাচ্চাকে কম বা বেশী খাওয়াচ্ছেন না তা নিশ্চিত করতে

যদিও এটি সাধারণভাবে বিশ্বাস করা হয় যে শিশুকে অতিরিক্ত দুধ খাওয়ানো বলে কিছু হয় না, তবুও আপনি আপনার শিশুকে সহজেই কম বা অতিরিক্ত খাইয়ে থাকতে পারেন। আরো জানতে নিম্নলিখিতটি পড়ুন।

1. আপনার শিশু আরো খেতে চায় তার চিহ্ন

আপনার শিশুর অবশ্যই কান্নাকাটি করবে এবং বদমেজাজী হয়ে থাকবে। অস্থিরতা, মুখ খোলা রাখা, আঙ্গুল ও মুষ্টির মতো জিনিস চোষা, ইত্যাদি চিহ্ন আপনার বাচ্চা বেশি খেতে চায় তার লক্ষণ।

2. আপনার শিশু যথেষ্ট খাদ্য খেয়েছে তার লক্ষণ

একটি প্রাকৃতিক প্রবৃত্তি হিসাবে, আপনার শিশু তার মুখ বন্ধ করে দেবে, তার মাথা দূরে সরিয়ে নেবে এবং তারা সরাসরি আপনার খাওয়ানোর প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করবে যখন তাদের যথেষ্ট খাওয়া হয়ে যায়।

আপনার সন্তানকে খাওয়ানোর সময় আপনার প্রবৃত্তি অনুসরণ করতে মনে রাখবেন, আপনার সন্তান কখনো ক্ষুধার্ত থেকে না যায় তা নিশ্চিত করার জন্য একটি রুটিন অনুসরণ করতে ভুলবেন না।