একদম ছোট শিশু এবং বাচ্চাদের ঠাণ্ডা লাগা ও জ্বরের জন্য 14 টি ঘরোয়া প্রতিকার

একদম ছোট শিশু এবং বাচ্চাদের ঠাণ্ডা লাগা ও জ্বরের জন্য 14 টি ঘরোয়া প্রতিকার

ঠাণ্ডা লাগা এবং জ্বর হল ভাইরাসের কারণে ঘটে থাকা সংক্রমণ।ছয় বছরের কম বয়সী শিশুদের ঠাণ্ডা লাগা এবং জ্বরে কখনই OTC বা ওভার দ্য কাউন্টার ওষুধগুলি দেবেন না।একদম ছোট শিশু এবং বাচ্চাদের ঠাণ্ডা লাগা এবং জ্বরের উপসর্গগুলিকে প্রশমিত করতে এই OTC এর বিকল্প হিসেবে হিসেবে ঘরোয়া প্রতিকারগুলিকে ব্যবহার করা উচিত।ঘরোয়া প্রতিকারগুলির তালিকাটি শুরু করার আগে আমরা পরামর্শ দিচ্ছি যে,সকল প্রকার প্রতিকার গুলিই একই সময়ে প্রয়োগ করবেন না অথবা সবগুলিই একসাথেও শুরু করবেন না এবং এর কোনও উপকরণ থেকে আপনার বাচ্চার শরীরে এলার্জির প্রতিক্রিয়া হয় কিনা সে ব্যাপারে আপনার যত্নশীল হওয়া উচিত।এই প্রতিকারগুলি ব্যবহারের পূর্বে আপনার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে আলোচনা করে নিন এবং যেকোনও প্রতিকার খুঁজে বের করার আগে আপনার বাচ্চার বয়সটা মাথায় রাখবেন।

aniview

ভিডিওঃ ছোট শিশু এবং বাচ্চাদের জ্বর এবং ঠাণ্ডা লাগার ক্ষেত্রে 8 টি ঘরোয়া প্রতিকার

এই নিবন্ধে তালিকাবদ্ধ প্রতিকারগুলি বাচ্চাদের নিম্নলিখিত উপসর্গগুলির ক্ষেত্রে কাজ করেঃ

১.নাক দিয়ে হালকা জল পড়া

২.হালকা কাশি

৩.গলা ব্যথা

৪.নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া অথবা জমে যাওয়া

৫.খিদে কমে যাওয়া

৬.অস্থিরতা

৭.জ্বর

বাচ্চাদের ঠাণ্ডা লাগার চিকিৎসায়,এটা গুরুত্বপূর্ণ যে বাবামায়েরা প্রথমেই চেষ্টা করবেন তাদের আরাম দিতে যাতে তারা কিছুটা ভাল অনুভব করে।জ্বরের কারণে ডিহাইড্রেশন হয়ে থাকে,এবং বাচ্চারা সবসময় তৃষ্ণার্ত নাও হতে পারে অথবা জল পানে স্বাচ্ছন্দ্য নাও হতে পারে।যাইহোক,আপনার তাকে আরও বেশি পরিমাণে তরল পানে উৎসাহিত করে তোলা জরুরী।

এখানে তিন মাসের কম বয়সী শিশুদের ডিহাইড্রেশনের কিছু উপসর্গগুলি উল্লেখ করা হলঃ

  • কোনওরকম চোখের জল না বের করেই কেঁদে চলা
  • ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া
  • ত্বকে নিমজ্জিত হয়ে যাওয়ার মত নরম দাগ
  • শিশুর কার্যক্ষমতার মাত্রা কমে যাওয়া
  • অত্যন্ত কম সংখ্যায় মূত্রত্যাগ(24 ঘন্টার মধ্যে 3-4 বার)

আপনি যদি বুকের দুধ খাইয়ে থাকেন তবে সাধারণত যতবার তাকে দুধ পান করিয়ে থাকেন তার তুলনায় আপনার এই সময়ে তাকে আরও ঘন ঘন পান করানো উচিত।দুর্বলতার কারণে বাচ্চা খেতে উৎসাহিত না হতে পারে,সুতরাং আপনি চাইলে তাকে অনেকগুলি ছোট ছোট খেপে স্তন দুধ পান করাতে পারেন।আপনার বাচ্চার পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করুন।যদি আপনার ডাক্তারবাবু পরামর্শ দেন, তবে আপনি আপনার সন্তানকে ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন(পেডিয়ালাইট) দিতে পারেন।

একটু বড় বাচ্চাদের জন্য,তাদের হাইড্রেট করার আরও অনেকগুলি বিকল্প আছে।আপনার বাচ্চাকে তাজা ফলের রস,স্যুপ ইত্যাদি দিন। 12 মাসের বেশী বয়সী বাচ্চাদের জন্য আপনি তাকে দিনে দুবার করে 2-5 মিলিলিটার মধু খাওয়াতে পারেন।এটি তার কাশিকে শিথিল করতে সাহায্য করবে।এছাড়াও আপনার বাচ্চার যথাযথ সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য তকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়াটাও সুনিশ্চিত করুন।

ঘরোয়া প্রতিকারগুলি

সদ্য হাঁটতে শেখা ছোট বাচ্চার ঠান্ডা লাগার ক্ষেত্রে এই ঘরোয়া প্রতিকারগুলি নিরাপদ,উপশমকারী এবং শিশুকে আরও ভাল বোধ করানোর জন্য সহায়ককারী। এখানে সেগুলি দেওয়া হলঃ

১.বুকের দুধ

স্তন দুধের মধ্যে থাকে অ্যান্টিবডি,যা শরীরকে প্রতিরোধ করে ঠাণ্ডা লাগা এবং জ্বরের ভাইরাস সহ সকল ধরনের জীবাণুর থেকে।এর পাশাপাশি বুকের দুধ আবার শিশুর দেহকে হাইড্রেট করেও রাখে।এটি হল ছোট শিশুদের জ্বরের সবচেয়ে সেরা একটি প্রাকৃতিক প্রতিকার।

আপনি কি করতে পারেন

6 মাসের কম বয়সী শিশুদের বুকের দুধ পান করানো যেতে পারে এবং তাদের এর বাইরে আর কোনও অন্য ওষুধ দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

সাবধানতা

ক্যাফিন(কফিতে থাকে) পান করা এড়িয়ে চলুন,এটি বাচ্চার ঘুমে প্রভাব ফেলতে পারে।

২.রসুন এবং আজওয়ানের পুঁটলি

রসুন এবং আজওয়ানের মধ্যে অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য থাকায় সেগুলি ঠাণ্ডা লাগা এবং কাশির জন্য শক্তিশালী প্রতিকারক হিসেবে পরিচিত।শিশুদের ঠাণ্ডা লাগার জন্য এই মিশ্রণটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভেষজ প্রতিকারগুলির মধ্যে একটি।

আপনি কি করতে পারেন

2 কোয়া রসুন এবং 1 চামচ আজওয়ান নিয়ে সেগুলিকে শুকনো খোলায় ভেজে নিন।সেগুলি ঠাণ্ডা হয়ে গেলে,এক টুকরো রেশমের কাপড়ের মধ্যে নিয়ে শক্ত করে বাঁধুন।এবার এই পুঁটলিটিকে বাচ্চার বিছানার কাছে রাখুন যাতে এর তেল এবং ঝাঁঝাল গন্ধটি বাচ্চাকে স্বস্তি প্রদান করে।ঠাণ্ডা লাগার কারণজনিত শিশুর মধ্যে দেখা দেওয়া যেকোনও প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এই পুঁটলি সাহায্য করবে।

সাবধানতা

পুঁটলিটি বাচ্চার খুব কাছে রাখবেন না যেহেতু এটি থেকে বাচ্চার বিষম লেগে শ্বাস রোধ হওয়ার মত বিপত্তি প্রমাণিত হতে পারে।ফল অর্জনের জন্য বিকল্প হিসেবে আপনি এই পুঁটলিটিকে শিশুর পায়ের পাতার তলায় ঘষে দিতে পারেন।

৩.পানিকুরা

শিশুদের শ্বাস নালী থেকে কফ বহিষ্কারের কারণে এটি তাদের সর্দি কাশি ঠাণ্ডা লাগা থেকে উপশম দেয়।

আপনি কি করতে পারেন

পানিকুরা একটি বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ,যেটি ভারতের দক্ষিণ অংশে দেখতে পাওয়া যায়।এর সুগন্ধি পাতাগুলিকে নিয়ে আপনি একটি স্টোভের উপরে গরম করে সেঁকে নিতে পারেন।একবার সেঁকার পর সেগুলি কুঁচকে গেলে ঠান্ডা হতে দিন,এবার আপনি এগুলিকে আপনার বাচ্চার কপালের উপর রাখুন।পাতাগুলি আদ্রতা হারায় এবং শুকিয়ে যায়।শিশুর দেহ থেকে আদ্রতা শোষণের জন্য পাতাগুলিকে প্রস্তুত করুন এবং তাকে সর্দি কাশি থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করুন।

সাবধানতা

পানিকুরা উদ্ভিদের কোনও পরিচিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

৪.সরষের তেলের সাথে রসুন এবং রাঁধুনি ভিজিয়ে

সরষের তেল,রসুন এবং রাঁধুনিতে আছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্য।সর্দি কাশি থেকে মুক্তি দিতে এগুলি শিশুদের উপর দুর্দান্ত কার্যকর।

আপনি কি করতে পারেন

1/4 কাপ সরষের তেলের সাথে 2 কোয়া থেঁতো করা রসুন এবং রাঁধুনির দানা যোগ করে গরম করুন।একবার সেগুলি বাদামী বর্ণ হয়ে গেলে,স্টোভটি নিভিয়ে দিন।এবার এই তেলটিকে নিয়ে শিশুর বুকে এবং পায়ের তলায় মালিশ করে দিন।

সাবধানতা

বাচ্চাকে এই তেল না খাওয়ানোর ব্যাপারে আপনার সতর্ক হওয়া উচিত যেহেতু এটি শিশুদের পেটের সমস্যার কারণ হতে পারে।

৫.কেশর তিলক

এই পেষ্টটি শিশুর কপাল থেকে ঘাম শুষে তাকে স্বস্তি দিতে সাহায্য করবে।

আপনি কি করতে পারেন

কেশরের একটা পেষ্ট বানান,এবার সেটিকে আপনার সন্তানের পায়ের পাতার তলায় প্রয়োগ করুন এবং তার কপালেও তিলকের মত করে লাগিয়ে দিন।

সাবধানতা

যদিও কেশর খাওয়ার জন্য নিরাপদ,কিছু বাচ্চার মধ্যে আবার এর উল্টো প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়,যেমন বমি,এলার্জি প্রতিক্রিয়া এবং মাথা ব্যথা।এটি আপনার বাচ্চার জন্য এলার্জিকারক নয় এবং এটি প্রয়োগের সময় যেন তার মুখে চলে না যায় সেই দিকটি আগে নিশ্চিত করুন।

৬.শুকনো খোলায় ভাজা হলুদ গুঁড়ো

শুকনো খোলায় ভাজা হলুদ গুঁড়ো

হলুদের মধ্যে অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য থাকায় এটি ঠাণ্ডা লাগার উপসর্গগুলিকে প্রশমিত করতে পারে।

আপনি কি করতে পারেন

এক টুকরো শুকনো হলুদের কাঠিকে স্টোভের মধ্যে সেঁকে নিয়ে সেটি দিয়ে একটি পেষ্ট বানিয়ে নিন।এই পেষ্টটিকে যখন আপনার বাচ্চার নাক বরাবর উপর থেকে নিচে প্রয়োগ করবেন তখন তা তাকে উপশম দিতে পারে।

সাবধানতা

বাচ্চার নাকের ভিতরে যেন এটির প্রলেপ না চলে যায়,কারণ এটি তার দম আটকে যাওয়ার কারণ হয়ে দাড়াতে পারে।

৭.গাজরের রস

গাজরের রস

গাজরের মধ্যে থাকে অপরিহার্য পুষ্টি এবং ভিটামিনগুলি যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে।সদ্য হাঁটতে শেখা বাচ্চাদের ঠাণ্ডা লাগার ক্ষেত্রে এটি একটি সেরা ঘরোয়া প্রতিকার।

আপনি কি করতে পারেন

তাজা গাজরের রসকে ঘরের তাপমাত্রায় রাখা জলের সাথে মিশিয়ে 6 মাস বা তার বেশি বয়সী শিশুদেরকে দেওয়া যেতে পারে।

সাবধানতা

আপনার বাচ্চার গাজরে কোনও এলার্জি নেই সে বিষয়ে নিশ্চিত হন।

৮.সরষের তেলের সাথে সৈন্ধব লবণ মেশান

সরষের তেল, যে উষ্ণতা সরবরাহ করে তা বাচ্চাদের গলায় কফ বসে যাওয়া থেকে উপশম দিতে সাহায্য করে।

আপনি কি করতে পারেন

কিছুটা সরষের তেল গরম করে নিয়ে তার সাথে এক চামচ সৈন্ধব লবণ মেশান।এবার শিশুর বুকে এবং পিঠে ধীরে ধীরে এই তেলটি মালিশ করে সুতির কাপড় দিয়ে চাপা দিয়ে দিন এর উষ্ণতাকে বজায় রাখার জন্য।

সাবধানতা

তেলটি যেন অস্বাভাবিক গরম না হয়ে থাকে সে ব্যাপারটা নিশ্চিত করুন।

৯.স্যালাইন ড্রপ

ন্যাসাল অথবা স্যালাইন ড্রপ হল একটা দ্রুত এবং নিরাপদ বিকল্প,যা আপনার সন্তানের নাক আটকে যাওয়া থেকে তাকে উপশম দেয়।

আপনি কি করতে পারেন

এই স্যালাইন ড্রপটিকে দেওয়ার জন্য একটা ড্রপার ব্যবহার করতে পারেন।

সাবধানতা

যদি বাচ্চার নাক কফে ভরে থাকে,আপনি সেক্ষেত্রে শ্লেষ্মা বহিষ্কারের জন্য একটি ন্যাসাল সাকশন বাল্ব ব্যবহার করতে পারেন।

১০.একটি হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন

একটি হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন

এটি শুষ্ক বাতাসকে আর্দ্র করে কাশি এবং সর্দি থেকে বাচ্চাকে মুক্তি পেতে সহায়তা করবে।

আপনি কি করতে পারেন

বাচ্চা ঘুমিয়ে পড়লে একটি হিউমিডিফায়ারকে তার ঘরে ব্যবহার করতে পারেন।

সাবধানতা

হিউমিডিফায়ারগুলিকে নিয়মিতভাবে পরিষ্কার করা প্রয়োজন তা না হলে সেগুলিতে ছাতা পড়ে যাবে এবং ব্যাকটেরিয়ার বাসা হতে শুরু করবে যা আপনার সন্তানের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলবে।

১১.একটি বাষ্প ঘর প্রস্তুত করুন

একটা বাষ্প ঘর তৈরীর ফলে আপনার সন্তানের জমে থাকা শ্লেষ্মা শিথিল হবে এবং বাচ্চা তার বুকে বসে যাওয়া সর্দি থেকে মুক্তি পাবে।

আপনি কি করতে পারেন

বাথরুমে কিছু গরম জলের ধারা প্রবাহিত করুন এবং আপনার বাচ্চাকে ভিতরে 15 মিনিটের জন্য বসিয়ে রাখুন।

সাবধানতা

স্টীম রুম ট্রিটমেন্ট বা বাষ্প ঘর চিকিৎসার আগে এবং পরে আপনার বাচ্চাকে যথেষ্ট হাইড্রেট রাখার বিষয়টিকে নিশ্চিত করুন যেহেতু সে সর্দি জ্বরের জন্য প্রচুর পরিমাণে তরল হারাবে।

১২.লেবু জলের সাথে মধুর মিশ্রণ

লেবু জলের সাথে মধুর মিশ্রণ

লেবু ভিটামিন C-তে ভরপুর যা ঠাণ্ডা লাগার সাথে লড়াইয়ে কার্যকর।

আপনি কি করতে পারেন

এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ জলে কিছুটা লেবুর রস চিপে নিন।স্বাদের জন্য এর সাথে মধু যোগ করুন।

সাবধানতা

এই সংমিশ্রণটি খুব বেশি মাত্রায় খেলে তা আপনার বাচ্চার পেটে ব্যথা সৃষ্টি করবে।

১৩.গার্গেল করা

লবণ জলের সাথে গার্গেল করলে তা সর্দি কাশি থেকে উপশম দিতে পারে যেহেতু এটি শ্লেষ্মা ভেঙে ফেলতে এবং নাক ও গলা ফুলে থাকা কমাতে সাহায্য করে।

আপনি কি করতে পারেন

দিনের বেলায় বিশেষ করে যখন বাচ্চার গলা ব্যথা থাকবে বেশ কয়েকবার গার্গেল করান।

সাবধানতা

গার্গেল করার জন্য নেওয়া জলের তাপমাত্রার দিকে আপনি সতর্ক থাকবেন।প্রথমে নিজে পরীক্ষা করে দেখে নিন এবং তারপর বাচ্চাকে সেটি ব্যবহার করতে দিন।

১৪.আপনার বাচ্চার মাথা উঁচু করে রাখুন

আপনার বাচ্চার দেহ মেরামত হয় রাত্রি বালায়,যখন সে ঘুমায়,এই কারণের জন্যই গভীর ঘুমের প্রয়োজন,সংক্রমণ প্রশমনের জন্য নির্বিঘ্ন ঘুম খুবই জরুরী।ঘুমের সময় বাচ্চার মাথাকে উঁচু করে রাখলে তা মিউকাসকে তার শ্বাস নালীর মধ্যে ফিরে যেতে বাধা দেবে এবং তাকে সহজ ভাবে শ্বাসকার্য চালাতে সাহায্য করবে।

আপনি কি করতে পারেন

এটা খুব সাধারণ একটা ব্যাপার,একটা তোয়ালেকে নিয়ে ভাঁজ করুন এবং সেটিকে আপনার সন্তানের বালিশের তলায় স্থাপন করুন তার মাথাটিকে উঁচু করার জন্য।আপনি এটা অন্য আরেকটা নরম বালিশ দিয়েও করতে পারেন।

সাবধানতা

উচ্চতা বাড়িয়ে দিলে বালিশের উচ্চতা তার জন্য সর্বোত্তম কিনা তা নিশ্চিত করুন কারণ খুব বেশি উঁচু হয়ে গেলে পরবর্তীতে আপনার বাচ্চার ঘাড়ের সমস্যা হতে পারে।

সাধারণ সাবধানতাগুলি

  • 6 মাসের কম বয়সী বাচ্চাদের জন্য কোনও তেল / ভেষজ বা ওষুধ সেবনের সাথে জড়িত এমন কোনও ঘরোয়া প্রতিকারের চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন।
  • বাচ্চাদের 18 ঘন্টা ঘুম এবং সর্দি কাশি হয়ে থাকা বাচ্চাদের নূন্যতম 8 ঘন্টা ঘুমের বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
  • এক বছরের কম বয়সী শিশুদের মধু দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।এটি ইনফ্যান্ট বোটুলিজম নামে একটি ব্যাধি তৈরি করতে পারে।
  • সংক্রমণ এড়াতে শিশুদের রুমাল ব্যবহারে এবং হাত ধোয়াতে উৎসাহ দেওয়া উচিত।
  • আপনার ব্যবহৃত ঘরোয়া প্রতিকারের কোনও উপকরণে আপনার সন্তান এলার্জি প্রবণ কিনা সে দিকটা খেয়াল করুন।
  • যতটা পারেন স্তন দুধ পান করান।স্তন দুধে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবডি আছে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে।
  • জোর পূর্বক বাচ্চাকে খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না।সর্দি কাশির সময় সাধারণ খিদে কমে যায়।
  • জ্বর,সর্দি কাশির সময় আপনার বাচ্চার জামা কাপড় হওয়া উচিত আবহাওয়ায় সাথে মানানসই।কয়েক স্তরে জামা কাপড় পরিয়ে আপনার সন্তানকে উষ্ণ রাখুন।
  • শিশুর অসুস্থতার সময় বিশেষ করে তার জ্বর হলে তাকে স্কুল অথবা দিবা পরিচর্যাশালা থেকে দূরে রাখুন।
  • যেকোনও রকম সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে কেবল ফুটানো ঠাণ্ডা জল অথবা ডিস্টিলড ওয়াটার ব্যবহার করুন।
  • যেকোনও খাবার শিশুকে দেওয়ার আগে নিজে খেয়ে দেখুন।
  • এই সময় সংক্রমণ এড়িয়ে চলতে আপনার ও আপনার সন্তানের হাত মাঝে মধ্যেই ধুন। 80% সংক্রমণ স্পর্শের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
  • আপনার বাড়ি পরিষ্কার রাখুন যাতে অন্য কেউ আর অসুস্থ হয়ে না পড়ে।যে জিনিসগুলি প্রায়শই ব্যবহৃত হয় সেগুলিকে নির্বীজিত করা ভাল একটা ধারণা।
  • চেষ্টা করুন বাচ্চাকে উষ্ণ তরল খাদ্য খাওয়াবার,এটি তার শ্লেশ্মার বহিষ্করণে,তাকে হাইড্রেট রাখতে এবং তাকে উপশম দিতে সাহায্য করবে।

কখন একজন ডাক্তারকে ডাকবেন?

ঘরোয়া প্রতিকারগুলি ব্যবহারের সময় আপনি অবশ্যই লক্ষ্য করবেন আপনার বাচ্চার মধ্যে নিম্নলিখিত উপসর্গগুলি দেখা দিচ্ছে কিনাঃ

  • নাকে সর্দি এবং সবুজাভ ও হলদেটে পুরু শ্লেষ্মা নিঃসরণের সাথে কাশি
  • গলা ব্যথা এবং কিছু গিলতে কষ্ট
  • টনসিল ফুলে যাওয়া
  • শ্বাস প্রশ্বাসের হার বৃদ্ধি পেলে
  • টানা দুই দিনেরও বেশি সময় ধরে 101 অথবা 104 ডিগ্রীর বেশি জ্বর হলে
  • তিন মাসের কম বয়সী বাচ্চাদের হাই ফিভার হলে(100.4 ডিগ্রী বা তার বেশি হলে)
  • অ্যাসিটামিনোফেন বা আইবুপ্রোফেনের মত ওষুধ গ্রহণের পরেও যে জ্বর কমছে না এমন ঘটলে
  • অত্যন্ত তন্দ্রাচ্ছন্ন এবং শ্রান্ত হয়ে থাকলে
  • কোনও কিছুই খেতে বা পান করতে প্রত্যাখ্যান করলে
  • শ্বাস কষ্ট হলে অথবা সাঁসাঁ করে নিশ্বাস ফেললে

উপরে উল্লিখিত সকল উপসর্গগুলি সাধারণ সর্দি কাশি ব্যাতীত অন্য কিছুর ইঙ্গিত দেয় এবং তৎক্ষণাৎ ডাক্তারি মনোনিবেশের প্রয়োজন।

উপরে বর্ণিত প্রতিকারগুলি আপনার ছোট্ট সোনাকে সর্দি কাশি থেকে উপশম প্রদানে সাহায্য করবে।এক্ষেত্রে আপনার বাচ্চা কোন চিকিৎসায় সর্বোত্তমভাবে সাড়া দেয় তা পর্যবেক্ষণ করার জন্য আপনি কিছু পরীক্ষা চালাতে পারেন এবং বারংবার প্রচেষ্টা করতে পারেন।এই উপায়ে একবার আপনার বাচ্চা সর্দি কাশি,জ্বর থেকে সেরে উঠলে,আপনার সেটিকে প্রতিরোধের দিকে নিয়ে যাওয়াটাই প্রয়োজন।