বাচ্চাদের ছোলার পরিচয় করান

বাচ্চাদের ছোলার পরিচয় করান

ছোলা হল ফ্যাবেসেয়ী পরিবারের একটি কলাই।বর্তমানে,ভারতবর্ষ হল বিশ্বের মধ্যে অন্যতম এক বৃহত্তম ছোলা উৎপাদনকারী দেশ।ছোলা হল উদ্ভিদজাত প্রোটিন,জিঙ্ক, আয়রণ,তন্তু এবং ফসফরাসের এক দূর্দান্ত উৎস।আপনি ছোলাকে প্রাতঃরাশের জন্য খেতে পারেন অথবা আপনি আবার এটিকে রাতে নৈশভোজের জন্যও খেতে পারেন।কিন্তু ছোলা কি শিশুদের দেওয়া যেতে পারে?যদি আপনার মনে এই প্রশ্নটি থাকে,তবে সেক্ষেত্রে চিন্তা করবেন না।আপনি আপনার ছোট্ট সোনাকে ছোলা দিতে পারেন কিনা জানতে হলে পড়ুন।

aniview

কখন আপনি ছোট শিশুদেরকে ছোলার সাথে পরিচয় করাতে পারেন?

ছোলাকে বাচ্চাদের সাথে পরিচয় করানো যেতে পারে যখন তারা আট মাস বয়সে পৌঁছায়।যাইহোক আপনার সন্তানের খাবারের সাথে ছোলার সংযোগ করানোর সবচেয়ে ভাল সময় হল তার আট থেকে দশ মাস বয়সের মধ্যে।

বিভিন্ন ধরনের ছোলা

ছোলা দুই ধরনের হয়-বড় আকারের,সাদা অথবা হালকা হলদেটে বাদামী রঙের,যেগুলি ‘কাবলি ছোলা” অথবা “গারবানজো কলাই’ নামে পরিচিত। এবং আরেক ধরনের হল আকারে ছোট,তুলনামূলক শক্ত যা ‘বাংলার গ্রাম বা ছোলা’ নামে পরিচিত।বাংলার ছোলার রঙ হতে পারে ঘন সবুজ থেকে লালচে বাদামী।

গারবানজো কলাইয়ের পুষ্টি মান

এক কাপ সেদ্ধ ছোলায়(164 গ্রাম)269 ক্যালোরি থাকে।চলুন দেখা যাক ছোলায় আর কি কি পুষ্টি উপাদান থাকেঃ

পুষ্টি উপাদান পরিমাণ
কার্বোহাইড্রেট 45 গ্রাম
তন্তু 12.5 গ্রাম
প্রোটিন 14.5 গ্রাম
ফ্যাট 4.2 গ্রাম
ভিটামিন
ভিটামিন B6 0.2 মিলিগ্রাম
ভিটামিন  K 6.6 মাইক্রোগ্রাম
ফোলেট 282 মাইক্রোগ্রাম
খনিজ
ফসফরাস 276 মিলিগ্রাম
কপার 0.6 মিলিগ্রাম
আয়রণ 4.7 মিলিগ্রাম
ম্যাগনেসিয়াম 78.7 মিলিগ্রাম
জিঙ্ক 2.5 মিলিগ্রাম
পটাসিয়াম 477 মিলিগ্রাম
ক্যালসিয়াম 80 মিলিগ্রাম

সূত্রঃ https://draxe.com/chickpeas-nutrition/

ছোট শিশুদের জন্য ছোলার উপকারিতাগুলি

শিশুদের ছোলা দেওয়ার উপকারিতা অজস্র।জেনে নিন কীভাবে ছোলা আপনার সন্তানের বিকাশে সাহায্য করতে পারে।

1. শিশুর বৃদ্ধি

ছোলা হল প্রোটিনের দূর্দান্ত উৎস।এমনকি ছোলা এবং কলাই একজন নিরামিশাষীর খাদ্য তালিকায় প্রোটিনের একটি মূল উৎস।একটি শিশুর দেহে নতুন কোষ, পেশী, তরুণাস্থী,রক্ত,হরমোন এবং উৎসেচকগুলি সৃষ্টির জন্য প্রোটিন অপরিহার্য।একটি বাড়ন্ত শিশুর সঠিক বৃদ্ধির জন্য উচ্চ পরিমাণে প্রোটিনের প্রয়োজন হয়।সুতরাং একটি শিশুকে ছোলা প্রদান তার প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তাকে পূরণ করতে পারে।

2. মস্তিষ্কের বিকাশ

ছোলার মধ্যে আবার খুব কম সংখ্যক পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে।আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট শিশুর জন্য অপরিহার্য,যেহেতু এগুলি মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে,শক্তি সরবরাহ করে এবং ত্বককে কোমল করে তোলে।এছাড়াও আবার শরীরের এক অংশ থেকে অন্য অংশে কিছু নির্দিষ্ট ফ্যাট-দ্রবণীয় ভিটামিনগুলির সঞ্চালনে আনস্যাচুরেটেড বা অসম্পৃক্ত ফ্যাটগুলি অপরিহার্য।

3. অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করে

ছোলা আবার আয়রণের দূর্দান্ত উৎস।নতুন লোহিত রক্ত কণিকা তৈরীর জন্য আয়রণ বা লোহা হল একটি প্রয়োজনীয় উপাদান।যদি দেহ যথার্থ পরিমাণে আয়রণ না পায়,তবে তা নতুন লোহিত রক্ত কণিকা তৈরীর ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয় তার ফলে সক্রিয় লোহিত রক্ত কণিকার পতন ঘটে।এই অবস্থাতাকেই বলা হয় অ্যানিমিয়া।সুতরাং ছোলা শিশুদের মধ্যে অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করে।

4. হাড় এবং পেশী সমূহকে শক্তিশালী করে তোলে

দাঁতের স্বাস্থ্য এবং হাড়ের বৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য ক্যালসিয়াম অপরিহার্য।এছাড়াও এটি তার মৌলিক আণবিক রূপে পেশীর সংকোচন এবং স্নায়ুর উদ্দীপনায় এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে।ছোলার মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে এবং এটিকে দুধের ক্যালসিয়ামের সম্পূরক উৎস হিসেবে পরিবেশন করা যেতে পারে।

5. পাচন স্বাস্থ্যকে উন্নীত করে

পাচন স্বাস্থ্যকে উন্নীত করে

ছোলা সঠিক পরিমাণে তন্তু সরবরাহ করে।আবার তন্তু খাদ্য বর্জ্যকে আবদ্ধ করতে এবং সঠিক অন্ত্র সঞ্চালনে সাহায্য করে।বৃহদন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াগুলি ছোলা মধ্যস্থ তন্তুগুলিকে বিপাক ঘটিয়ে ফ্যাটি অ্যাসিডের সংক্ষিপ্ত শৃঙ্খল (SCFA গুলি)গড়ে তুলতে পারে।এই SCFA গুলি অন্ত্রের কোষে জ্বালানি হিসাবে কাজ করে, তাদের স্বাস্থ্য পুনর্নবীকরণ করে এবং কোলন ক্যান্সারের মতো কোলন সমস্যার ঝুঁকি কমায়।

6. অন্যান্য খাদ্যগুলি থেকে পুষ্টি উপাদান শোষণে সাহায্য করে

আপনার ছোট্ট সোনার একটি পাচন তন্ত্র আছে যেটি কঠিন খাদ্যকে রূপান্তরিত করে।এর অর্থ হল যে,তাদের সর্বাধিক পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য তাদের খাদ্য-তালিকাগতগত উপাদানের মধ্যে সবকিছুই থাকা প্রয়োজন।ছোলার মধ্যে থাকে ম্যাঙ্গানিজ যা শরীরকে ভিটামিন B এবং ভিটামিন E এর মত ভাল পুষ্টি উপাদানগুলিকে শোষণে সাহায্য করে।

7. হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে

দ্রবণীয় ফাইবার,অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের উপস্থিতি ছোলাকে একটি মূল্যবান খাদ্য হিসেবে গড়ে তুলেছে হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে।দৈনিক মাঝারি মাপে ছোলা খাওয়ার এক মাসের মধ্যে LDL কোলেস্টেরল,ট্রাইগ্লাইসেরাইড এবং মোট কোলেস্টেরল কম মাত্রায় থাকতে দেখা গেছে।খারাপ কলেস্টেরলের মাত্রাগুলি সাধারণত শিশু স্বাস্থ্যের সাথে যুক্ত না হলেও, কলেস্টেরলের মাত্রাগুলি জীবনের মাধ্যমে গড়ে ওঠে।এই কারণেই যে সকল শিশুর অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি পায় ভবিষ্যতে তাদের মধ্যে কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

8. কোষের পুনরুজ্জীবন ঘটায়

ছোলার মধ্যে ফোলেট থাকে যেটি হল এক ধরনের ভিটামিন।এটি DNA এর পুনরুৎপাদনের জন্য অপরিহার্য যা প্রতি সময় নতুন কোষ গঠন করে,যা এটিকে কোষের গঠণ এবং শিশুর বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তুলেছে।

9. ডায়বেটিসের ঝুঁকি কমায়

ছোলার মধ্যা আছে জটিল কার্বোহাইড্রেট যা শরীরে ভেঙ্গে যায় এবং ধীরে ধীরে সেখান থেকে শক্তি অর্জন করে।চিনি এবং সাদা ভাতের মত খাবারগুলি থেকে সহজে শক্তি মুক্ত করে যা রক্তের শর্করাকে পরিমাণকে অত্যন্ত বৃদ্ধি করতে এবং অবনমিত করতে পারে যা শিশুর পূর্ব বিদ্যমান হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা টাইপ-1 ডায়বেটিসের অবস্থাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।।পরিশ্রুত কার্বোহাইড্রেটের(দ্রুত মুক্তিপ্রাপ্ত কার্বোহাইড্রেট) জায়গায় ধীর শক্তি মুক্তিপ্রাপ্ত কার্বহাইড্রেটগুলি ভবিষ্যতে টাইপ-2 ডায়বেটিসের ঝুঁকি কমায়।যদি বাবা বা মায়ের পরিবারের আত্মীয় স্বজনের মধ্যে ডায়বেটিস থেকে থাকে তবে সে ক্ষেত্রে এ বিষয়ে মনোনিবেশ করা বিষেশভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

10. অনাক্রম্যতাকে শক্তিশালী করে

জিঙ্ক আপনার সন্তানের রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্তাপনায় সাহায্য করে।এছারাও এটি শরীরের 70 ধরনেরও বেশি এনজাইম বা উৎসেচককে কার্যকরী করার জন্য অপরিহার্য।

শিশুদের জন্য ছোলা খাওয়ার পরবর্তী প্রভাবগুলি

1. গ্যাস

শিম্বি জাতীয় যথা গারবানজো কলাই বা ছোলাতে আছে উচ্চ প্রোটিন উপাদান যা টলটলায়মান শিশুদের মধ্যে অন্ত্র গ্যাসের কারণ হতে পারে।গ্যাসের তীব্রতা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে পরিবর্তিত হয়।আপনার সন্তানের খাদ্যের সাথে খুব অল্প পরিমাণে ছোলার সংযোগ করার,নতুন খাদ্যকে ব্যবহার করতে তাদের বিপাকীয় প্রক্রিয়াকে সময় দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়।সামান্য বাতকর্ম হলেই সেটি চিন্তার কারণ হওয়া উচিত নয়,যাইহোক,যদি গ্যাসের তীব্রতা এতটাই উচ্চ হয় যে তার কারণে পেটে ব্যথা এবং অস্বস্তি হয়ে থাকে তবে তা অবিলম্বে থামান।

2. এলার্জি

শিশুদের সয়া অথবা অন্যান্য মসূর অথবা এমনকি ছোলাতে ল্যাটেক্সে এলার্জি হতে পারে।এছাড়াও,আপনার যদি ছোলাতে এলার্জির কোনও পারিবারিক ইতিহাস থেকে থাকে তবে সেক্ষেত্রে আপনার সন্তানের জন্য এলার্জির একটা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভাল হবে।

নাক বন্ধের ভীষণ সাধারণ একটা কারণ হল ছোলা এলার্জি।অনেক সময় এর ফলে এক্সিমা অথবা আমবাত হতে পারে।চরম ক্ষেত্রে এটা এমনকি অ্যানাফিলেক্সিসের কারণ হতে পারে।

অসহিষ্ণুতার অগ্রিম লক্ষণসমূহ:

  • চুলকানি
  • স্থূলতা
  • হ্রস্বশ্বাস
  • নাক দিয়ে জল পরা
  • মাথা ধরা
  • জমাট বেঁধে যাওয়া
  • ত্বকের চুলকানি
  • ইরিটেবল বাওয়াল সিনড্রোম

কিভাবে গারবানজো কলাই(ছোলা)শিশুদের জন্য বাছাই করবেন এবং জমিয়ে রাখবেন?

  • তাজা গারবানজো কলাইগুলি শক্ত,পরিষ্কার, এবং একই রঙ বিশিষ্ট হয়।যেগুলো কুঁকড়ে আছে সেগুলো নেবেন না।
  • রান্না না করা ছোলা বীজ পছন্দ করুন।সেগুলো কে খুব সহজেই বায়ুনিরুদ্ধ কৌটোতে কিম্বা প্লাস্টিকের ব্যাগে যাতে করে এগুলো আনা হয়েছে তাতেই সংরক্ষণ করা যায়।
  • রান্না না করা বা সেঁকা ছোলার সীমিত নিজস্ব জীবনকাল আছে।বড় কথা হল সেঁকলে ছোলার কিছু পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়।
  • রান্না করা ছোলা ফ্রিজের মধ্যে দীর্ঘদিন রাখা যায়।

গারবানজো(ছোলা) রান্নার সহজ পরামর্শ

  1. ভাল করে ঘষে ঘষে জলের ধারায় ছোলা বীজগুলিকে ধুয়ে নিন এবং সেগুলিকে ভিজানোর আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন।
  1. কাঁচা ছোলাগুলিকে রান্না করার আগে সারা রাত ধরে সেগুলিকে ভিজিয়ে রাখুন তা নাহলে সেগুলি খাওয়ার অযোগ্য হয়ে উঠবে।যদি আপনি সারা রাত না পান,তবে কিন্তু আপনি তখনও মোটামুটি প্রায় 5-6 ঘন্টার জন্য এটি করবেন,সেগুলিকে গরম জলের মধ্যে ভিজান,দ্রুত জল শোষিত হয়ে যাওয়ার জন্য।এটি কাবলি ছোলার জন্য প্রয়োগ করুন যেটাকে নরম করতে বাংলার ছোলার তুলনায় কম ভিজাতে লাগে।
  1. ছোলার সব দানাগুলি সমানভাবে রান্না নাও হতে পারে।রান্না করার পরেও আপনি তখনও কিছু ছোলাকে অপেক্ষাকৃতভাবে শক্ত দেখতে পারেন।আপনার একদম ছোট্ট বাচ্চাকে খাওয়ানোর আগে রান্না করা ছোলাগুলিকে ভালোভাবে পিষে নিন।এইভাবে আপনি যেকোনও শক্ত ছোলাকেই তাকে দেওয়া থেকে এড়িয়ে যেতে পারেন যেগুলি বিষম লাগার মত বিপত্তি ঘটাতে পারে।
  1. এগুলিকে জলে ভিজিয়ে রাখার পর রান্না করবেন,ভিজিয়ে রাখার ফলে ছোলাগুলি তার পূর্বাবস্থার তুলনায় দ্বিগুণ আকারে ফুলে উঠবে,সুতরাং সেই অনুযায়ী পরিমাপ করবেন।
  1. ছোলা একটু ভারী হয়,সুতরাং আপনার সন্তানকে সেটি খুব অল্প পরিমাণে দিয়ে শুরু করুন।
  1. এর স্বাদ যদি আপনার বাচ্চার মনে না ধরে,ছোলাটি রান্না করার সময় এর সাথে আদা এবং রসুন যোগ করুন।এটি হজম শক্তি বৃদ্ধি করবে এবং গ্যাস কমাবে।
  1. ছোলাগুলি রান্না করার সময় সেগুলির সাথে নরম করার কোনও অন্য পদার্থ যেমন বেকিং পাউডার যোগ করবেন না।এটি খাবারের মধ্যে সোডিয়ামের উপাদানকে বাড়িয়ে দেয়।রক্তে উচ্চ সোডিয়াম ওজন বৃদ্ধির সাথে,উচ্চ রক্তচাপ এবং এগুলি সংযুক্ত অন্যান্য রোগের সাথে যুক্ত।

শিশুদের জন্য ছোলার ঘরে প্রস্তুত রেসিপিগুলি

রান্না করার পর ছোলাগুলিকে মসৃণ পিউরি করা যেতে পারে,মুখরোচক কিছু শিশু খাদ্যের জন্য সেগুলিকে চমৎকার রূপে তৈরী করুন।

1. ছোলা এবং সবজি পিউরি

এর বিশুদ্ধতা এবং প্রাকৃতিক গুণ শিশুদের জন্য এটিকে একটি মসৃণ এবং স্বাস্থ্যকর ছোলার খাদ্য-পদ করে তোলে।

ছোলা এবং সবজি পিউরি

উপকরণ

  • ছোলা(কাবলি অথবা বাংলার ছোলা)-বড় 3 চামচ(সারা রাত ধরে ভিজিয়ে রাখা)
  • আলু ছোট ছোট টুকরো করে কাটা-1 টা ছোট
  • টমেটোর টুকরো-1 টা ছোট
  • সবুজ কড়াইশুঁটি(তাজা এবং হিমায়িত করে রাখা)

পদ্ধতি

  • প্রায় 1 কাপ মত জল দিয়ে প্রেসার কুকারে 6 টা সিটি দিয়ে ছোলাগুলিকে সেদ্ধ করে নিন।
  • এবার অন্যান্য সবজিগুলিকে 2 টো সিটি দিয়ে প্রেসার কুকারে রান্না করে নিন।
  • কুকার থেকে অতিরিক্ত জলটি বের করে নিন ,অল্প পরিমাণে জলকে রেখে দিন পিষে নেওয়ার জন্য।
  • এবার ব্লেন্ডারের সাহায্যে ব্লেন্ড করে নিন অথবা হাতে করে চটকে নিন।

2. ছোলা এবং কড়াইশুঁটির সিজনড পিউরি

শিশুদের জন্য ছোলার পিউরির এই রেসিপিটি এমন একটি ডিশ যেটি শিশুদের সাথে এমনকি বড়রাও উপভোগ করবেন।

উপকরণ

  • গারবানজো কলাই (এ.কে.এ কাবলি ছোলা)-5 বড় চামচ(সারা রাত ধরে ভিজিয়ে রাখা)
  • কড়াইশুঁটি(তাজা এবং হিমায়িত করে রাখা)-2 বড় চামচ
  • রসুন-1 কোয়া
  • জিরে-1 চিমটে
  • ভেজিটেবল অয়েল(অথবা অন্য যেকোনও তেল,মাখন অথবা ঘি সাঁতলানোর জন্য)-1 চা-চামচ

পদ্ধতি

  • 1.5 কাপ জল দিয়ে একটা প্রেসার কুকারের মধ্যে 6 টি সিটি দিয়ে গারবানজো কলাইগুলিকে(ছোলা)রান্না করে নিন।
  • এবা্র প্রেসার কুকারে করে 1 কাপ জল দিয়ে সবুজ কড়াইশুঁটিগুলিকে 2 টি সিটি দিয়ে রান্না করে নিন।
  • তারপর রসুন(মিহি করে কুঁচানো)এবং জিরেকে সাঁতলে নিন।
  • এবার এর সাথে রান্না করা ছোলা এবং সবুজ কড়াইশুঁটিগুলিকে যোগ করুন এবং এর সাথে সবুজ কড়াইশুঁটির সেদ্ধ করা ঝোলের বা ব্রথের থেকে অল্প কিছু পরিমাণ যোগ করুন এবং সকল উপকরণগুলি সব একসাথে ভাল করে মিশিয়ে নিন।
  • সব শেষে সেগুলিকে ব্লেন্ড করে নিয়ে বা পিষে নিয়ে খাবারটিকে পরিবেশন করুন।

*এই খাদ্য পদ মধ্যস্থ রসুন এবং জিরে গ্যাসে সাহায্য করে।ব্রথ বা ঝোলটি নেওয়া হয় রান্না করা সবুজ কড়াইশুঁটির সেদ্ধ জল থেকে কারণ রান্না করা ছোলার জলটি বাদ দেওয়া হয় তার ফলে এতে গ্যাস হওয়া কিছুটা হ্রাস পায়।

3. ছোলা এবং আপেল কারী

এই থালাটি ঘন্টা মরিচের সুস্বাদু সুগন্ধের সাথে আপেল এবং মিষ্টি আলুর স্বতন্ত্র মিষ্টি স্বাদ সমন্বয় করে।

উপকরণ

  • গারবানজো কলাই(ছোলা)-বড় 4 চামচ(সারা রাত ভিজিয়ে রাখা)
  • আলু-1 টা ছোট(ঘনকাকারে কাটা)
  • মিষ্টি আলু-1 টা ছোট(ঘনকাকারে কাটা)
  • আপেল(লাল)-1 টা(ঘনকাকারে কাটা)
  • লাল ঘন্টা মরিচ-1 টা ছোট(কাটা এবং বীজ ছাড়ানো)
  • পিঁয়াজ-একটি ছোট পিঁয়াজের অর্ধেক (ঝিরি ঝিরি করে কুঁচানো)
  • সবুজ কড়াইশুঁটি(তাজা এবং হিমায়িত করে রাখা)-1/2 কাপ
  • অলিভ অয়েল(এর পরিবর্তে অন্য ভেজিটেবিল অয়েলও নেওয়া যেতে পারে)-বড় 1 চামচ
  • কারী পাউডার-1 1/2 চা-চামচ

পদ্ধতি

  • একটি প্রেসার কুকারের মধ্যে 1 কাপ জল দিয়ে গারবানজো (ছোলা) গুলিকে রান্না করে নিন 6 টা সিটি দিয়ে।
  • এবার সবুজ কড়াইশুঁটিগুলিকে রান্না করুন ঐ প্রেসারকুকারের মধ্যেই 1 কাপ জল সহযোগে 2 টি সিটি দিয়ে।
  • একটা কড়াইয়ে(ঢাকনা সহ কড়াই পছন্দ করা হয়) তেল নিয়ে গরম করুন।
  • এবার এর সাথে আলু,মিষ্টি আলু,পিঁয়াজ এবং কারী পাউডার যোগ করুন এবং সব ভাল করে মিশিয়ে সাঁতলে নিন।
  • আঁচ কম করে ঢাকনা চাপা দিয়ে রান্না করুন যতক্ষণ না আলুগুলি নরম হয়ে যায়।
  • এর সাথে লাল ঘন্টা মরিচ যোগ করুন এবং ছোলা এবং কড়াইশুঁটির জল ছেঁকে নিয়ে এর সাথে মিশিয়ে কম আঁচে ঢাকনা চাপা দিয়ে আরও 5 মিনিট ধরে রান্না করুন।
  • এরপর এর সাথে ঘনকাকারে কাটা আপেলের টুকরো যোগ করে ঢাকা না দিয়ে রান্না করুন যতক্ষণ না আপেলের টুকরোগুলি নরম হয়ে যায়।
  • ঠাণ্ডা হয়ে গেলে একটি মিক্সচারে এটিকে ব্লেন্ড করে নিন।

4. ছোলার পিউরি আপেল এবং ন্যাশপাতির সাথে

ছোলার তুলনামূলক কুঞ্চন এটিকে সহজেই মিষ্টি এবং সুস্বাদু থালায় মিশ্রিত হতে সাহায্য করে।এই থালায় কেবলমাত্র উপকরণগুলির প্রাকৃতিক মিষ্টতাকেই ব্যবহার করে খাদ্য পদটি তৈরী হয়।

উপকরণ

  • গারবানজো কলাই(ছোলা)-বড় 1 চামচ(সারা রাত ধরে ভিজিয়ে রাখা)
  • ন্যাশপাতি-1 টি (ঘনকাকারে কাটা)
  • আপেলের জুস-বড় 6 চামচ
  • কিশমশ-1 1/2 চা-চামচ
  • দারুচিনি-2 চিমটে

পদ্ধতি

  • ছোলাগুলিকে প্রেসার কুকারে 6 টি সিটি দিয়ে রান্না করে নিয়ে এর জল ছেঁকে নিয়ে এক পাশে সরিয়ে নিন।
  • একটি পাত্রে ন্যাশপাতি,কিসমিস এবং আপেল জুস নিয়ে সেগুলি ফোটান।
  • এটা একবার ফোটানোর তাপমাত্রায় এসে গেলে আঁচ কমিয়ে নিয়ে আরও 2 মিনিটের জন্য রান্নাটি চালিয়ে যান।
  • এরপর এর সাথে ছোলাগুলিকে যোগ করে আরও 3 মিনিট ধরে রান্না করুন।
  • তারপর এর সাথে দারুচিনি এবং পিউরি যোগ করুন।আরও বেশি আপেলের জুস ব্যবহার করতে পারেন যদি ব্লেন্ড করার সময় এটি বেশি শুকিয়ে যায়।

5. ছোলা,কলা এবং কুমড়োর পিউরি।

ছোলা,কলা এবং কুমড়োর পিউরি।

এটি আপনার সন্তানের জন্য অন্য আরেকটি ছোলার মিষ্টি জাতীয় পদ।।

উপকরণ

  • কুমড়ো-1 এবং 1/2 চা-চামচ
  • ছোলা-বড় চামচের 1/2(সারা রাত ধরে ভিজিয়ে রেখে
  • কলা- একটা ছোট পাকা কলার 1/2

পদ্ধতি

  • জলের মধ্যে ছোলাগুলিকে নিয়ে রান্না করে নিন।
  • অবশেষে কুমড়োটিকে কুঁচিয়ে নিন এবং অল্প জলের সাথে এটিকে একটি পাত্রের মধ্যে রান্না করুন যতক্ষণ না এটি নরম এবং একটা পেষ্টের আকারে হয়ে যায়।
  • সমস্ত উপকরণগুলিকে ব্লেণ্ড করে নিন এবং পরিবেশন করুন।

আপনার সন্তানের সাথে পরিচয় করাতে ছোলা একটা দূর্দান্ত খাদ্য।এটির সংক্ষিপ্ত এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যকর উপকারিতাগুলি একটি শিশুর পক্ষে তার স্বাদ বিকাশের ক্ষেত্রে এটিকে উপযুক্ত করে তোলে!