সদ্য হাঁটতে শেখা ছোট বাচ্চাদের জ্বরের জন্য 8 টি কার্যকর ঘরোয়া প্রতিকার

সদ্য হাঁটতে শেখা ছোট বাচ্চাদের জ্বরের জন্য 8 টি কার্যকর ঘরোয়া প্রতিকার

জ্বর বিশাল কোনও উদ্বেগের বিষয় নয়,যদি না সেটি অত্যন্ত উচ্চ মাত্রায় হয়ে থাকে,এইভাবেই শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে তোলে।সাধারণত টলমল করে হেঁটে চলা একটি শিশু সহজেই শরীরে 100 ডিগ্রী পর্যন্ত তাপমাত্রাকে সহ্য করে নিতে পারে।কিছু ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবহারের দ্বারা প্রায় বেশীরভাগ সময়েই এই ধরনের হালকা মানের জ্বরের মোকাবিলা করা যেতে পারে।

aniview

আপনার সদ্য হাঁটতে শেখা ছোট বাচ্চার জ্বরের চিকিৎসার জন্য ঘরোয়া প্রতিকারগুলি

আপনার সদ্য হাঁটতে শেখা ছোট বাচ্চার জ্বরের চিকিৎসার জন্য ঘরোয়া প্রতিকারগুলি

যখন আপনার সন্তানের দেহের তাপমাত্রা হালকা মানের থাকে তখন তাকে একজন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন কি যাবেন না এই ব্যাপারে আপনি নিজেই একটি দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়তে পারেন।তার উপরে আবার,মধ্য রাত্রে আপনাকে জেগে উঠতে হতে পারে আপনার ছোট্ট সোনাকে শান্ত করার জন্য যদি সে কাঁদতে থাকে অথবা তার জ্বর হওয়ার কারণে যদি সে অস্বস্তিবোধ করে থাকে।উভয় ক্ষেত্রেই,অপ্রত্যাশিত অবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকা ভাল,এবং তখনই ঘরোয়া প্রতিকারগুলি আপনার উদ্ধার কাজে আসে।

নিম্নে দেওয়া হল 1 বছর বা তার বেশী বয়সী শিশুর জ্বরের জন্য কিছু ঘরোয়া প্রতিকার,যেগুলি আপনার ছোট্ট সোনাটিকে শান্ত করে তোলেঃ

1. পিঁয়াজ

পিঁয়াজ হল ভারতীয় রান্নাঘরের একটি অখণ্ড অংশ,কিন্তু আপনি কি জানেন যে জ্বর কমাবার জন্য এতে আবার ওষধি গুণও আছে?আপনার যা প্রয়োজন তা হল পিঁয়াজের কয়েক ফালি এবং চমৎকার ঘটার জন্য অপেক্ষা।

কি কি প্রয়োজন?

পাতলা করে কাটা পিঁয়াজের এক জোড়া টুকরো

পদ্ধতি

পিঁয়াজের 2-3 টি পাতলা টুকরো নিয়ে আপনার সন্তানের পায়ের পাতার তলার অংশে ঘষে দিন।সর্বোত্তম ফলাফলের জন্য এই প্রক্রিয়াটির পুনরাবৃত্তি করুন দিনে দু’বার।

2. ক্যামোমাইল টি বা চা

টলমল করে হেঁটে-চলে বেড়ানো শিশুর জ্বরের জন্য ক্যামোমাইল চা হল অন্যতম একটি শ্রেষ্ঠ প্রাকৃতিক প্রতিকার।

কি কি প্রয়োজন?

এই প্রাকৃতিক প্রতিকারের রেসিপিটি খুবই সাধারণ।এর জন্য আপনার শুধুমাত্র প্রয়োজন ক্যামোমাইল চা-পাতা এবং মধু।

পদ্ধতি

কিছুটা জল নিয়ে ফুটিয়ে নিন এবং তার মধ্যে ক্যামোমাইল চা-পাতাকে এক মিনিটের জন্য ভিজিয়ে রাখুন।এবার এর সাধে মধু যোগ করুন এবং আপনার বাচ্চাকে দিনে দু’বার করে এর কয়েক ফোঁটা খাওয়ান।

3. কিশমিশ

কিশমিশ হল অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যের সমৃদ্ধ উৎস।এটি সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করে এবং দেহের তাপমাত্রা হ্রাস করে।

কি কি প্রয়োজন?

আপনার প্রয়োজন এক মুঠো কিশমিশ(20-25 টি মত থাকা দরকার),বড় এক চামচ লেবুর রস এবং 1/2 কাপ জল।

পদ্ধতি

সমস্ত কিশমিশগুলিকে 1/2 কাপ জলের মধ্যে প্রায় 1 ঘন্টার জন্য ভিজিয়ে রাখুন।এবার সেগুলিকে ঐ জলের মধ্যে চটকে নরম করে নিন এবং তরলটিকে ছেঁকে নিন।চমৎকার ফল পাওয়ার জন্য এর সাথে লেবুর রস যোগ করুন।এই টনিকটিকে আপনার বাচ্চাকে দিনে দু’বার করে খাওয়ান আর ম্যাজিক কি ঘটে দেখতে থাকুন।

4. গরম জল দিয়ে স্পঞ্জ স্নান

দেহের তাপমাত্রা কমাতে আপনার টলটলায়মান ছোট্ট সোনাকে উষ্ণ জল দিয়ে স্নান করান।স্পঞ্জ স্নান দেহে একটি শীতল প্রভাব সরবরাহ করে,আপনার বাচ্চাকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে সাহায্য করে।তবে,জলটি যথেষ্ট গরম হওয়া দরকার-এ বিষয়টি খেয়াল রাখবেন,এর ফলে সে কাঁপবে না।যদি আপনি আপনার বাচ্চাকে কাঁপতে লক্ষ্য করেন,তবে,তখনই তাকে বাথ-টাব থেকে তুলে নিন এবং তৎক্ষণাৎ একটি পরিষ্কার শুকনো তোয়ালে দিয়ে মুছে শুকনো করে তুলুন।

কি কি প্রয়োজন?

একটি গামলায় বা বাথ-টাবে গরম জল এবং একটি স্পঞ্জ।

পদ্ধতি

ভুলেও ঠাণ্ডা জল ব্যবহার করবেন না।গরম জল দ্বারা একটি গামলাকে পূর্ণ করে তুলুন এবার তার ভিতরে আপনার সন্তানকে বসিয়ে দিন।জল ত্বকের মধ্য দিয়ে বাষ্পীভূত হওয়া শুরু হওয়ার সাথে সাথেই,এটি দেহের তাপমাত্রাকে হ্রাস করবে।

5. ইলেক্ট্রোলাইটের দ্রবণ

কখনও কখনও জ্বর টলমল করে হেটে চলা বাচ্চাদের মধ্যে ডাইরিয়া অথবা বমিকে প্ররোচিত করতে পারে,যার পরিণামে আপনার সন্তান কিছু অপরিহার্য লবণ,খনিজ এবং পুষ্টি তাদের দেহ থেকে হারাতে পারে।দেহের হারিয়ে যাওয়া তরলকে পুনরায় ফিরিয়ে আনতে আপনাকে ইলোক্ট্রোলাইট দ্রবণ ব্যবহার করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞরা দিয়ে থাকেন।আপনার স্থানীয় ওষুধের দোকান থেকে আপনি সহজেই এই ইলেক্ট্রোলাইট দ্রবণগুলি পেতে পারেন।

কি কি প্রয়োজন?

ORS দ্রবণের একটি স্যাচেট।

পদ্ধতি

ইলেক্ট্রোলাইট দ্রবণের উপাদানটি এক লিটার জলের মধ্যে অথবা এটির উপর উল্লিখিত নির্দেশ অনুযায়ী জলের মধ্যে ঢেলে নিন।আপনার বাচ্চাকে মাঝে মাঝে বিরতি দিয়ে ঘন ঘন এই দ্রবণটি খাওয়াতে থাকবেন সেই ব্যাপারটিকে নিশ্চিত করুন।

6. আদা স্নান

আদা এর ওষধি গুণের জন্য পরিচিত এবং বাজে ব্যাকটেরিয়া যেগুলি জ্বরের জন্য দায়ী সেগুলিকে দূর করতে পারে।আদা স্নান,ঘাম হওয়াকে প্রণোদিত করে যা তাপ এবং টক্সিনগুলি বহিষ্করণে সাহায্য করে থাকে।

কি কি প্রয়োজন?

বড় 2 চামচ আদা গুঁড়ো,একটি বাথ-টাব এবং গরম জল।

পদ্ধতি

বাথ-টাবের মধ্যে আদা গুঁড়ো নিয়ে তার সাথে গরম জল যোগ করে বাথ-টাবটিকে পূর্ণ করুন।আদা গুঁড়োটিকে জলের মধ্যে গুলে ভালভাবে মিশিয়ে নিন।এবার আপনার বাচ্চাকে ঐ বাথ-টাবের মধ্যে ততক্ষণের জন্য বসিয়ে রাখুন যতক্ষণ না সে ঘামতে শুরু করে।তবে জলটি অত্যধিক গরম না হওয়ার ব্যাপারটিকে নিশ্চিত করুন।এটি একটি হালকা ও আরামদায়ক তাপমাত্রায় রাখুন।

7. রসুন এবং সরষের তেলের মালিশ

সরষের তেল আর রসুন,দু’টোই তাদের ওষধি বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত।সরষের তেল এবং রসুনের একটি মিশ্রণ 2 বছর বয়সী বাচ্চাদের জ্বরের জন্য অন্যতম একটি সেরা ঘরোয়া প্রতিকার।

কি কি প্রয়োজন?

বড় 2 চামচ সরষের তেল এবং 1 চামচ রসুন বাটা।

পদ্ধতি

বড় 1 চামচ রসুন বাটার সাথে বড় 2 চামচ সরষের তেল মিশিয়ে নিন।এরপর,এটি স্থির হওয়ার জন্য 2 মিনিট অপেক্ষা করুন।তারপর সেই মিশ্রণটিকে নিয়ে ঠিক ঘুমের আগে,আপনার বাচ্চার পায়ের পাতার তলায়,হাতের চেটোতে,গলায়,বুকে এবং পিঠে ধীরে ধীরে মালিশ করে দিন।

8. মধুর সাথে লেবুর রস

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির গুণাবলীর জন্য লেবু এবং অ্যান্টিসেপ্টিক ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যের জন্য মধু সুপরিচিত।লেবুর রসের সাথে মধুর মিশ্রণ হল জ্বর এবং ফ্লু-এর বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিকার।তবে এই প্রতিকারটি কেবল এক বছরের বেশী বয়সী বাচ্চাদের জন্যই প্রযোজ্য।জ্বরে 1 বছর বয়সী শিশুদেরকে ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে মধু দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

কি কি প্রয়োজন?

বড় 1 চামচ লেবুর রস এবং বড় এক চামচ মধু।

পদ্ধতি

বড় এক চামচ লেবুর রসের সাথে এক চামচ মধু যোগ করুন।আপনার ছোট্ট সোনাটিকে এটি খাওয়ানোর পূর্বে সেটিকে ভালভাবে মিশ্রিত করুন।

সদ্য হাঁটতে শেখা ছোট বাচ্চাদের মধ্যে জ্বর হওয়া একটা সাধারণ ঘটনা,কিন্তু এটি আবার সংক্রমণ,দাঁত ওঠার যন্ত্রণা,টন্সিলাইটিস,হাম,ফ্লু ইত্যাদি সমস্যার একটি অন্তর্নিহিত লক্ষণও হতে পারে।কোনওরকম সমস্যা ছাড়াই আপনি ঘরোয়া প্রতিকারের সাহায্যে ছোট বাচ্চাদের মধ্যে হওয়া হালকা মানের জ্বরের সাথে মোকাবিলা করতে পারেন।

অ্যালোপাথি চিকিৎসার তুলনায় ঘরোয়া প্রতিকারগুলি বেশ ভাল,কারণ সেগুলির বেশীরভাগই কারুর দেহে কোনওরূপ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ঘটায় না।তবে,2 দিনের মধ্যেও যদি অবস্থাটির উন্নতি না হয়ে আরও বেশী সময় নিতে থাকে অথবা দেহের তাপমাত্রা যদি 100.4 ডিগ্রীর বেশী হতে থাকে তবে যত শীঘ্র সম্ভব এ বিষয়ে আপনার ডাক্তারের সাথে আলোচনা করার জন্যই আমরা আপনাকে দৃঢ় ভাবে পরামর্শ দিই।