20 মাস বয়সী শিশুর বৃদ্ধি এবং বিকাশ

20 মাস বয়সী শিশুর বৃদ্ধি এবং বিকাশ

আপনার টলমল করে হেঁটে চলা টডলার পদাধিকারীটি যখন তার 20 মাস বয়সে পদার্পণ করে সে একজন নকল করার মাস্টার হয়ে ওঠে এবং আপনার প্রতিটি চলনকেই সে অনুকরণ করে চলে।আপনার গলার স্বর এবং সুরের মাত্রা অনুকরণ করা থেকে শুরু করে আপনার প্রিয় অঙ্গভঙ্গিগুলিও অনুকরণ করে পুনরায় আরম্ভ করা শুরু করে।সে এই অনুকরণ শিল্পের মাধ্যমে ধীরে ধীরে কিন্তু অটলভাবে শ্রবণ এবং সার্বিক সঞ্চালন দক্ষতাগুলি একসাথে নিজের মধ্যে আয়ত্ত করে ও প্রদর্শন করায়।

aniview

20 মাস বয়সী টলটলায়নকারীর বিকাশ

এই বয়সের শিশুদের মধ্যে বিচ্ছেদ আশঙ্কার কিছু লক্ষণ প্রদর্শিত হয়।তবে আপনার ছোট্ট সোনাটি ধীরে ধীরে আপনার নিত্য রুটিনের সহিত অভ্যস্থ হয়ে উঠবে যেমন কর্মসূত্রে আপনার বেরিয়ে যাওয়া আবার সন্ধ্যেবেলায় আপনার ঘরে ফিরে আসা ইত্যাদি।আপনার কাজে বেরোনোর আগে এবং বাড়িতে ফেরার পরে তার উপর আপনার স্নেহ-ভালবাসার বর্ষণ করাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যাতে সে নিরাপদবোধ করে এবং উপলব্ধি করতে পারে যে বাড়ির মধ্যে কিছুটা সময় একাকী অথবা শান্ত হয়ে থাকাটা নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর আর তা তার জন্য খারাপ কিছু নয়।

শারীরিক বিকাশ

নিম্নে 20 মাস বয়সী ছোট শিশুদের শারীরিক মাইলস্টোনগুলির উল্লেখ করা হলঃ

  • এই বয়সের শিশু পুত্রদের আদর্শ ওজন হল 11.3 কিলোগ্রাম যেখানে এই একই বয়সী শিশু কন্যার আদর্শ ওজন হয় 10.7 কিলোগ্রাম।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO)মান অনুসারে,এই বয়সে শিশু পুত্রদের লম্বায় হওয়া উচিত 84.2 সেন্টিমিটার এবং সেখানে শিশু কন্যাদের প্রত্যাশিত উচ্চতা হল প্রায় 82.8 সেন্টিমিটার মত।
  • আপনার 20 মাস বয়সী ছোট্টটির এখন থেকে 20/20 দৃষ্টিশক্তি হওয়া উচিত এবং তার চারপাশের বিশ্বকে সে চাক্ষুষ করতে সমর্থ হবে।তার হাত-চোখের সমন্বয়টি তার দৃষ্টিশক্তির বিকাশের সাথে হাতে হাতে হতে থাকবে কারণ সে এখন তার খেলনা ব্লকগুলিকে এক জায়গায় জড়ো করতে সমর্থ হবে এবং সেগুলিকে আবার তার চারপাশে যথাযথভাবে ছুঁড়ে ছড়িয়ে ফেলতেও পারবে।
  • আপনার পুচকে সোনাটি ধীরে ধীরে তার আঁকা এবং হিজিবিজি কাটার প্রতি তার উৎসাহ প্রকাশ করবে।এই বয়সের শিশুদের আঁকা এবং হিজিবিজি কাটাগুলি হল তাদের সূক্ষ্ম সঞ্চালন দক্ষতাগুলি যথাযথ বিকাশের ধারায় থাকারই লক্ষণ।আপনার ছট্টটি যেহেতু এই সময় কীভাবে হাঁটতে,হামা দিতে,বসতে হয় তা অনুশীলন করে এবং আপনার মত করেই ঘরের চারপাশে চলাচল করে সেই কারণে তার সার্বিক সঞ্চালন দক্ষতাও উন্নত হতে থাকে।

সামাজিক এবং আবেগীয় বিকাশ

20 মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে দেখতে পাওয়া সামাজিক এবং আবেগীয় মাইলফলকগুলি হলঃ

  • এই বয়সের শিশুদের সাধারণ একটি বৈশিষ্ট্য হল তাদের সমকক্ষদের সাথে খেলা করা।আপনার ছোট্ট সোনাটি হয়ত অন্যদের সাথে নাও খেলতে পারে কিন্তু তাদের থেকে ঘর ভাগ করে নিতে এবং তার নিজের জগতে থাকার বিষয়গুলি মনে করবে না।
  • কামড়ে দেওয়া,অন্যদের দূরে ধাক্কা দিয়ে দেওয়া এ বয়সের সাধারণ ধর্ম।আপনার ছোট্টটির আবেগ অনুভূতিগুলি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাটি এখনই সম্পূর্ণরূপে পরিণত হয়ে ওঠে না,সেই কারণে কারুর সাথে কিছু ভাগ করে নেওয়া এবং অন্যদের কিছু দেওয়াটা তার পক্ষে কঠিন হয়ে ওঠে।
  • আপনার ছট্টটি এখনও সমানে আপনাকে সব কিছুতেই “না” বলতে ভালবাসবে।এটি কোনও অবাধ্যতার আচরণ নয়,এটি কেবলই তার কথনের একটি ধরণ।অতএব এর অর্থ হল এই যে সে আপনাকে বিশ্বাস করে এবং শুধুই আপনার ধৈর্য্যের সীমাটিকে পরীক্ষা করে।
  • আপনার টলটলায়নকারীটি এই বয়সে বিভিন্ন সাঙ্কেতিক খেলার ক্রিয়াকলাপগুলি উপভোগ করবে যেমন পুতুলকে স্নান করানো এবং অন্যদের অনুকরণ করা ইত্যাদি।
  • আপনার টলমল করে হেঁটে চলা ছোট্টটি অন্যদের সাথে খেলতে ভালবাসবে এবং ধীরে ধীরে অন্য শিশুদের সাথে তার জিনিসগুলিকে ভাগ করে নিতে এবং যোগাযোগ রক্ষা করতে শুরু করবে।এটি হল সমকক্ষদের সাথে খেলা থেকে হওয়া বিবর্তন বা ক্রম বিকাশ,কারণ সে এভাবেই শিখে যায় কীভাবে অন্যদের সাথে সামাজিক বন্ধন গড়ে তুলতে হয়।

সামাজিক এবং আবেগীয় বিকাশ

জ্ঞানীয় এবং ভাষার বিকাশ

এই বয়সে আপনার শিশুটি তার বুদ্ধিমত্তা এবং ভাষাগত বিকাশগুলি প্রদর্শন করাতে শুরু করবে।এখানে 20 মাস বয়সী শিশুর উন্নয়নের তালিকা প্রকাশ করা হলঃ

  • আপনার শিশু ধীরে ধীরে তার আধো আধো অস্ফুটো বুলিগুলি আওড়ানো বন্ধ করবে এবং কথা বলতে শুরু করবে সুতরাং এর জন্য আপনি নিজেকে প্রস্তুত রাখুন।কীভাবে কথা বলতে হয়,শব্দের উচ্চারণ করতে হয় তা শেখানোর দ্বারা তাকে ধীরে ধীরে পারদর্শী করে তোলার দিকে নিয়ে চলুন।তাকে বিভিন্ন জিনিসগুলি দেখান এবং সেগুলিকে পৃথক পৃথক করে চিহ্নিত করে তার ব্যাখ্যা করে দিন।
  • আপনি যা বলেন এখন আপনার ছোট্টটি তা বুঝতে পারে এবং তার শব্দভাণ্ডারে এখন 12-15 টি কিম্বা তার থেকেও বেশি শব্দ থাকবে।
  • আপনার ছোট্টটি প্রতিদিনের কাজগুলি সম্পর্কে খুবই কৌতূহলী হয়ে উঠবে এবং বেশিরভাগ সময়েই সে তার সাহায্যের হাত ধার দিতে চাইবে।তাকে প্লেটের উপর চামচ রাখা অথবা খেলনাগুলির বিভিন্ন অংশগুলিকে খুলে ফেলা এবং আবার সেগুলিকে একত্রে ঠিক করে রাখার মত সহজ কাজগুলি অর্পণ করুন।
  • তাকে বসার ঘর থেকে এক জোড়া পায়জামা এনে দিতে বললে সে একদম ঠিক সেই কাজটিই করবে।আপনার সোনা এখন সহজ নির্দেশগুলি বুঝতে পারে এবং এখন তার শব্দভাণ্ডার প্রসারিত হওয়ার কারণে সে জটিল জিনিসগুলিও আরও ভালভাবে বুঝতে ও শিখতে পারে।

আচার আচরণ

এই বয়সে আপনার ছোট্টটি প্রচুর স্নেহ-ভালবাসার প্রত্যাশা করে এবং আপনাকে অনুকরণ করতে পারে।সে তার লোমশ খেলনা হনুমানটিকে কলা এবং অন্যান্য জলখাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করতে পারে অথবা আপনার জুতো পরে আপনাকে নকল করতে পারে।এই বয়সে আপনিই হলেন তার রোল মডেল আর আপনার সকল ক্রিয়াকলাপগুলিই যে সে এই সময় অনুকরণ করতে চাইবে সে ব্যাপারে আপনার এই পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আশ্চর্য হওয়া উচিত নয়।কিছু শিশু আবার প্রায়শই আপনাকে জড়িয়ে ধরতে এবং আলিঙ্গন করতে চাইতে পারে এবং এটি স্বাভাবিক।তাদের প্রতি পর্যাপ্ত মনোযোগ দেওয়া এবং তাদের সাথে কথপোকথনের দ্বারা যোগাযোগ রক্ষা করা নিশ্চিত করুন।কিছু শিশু আবার শোনা শব্দের মত দেবদূত নাও হয়ে উঠতে পারে,তারা তাদের দুর্বার ক্রোধ প্রদর্শন করাতে পারে অথবা মাঝেমধ্যে হঠাৎ তীব্র রাগে ফেটে পড়তেও পারে।এটিই “ভয়াবহ দুই” নামে অভিহিত যেটির সম্পর্কে নিচে বর্ণন করা হল।

ভয়াবহ দুই

ভয়াবহ দুই হল প্রতিটি উত্তরণের একটি রীতি,যদি তা নাও হয়,অধিকাংশ মা-বাবারাই কিন্তু এই ভয়াবহ দুইয়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেন যেটি প্রকাশ পায় জিদপূর্ণ অথবা প্রভাবশালী আচরণের মধ্য দিয়ে।উদাহরণ হিসেবে বলা যাক,আপনি যদি আপনার ছোট্ট সোনাটিকে তার প্রত্যাশার খেলনাটি না কিনে দিয়ে থাকেন আপনার ছোট শিশুটি হয়ত সোজা গিয়ে রাস্তার মাঝে শুয়ে পড়তে পারে অথবা আপনি তাকে যা খেতে দেন তা সোজাসুজি প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যমে আপনার মনের কিনারায় চাপ দিয়ে থাকে।সে হয়ত কেবল তার কর্তৃত্ব এবং সে ব্যাপারে আপনার ধৈর্য্যের সীমা কতখানি তা পরীক্ষা করার জন্যই আপনার কাছে এমন কিছু চেয়ে বসবে যা এর আগে অবধি সে কখনও চায় নি।

ভয়াবহ দুই

খাদ্য এবং পুষ্টি

একজন অভিভাবক হিসেবে,এটি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ যে,আপনার ছোট্ট শিশুটি “পুষ্টি ঘাটতিজনিত ব্যাধি”থেকে ভুগছে না।ঘরের বাইরে সময় কাটানো,শিবিরে এবং চড়ুইভাতি করতে যাওয়া এবং বাড়ির বাইরে সবজিগুলিকে গ্রিলিং করা হল একটি অত্যাশ্চার্যজনক মেজাজ উত্তলনকারী এবং ক্রিয়াকলাপ শিখনের সহায়ককারী।আপনার ছোট্টটিকে দেখান যে সবজিগুলি কোথা থেকে আসে এবং কীভাবেই বা বীজ রোপণ করতে হয়।চাষ করার মূল ব্যাপারটার সাথে তাদের পরিচয় করান এবং শেখান কীভাবে মাছ ধরতে হয়।তাদের খাবারের প্লেটে থাকা খাবারগুলির সাথে সেগুলি কোথা থেকে আসে তার যোগসূত্র স্থাপন করে আপনার ছোট্টটিকে দেখান।তাদের জলের ব্যাপারেও প্রশিক্ষত করে তুলুন এবং কীভাবে সেটির গুণমান পরীক্ষা করতে হয় সেটিও তাকে অবগত করান।কলগুলি ঘুরিয়ে খোলা থেকে শুরু করে তাদের প্লেটের উপর খাবার দেওয়া,স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা সাধারণভাবে খাদ্য এবং পুষ্টির ভিত্তিগত ধারণা তৈরী থেকে শুরু হয়।আপনার ছোট্ট শিশুটি এখন 20 মাস বয়সী শিশুদের খাবার খেতে কম দ্বিধা বোধ করবে যখন সে তার গুরুত্বটি একটু হলেও বুঝতে পারবে।

ঘুমানো

20 মাস বয়সী শিশুদের জন্য উপযুক্ত শয়নকালীন রুটিনগুলি প্রতিষ্ঠা করা হল একটি ভিত্তি প্রস্তর স্বরূপ। আপনার ছোট্টটি সম্ভবত এর মধ্যেই ঘুমের একটি সঠিক রুটিন স্থাপন শুরু করে ফেলবে আর যদি সে ইতিমধ্যে সেটি না করে থাকে তবে আমরা আপনাকে সেটি গঠন করা শুরুর পরামর্শ দিই।ঘুম পাড়ানোর জন্য তাদের দোলা দেওয়া এবং দোলনায় শোয়ানো বন্ধ করে তা ছাড়ানোর চেষ্টা করুন।শোয়ার সময়ে একটি সাধারণ কম্বল ব্যবহার করে কিম্বা ঘুম পাড়ানির গান গাওয়ার দ্বারা কীভাবে তারা নিজেদেরকে সেটির সাথে অভ্যস্ত করে তুলতে পারে তা তাদের দেখান।শোওয়ার 30 মিনিট আগে থেকে তাদের টিভি দেখার খুব বেশি অনুমতি আমরা দিয়ে থাকি না কারণ এটি ঘুমের ধরণগুলিকে ব্যাহত করতে পারে এবং বিশ্রাম নেওয়ার ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

খেলাধূলা এবং ক্রিয়াকলাপ

এখানে কিছু খেলাধূলা এবং 20 মাস বয়সী শিশুদের ক্রিয়াকলাপের উল্লেখ করা হল যেগুলি আপনি আপনার টলটলায়নকারীটির সাথেও প্রয়োগের চেষ্টা করতে পারেন-

  • আপনি যদি একজন প্রকৃত শিল্পী হয়ে থাকেন তবে আপনি আপনার ছোট্টটিকে শেখাতে পারেন কীভাবে ছবি আঁকতে হয়,রঙ করতে এবং শৈল্পিক ভঙ্গিমায় হিজিবিজি কাটতে হয়।আপনার টলটলায়নকারীটি এই সময় থেকে একটি সরল রেখা আঁকতে সক্ষম হবে,আর আঁকা ও রঙ করার মধ্য দিয়ে তাদের সূক্ষ্ম সঞ্চালন দক্ষতার অনুভূতিগুলি নিয়ন্ত্রণ করাকে শান দেওয়ার এটিই হল উপযুক্ত বয়স।
  • আপনার 20 মাস বয়সীটি যদি অন্যদের সাথে খেলার অথবা জিনিস ভাগ নেওয়ার ধারণাটিকে অপছন্দ করে তবে তার সাথে পা দিয়ে আঘাত করে বল খেলতে পারেন অথবা তার সামনে অন্য কোনও দুই ভাই-বোনকে একসাথে খেলতে দেখাতে পারেন।এক্ষেত্রে আপনার সোনা একটি খেলায়/ক্রিয়াকলাপে পরস্পরের সাথে ভাগ করে নেওয়ার উপকারিতাটিকে নিশ্চিতভাবে লক্ষ্য করবে এবং সেই আনন্দ উপভোগ করার জন্য তাতে যোগদান করতে চাইবে।
  • আপনার হাতের মধ্যে যেকোনও একটি ছোট্ট বস্তু বা খেলনা নিয়ে হাতটিকে ধীরে ধীরে মুঠো করে বন্ধ করুন এবং তারপর আপনার হাতগুলিকে আপনার পিছনে নিয়ে যান।এবার আপনার দুটি হাতই মুঠো অবস্থায় তার সামনে এনে আপনার কোন হাতটিতে সেটা আছে তাকে জিজ্ঞাসা করুন।

মা-বাবাদের জন্য পরামর্শ

এখানে এমন বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া হল যেগুলি আপনি আপনার টলমল করে হেঁটে চলা ছোট্টটির ক্ষেত্রে মান্য করার দ্বারা তার বৃদ্ধি এবং বিকাশের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক প্রভাব তৈরী করতে পারেনঃ

  • সীমানা এবং সময়কাল নির্ধারন করুন।যদি আপনার ছোট্টটির জ্যেষ্ঠ ভাই বা বোন কোনও খারাপ উদাহরণ উপস্থাপিত করে আর ছোটটি তা অনুকরণ করে,সেক্ষেত্রে বড়জনকে সেটির পুনরাবৃত্তি করা থেকে বিরত করুন এবং তাকে এটি ব্যাখ্যা করুন যে কীভাবে এটি অন্যদেরকে আঘাত করে/ক্ষতি করে।আর যদি তার কোনও ভাইবোন না থেকে থাকে তবে আপনার ছোট্ট ব্যক্তির সাথে সৌহার্দ্য বজায় রাখুন এবং ব্যাখ্যা করে বোঝান যে আক্রমণাত্মক আচরণটি সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য নয় কেননা এটি ক্ষতিকর এবং বেদনাদায়ক।
  • আপনার ছোট্টটির সাথে নানা ধরনের খেলা করুন।আপনার সোনাকে ঘরে-বাইরে সব রকম খেলাগুলিই শেখানোর চেষ্টা করুন।এটি তার মস্তিষ্ককে উদ্দীপ্ত করবে যা তাকে নতুন অভিজ্ঞতা দেয় এবং তার জ্ঞানীয় এবং আবেগীয় বিকাশের উন্নতিসাধন করে।
  • আপনার ছোট্টটির সময় মত খাওয়া নিশ্চিত করার সাথে তার একবারের খাওয়াও না বাদ যাওয়ার ব্যাপারটিকেও সুনিশ্চিত করুন।
  • একটি যথাযথ শয়নকালীন রুটিন স্থাপন করুন এবং তার সাথে অন্যান্য দৈনন্দিন রুটিনগুলিকেও যথাযথ রক্ষা করাকে নিশ্চিত করুন(যেমন খেলার সময়,দিবাকালের যত্নালয়ে যাওয়া,পার্কে ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদি)।
  • দিনের শেষে একবারে সব পরিষ্কার করুন।এটি আপনার সময় বাঁচাবে এবং কাজের ব্যস্ততার মাঝে হুড়োহুড়ি হওয়ার মত ব্যাপারগুলিকে কাটিয়ে পরিস্থিতি আরও সহজ করে তুলবে।
  • যথাযথভাবে ইতিবাচক আচরণগুলি শক্তিশালী করা এবং নেতিবাচক আচরণগুলি খর্ব করার ক্ষেত্রে আপনার ছোট্টটিকে প্রশংসা করুন।

মা-বাবাদের জন্য পরামর্শ

যদি প্রয়োজন হয় একজন ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন

আপনি আপনার ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন যদিঃ

  • আপনি যদি আপনার ছোট্টটির বিকাশে বিলম্বের কোনও লক্ষণ লক্ষ্য করে থাকেন বিশেষত শারীরিক বিকাশের ক্ষেত্রে
  • আপনার সন্তান সর্বক্ষণ নিশ্চুপ থাকলে এবং কোনও কথা না বলতে পারলে
  • আপনার শিশুটি যদি অন্যদের সাথে কিম্বা নিজে নিজেও না খেলে এবং যেকোনও খেলা এবং এমনকি মজাদার ক্রিয়াকলাপগুলিতেও তার মধ্যে উৎসাহের অভাব দেখা যায়
  • আপনার সন্তানের মধ্যে যদি ক্ষুধামান্দ্য থেকে থাকে এবং আপনি তাকে যাই দেন তার কোনও কিছুই খেতে প্রত্যাখ্যান করে আর পরবর্তীতেও যদি কখনই তার খাওয়ার ইচ্ছে না হয়ে থাকে
  • আপনার ছোট্টটি যদি এখনও অস্পষ্ট ভাষায় কিছু আওড়াতে থাকে এবং আপনার সাধারণ নির্দেশগুলিকেও বুঝতে সক্ষম না হয়
  • আপনার 20 মাস বয়সী ছোট্টটির ওজন যদি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার(WHO) মান/নির্দেশিকাবলী অনুসারে না হয়ে থাকে

কোনও একটি নির্দিষ্ট বাধা-ধরা উপায়ের মধ্য দিয়ে একটি শিশুকে বড় করে তোলা যায় না।প্রতিটি শিশুই অনন্য এবং প্রত্যেকেই তারা নিজের গতিতে বেড়ে ওঠে।মূল বিষয়টি হল এই যে,ইতিবাচক থাকুন,ধৈর্য ধরুন আর তাদের পর্যাপ্ত সময়,ভালবাসা আর পরিচর্যা দিন।ঠিকমত সুঅভ্যাসগুলি গড়ে তোলান এবং তাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সংযম এবং ভারসাম্য রক্ষার দিকে লক্ষ্য রাখুন।আপনি অবশ্যই লক্ষ্য করতে পারবেন যে আপনার ছোট্ট ব্যক্তিটি নিজে থেকেই সুস্থ ভাবে ক্রমশ স্বাস্থ্যকর হয়ে উঠতে শুরু করেছে এবং তার ফলস্বরূপ তার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বৃদ্ধি এবং বিকাশের ক্রম উন্নতি ঘটতে থাকবে।