শিশুদের ঠান্ডা এবং কাশি জন্য ঘরোয়া প্রতিকার

শিশুদের ঠাণ্ডা ও কাশির কিছু প্রতিকার আপনারা বাড়িতেই তৈরি করতে পারেন

ঠান্ডা এবং কাশি স্কুলে অনুপস্থিত জন্য সবচেয়ে সাধারণ কারণ । এগুলির সংক্রমণ সারা বছর ধরেই হতে থাকে । সাধারণ ঠান্ডা জন্য কোন প্রতিকারও নেই । কোন অ্যান্টিবায়োটিক, সিরাপ বা ওষুধ নেই । যাইহোক, তার অল্প সময়ের আগমনের উপশম হিসাবে কিছু ঘরোয়া প্রতিকার আছে । আপনার বাচ্চার জন্য ওষুধের দোকানের অপেক্ষা আপনার রান্নাঘরের এই ধরনের প্রতিকারগুলি কাজে লাগানোটাই ভালো । অনেক বিকল্প আছে, যা কেউ চেষ্টা করতে পারেন এবং এতোগুলি আছে, যে কিছু কিছু পদ্ধতি আপনি বাড়িতেই করতে পারবেন ।

aniview

শিশুদের ঠান্ডা এবং কাশি জন্য ২০টি প্রাকৃতিক প্রতিকার

দুটি ধরণের ঠান্ডা এবং কাশি রয়েছেঃ

  • ভেজা বা সিক্ত
  • শুষ্ক

নাকএবংগলায়কফবাশ্লেষ্মারউপস্থিতিহলভেজাবাসিক্তকাশি।অন্যদিকে, শুকনোঠাণ্ডাওকাশিতেকফথাকেনা।কখনোকখনোএইদু’য়েরজন্যপ্রতিকারওভিন্নহয়।এরজন্যপ্রতিকারেরআগেলক্ষণদেখেঠাণ্ডাওকাশিরধরণনির্ণয়করাজরুরী।

খাবার থেকে ঠাণ্ডা এবং কাশি ধরে না, বাতাসের মাধ্যমে এবং অন্য সংক্রমিত ব্যক্তির স্পর্শ থেকে ছড়ায় । হালকা বাতাস থেকে ঠাণ্ডা আবহাওয়াও সংক্রমণ সৃষ্টি করে না । তবে এই আবহাওয়া জীবাণুর প্রজননের জন্য উপযুক্ত হয়ে ওঠে । সুতরাং, নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং হাত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখা সবার আগে প্রথম কাজ । এবং, যদি আপনার শিশুর ঠাণ্ডা লাগে বা কাশি হয়, তাহলে আপনি চিন্তাভাবনা না করে তড়িঘড়ি কিছু করার আগে, এই প্রাকৃতিক প্রতিকারগুলি থাকল ।

গুরুত্বপূর্ণ: শিশু বড় হওয়ার সাথে সাথে, রোগপ্রতিরোধ পদ্ধতি, পাচনতন্ত্র এবং শ্বসনতন্ত্রেরও বিকাশ ঘটে । একজন সদ্যজাত শিশুর জন্য প্রতিকার একজন এক বছর বয়সী শিশুর জন্য যথেষ্ট হবে না । যাইহোক, কিছু প্রতিকার প্রাপ্তবয়স্ক থেকে সদ্যজাত, সবার ক্ষেত্রেই কাজ করে ।

নবজাতকদের জন্য প্রতিকার

১) মায়ের দুধ

একজনসদ্যজাতমানুষেরএকমাত্রপ্রাকৃতিকখাদ্যহলমায়েরদুধ, এরথেকেবড়কোনপ্রতিকার, কোননিরাময়নেই।৬মাসেরকমবয়সীশিশুদেরক্ষেত্রেএটিযেকোনোসংক্রমণেরপ্রতিকারহিসাবেকাজকরে।একজনঅশক্ত, নড়বড়েশিশু, যেতারমায়েরস্পর্শছাড়াআরকিছুইবোঝেনা, নিয়মিতখাওয়ানোতারক্ষেত্রেআরামদায়কহয়।

২) নাকের ড্রপ

এটিএমনশিশুদেরজন্যখুবভালো, জাদেরনাকবন্ধহয়েরয়েছে।আপনারশিশুরোগ-বিশেষজ্ঞস্থানীয়ভাবেসুলভকাউন্টারনাসালড্রপসসম্পর্কেআপনাকেসাহায্যকরবেন।

তবে জরুরী অবস্থার ক্ষেত্রে আপনি বাড়িতেই স্যালাইন ড্রপ তৈরি করতে পারেন:

একটি জীবাণুমুক্ত চামচ ব্যবহার করে, একটি জীবাণুমুক্ত বাটিতে হাফ চা-চামচ লবন এবং ৮ চা-চামচ ফিল্টার করা গরম জল মেশান ।

নোট: আপনি নির্ধারিত পরিমাণ ড্রপ দেওয়ার সময় শিশুর মাথা উপর দিকে কাত করে রাখুন । যাতে স্যালাইন বেরিয়ে না আসে, তার জন্যই এই কাজ করতে হবে । এছাড়াও, শুধুমাত্র জরুরী অবস্থায় বাড়িতে তৈরি স্যালাইন ব্যবহার করুন, কারণ এটিতে ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে ।

৩) নাকের বাতশোষক

অ্যাস্পিরেটর আপনার শিশুর কোন জ্বালার অনুভূতি বা ক্ষতি না করে দ্রুত কফ বা শ্লেষ্মা শুষে নেবে

যদি আপনার সন্তানের ভারী নাক বন্ধে ভোগে, এবং, আপনার শিশুর প্রতিবার ঠান্ডা সংক্রমনের সময় এটি একটি নিয়মিত ব্যাপার । তাই নাকের বাতশোষক বা অ্যাস্পিরেটর কিনে নেওয়াটা ভালো কাজ হবে । যেহেতু সচেতনভাবে হাঁচার জন্য আপনার শিশু এখনও অনেক ছোট, নাকের বাতশোষক বা অ্যাস্পিরেটর আপনার শিশুর কোন জ্বালার অনুভূতি বা ক্ষতি না করে দ্রুত কফ বা শ্লেষ্মা শুষে নেবে ।

৪) হলুদ

হলুদ বা হলদী শতাব্দী ধরে প্রচলিত একটি রোগনিরাময় ক্ষমতা । এমনকি আজও ভারতীয় প্রতিকারগুলির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে । গরম জলের সঙ্গে অল্প একটু হলুদ মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন, এটি শিশুর বুকে, কপাল এবং পায়ের পাতার তলায় প্রয়োগ করুন । কিছুক্ষণ পরে ধুয়ে ফেলুন । হলুদ থেকে বেরুনো তাপটি শ্লেষ্মাকে পাতলা করতে এবং বের করে দিতে সাহায্য করবে ।

৫) গরম সর্ষের তেলের মালিশ

দুইকোয়ারসুনএবংকিছুকালোঞ্জিবীজসহএককাপসরষেরতেলগরমকরুন।এটিশিশুরপায়েরপাতা, বুকএবংহাতেরতালুতেমালিশকরুন।নরমকাপরদিয়েঅতিরিক্ততেলমুছেফেলুন।

নয় মাসের কাছাকাছি বয়সী বাচ্চাদের জন্য প্রতিকার

৬) গুড়, জিরে, গোলমরিচ এবং গরম জলের মিশ্রণ

এই মিশ্রণটি ঠাণ্ডা, কাশি এবং গলায় ব্যাথায় আরাম দেয় ।

আপনার লাগবেঃ

  • গুড়- ১ অথবা ২ চামচ,
  • গোলমরিচ- ১ থেকে ২টি,
  • জিরে- এক চিমটি,
  • জল- ১ কাপ ।

সবউপকরণমিশিয়েনিনএবংজলেফুটিয়েনিন।ওইজলঠাণ্ডাকরেএবংছেঁকেখাওয়াতেহবে।আপনারশিশুকেএইমিশ্রণের২চা-চামচেরবেশিদেবেননা, কারণগুড়এবংগোলমরিচেতাপথাকে, যেটাশিশুরক্ষেত্রেভালোতবেঅল্পপরিমাণে।

৭) ঔষধিযুক্ত নারকেল তেলের মালিশ

আপনার লাগবেঃ

  • ১/২ কাপ নারকেল তেল,
  • এক ভাগ পেঁয়াজ,
  • ২-৩টি তুলসী পাতা,
  • ১টি পান পাতার বোঁটা ।

নারকেলতেলগরমকরুনএবংতাতেবাকিউপাদানগুলিদিন।যখনউপাদানগুলিযথেষ্টগরমহয়েযাবে, তখনস্টোভবন্ধকরেদিন।এটাঠাণ্ডাহতেদিনএবংহালকাউষ্ণতাপমাত্রায়এটাআপনারশিশুরবুকে, পিঠ, পায়েরপাতারতলায়এবংহাতেরতালুতেমালিশকরুন।

দ্রষ্টব্যঃ যদিও সাধারণভাবে এতে এক চিমটি কর্পূর যোগ করা হয়, তবে দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কর্পূর ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয় নয় । গবেষণা বলে যে, কর্পূর খুব শক্তিশালী এবং তীব্র এবং আরো বেশি শ্লেষ্মা তৈরি করে দেয় । তীব্র গন্ধ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে শরীর এই পদ্ধতি নেয় ।

এক বছরের উপরে শিশুদের জন্য প্রতিকার

৮) মধুর মিশ্রণ

মধু ঠান্ডা এবং কাশি-এর জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করতে একটি চমৎকার উত্স

এক বছরের চেয়ে ছোট শিশুদের জন্য মধু এড়িয়ে চলা উচিত । এক বছরের কম বয়সী শিশুদেরকে মধু দেওয়া যায় না, কারণ এটি তাদের জন্য ক্ষতিকর । কাঁচা মধুর কিছু কণা দ্রবীভূত করার হজম-ক্ষমতা তাদের নেই । যাইহোক, একবার তারা ১২ মাস বয়সী হলে, তারা মধু খাওয়ার মতো যথেষ্ট পাচন ক্ষমতা অর্জন করে । মধু ঠান্ডা এবং কাশি-এর জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করতে একটি চমৎকার উত্স । মধু গোলমরিচ, শুকনো আদা, লেবুর রস দিয়ে মেশানো যেতে পারে ।

  • মধু এবং গোলমরিচঃ ১ চিমটি গোলমরিচ গুঁড়ো এবং ১ চামচ মধুতে যোগ করুন এবং নিয়ম করে বিরতি দিয়ে আপনার শিশুকে খাওয়ান । এটি ঠাণ্ডা এবং কাশি, দুইয়ের জন্যই উপকারী ।
  • মধু এবং শুকনো আদাঃ ১ চুটকি শুকনো আদা গুঁড়োর সঙ্গে ১ টেবিল চামচ মধু কাশির জন্য খুব ভালো প্রতিকার ।
  • লেবু এবং মধুঃ এক গ্লাস জলে লেবুর কিছুটা রস নিঙড়ে দিন এবং এতে মধু মেশান । এটি একটি সুস্বাদু প্রতিকার এবং সাধারণত আনন্দ সঙ্গে খাওয়া হয় । এটি কাশি এবং ঠান্ডা উভয়ের উপশম করে ।

প্রতিদিন সকালে, দুপুরে এবং সন্ধ্যায় এক চা-চামচ করে খাওয়ান । এমনকি দিনে তিনবারের বেশিও হতে পারে । আপনি শীঘ্রই পরিষ্কার নাক এবং কম কাশি লক্ষ্য করবেন ।

৯) হলুদযুক্ত দুধ

“হলদী দুধ”-এর কথা সবাই শুনেছেন । শুষ্ক কাশি জন্য হলুদযুক্ত দুধ আবশ্যক । রাতে একটি চিমটি হলুদের সঙ্গে এক গ্লাস দুধ আপনার শিশুকে দিন । মিষ্টি হওয়ার জন্য গুড় যোগ করতে পারেন । দুধ এবং হলুদ একটি পুষ্টি-ভরা সুস্থ জলখাবার ।

১০) খিচুড়ি এবং স্যুপ

কঠিন খাবার খাওয়া কষ্টকর হতে পারে, তাই স্যুপ এবং খিচুড়ি শিশুদের জন্য খাবারের চমৎকার পরিপূরক হতে পারে । এটি শান্তিদায়ক, সান্ত্বনাদায়ক এবং সবরকম ঠাণ্ডা ও কফ বের করে দেয় ।

১১) ভিটামিন-সি জ্যুস

শিশুকেনিয়মিতভিটামিন-সিসমৃদ্ধজ্যুসদিন, যেমন- পাতিলেবু, কমলালেবুঅথবাআমলা।ভিটামিন-সিঠাণ্ডারজীবাণুরসঙ্গেলড়াইকরে।তবে, যদিআপনারসন্তানগলায়ব্যাথায়ভোগে, তাহলেএটাএড়িয়েচলুন।

১২) “চুক্কু কফি” বা শুকনো আদা সহ কফি

না।এতেকোনকফিথাকেনা।হ্যাঁ, আপনি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বাকি উপাদানগুলির সঙ্গে কফি যোগ করতে পারেন, কিন্তু শিশুদের জন্য এটি বাদ দেওয়া হয় । এটি একটি ঐতিহ্যবাহী পানীয় যা কেরালায় উদ্ভূত । এতে যে সব উপাদান থাকে, সেগুলি ঠান্ডা এবং কাশিবিরোধী।

এখানে ‘চুক্কু’ কাপি বা শুকনো আদার কাপির রেসিপি থাকল ।

  • শুকনো আদা (চুক্কু)- ১ ইঞ্চির পিস ।
  • তুলসী পাতা- ৬ থেকে ৭টা (কুচি করা)
  • গোলমরিচ- ২টো
  • গুড়- ১ টেবিল চামচ (আরও মিষ্টি করতে বেশি দিতে পারেন)
  • জল- ১ কাপ ।

শুকনোআদাওগোলমরিচএকটুদানাদানাকরেগুঁড়োকরেনিন।গুড়, শুকনোআদা, গোলমরিচএবংতুলসীপাতারকুচিদিয়েজলফুটিয়েনিন।এটাকেফুটতেদিনএবংআঁচবন্ধকরেদিন।এইমিশ্রণটিছেঁকেনিনএবংহালকাগরমঅবস্থায়ওইচুক্কাকাপিআপনারশিশুকেখাওয়ান।

১৩) গারগেলকরা

গলারব্যাথাওকফথেকেআরামদিতে, হালকাগরমশুধুজলঅথবালবনজলদিয়েআপনারশিশুকেদিনেদুইথেকেতিনবারগারগেলকরান।নিয়মিতকরলেদ্রুতফলপাওয়াযাবে।

সব বয়সের শিশুদের জন্য সাধারণ প্রতিকার

১৪) স্টিম বা বাষ্প

শিশুদেরআরামদিতেএবংবন্ধনাকথেকেমুক্তিদিতেএটিএকটিপ্রাকৃতিকউপায়।বাথরুমেরগরমসাওয়ার/ ট্যাপচালিয়েবাষ্পেভরেদিন।জলবন্ধকরারপর, সদ্যজাতশিশুকেভিতরেনিয়েআসুন।আপনারকাছেএইবাষ্পহালকালাগতেপারে, কিন্তুএকজনসদ্যজাতেরকাছেএটিএকদমউপযুক্ত।বাষ্পেরশ্বাসগ্রহণআরওবড়শিশুবাবাচ্চাদেরক্ষেত্রেওকাজেলাগানোযেতেপারে।কোনপাত্রেফোটানোজলব্যবহারকরাএড়িয়েচলুন।এটাদুর্ঘটনাপ্রবণএবংবিপজ্জনকহতেপারে।স্টিমইনহেলেটরকিনেনিন।

১৫) হেড এলেভেশন (মাথা উঁচু করে রাখা)

বাচ্চারমাথাউঁচুকরেরাখলে, নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসেরপ্রবাহনিরবিচ্ছিনথাকতেসাহায্যকরে।এটিশ্লেষ্মারফলেনাকবন্ধহয়েথাকলে, সেখানেসাহায্যকরে।

১৬) ভিক্স ভেপর

দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ভিক্স ভেপর ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ নয় । সাধারণ ভিক্সের উপাদানগুলি শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি তীব্র হয়, যার ফলে শরীর ওই তীব্রতা থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য আরও শ্লেষ্মা উৎপন্ন করে । যাইহোক, দুই বছরের উপরে কোন শিশুর জন্য, সাধারণ ভিক্স ভেপর ব্যবহার করতে পারেন । বেবি ভিক্স এমন পণ্য, যা দুই বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের জন্য নিরাপদ, বিশেষত হালকা উপাদানগুলি দিয়ে তৈরি করা হয় । পায়ের পাতার তলায়, বুকের উপর এবং পিঠে বেবি ভিক্স প্রয়োগ করলে, এটি কবজের মতো কাজ করে । খুব বেশী ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন, এবং এটি একটি রাতে গভীর ঘুমের জন্য সাহায্য করে । যাইহোক, দুই বছরের উপরের যে কারো ক্ষেত্রে, সাধারণ ভিক্স ব্যবহার করতে পারেন ।

১৭) জলের মিশ্রণ

যদি আপনার বাচ্চা ছয় মাসের উপরের হয় অথবা পানীয় জলের সঙ্গে পরিচিত হয়, তাহলে নিশ্চিত করুন যে, শিশু নিয়মিত বিরতিতে জোয়ান, জিরে বা তুলসীর জল পান করে । এক চামচ জোয়ান / জিরে বীজ বা তুলসীর পাতা দিয়ে ফিল্টার করা জল ফোটান । এই জল ছেঁকে নিন এবং হালকা উষ্ণ তাপমাত্রা হওয়া পর বোতলে ভরে নিন ।

১৮) উপযুক্ত জামাকাপড়

আগে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিবেশ ঠান্ডা এবং কাশি জীবাণুর জন্য প্রজননকাল হয়ে ওঠে । শিশুর যদি শুধুমাত্র ঠান্ডা এবং কাশি হয়, তবে তাদের ঢাকা দিয়ে এবং গরম রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয় । যদি তাদের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে, তাহলে এর বিপরীতটা ভাল কাজ করে । যদি আগে হেকেই উচ্চ তাপমাত্রায় ভোগে, তাহলে তা আর না বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয় । আলগা পাতলা কাপড় একটি পরিমাণ তাপমাত্রা অপসারণ করতে সাহায্য করবে ।

১৯) জলের চাহিদা পূরণ করা

হালকা গরম জল, বুকের দুধ তা অন্য তরল দিয়ে আপনার শিশুর শরীরের জলের চাহিদা সবসময় পূর্ণ রাখতে হবে । সম্ভাবনা হ’ল, সংক্রামিত হবার পর শিশুটি কঠিন খাবার খাওয়ায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে না । তাই তরল খাবার পুষ্টিতে সাথে সাহায্য করবে এবং রোগপ্রতিরোধ প্রক্রিয়াতেও সহায়তা করবে ।

২০) আরাম বা বিশ্রাম

আপনারশিশুকেবেশিচাপদেবেননা।বাবা-মাহিসাবে, আমরাশেষপর্যন্তএটাইকরি।যদিআপনারশিশুকিছুকরতেনাচায়, আপনিঅন্যকিছুচেষ্টাকরুণ।এছাড়াও, কঠিনখাবারজোরকরেনাখাইয়ে, কিছুস্যুপঅথবাখিচুড়িবাফলদিয়েএরবিকল্পচেষ্টাকরুন।

কিছু করনীয় ও নিষেধ

  • বয়স অনুযায়ী প্রতিকার ব্যবহার করুন ।
  • ঠান্ডা বা কাশি অবহেলা করবেন না; এটি নিউমোনিয়া মতো আরো গুরুতর কিছু হতে পারে ।
  • শিশু কান্নাকাটি বন্ধ না করলে, প্যানিক করবেন না বা অস্থির হবেন না ।
  • রাতে প্রতিকারগুলি হাতের কাছে প্রস্তুত রাখুন ।
  • সবুজশ্লেষ্মারমতোঅস্বাভাবিককিছুলক্ষ্যকরলেকোনশিশুবিশেষজ্ঞেরপরামর্শনিন।
  • উচ্চ জ্বর অবহেলা করবেন না এবং অবিলম্বে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন ।
  • আপনার শিশুর অ্যালার্জি নেই এমন উপাদানগুলি ব্যবহার করার কথা মাথায় রাখবেন ।
  • ঘরের তাপমাত্রার কম তাপমাত্রাযুক্ত কোন তরল দেবেন না ।

সঙ্গতিবাসমন্বয়ইহলচাবিকাঠি।আপনিযেপদ্ধতিগুলিব্যবহারকরেন, সেগুলিকীভাবেকাজকরছেকিনাএবংশিশুদেরআরামদিচ্ছেকিনা, সেইব্যাপারেসতর্কথাকুন, কাজকরলেসেগুলিচালিয়েযান।যদিকোনজিনিসশ্লেষ্মাবাকফবাড়িয়েদেয়(যদিতীব্রতাশিশুরক্ষেত্রেঅত্যাধিকবেশিহয়, তাহলেএটাঘটে), এটিএড়িয়েচলুন।

যদি ঠান্ডা বা কাশি এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে থাকে, তবে এটি সাধারণ সর্দি অথবা অন্য কিছুর উপসর্গ কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য শিশুবিশেষজ্ঞের সঙ্গে দেখা করুন ।

একটি সাধারণ মন্তব্য, একটি সম্পূর্ণরূপে বিকশিত রোগপ্রতিরোধ প্রক্রিয়া এবং শ্বাসযন্ত্রের প্রক্রিয়ার অভাবের কারণে শিশুদের ঠান্ডা এবং কাশি হওয়ার প্রবণতা বেশি । তারা বড় হচ্ছে । তাদের বছরে সাধারণত ৬ থেকে ১২ বার ঠাণ্ডা লাগে । সুতরাং, এটি একটি নিয়মিত অযাচিত অতিথি হবে । ঔষধি এবং স্টিমার (বয়সের উপযুক্ত) ব্যবহারে উপকার হবে, এবং ভারতীয়দের ঘরোয়া প্রতিকারের প্রাথমিক চিকিৎসার বক্স শিশুদের ঠান্ডা এবং কাশি জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করবে ।