শিশুদের বুকে সর্দি বসে যাওয়া-কারণ,লক্ষণ এবং ঘরোয়া প্রতিকার সমূহ

শিশুদের বুকে সর্দি বসে যাওয়া-কারণ,লক্ষণ এবং ঘরোয়া প্রতিকার সমূহ

যখন আবহাওয়া পরিবর্তন হতে শুরু করে,শিশুরা সহজেই ঠাণ্ডা লাগায় আক্রান্ত হয়।তারা বুকে সর্দি বসে যাওয়া থেকে ভুগতে পারে।তবে এটা প্রাণ-সংশয়কারী নয়।অসুস্থ হয়ে পড়াটা আপনার ছোট্ট সোনার জন্য একটা কঠোর পরীক্ষা হতে পারে এবং তার ভাল হয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন আপনার ভালোবাসা এবং পূর্ণ সমর্থন।প্রথমে বুঝে নেওয়া যাক,বুকে সর্দি বসে যাওয়াটা আসলে কিঃ

aniview

বুকে সর্দি বসে যাওয়া আসলে কি?

শ্বসনতন্ত্রের ভিতরের আস্তরণটি ঝিল্লি দ্বারা গঠিত যা একটা ঘন এবং চটচটে তরল উৎপন্ন করে যা মিউকাস বা শ্লেষ্মা নামে পরিচিত।যখন বাইরের বস্তুগুলি যেমন ধূলিকণা অথবা ধোঁয়া দেহের ভিতরে প্রবেশ করে,এই আস্তরণটি মিউকাস নিঃসরণ শুরু করে।এটি সঠিকভাবে ঘটে যখন বাচ্চার ঠাণ্ডা লাগে ও সর্দি হয়ে থাকে।এই জমে থাকা মিউকাসকে অপসারণে ব্যর্থ হলে বুকে সর্দি বসে যায়।

শিশুদের বুকে সর্দি বসার কারণ সমূহ

এখানে বুকে সর্দি বসার কিছু সাধারণ কারণ দেওয়া হলঃ

1.সাধারণ সর্দি

যখন প্রচুর পরিমাণে শ্লেষ্মা গঠিত হয় তখন সাধারণ সর্দি এক অন্যতম সন্দেহের তালিকায় পরে।এই শ্লেষ্মা বুকে নেমে আসতে পারে।শিশুরা কাশির সাথে কফ বের করে দেওয়ার ধারণার সাথে পরিচিত না হওয়ার কারণে,তাদের সর্দি বসে যায়।

2.দুর্বল অনাক্রম্যতা

প্রাপ্তবয়স্কের তুলনায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা দুর্বল প্রকৃতির হয়,যার ফলে,তাদের চট করে ঠাণ্ডা লেগে যায় এবং বুকে সর্দি বসে যায়।

3.উত্তেজক পদার্থ

উত্তেজক পদার্থ

উত্তেজক পদার্থ যেমন সিগারেটের ধোঁয়া,গাড়ির কালো ধোঁয়া এবং রান্নার ধোঁয়া একগুলি শ্বসনতন্ত্র্কে প্রভাবিত করতে পারে এবং যা শিশুর বুকে সর্দি বসে যাওয়ার কারণ।

4.অ্যাস্থেমা

যদি আপনার সন্তান অ্যাস্থেমায় ভুগে থাকে,তার মধ্যে বুকে সর্দি বসে যাওয়ার সন্দেহ থাকে।

5.নির্ধারিত সময়ের পূর্বে জন্ম

অকাল প্রসবিত শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব দুর্বল প্রকৃতির হয়।যা তাদের মধ্যে সহজেই বুকে সর্দি বসে যাওয়ার মত সংক্রমণের প্রবণতা তৈরী করে।

শিশুদের বুকে সর্দি বসে যাওয়ার লক্ষণ এবং উপসর্গগুলি

নিম্নলিখিত লক্ষণ এবং উপসর্গগুলির দিকে লক্ষ্য রাখুন যেগুলি বুকে সর্দি বসে যাওয়ার সংকেত হতে পারেঃ

1.শ্বাসকার্যের সমস্যা

আপনার বাচ্চার বুকে যদি সর্দি বসে থাকে তবে তার শ্বাস প্রশ্বাসের ধরণটি সম্ভবত পরিবর্তিত হতে পারে।আপনি যদি তাকে সমস্যার সাথে জোরে জোরে ভারী নিশ্বাস ফেলতে দেখেন,তবে সেক্ষেত্রে সম্ভবত এটি বুকে সর্দি বসে যাওয়ার ঘটনা হতে পারে।

2.কাশি

আপনার বাচ্চার যদি কাশি থাকে,এটা সম্ভবত তার বুকে প্রচুর মিউকাস বা শ্লেষ্মা জমে আছে।যার ফলে সহজেই বুকে সর্দি বসে যেতে পারে।

3.জ্বর

দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে শরীর যেকোনও সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার চেষ্টা করবে যেহেতু এটি রোগ প্রতিরোধক কোষগুলির কার্যকারীতায় সহায়ক হিসেবে পরিচিত।

4.মনমরা বা খেয়ালী

শিশুদের মধ্যে থাকা অস্বস্তি তাদের ঘ্যানঘ্যানে এবং খিটখিটে করে তুলতে পারে।যদি আপনি আপনার বাচ্চার মেজাজের হঠাৎ কোনও পরিবর্তন লক্ষ্য করেন,পরীক্ষা করে নিন সেটা বুকে সর্দি বসার কারণে কিনা।

5.অনিদ্রা

নাক বন্ধ এবং জমে যাওয়া নাক নিয়ে ঘুমানো প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি ছোট শিশুদের কাছেও একটা কঠোর পরীক্ষা সরূপ।যদি আপনার বাচ্চা ভাল ভাবে ঘুমাতে না পারে,এটি তার বুকে সর্দি বসার উপসর্গের নিকটবর্তী হতে পারে।

6.ক্ষুধামান্দ্য

একটি জমে যাওয়া নাক ঘ্রাণেন্দ্রিয়ে প্রভাব ফেলতে পারে এবং শিশুদের মধ্যে কম খেতে চাওয়ার ইচ্ছে তৈরী করতে পারে।সুতরাং যদি আপনার বাচ্চা ভাল ভাবে না খেতে চায়,সে হয়ত বুকে সর্দি বসে যাওয়ায় ভুগছে।

সতর্ক সংকেত

যখন বুকে সর্দি বসে যাওয়া এবং ঠান্ডা লেগে যাওয়া দুটোই একসাথে ঘটে থাকে, ডাক্তারকে দেখানোর প্রয়োজন সাধারণত হয় না।বুকে হালকা সর্দি বসলে,ঘরোয়া প্রতিকারের সাথে যথাযথ যত্নই সেটি নিরাময়ার জন্য যথেষ্ট।যাইহোক,নিম্নলিখিত সতর্ক সংকেত গুলির ক্ষেত্রে আপনার সন্তানকে ডাক্তারখানায় নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

1.শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা

এটি হতে পারে বুকে গুরুতর সর্দি জমে যাওয়ার ফলে এবং শ্বাস নালী অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে।যদি অক্সিজেন সরবরাহ খুব কমে যায়,তার ঠোঁটগুলি নীল হয়ে যেতে পারে।সে ঘোঁৎ ঘোঁৎ করতে পারে,কেঁদে উঠতে পারে এবং তার নাসারন্ধ্র ফুলে উঠতে পারে।এইরকম পরিস্থিতিতে ডাক্তারী মনোনিবেশের প্রয়োজন।

2.ডিহাইড্রেশন বা জলবিয়োজন

যদি আপনার সন্তান মারাত্মক ভাবে ডিহাইড্রেট হয়ে থাকে,তার মিউকাস বা শ্লেষ্মা ঘন হয়ে যাবে এবং তা বুকের ভিতরে বাসা বাঁধবে।

বুকে সর্দি বসার চিকিৎসা

বুকে সর্দি বসার চিকিৎসা
বুকে সর্দি বসার বিভিন্ন প্রতিকারের দিকে আপনি নজর দিতে পারেন, যেমন উষ্ণ গরম তেলের মালিশ আপনার সন্তানের উপসর্গগুলির উপশম করে এবং শ্লেষ্মা বাইরে নির্গত করতে সাহায্য করে।

শিশুদের বুকে সর্দি বসার ঘরোয়া প্রতিকারগুলি

দেখা গেছে বুকে সর্দি বসা থেকে মুক্তি দিতে ঘরোয়া প্রতিকারগুলি ভীষণ কার্যকর।এখানে সেগুলির মধ্যে কয়েকটি দেওয়া হলঃ

1.ভাপ নেওয়া

তাৎক্ষণিক উপশমের জন্য এটি একটি কার্যকর পদ্ধতি,ভাপ নেওয়ার ফলে তা বুকের ভিতরের শ্লেষ্মাকে শিথিল করতে সাহায্য করে।অতিরিক্তভাবে,এটি নাসারন্ধ্রে আদ্রতা বজায় রাখে এবং শ্লেষ্মার শুকিয়ে যাওয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে,যা বায়ু চলাচলের পথকে অবরুদ্ধ করতে পারে।আপনার বাচ্চার ঘরে একটি ভেপারাইজার বা একটি হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন।এই যন্ত্রাংশগুলি বাতাসে আদ্রতা সংযোজন করে এবং স্বস্তি সরবরাহ করে।বিকল্প রূপে,আপনি আপনার বাচ্চাকে বাষ্পে পূর্ণ বাথরুমের মধ্যে নিয়ে যেতে পারেন।

2.জোয়ান এবং রসুনের পুটলি

একটা চাটুর মধ্যে কিছু জোয়ান এবং রসুনকে গরম করুন যতক্ষণ না এটি সামান্য গরম হয়ে যায় এবং এগুলিকে এক টুকরো কাপড়ের মধ্যে মুড়িয়ে পুঁটলি বেঁধে নিন। এটিকে আপনি আপনার শিশুর বুকের উপর প্রয়োগ করুন তাকে বুকে বসা সর্দি থেকে উপশম দেওয়ার জন্য।অতিরিক্ত গরম মিশ্রণটিকে ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন কারণ এটি আপনার শিশুর ত্বক পুড়িয়ে দিতে পারে।

3.স্তন দুধ পান করান

যদি আপনার বাচ্চা ছয় মাসের কম বয়সী হয়ে থাকে স্তন দুধ পান তার শরীরের রক্ষণাবেক্ষণ করবে।ওভার দ্য কাউন্টার বড়িগুলির তুলনায় স্তন দুধ বেশী ভাল কাজ করে।যেহেতু এটি আপনার বাচ্চাকে হাইড্রেট করে রাখে,তার পুষ্টির প্রয়োজনীয়তার যত্ন নেয় এবং স্তন দুধ মধ্যস্থ অ্যান্টিবডিগুলি সংক্রমণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

4.মাথা উঁচু করে রাখুন

এটি নাক দিয়ে শ্লেষ্মা নিষ্কাশনে সাহায্য করে এবং বুক পরিষ্কার করে।আপনার বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় অথবা তার ঘুমের মধ্যে সর্বদা তার মাথাকে উঁচু করে রাখুন।

5.সরষের তেলের মালিশ

এটি দ্বিতীয় প্রতিকারের একটি বৈকল্পিক।আপনি কালো জিরে এবং রসুনের সাথে সরষের তেলকে গরম করে নি‍য়ে ব্যবহার করতে পারেন এবং সেটি আপনার বাচ্চার বুকে মালিশ করুন।এটি প্রয়োগের সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন যেহেতু গরম তেল আপনার বাচ্চার ত্বককে পুড়িয়ে ফেলতে পারে।

6.পিঠে চাপ দিন

আপনার বাচ্চাকে এমন উপায়ে আপনার কোলে তুলে নিন যাতে তার পিঠের দিকটা আপনার দিকে থাকে।এক হাতে ঘাড়ের খাঁজটি ধরুন।এবার,আপনার ফাঁকা হাতটি ব্যবহার করে ধীরে ধীরে তার পিঠের উপর চাপ দিতে থাকুন এবং এইভাবে তার বুকেতে জমে থাকা শ্লেষ্মাকে শিথিল করুন।

7.ভিক্স

তার পায়ের তলায় ভিক্সের বাষ্প প্রয়োগ করুন এবং মোজা পরিয়ে দিন,এটি বুকে সর্দি বসে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করে।এটি করার সবথেকে ভাল সময় হল রাত্রিবেলায়।এই ভিক্স প্রয়োগ করার পর তাকে হাঁটতে দেওয়া এড়িয়ে চলুন।

8.হলুদ

হলুদের মধ্যে থাকে কারকিউমিন যা শরীরের ভিতরে জমে থাকা শ্লেষ্মাকে অপসারিত করতে সাহায্য করে।এটিকে ইষদুষ্ণ জলের মধ্যে এক চিমটে গোলমরিচ গুঁড়োর সাথে যোগ করা যেতে পারে।খুব বেশি মাত্রায় হলুদ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন কারণ এটি থেকে গা গুলিয়ে যেতে পারে।

9.মৌরি বীজ

বুকে সর্দি বসে যাওয়ার উপসর্গগুলি থেকে মুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে মৌরি বীজ খুবই কার্যকর এবং এর জানা কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।এটিকে কাঁচা চিবানো যেতে পারে,সাঁতলিয়ে নিয়ে,জলে ভিজিয়ে নিয়ে অথবা এমনকি,এটি যখন শুকনো খোলায় ভাজা হয় তার ঘ্রাণ শ্বাস নেওয়া যায়।

10.কাশিতে উৎসাহিত করুন

বহু বাবা-মায়েরাই কাশি হওয়ার বিষয়ে অবগত নন যে এটি এমনকি শিশুদের বুকে বসে যাওয়া সর্দির চিকিৎসায় ভীষণ ভাবে ভাল।এর কারণ এটি অন্তরস্থ শ্লেষ্মাকে বহিষ্কার করতে সাহায্য করে এবং পুনরায় আবার জমে যাওয়া থেকে এড়িয়ে চলে।

11.চিকেন নুডল স্যুপ

বুকের সর্দি নিরাময়ে সুপ্রাচীন কাল থেকেই চিকেন নুডল স্যুপ ব্যবহার হয়ে আসছে। এটি ফুসফুস থেকে মিউকাসকে অপসারিত করে পরিষ্কার করে দেয়,প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে এবং এটি হজম করতে খুব কম শক্তির প্রয়োজন হয়।

12.লেবু এবং মধু

শরীরের ভিতরে জমে থাকা কফকে শিথিল হতে সাহায্য করতে লেবু এবং মধু দুর্দান্ত।লেবু আবার ভিটামিন C সমৃদ্ধ যা আবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।যাইহোক, যদি আপনার বাচ্চা এক বছরের কম বয়সী হয়ে থাকে তাকে এটি খাওয়াবেন না।মধুর মধ্যে থাকতে পারে ব্যাকটেরিয়া জীবাণু,যা পাকস্থলীতে গিয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে এবং শিশুর পাচন তন্ত্রকে শেষ করে দেয়।এই পরিস্থিতিটি ইনফ্যান্ট বটুলিজম নামে পরিচিত এবং মারাত্মক প্রমাণিত হতে পারে।

13.পিঁয়াজের রস

একটা পিঁয়াজকে ঘষে নিন এবং তার রসকে ইষদুষ্ণ জলের সাথে যোগ করুন। পিঁয়াজের মধ্যে আছে সালফার এবং কার্সেটিন যা শ্লেষ্মা উৎপন্ন হওয়া কমাতে সাহায্য করে।এছাড়াও এর মধ্যে আছে জীবাণু বিরোধী বৈশিষ্ট্যগুলি যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করে।

14.মূলা

মূলার রসে উপস্থিত যৌগগুলি বুকে বসে যাওয়া সর্দিকে সহজ করে তোলে।এটিকে হয় সরাসরি খেতে হবে অথবা এর নির্যাসিত তেল বাচ্চার বুকের উপর প্রয়োগ করা যেতে পারে।

15.আদা

আদার মধ্যে আছে প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য এবং এর মধ্যে থাকে পলিফেনল যা আপনার বাচ্চাকে বুকে বসে যাওয়া সর্দি থেকে উপশম দেয়।আপনি একটা বড় টুকরোর আদা আপনার বাচ্চাকে দিতে পারেন তার মুখে সেটি আটকে থাকার জন্য;যদি সে এক বছরের বেশী বয়সী হয়ে থাকে তবে তাকে আদার সাথে মধু মিশিয়ে দিতে পারেন।

16.স্যালাইন ড্রপ

বুকে সর্দি বসে যাওয়া থেকে আবার কিছু বাচ্চার নাক জমে যেতে অথবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।এটা যদি ঘটে থাকে,স্যালাইন ড্রপ কিনুন,লবণ জল প্রস্তুত করুন অথবা কিছুটা বুকের দুধ ব্যবহার করুন।এই দ্রবণের কয়েক ফোঁটা করে প্রত্যেক নাসারন্ধ্রের মধ্যে দিন এবং তারপর একটা বাল্ব সিরিঞ্জের সাহায্যে শ্লেষ্মা টেনে বের করে দিন।এই পদ্ধতিটি ছয় মাস বয়সী শিশুর জন্য সেরা কার্যকর।

17.ইউক্যালিপটাস তেল

এই তেলটির একটি সুন্দর মিষ্টি গন্ধ আছে এবং বিস্ময়কর ভাবে কাজ করে যদি আপনার সন্তানের ঠাণ্ডা লেগে সর্দি কাশি হয়ে থাকে।একটা রুমালের মধ্যে কয়েক ফোঁটা নিয়ে সেটিকে আপনার সন্তানের শোয়ার জায়গায় রাকুন যাতে সে সেটির সুগন্ধ প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারে।

18.উষ্ণ স্নান

উপরে বর্ণিত ঘরোয়া প্রতিকারগুলির সাথে অতিরিক্ত সংযোজন হিসেবে আপনার সন্তানকে একটি উষ্ণ স্নান দিন।এটি তাকে প্রশমিত হতে সাহায্য করবে এবং এছাড়াও তার নাক এবং বুকে বসে যাওয়া সর্দি পরিষ্কারে সাহায্য করবে।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

কিছু সাধারণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা যা বুকে সর্দি বসে যাওয়ার সম্ভাবনাকে কমাতে পারে সেগুলি হলঃ

1.স্বাস্থ্যবিধি

ভাল স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ আপনার ছোট্ট শিশুর উপর প্রভাব বিস্তার করা অসুস্থতাকে প্রতিরোধ করতে পারে।

2.টিস্যু

আপনার বাচ্চার নাক এবং মুখ মোছানোর জন্য টিস্যু ব্যবহার করুন যেহেতু এগুলি একবার ব্যবহারের পর ফেলে দিতে হয়,এটি স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে সাহায্য করে। ব্যবহার করার মতই এটিকে নষ্ট করে ফেলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।তবে ব্যবহার করা টিস্যুটি ঘরের চারপাশে ছড়িয়ে ফেলে না রেখে সেটিকে ময়লা ফেলার বিনের মধ্যে ফেলার ব্যাপারটিকে সুনিশ্চিত করুন।প্রকাশ্যে উন্মুক্ত ব্যবহৃত টিস্যুগুলি ঠাণ্ডা লেগে সর্দি কাশি হওয়ার এবং বুকে সর্দি বসে যাওয়ার সম্ভাবনার ঝুঁকি বাড়ায়।

3.মুখ ঢেকে রাখা

কাশির সময় জীবাণুগুলি ছড়িয়ে পড়ে।যদি বাড়ির কোনও সদস্য এর মধ্যে ফ্লু এর কবলে পড়ে থাকেন,তাদের বলুন যখন কাশি হবে মুখে চাপা দিতে,আপনার সন্তানের মধ্যে অসুস্থতা ছড়িয়ে যাওয়া এড়াতে এটি একটি ভাল উপায়।

4.হ্যান্ড স্যানিটারিজার

যদি আপনার বাচ্চা হাত দিয়ে খাওয়া শুরু করে থাকে,সে হাতে খাবার তোলার আগে তার হাতগুলি স্যানিটারিজার দিয়ে ধুয়ে দেওয়ার বিষয়টিকে নিশ্চিত করুন।তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনও দুর্বল থাকার দরুন,নতুন জীবাণুর প্রকাশ জিনিসটিকে খারাপ করে দিতে পারে।এছাড়াও আপনি পরিবারের সকল সদস্যদের বলে রাখুন বাচ্চাকে স্পর্শের আগে এবং পরে হাত স্যানিটারিজার দিয়ে ধুতে।

5.ডায়েট

হলুদ সহ লেবু এবং আদা আপনার ছোট্ট সোনার খাদ্য তালিকায় সংযুক্ত করলে তা তার বুকে সর্দি বসে যাওয়াকে দূরে ঠেলে রাখে।

6.হাইড্রেশন বা জলয়োজন

আপনার ছোট বাচ্চার যখন ফ্লু হবে তাকে হাইড্রেট রাখুন যাতে তার শ্লেষ্মা শুষ্ক হয়ে না যায়।

7.সঠিক ঘুম

আপনার সন্তানের পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাওয়ার ব্যাপারটি নিশ্চিত করুন।যদি পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেয়ে থাকে,মিউকাসের উৎপাদন বেড়ে যাবে,এবং খুব খারাপভাবে বুকে সর্দি তৈরী করবে।

8.ভিড় জায়গা এড়িয়ে চলুন

সর্দি কাশি,ঠাণ্ডা লেগে থাকা মানুষের সংস্পর্শ থেকে আপনার ছোট্ট সোনাকে রক্ষা করতে ভিড় অঞ্চলগুলিতে তাকে নিয়ে যাওয়া এড়িয়ে চলুন।

বাচ্চাদের বুকে সর্দি বসে যাওয়া একটা অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা কিন্তু এক্ষেত্রে বহু ঘরোয়া প্রতিকার আছে যেগুলি আপনার সন্তানকে নিরাময় করে তুলতে ব্যবহার করা যেতে পারে।যখন এই প্রতিকারগুলি ধারাবাহিকভাবে ব্যবহার করা হয়,বুকের জমে থাকা সর্দি নিজে থেকেই গায়েব হয়ে যাবে।যাইহোক,যদি ঘরোয়া প্রতিকারগুলি কার্যকর প্রমাণিত না হয়,সময় নষ্ট করবেন না,আপনার সন্তানকে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে চলুন।