17-20 মাস বয়সী শিশুদের জন্য খাদ্য ধারণা

17-20 মাস বয়সী শিশুদের জন্য খাদ্য ধারণা

বাচ্চাদের খাবার খাওয়ানো মোটেই কোনও সহজ কাজ নয়।আপনার যদি কোনও ছোট বাচ্চা থাকে তবে আপনি জানেন যে তার যত্ন নেওয়া একটি বিশাল কাজ।সেরা পুষ্টিগুলি দেওয়া নিশ্চিত করা থেকে সময় মত তার মাইলফলকগুলি অর্জননিশ্চিত করাওএকজন অভিভাবক হিসেবে আপনার কাছে বড় চাপের।এরকমই একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল আপনার ছোট্ট ব্যক্তিটির জন্য খাদ্য নির্বাচন।একদম প্রথম থেকেই তার খাদ্য তালিকায় স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাদ্যগুলি আপনার যোগ করার কাজটি সম্পন্নের প্রয়োজন হবে তার স্বাস্থ্যকর বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য এবং তার মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার জন্য।আপনার শিশুর খাদ্য তালিকায় কোন খাবারগুলি অন্তর্ভূক্ত করা উচিত তা যদি আপনি জানতে চান,পড়তে থাকুন!

aniview

17-20 মাস বয়সী শিশুদের জন্য সেরা খাদ্যগুলি

আপনার সন্তান যদি 17-20 মাস বয়সের মধ্যে হয়ে থাকে,সে অবশ্যই দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেতে থাকবে।তার এই বৃদ্ধির যাত্রাপথের গতি অব্যাহত রাখতে তার প্রয়োজন হবে সঠিক ধরণের পুষ্টি।প্রোটিন,ভিটামিন,কার্বোহাইড্রেট,খনিজ সমৃদ্ধ একটি সুষম ডায়েট তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এরপর আপনি যদি জানতে চান যে কোন খাদ্যগুলি আপনার সন্তানের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা উচিত তবে পুনরায় আরও পড়তে থাকুন!

1.দানা শস্য

শস্য দানা হল দারুণ স্বাস্থ্যকর এবং এগুলিকে আপনার ছোট্টটির খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা যেতে পারে।আপনি চাল,মিলেট(জোয়ার,বাজরা,ভুট্টা),বার্লি ইত্যাদির মত বিভিন্ন দানাশস্য আপনার সন্তানের খাদ্য তালিকায় যোগ করতে পারেন।চালে অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম আর এই জন্যই এটি বাচ্চাদের প্রথম খাবারগুলির মধ্যে একটি হিসাবে সুপারিশ করা হয়।মিলেট হল ভিটামিন B,ম্যাগনেসিয়াম এবং আয়রণের একটি সমৃদ্ধ উৎস;আর বার্লি আপনার পুচকেটিকে সরবরাহ করে ভিটামিন A,ফোলেট এবং প্রোটিন।এছাড়াও আপনি আবার তার খাদ্য তালিকায় কাওন বা কাউন চাল বা কুইনোয়া অন্তর্ভূক্ত করতে পারেন কারণ এটি আয়রণ,ক্যালসিয়াম,ফাইবার এবং প্রোটিনে ভরপুর।তবে এই সকল শস্য দানাগুলিকে আপনার ছোট্টটির খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করার আগে অবশ্যই প্রথমে একবার আপনার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞকে দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নেবেন।

2.শাকসবজি

এখন আপনার শিশু কিছুটা বড় হয়ে উঠেছে আর তাই আপনি তার সাথে কিছু শাকসবজির পরিচয় করাতে পারেন।সবজি যেমন কুমড়ো এবং গাজর হল ভিটামিন A এর একটি দুর্দান্ত উৎস,সুতরাং আপনি তার খাদ্য তালিকায় এগুলি অন্তর্ভূক্ত করতে পারেন।এগুলি ছাড়াও আপনি আবার তাকে দিতে পারেন সেদ্ধ কড়াইশুঁটি,সবুজ বীনস এবং শসা।

3.ফল

আপনি সাইট্রাস ফল যেমন কমলা,মিষ্টি লেবু এবং অন্যান্য ফল যেমন আপেল,কলা, বেরী এবং ন্যাশপাতি আপনার ছোট্টটির খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করতে পারেন।তাকে কি একটি অ্যাভোকাডো দিতে পারেন?অ্যাভোকাডো হল স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের একটি দুর্দান্ত উৎস এবং একটি ক্রমবর্ধিত শিশুর ডায়েটে সেটি অন্তর্ভূক্ত করা উচিত।

4.বাদাম

শুকনো ফল এবং বাদাম আপনার শিশুকে তার স্বাস্থ্যকর ওজন লাভে সহায়তা করতে পারে।আপনি আপনার ছোট্ট টলটলায়মানকারীটিকে আমণ্ড বাদাম এবং আখরোটের(সুন্দর ও সূক্ষ্মভাবে কাটা)ছোট টুকরো হয় তার খাবারের সাথে অথবা এমনি শুধু শুধুই খেতে দেওয়া শুরু করতে পারেন।এই বাদামগুলিকে খুব ভালভাবে কুঁচানো হওয়া প্রয়োজন কারণ তা না হলে পরিশেষে হয়ত আপনার ছোট্টোটির গলায় বিষম লেগে যেতে পারে।এছাড়াও আপনি এগুলিকে গুঁড়ো করে পাউডার করে নিতে পারেন এবং তার দুধের গ্লাসের সাথে যোগ করে খাওয়ানোর জন্য পরিবেশন করতে পারেন।

5.মাংস

এই বয়সের একটি শিশুর জন্য গ্রীলড চিকেন বা পোল্ট্রির মাংসের অন্য যেকোনও পদ অল্প পরিমাণে দেওয়া ভাল।তবে তার ডায়েটে অন্তর্ভূক্ত করা মাংসটি যাতে তাজা এবং জৈব হয়ে থাকে এবং সেটি যাতে যথার্থতার সাথে পরিপূর্ণভাবে রান্না করা হয়ে থাকে সেই ব্যাপারটি আপনি আবশ্যিকভাবে নিশ্চিত করুন।

6.মাছ

এই বয়সে আপনার শিশুর খাদ্য তালিকায় আপনি বিভিন্ন ধরণের মাছ যোগ করতে পারেন শুধুমাত্র সোর্ডমিশ বা তলোয়ার মাছের ন্যায় একটি নির্দিষ্ট মাছ বাদ দিয়ে।তবে মাছগুলি ভালভাবে রান্না হওয়া নিশ্চিত করা দরকার।এছাড়াও আবার তাকে খোলাওয়ালা মৎস বিশেষ যেমন শামুক,ঝিনুক,কাঁকড়া,চিংড়ি এইগুলি দেওয়া এড়িয়ে চলুন কারণ এগুলি তাদের মধ্যে অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া বাড়িয়ে তুলতে পারে।

7.দুধ

আপনার ছোট্টটি যদি 12 মাসের বেশি বয়সী হয়ে থাকে,তবে তার নিয়মিত খাদ্য তালিকায় এক গ্লাস দুধ সংযুক্ত করতে পারেন,আর আপনার সন্তান যদি ল্যাকটোজ অসহিষ্ণু হয়ে থাকে,তবে তার ডায়েটে দুধ অন্তর্ভূক্ত করার ব্যাপারে আপনার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

8.অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য

দুগ্ধজাত পণ্য যেমন চীজ,বিশোধিত মাখন(ঘি),মাখন,কটেজ চীজ(পনীর) এবং দইও আপনার টলটলায়মানকারীকে একটা জলখাবার হিসেবে দেওয়া যেতে পারে।এছাড়াও আবার আপনি এগুলিকে তার মূল খাবারের সাথেও যোগ করতে পারেন।দুগ্ধজাত পণ্যগুলি ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিনের একটি সমৃদ্ধ উৎস এবং এটি আপনার শিশুকে পূর্ণ করে রাখবে।

9.ডিম

ডিম

ডিম হল একটি বহুমুখী খাদ্য এবং এই বয়সের একটি শিশুর ডায়েটে এটির সংযোজন করা যেতে পারে।সেদ্ধ ডিম,ডিম ভুনা,ওমলেট একটা চমৎকার প্রাতঃরাশের বিকল্প রূপে প্রস্তুত করা যেতে পারে।ডিমে উচ্চ মাত্রায় প্রোটিন,নিম্ন মাত্রায় কোলেস্টেরল থাকে এবং এটি সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ ভাল।সুতরাং,এটিকে আপনার শিশুর ডায়েটের একটি অংশ করে তুলুন।

17-20 মাস বয়সী শিশুর জন্য একটি খাদ্য তালিকা/আহার পরিকল্পনার নমুনা

যদি আপনার নিয়ন্ত্রণে,আপনার একটি খাদ্য পরিকল্পনা থাকে,সেক্ষেত্রে আপনার সন্তানের জন্য খাবার প্রস্তুত করা কঠিন হবে না।নিচে দেওয়া হল 17-20 মাস বয়সী শিশুদের জন্য একটি নমুনা খাদ্য তালিকা।আপনি এই নমুনা আহার পরিকল্পনাটিকে একটি নির্দেশিকা হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন এবং তার সাথে নিজের কিছু অতিরিক্ত সংযোজনবিয়োজন বা পরিবর্তনের দ্বারা সেটিতে অভিনবত্ব এনে আপনার ছোট্টটির জন্য খাদ্য পরিকল্পনাটিকে অসাধারণ করে তুলতে পারেন।নিচে দেওয়া পরিকল্পনাটির উপর একবার চোখ বুলিয়ে নিন

দিন

প্রাতঃরাশ

মাঝ সকালের জলখাবার

দুপুরের ভোজ

সান্ধ্য জলখাবার

রাতের খাবার

সোমবার 1 রাগির ধোসা+ছোট এক গ্লাস দুধ আপেলের 2/3 টুকরো 1 কাপ লেমন রাইস+সাম্বার মধু এবং দারুচিনি সহযোগে পুডিং আধ কাপ টমেট স্যুপ+ আধ কাপ মত সম্পূর্ণ আটার পাস্তা
মঙ্গলবার কলার টুকরোর সাথে 1 কাপ ওটমিল 1/2 কাপ তরমুজ 1/2 কাপ ভাত+1/2 ছোলে+শসা এবং গাজরের 1-2 টুকরো 1/2 কাপ ফলের লস্যি 1 টি রুটি+1/4 কাপ পালং পনীর
বুধবার ছোট এক বাটি সবজির উপমা পেঁপের মিল্কশেক 1 কাপ সবজির পোলাও+1 বীনসের সবজি কুমড়োর চাটনীর সাথে গাজর এবং শসার টুকরো 1 কাপ সবজির মণ্ড
বৃহস্পতিবার ছোট এক বাটি পোহা+তাজা কমলার রস অর্ধেক করে কাটা কিছুটা আঙুর 1 কাপ সবজির খিঁচুড়ি+দই স্ট্রবেরী এবং কলার স্মুদি ঘি মাখানো 1 টি রুটি+লাউয়ের তরকারী
শুক্রবার ভেজিটেবিল স্যান্ডুইচ(ব্রাউন ব্রেড দ্বারা প্রস্তুত)+তরমুজের রস(তাজা বের করা) কলার টুকরো ঘি মাখানো 1 টি রুটি+বীট,গাজর,বীনসের তরকারী দুধ কর্নফ্লেক্স 1 কাপ ঢেঁকি ছাঁটা চালের ভাত+কালো মুগ ডাল
শনিবার সেমাই/সুজির উপমা কলার স্মুদি 1 কাপ হলুদ মুসুর ডাল+ব্রাউন রাইস(অল্প পরিমাণে) সম্পূর্ণ আটার 2 টি বিস্কুট রসুন এবং তেল দিয়ে প্রস্তুত স্প্যাগেটি(সেমাই জাতীয় খাদ্য বিশেষ)1/2 কাপ
রবিবার 1 টি ছোট আলুর পরোটা+দই 1/2 কাপ স্ট্রবেরী ম্যাক্সিকান বেরিটো(ছোট 2 টুকরো)+2 টুকরো যেকোনও মরশুমি ফল 1/2 কাপ দুধ+1 টি ছোট হরভর কাবাব(ছোলার ডাল,পালং শাক,পনীর,কড়াইশুঁটি দ্বারা প্রস্তুত) 1 টি মেথির পরোটা+টমেটোর চাটনি

সূত্রঃ http://www.shishuworld.com/18-month-baby-food-chart-toddler-food-chart-meal-plan-for-18-monthsbaby/

17-20 মাস বয়সী শিশুদের জন্য ঘরে প্রস্তুত রেসিপিগুলি

আপনার প্রায় 2 বছর বয়সী শিশুটি যা কিছু খেতে চায় তা আপনি তাকে নির্দ্বিধায় দিতে পারেন।সুতরাং,এ ব্যাপারে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানোর ক্ষেত্রে আপনার ভয় পাওয়ার কিছু নেই।অল্প মশলার সাথে প্রস্তুত প্রায় সব ধরণের খাবারগুলিই এখন থেকে আপনার ছোট্টটি খেতে উপভোগ করবে।এখানে আপনি বানাবার জন্য চেষ্টা করতে পারেন এমন কিছু সহজ এবং সুস্বাদু রেসিপির উল্লেখ করা হলঃ

1.কুমড়োর ডিপ বা চাটনি বিশেষ

কুমড়োর ডিপ বা চাটনি বিশেষ

কুমড়ো ভিটামিন A তে পরিপূর্ণ এবং কুমড়োর চাটনি বা ডিপ তৈরী করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে,যেটি আপনার শিশু আপেল কিম্বা শসার ফালির সাথে উপভোগ করতে পারবে।এখানে রইল কীভাবে আপনি এটি প্রস্তুত করবেনঃ

উপকরণ

  • 1 ক্যানজাত কুমড়ো
  • 1/2 চাচামচ লবণ স্বাদের জন্য
  • 1/2 চাচামচ মরিচ
  • এক ফালি লেবু(অতিরিক্ত উপকরণ)

প্রণালী

  • সকল উপকরণগুলি একত্রে একটি বড় বাটিতে নিয়ে ভালভাবে হুইপ করে নিন।
  • এবার সেটিকে শসা কিম্বা আপেলের টুকরোর সাথে পরিবেশন করুন।

2.রিসোটো প্রাইমেরা

রিসোটো প্রাইমেরা

এই ইতালীয় ডিশটি একাধিক সবজি এবং প্রোটিনে ভরপুর যা এটিকে মধ্যাহ্নভোজের জন্য একটি ভাল বিকল্প করে তুলেছে।

উপকরণ

  • 1 পিঁয়াজ(ঝিরি ঝিরি করে কুঁচানো)
  • 1 ছোট ছাঁচি পিঁইয়াজ(ভাল করে ধুয়ে সূক্ষ্মভাবে কুঁচানো)
  • 2 চাচামচ জলপাই তেল
  • অল্প পরিমাণে রিসোট রাইস(ইতালীয় ডিশ)
  • সবজি অথবা চিকেনের স্টক(প্রয়োজন মত)
  • 1/2 কাপ হিমায়িত করে রাখা কড়াইশুঁটি
  • 1 ছোট গাজর(ঝিরি ঝিরিকরে কুঁচানো)
  • বড় 1 চামচ মাখন
  • বড় 1 চামচ লেবুর রস
  • পারমেশন চীজের একটি ব্লক

প্রণালী

  • একটি কড়াইয়ে মাখন নিয়ে গরম করুন এবং তার মধ্যে পিঁয়াজ এবং ছাঁচি পিঁয়াজের কুঁচিগুলি 5-6 মিনিট ধরে সাঁতলে নিন।
  • এর সাথে চাল যোগ করে নেড়ে নিন এবং সেটি বেশ ঝরঝরে না হওয়া পর্যন্ত রান্না হতে দিন।
  • এক বাটি স্টক এর মধ্যে ঢালুন এবং সেটি সম্পূর্ণরূপে শুষে গিয়ে পুরোপুরি রান্না না হওয়া অবধি মাঝে মধ্যে নাড়তে থাকুন।
  • এর সাথে আরও কিছুটা স্টক মিশিয়ে ধীরে ধীরে চালটিকে নাড়তে থাকুন সেটি নরম না হওয়া পর্যন্ত।
  • ভাত রান্নাটি সম্পন্ন হলে সেটি পরিবেশন করার আগে তার উপর কিছুটা পারমেশন চীজ কুড়িয়ে দিয়ে সুন্দর করে গার্নিশ করে নিন।

3.মেডিটেরানিয়ান স্যালাড

মেডিটেরানিয়ান স্যালাড

সবুজ শাক সবজির কাটা ছোট ছোট টুকরোগুলির উপর কিছুটা লেবুর রস ছড়িয়ে নিয়ে হালকা করে নেড়ে চেড়ে একটি চটজলদি খাবারের চটপট বিকল্প তৈরী করে নেওয়া যেতে পারে!

উপকরণ

  • 1 কাপ রান্না করা কাওন বা কাউন চালের ভাত
  • 1/4 কাপ অলিভ অয়েল
  • 1/3 কাপ ভিনিগার
  • 1/2 পিঁয়াজ(কুঁচানো)
  • 1 বেল মরিচ,লাল (কুঁচানো)
  • 1 টমেটো (কুঁচানো)
  • 8 কালো জলপাই(ক্যানজাত)
  • 1 কাপ ধনে পাতা(সূক্ষভাবে কুঁচানো)
  • 1/2 চাচামচ লবণ
  • 1/2 চাচামচ গোলমরিচ(গুঁড়ো করা)
  • 1 কাপ টুকরো টুকরো করা ফেটা চীজ
  • 1 লেবু(মাঝারি আকারের)

প্রণালী

  • রান্না করা কাওন বা কাউন চালটি নিয়ে একটি বাটিতে একধার করে রাখুন।
  • একটি প্যানে খানিকটা জলপাইয়ের তেল ঢালুন এবং কিছু পিঁয়াজ কুঁচি,বেল মরিচ,টমেটো এবং ধনে ভালো করে ভেজে নিন।
  • কাওন বা কাউন চালটি এবং সবজিগুলি একটি বাটিতে নিন এবং কিছু ফ্যাটা চীজের টুকরো তার উপরে ছড়িয়ে দিন।
  • তার উপর একটু লেবুর রস ছড়িয়ে দিয়ে পরিবেশন করুন।

4. কলা দিয়ে ওটমিল

কলা দিয়ে ওটমিলএই প্রাতঃরাশের রেসিপিটি ফাইবার এবং ভিটামিনে ভরপুর। ওট খেলে তা আপনার বাচ্চা নেকটা সময় ক্ষুধা নিবৃত্তি করবে।

উপকরণ

  • ছোটো 1 কাপ গুঁড়ো করা ওট
  • ছোটো 1 কাপ আমন্ড দুধ বা জল
  • 1 কলা(টুকরো করে কাটা)
  • 1 চাচামচ দারুচিনি

প্রণালী

  • কড়াইতে কিছু আমন্ড দুধ নিয়ে তার মধ্যে ওটসগুলি ধীরে ধীরে রান্না করুন।মাঝে মাঝে নেড়ে দিন।
  • যখন এটি সুন্দরভাবে রান্না হবে এবং নরম হয়ে যাবে, সামান্য মিষ্টির জন্য কিছুটা দারুচিনি যোগ করুন
  • পরিবেশনের আগে এর উপরে কলার টুকরোগুলি যোগ করুন

5. অ্যাভোকাডোর টোস্ট

অ্যাভোকাডোর টোস্ট

অ্যাভোকাডো স্বাস্থ্যকর ফ্যাটগুলিতে ভরপুর এবং আপনার সন্তানের প্রয়োজনমত স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের চাহিদা পূরণ করতে পারে।এটি খুব সুস্বাদুও।এর রেসিপিটি নীচে দেখে নিতে পারেন

উপকরণ

  • 1 বড় পাকা অ্যাভোকাডো
  • 1 কলা(যদি প্রয়োজন হয়)
  • 4 টুকরো পাউরুটি(সম্পূর্ণ আটার)
  • খানিকটা চীজ (ঐচ্ছিক)
  • লবণ এবং গোলমরিচ(স্বাদ অনুযায়ী)

প্রণালী

  • অ্যাভোকাডোটিকে অর্ধেক করে কাটুন এবং ভিতরের বীজটিকে সরিয়ে দিন।তারপরে এর মধ্যস্থ মাংসল শাঁষটিকে বের করে এনে ক্রীমের ন্যায় না হওয়া পর্যন্ত এটিকে একটি বাটিতে নিয়ে চটকান।
  • স্বাদের জন্য এর সাথে সামান্য লবণ এবং গোলমরিচ যোগ করুন।
  • পাউরুটিটিকে সেঁকে নিন এবং তার উপরে চটকানো অ্যাভোকাডোটিকে ছড়িয়ে দিন।
  • কলার টুকরো বা কাটা চীজের টুকরো এর উপরে দিয়ে সেটিকে সুসজ্জিত করে পরিবেশন করুন।

খাওয়ার সময়টিকে আনন্দদায়ক এবং নিরাপদ করে তোলার জন্য কয়েকটি পরামর্শ

আমরা বুঝি যে শিশুদের খাওয়ার প্লেটে পরিবেশন করা খাবার খাওয়ানোটা কোনও সহজ কাজ নয়।খাবার সময় যেই মুহূর্তটিতে আপনি আপনার শিশুর উপর মনোযোগ দেবেন না,সাথে সাথে তার প্লেটের খাবারটি গিয়ে পৌঁছাবে হয় ঘরের দেওয়ালে অথবা মেঝের উপর এবং তার সাথেই তার মুখে দেখা দেবে সফলতার এক অনাবিল হাসি।আমরা জানি এটি হয়ত আপনার উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে,তবে শান্ত থাকুন!আমাদের কাছে এমন কিছু টিপস আছে যেগুলি আপনার ছোট্ট সোনাটির জন্য তার খাবার সময়টিকে মজাদার করে তুলতে সাহায্য করবে।এছাড়াও আবার আমরা আপনার সাথে এমন কিছু টিপস ভাগ করে নিতে চলেছি যেগুলি আমরা মনে করি যে,আপনার ছোট্টোটিকে খাওয়ানোর সময় ফলপ্রসূ হয়ে উঠবে,সেগুলির দিকে দৃষ্টিপাত করা যাকঃ

  • একদম ছোট শিশু এবং বাচ্চাদের মুখের স্বাদ একবার বেড়ে গেলে তাদের সবকিছু খাওয়ানোটা মোটেই সহজ হয়ে ওঠে না।খুব সম্ভবত আপনার ছোট্টটিও নির্দিষ্ট কিছু খাবার দেখে বলতে শুরু করবে নাএবং যখন আপনি সেই সব খাবারগুলিকেই তাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন হয়ত সে তীব্র রাগ বা বদ মেজাজ দেখাতে শুরু করবে।কিন্তু আপনাকে জোর করতে হবে না! যদি তাকে ব্রকোলি খাওয়াতে চান,চেষ্টা করুন কিছু চালাকির উপায় বের করার।তার খাবারটিকে এমনভাবে বর্ণময় করে তুলুন যাতে সে সেটিকে দেখে কিছুতেই প্রত্যাখ্যান না করতে পারে।যেমন,তাকে শুধুমাত্র সেদ্ধ ব্রকোলি পরিবেশনের পরিবর্তে,আপনি তাকে ব্রকোলির দুটি ছোট ফুল,পাতলা করে কাটা দুই টুকরো গাজর সেদ্ধ, এবং শসার কয়েকটি ফালি একসাথে একটি প্লেটে সাজিয়ে দিতে পারেন।এইভাবে তার প্লেটের খাবারটি বর্ণময় হয়ে উঠবে এবং সে সম্ভবত সেটি খাওয়ার প্রতি প্রলুব্ধ হয়ে উঠবে।
  • খাওয়ার সময় একদম প্লেট পরিষ্কার করেখাওয়ার নিয়মটিকে আপনার টলটলায়মানকারীর জন্য প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকুন।তার খাওয়ার থালায় 2-3 টি পদ পরিবেশন করুন এবং তার থেকে তাকে বেছে নিতে দিন।যত আপনি নিয়ম করবেন ততই তারা সাহসের সাথে খোলাখুলি আরও বাধা দিতে শুরু করবে।সুতরাং আপনার লিটল চ্যাম্পের সাথে ব্যাপারটিকে সহজ করে নিন।
  • পুরস্কার পদ্ধতি প্রয়োগ করুনএটি সবসময়েই কাজ করে!পুরস্কৃত করার অর্থ আমরা কখনই এটি বলি না যে তার খাবারের থালায় পরিবেশন করা সকল খাদ্য খাওয়ার পর প্রতিবারই আপনি তাকে একটি খেলনা গাড়ি কিনে দেবেন। আমরা যেটি বলতে চাইছি সেটি হল,সে যখনই ভাল কিছু করবে আপনি তার প্রশংসা করুন।উদাহরণ হিসেবে বলা যাক,সে যদি তার খাবারের প্লেটের সবটা খাবার খেয়ে শেষ করে,তবে হাততালি দিয়ে তাকে কিছুটা প্রশংসা করুন।আপনি তাকে বলতে পারেন দারুণ দারুণ“!একটা ছোট্ট প্রশংসাও তার একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।তবে সে যদি খেতে না চায় কিম্বা তার পেট ভরে গিয়ে থাকে,তবে খাওয়ার জন্য তাকে জোর করে বাধ্য করাতে চাইবেন না।
  • আপনি যদি আপনার শিশুকে কোনও নির্দিষ্ট একটি সবজি খাওয়াতে চান,তবে প্রথমেই আপনি নিজে সেটি একটু খান।একজন ভাল পথিকৃৎ হয়ে উঠুন; আপনার সন্তান আপনাকে লক্ষ্য করে এবং আপনার থেকে শেখে,সুতরাং তাকে কিছু খাওয়ানোর জন্য,আগে তাকে দেখান যে সেটি কীভাবে করতে হয়।এভাবেই আপনার ছোট্টটিকে আপনার থেকে তার স্বাস্থ্যকর খাওয়ার সুঅভ্যাসটি শিখতে দিন।
  • আপনার ছোট্টটিকে তার খাবারের উপরে আগ্রহী করে তোলার জন্য আমরা আপনাকে তার সামনে বিভিন্ন খাবার পরিবেশন করার প্রস্তাব দিয়ে থাকি। আপনার ছোট্টটি হয়ত প্রতিদিন একই খাবার খেয়ে খেয়ে একঘেয়ে হয়ে উঠতে পারে,অতএব নতুন নতুন খাবার তার তালিকায় যোগ করুন।তার খাবারের প্লেটে বিচিত্র খাদ্যের তালিকা বর্ধিত করার জন্য এবং তার খাবার সময়টিকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য আপনি বিভিন্ন ধরণের খাবার আপনার সোনার সাথে পরিচয় করাতে পারেন।
  • নতুন নতুন খাবারের সাথে পরিচয় করালে তা নিশ্চিতভাবেই আপনার সন্তানের খাদ্য উৎসাহকে বাড়িয়ে তুলবে।আর এ কথা বলার পর,আমরা আপনাকে প্রস্তাব দিই যে তার খাদ্য তালিকায় নতুন খাবারের সংযোজন ধীরে ধীরে করার।আপনি যদি তাকে বিশেষ একটি খাবারই খাওয়ানোর চেষ্টা করে থাকেন,তবে প্রথমবারেই তাকে সেটি অল্প পরিমাণে দিন।আর সেই খাবারের সাথে তার পরিচয় করানোর পর,এর পরবর্তী নতুন খাবারটির সাথে পরিচয় করাতে যাওয়ার আগে কমপক্ষে তিন দিন অপেক্ষা করুন।এই সময় পর্বটি তার মধ্যে সেই খাবারের স্বাদটিকে বাড়াতে এবং সেই খাদ্যজনিত কোনও অ্যালার্জির প্রকাশ তার মধ্যে ঘটে কিনা তার লক্ষণপগুলিকে চিহ্নিত করতে আপনাকে সহায়তা করবে।
  • যখন আপনার ছোট্টটি খাদ্য গ্রহণ করে,তার দিকে কাছ থেকে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন যাতে কোনও খাদ্য কণায় সে বিষম লাগার মত বিপত্তিতে না পড়ে তা নিশ্চিত করুন।আপনি যদি তাকে তার খাবারে বিষম খেতে দেখেন বা সামাণ্য কাশতে লক্ষ্য করেন,অযথা আতঙ্কিত হবেন না,বরং সেই খাবারটিকে তার মুখ থেকে বের করে ফেলতে সাহায্য করুন এবং অল্প জল খাওয়ান।
  • তাকে খুব ছোট ছোট টুকরোর খাবারগুলি পরিবেশন করুন যাতে সহজে সে সেগুলিকে চিবাতে পারে।খাওয়ার সময় আপনি কিছুটা সময় দিন এবং তাকে তার খাবারে তৃপ্তির স্বাদ নিতে দিন।
  • আপনার যদি খুব দৌড়ঝাঁপের সময় হয়ে থাকে,তবে আপনার সন্তানের জন্য আগে থেকেই খাবারের পরিকল্পনা বিবেচনা করুন।তার জন্য কী রান্না করবেন তা একদিন আগে বা সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলিতে তা স্থির করে রাখুন।আপনি আবার নির্দিষ্ট কিছু সবজিগুলিকে কেটে রাফ্রিজেরেটরের মধ্যে হিমশীতল করে রাখতে পারেন যাতে আপনি সেগুলি সারা সপ্তাহ ব্যাপী ব্যবহার করতে পারেন। যদিও তাজা শাকসবজি,ফল,মাছমাংস খাওয়ানোর মত ভাল আর কিছুই হতে পারে না।
  • কীভাবে চামচ দিয়ে খেতে হয় তা শেখানোর জন্য আপনি আবার তাকে অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকারক কাটলারি যেমন চামচ দেওয়া শুরু করতে পারেন।
  • সবশেষে, মাছ কিম্বা ভারী মাংস দেওয়া শুরু করার আগে আপনার শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করুন।
  • আপনার সন্তানের স্বাস্থ্যের বিকাশের ক্ষেত্রে,তার স্বাস্থ্যকর আহার গ্রহণ করার ব্যাপারটিকে নিশ্চিত করুন,যেগুলি প্রোটিন,ভিটামিন,কার্বোহাইড্রেট এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটে সমৃদ্ধ।

তাহলে আশা রাখি আমরা আপনাকে ঠিক সেখানেই পৌঁছাতে পেরেছিযেখানে আপনি জানতে পেরেছেন যে, কোন খাদ্যগুলি আপনার বাচ্চার ডায়েটে অন্তর্ভূক্ত করা উচিত,আপনি একটি নমুনা খাদ্য পরিকল্পনা পেয়েছেন এবং সর্বোপরি আপনার ছোট্টোটির জন্য তার খাওয়ার সময়টিকে মজাদার করে তোলার জন্য আপনার কাছে রয়েছে এখন বেশ কয়েকটি টিপস।তাকে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছুই এখন আপনার কাছে রয়েছে।সুতরাং উপরের প্রস্তাব মত আপনার আদরের মাণিকের জন্য খাবারগুলিকে প্রস্তুত করুন এবং তার সাথে আপনার বন্ধনটিকে আরও দৃঢ় করে তুলুন।তাকে পুষ্টিকর খাবারগুলি খেতে দিন এবং সে কেবলই সুস্থ ও ভাল থাকবে!